ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানই কী মোদির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?

প্রকাশ: ০৫:০১ পিএম, ১১ জুন, ২০২৪


Thumbnail

টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। আর এর মধ্য দিয়েই ভারতে সরকার গঠন করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। কিন্তু এবারের মোদি সরকার কতদিন টিকবে তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা মহলে।   

কেননা টানা ১০ বছর মোদি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বেহাল দশায় পড়েছে দেশের অর্থনীতি।  সেইসঙ্গে, বেড়েছে বেকারত্বের হারও। যদিও এবারের নির্বাচনের আগে মোদি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। যেখানে তিনি তুলে ধরেছিলেন মোদি সরকার ভারতের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   

কিন্তু ৪ জুন নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করার পরপরই মোদির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সবার ধারণা বদলে যেতে থাকে। এরপর যখন বিজেপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেতে ব্যর্থ হয়, তখনই সবার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে মোদির। যদিও, শেষ পর্যস্ত জোট সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতায় বিজেপি। কিন্তু এবার সরকারে টিকে থাকতে  মোদিকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এক্ষেত্রে মোদির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু মোদি কী আদৌ পারবেন কর্মসংস্থান তৈরি করে ভারতের অর্থনীতিতে গতি আনতে? 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মোদির কর্তৃত্ব এবার জোট শরিকদের মধ্যে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কেননা, গত ১০ বছরে তিনি একচেটিয়াভাবে ক্ষমতায় থেকেও ভারতের গভীর অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। হাজারও বাঁধা ডিঙ্গিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তার সামনে নেই। 

এদিকে, মোদি প্রশাসনের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান বলেছেন, 'গত চার, পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের গতি দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যে আপনি কীভাবে আরও চাকরি তৈরি করবেন? এটি সত্যিই ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আমি মনে করি সরকারের সামনে সমাধানের বড় কোনো সুযোগ নেই।' 

মুম্বাইয়ের একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি অনুসারে, ভারতের কর্মজীবী জনসংখ্যার সংখ্যা প্রায় একশ কোটি। কিন্তু ভারতে চাকরি রয়েছে মাত্র ৪৩ কোটি। আর বাদবাকি যাদেরকে কর্মরত হিসাবে গণনা করা হয় তাদের বেশিরভাগই দিনমজুর এবং খামারের শ্রমিক। নির্ভরযোগ্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার অভাবে তাদের জীবন দিনদিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। 

দেশের এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য মোদি সরকার যদি কোন পদক্ষেপ নেয়ও, তা জনগণ ও দেশের জন্য কতটা কল্যাণকর হবে তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অর্থনৈতিক সংকট   ভারত   প্রধানমন্ত্রী   নরেন্দ্র মোদি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

চলতি মাসেই ঢাকা সফরে আসতে পারেন মোদি

প্রকাশ: ০৯:৫১ পিএম, ১২ জুন, ২০২৪


Thumbnail

চলতি জুন মাসের শেষ দিকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় আসতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই হতে পারে মোদির প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

শপথের দিন সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ভারতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর চলতি জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফর করার কথা ছিল শেখ হাসিনার। নরেন্দ্র মোদি তার তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি সফর করেন।

তবে মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় ঢাকার প্রত্যাশা, এবার ঢাকা সফরে আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লি সফরে ৯ জুনের একান্ত বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ২৭-২৮ জুন সফরসূচি সাজানোর কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ২০২১ সালের মার্চে। জুনে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর। নরেন্দ্র মোদি যদি এ মাসেই বাংলাদেশে আসেন তাহলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীনে সফরের আগ মুহূর্তেই; যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ বার্তা দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। জুলাইয়ের প্রথম দিকে বেইজিং সফযে যেতে পারেন সরকারপ্রধান।

নরেন্দ্র মোদি   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব: ডোনাল্ড লু

প্রকাশ: ০৯:৪৫ পিএম, ১২ জুন, ২০২৪


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে ভয়েস অব আমেরিকার মুখোমুখি হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। এ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড লু তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের অর্জন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নারী অধিকার ও উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের সাথে একযোগে কাজ করে যাবার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি তার এবারের সফরে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করা ও বাংলাদেশে নির্বাচন ইস্যুতে ও গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘নমনীয়’ নীতির সমালোচনার ব্যাপারেও তার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার হয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।

প্রশ্ন: আপনার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে, আপনি বলেছেন যে বাংলাদেশে গত ৭ জানুয়ারিতে হয়ে যাওয়া সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয় ও এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা উৎসাহিত হয়– এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কিছু উদ্যোগের কারণে দু’দেশের সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে এখন আর পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের মাঝে আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও কাজ করার কথা বলেছেন।

এটি কি বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত, যেখানে আপনারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্র সুরক্ষা ও প্রসারের বদলে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে চান?

ডোনাল্ড লু: এই সাক্ষাৎকারে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশে ভয়েস অব আমেরিকার কাজের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে।

আমার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় আমি যেমনটি বলেছিলাম, আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি, পেছনে নয়।

আমরা বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে আমাদের অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত এবং আগ্রহী। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে। নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় আমরা আমাদের অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দু’দেশের মধ্যে নিজেদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে একসাথে কাজ করে যাবার ব্যাপারে আশাবাদী।

(সেইসাথে) বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন আমাদের জন্য একটি অগ্রাধিকার। আমরা সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সমর্থন করে যাব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ইস্যুতে, যার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও রয়েছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি ‘নমনীয়’ ভূমিকা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। আপনি এ সমালোচনার ব্যাপারে কী বলবেন?

ডোনাল্ড লু: যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে সমর্থন করে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো নির্বাচনকালীন চক্রজুড়ে আমরা নিয়মিত বাংলাদেশের সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার কাজে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে তাদেরকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্তকারী সহিংসতার নিন্দায় আমরা সোচ্চার ছিলাম এবং আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার ঘটনাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যভাবে তদন্ত করতে এবং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্যও অনুরোধ করেছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে (সংশ্লিষ্টদের সাথে) আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন: আপনার সাম্প্রতিক সফরে আপনি সুশীল সমাজের সদস্যদের সাথে দেখা করলেও নির্বাচন বয়কটকারী বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেননি। আপনার সাম্প্রতিক সফরে কেন বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্ত নিলেন?

ডোনাল্ড লু: এটা সত্য যে গত বছর নির্বাচনের আগে আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকের সুযোগ পেয়েছিলাম। এটা প্রাক-নির্বাচনের সময় নয়, তাই এবারের সফরে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করিনি।

এবার ঢাকায় থাকাকালীন আমার সৌভাগ্য হয়েছে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার। (এর মধ্যে ছিলেন) সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাথেও আমি দেখা করেছি, যারা আমাকে বোলিং এবং ব্যাটিং সম্পর্কে দু’ একটি ব্যাপার শিখিয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য আপনার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়েরই একটি অংশ?

আপনি কি (দুর্নীতিসংক্রান্ত) এই ইস্যুগুলো সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা করার সদিচ্ছা নিয়ে সন্তুষ্ট?

ডোনাল্ড লু: আমি যখন আলবেনিয়া এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রদূত ছিলাম, আমরা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (স্যাংশান) দিয়েছিলাম। এটি তখনকার (আলবেনীয়) সরকারের কাছে জনপ্রিয় ছিল না, কিন্তু এখন সেই নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সবাই কারাগারে। সারা বিশ্বের সমাজ দুর্নীতির বিচার দেখতে আগ্রহী।

আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০ মে, আমরা ৭০৩১ (সি) ধারার অধীনে সাবেক জেনারেল আজিজ আহমেদের উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ‘পাবলিক ডেজিগনেশন’ ( একধরনের নিষেধাজ্ঞা) ঘোষণা করি। দুর্নীতির এ অভিযোগগুলোর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিবৃতি দিয়েছেন, আমরা এ ব্যাপারটিকে স্বাগত জানাই।

প্রশ্ন: আমরা কি অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য উচ্চ-প্রোফাইলের বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপরও দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি দেখতে পাব?

ডোনাল্ড লু: যখন আমাদের কাছে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে, তখন আমরা সারা বিশ্বেই নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বিধিনিষেধের আকারে প্রকাশ্যে পদক্ষেপ নিই। আমাদের আইনগুলো আমাদেরকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা তাদের দুর্নীতির অর্থের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট। আমি আশা করি, আমরা বাংলাদেশের জনগণের সাথে মিলে সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করে যাব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ মে অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের কিছু অংশ আলাদা করে পূর্ব তিমুরের মতো একটি ‘খ্রিষ্টান’ জাতি-রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত চলছে।

তিনি আরও দাবি করেছেন যে, তিনি যদি বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি দেশকে অনুমতি দিতেন তবে গত জানুয়ারিতে তাকে ঝামেলামুক্ত পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেই এ বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, “অফারটি এসেছে একজন সাদা মানুষের কাছ থেকে।... আমি যদি একটি নির্দিষ্ট দেশকে বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিতাম, তাহলে আমার কোনও সমস্যা হতো না,” তিনি যোগ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র কি কখনও বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে?

ডোনাল্ড লু: এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি। নির্বাচনের সময় আমাদের অগ্রাধিকার ছিল শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করা।

প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরীক্ষণের জন্য আপনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? আপনার মতে, দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?

ডোনাল্ড লু: মে মাসে ঢাকা সফরের সময় প্রচণ্ড গরমে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আমি নিজেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করেছি। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ক্লিন এনার্জি ক্যাপাসিটি গড়ে তোলা, কৃষি ও বিদ্যুতের মতো খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশ করছি। (এ বিষয়ে) বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল।

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো কী?

ডোনাল্ড লু: একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, যা স্বাধীন এবং উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাপারে এমন একটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে। একটি গতিশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তাকে এ অঞ্চলের বাণিজ্য প্রসারের একটা সেতু এবং এই অঞ্চলে সমৃদ্ধির নোঙ্গর হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

আমরা এই অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উন্নয়নে আমাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সাথে কাজ করার দিকে মনোনিবেশ করছি। এ ইস্যুগুলোসহ অন্য ইস্যুগুলোর সমন্বয়, আমাদের উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। 

দুর্নীতি   ডোনাল্ড লু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আমি মোদির মতো নই, আমার ঈশ্বর জনগণ: রাহুল গান্ধী

প্রকাশ: ০৯:৩২ পিএম, ১২ জুন, ২০২৪


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিদ্রূপ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি প্রধানমন্ত্রীর মতো নই, আমি ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত নই। আমি একজন মানুষ। আপনারা দেখবেন, মোদি বলেছিলেন, নির্বাচনে তারা ৪০০ আসন পাবেন, পরে বললেন ৩০০ আসন পাবেন। এরপর যখন সেটির সম্ভাবনাও নেই হয়ে গেল, তখন বলতে শুরু করলেন, তিনি ঈশ্বরপ্রেরিত। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। তার ঈশ্বর সব সিদ্ধান্ত নেন। মোদিজির অদ্ভুত “পরমাত্মা” তাকে আদানি-আম্বানির পক্ষে সব সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। “পরমাত্মা” তাকে মুম্বাই বিমানবন্দর, লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র আদানিকে দিতে বলে।’

জয় পাওয়ার পর বুধবার প্রথম কেরালায় গেলেন রাহুল গান্ধী। কেরালায় গিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি মালাপপুরামে জনসমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমার সামনে উভয়সংকট।...আমি কি ওয়েনাড আসনের সংসদ সদস্য, নাকি রায়বেরিলির?’ উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলি থেকেও রাহুল জয়ী হয়েছেন।

এবার লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণের ওয়েনাড আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। এই আসনে সিপিআই প্রার্থী অ্যানি রাজাকে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪২২ ভোটে হারিয়েছেন রাহুল।

জয় পাওয়ার পর আজ বুধবার প্রথম রাজ্যটিতে গেলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি মালাপপুরামে জনসমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমার সামনে উভয়সংকট।...আমি কি ওয়েনাড আসনের সংসদ সদস্য, নাকি রায়বেরিলির?’ উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলি থেকেও রাহুল জয়ী হয়েছেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আমার ঈশ্বর। আমার ঈশ্বর ওয়েনাডের জনগণ। এটি আমার জন্য খুবই সহজ। আমি আমার জনগণের সঙ্গে কথা বলি এবং আমার ঈশ্বর আমাকে বলে দেন কী করতে হবে। এখন ওয়েনাড বা রায়েবেরিলি প্রশ্নে ফিরে আসি। আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দেব, তাতে ওয়েনাড ও রায়বেরিলি উভয়ই খুশি হবে।’

রাহুল গান্ধী আরও বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সংসদীয় এলাকা বারাণসীতে "পরাজয় থেকে রক্ষা পেয়েছেন"।

"সত্য হল প্রধানমন্ত্রী বারাণসীতে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেই বারাণসীতে পরাজিত হতেন। অযোধ্যায় বিজেপি পরাজিত হয়েছিল। অযোধ্যার জনগণ একটি বার্তা দিয়েছে যে আমরা ঘৃণা ও সহিংসতার প্রশংসা করি। ঘৃণা ভালবাসার দ্বারা পরাজিত হয়েছে এবং স্নেহ, নম্রতার দ্বারা অহংকার,” তিনি বলেছিলেন।

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রসঙ্গে গান্ধী বলেন, "দিল্লিতে যে সরকার গঠন করা হচ্ছে তা একটি পঙ্গু সরকার। বিরোধীরা বিজেপিকে মারাত্মক আঘাত দিয়েছে। আপনি দেখতে পাবেন নরেন্দ্র মোদির মনোভাব দেখতে হবে। পরিবর্তন করুন কারণ ভারতের জনগণ তাকে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আমরা ভারতের জনগণের জন্য একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তাব করেছি এবং আমরা সেই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লড়াই করব। "

রাহুল গান্ধী আজ সকালে ওয়ানাদ লোকসভা কেন্দ্রের ইদাভান্নাতে একটি রোড শো করেছিলেন।


নরেন্দ্র মোদি   রাহুল গান্ধী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বেশিরভাগই ভারতীয়

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ১২ জুন, ২০২৪


Thumbnail

কুয়েতের দক্ষিণ আহমেদি গভর্নরেটের মানগাফ শহরে শ্রমিকদের থাকার একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অর্ধ-শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ভারতের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদিকে নিহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি প্রবাসী নেই বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বুধবার (১২ জুন) স্থানীয় সময় ভোরের দিকে মানগাফ এলাকার ছয় তলা ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, বুধবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে মানগাফ এলাকার ছয় তলা ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় সকাল ৬টার দিকে বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আইদ রাশেদ হামাদ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেটি শ্রমিকদের জন্য ব্যবহার করা হতো। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে অনেক শ্রমিক ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনই ভারতীয় নাগরিক। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওনমানোরামার তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ ভারতীয় নাগরিক আছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই কেরালার বাসিন্দা। ওই ভবনে ১৯৫ শ্রমিক ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই কেরালা ও তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।

কুয়েতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘আজকের অগ্নিকাণ্ডে আহত ৩০ জনেরও বেশি ভারতীয় শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’’ কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইদ আল ওয়াইহান প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ৩৫ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে আহতদের মধ্যে আরও ছয়জন একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।’

এদিকে, কুয়েতের মানগাফের আগুন লাগা ওই ভবনটিতে নিহত ৪৩ জনের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি প্রবাসী নেই বলে নিশ্চিত করেছেন কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আবদুল হোসেন। তিনি ওই ভবনটি পরিদর্শন করেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কুয়েত   অগ্নিকাণ্ড  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

হজের জন্য প্রস্তুত সৌদি আরব, উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১২ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আগামী শুক্রবার (১৪ জুন) শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। হজে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মুসল্লিরা সৌদিতে আসছেন। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্মিলন হজের জন্য প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে সৌদি আরব। অন্যবারের মত এবারও হজের খুৎবা বাংলাসহ ১৮টি ভাষায় প্রচার করা হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে হজ করতে যাচ্ছেন প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ

সৌদি গণমাধ্যম বলছে, মঙ্গলবার (১১ জুন) পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি বিদেশি হজযাত্রী সৌদিতে এসে পৌঁছেছেন। আগামী কয়েকদিনে আরও অসংখ্য হজযাত্রী আসবেন। এছাড়া সৌদির নাগরিক এবং প্রবাসীরাও এসব হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে বছর কেউ হজে অংশগ্রহণ করতে পারে নি। কিন্তু ফিলিস্তিনের আরেক অংশ পশ্চিমতীর থেকে হজ করতে অনেকে এসেছেন।

সৌদির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় বছর বেশি মানুষ হজ করবেন। ২০২৩ সালে সবমিলিয়ে ১৮ লাখ মানুষ হজ করেছিলেন। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে গত বছরই সবচেয়ে বেশি মানুষ পবিত্র হজ পালন করেন। করোনা হানা দেওয়ার আগে ২০১৯ সালে হজ পালনকারীর সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়েছিল।

গতবারের মতো এবারও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি সঙ্গী হচ্ছে হজযাত্রীদর। হজের সময়ে চলমান তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌঁছাতে পারে বলে হজযাত্রীদের সতর্ক করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। তাই সময় মন্ত্রণালয় নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে হজযাত্রীদেরকে।

হজের সময় গরম থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহারের পাশাপাশি বেশি বেশি পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া হাজিদেরকে বাইরে না যাওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, হজের সময় মক্কার তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, এবার প্রায় ২০ লাখ মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালন করবেন। পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন। আজ বুধবার (১২ জুন) শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৪ জুন এরপর ১৫ জুন হবে আরাফাতের দিন। আর পরদিন কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন ধর্ম প্রাণ মুসল্লিরা।


হজ   সৌদি আরব   উচ্চ   তাপমাত্রা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন