ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

প্রকাশ: ০৮:৫৩ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

বিশ্বে মহামারি করোনায়  দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেমে এসেছে ৪ লাখের নিচে।

আজ সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ হাজার ১৯৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে এক হাজারের বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৬ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। তালিকায় এরপরই রয়েছে ইউক্রেন, তুরস্ক, মেক্সিকো, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৬ কোটি ১৭ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫২ লাখ ১৬ হাজার।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯৮ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯ জনে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউরোপে তেল বন্ধ করার হুমকি রাশিয়ার

প্রকাশ: ০২:৫৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

২০২৩ সালের শুরু থেকেই ইউরোপকে অপরিশোধিত তেল ছাড়াই চলতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা। তেলের মূল্য বেঁধে দেওয়ার জেরে  এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।

শনিবার এক টুইট বার্তায় ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ বলেছেন, নতুন বছর থেকে ইউরোপকে রাশিয়ার তেল ছাড়াই চলতে হতে পারে। তাদের উচিৎ সেভাবেই চিন্তাভাবনা করা।

রাশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে বেঁধে দেওয়ার পশ্চিমা পদক্ষেপের পর এমন বার্তা দিলেন রাশিয়ার এই কর্মকর্তা। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জি সেভেনভুক্ত সাতটি দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়া জানায়, রাশিয়ার অপরিশোধিত সমুদ্রজাত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার নির্ধারণে সম্মত হয়েছে তারা।

এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বলেন, আমরা এই মূল্য গ্রহণ করব না।  রাশিয়া দ্রুত বিষয়টি বিশ্লেষণ করবে এবং তার প্রতিক্রিয়া জানাবে।


অপরিশোধিত তেল   জ্বালানি   রাশিয়া   ইউরোপ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

তেলের উৎপাদন না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল ওপেক

প্রকাশ: ১২:২৩ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। এই চলমান অস্থিরতার মধ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি সেভেন, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার তেলের দাম বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়াবে না অর্গানাইজেশনন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস ও মিত্র রাশিয়া (ওপেক প্লাস)।

অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার আয় হ্রাস করার লক্ষ্যে শনিবার দেশটির তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি দামে রাশিয়ার কাছ থেকে কেউ তেল কিনতে পারবে না কিংবা রাশিয়া তেল বিক্রি করতে পারবে না।

ওপেক সূত্র জানিয়েছে, তেলের উৎপাদনের ব্যাপারে অক্টোবরে যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল তা বহাল থাকবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তেলের উৎপাদন বাড়াবে না জোট।

উল্লেখ্য, অক্টোবরে ওপেক দৈনিক তেলের উৎপাদন ২০ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দেয়, যা বৈশ্বিক চাহিদার ২ শতাংশ। এ ঘটনায় জোটের নেতা সৌদি আরবের ওপর ক্ষিপ্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াকে সমর্থন দিতেই রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করলেও সৌদি আরব এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনসহ বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দামও কমে গেছে। এ কারণেই তারা তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


ওপেক   তেল উৎপাদন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফিলিস্তিন নিয়ে নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ১২:১২ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ গোটা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপন দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইসরায়েলের সাবেক কট্টরপন্থি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও জয়লাভ করায় দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় আসার আগেই এ বিষয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব ও ভূমি সংযুক্তির বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি। রোববার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বা ভূখণ্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার পথ পরিষ্কার হওয়ার পর এই কথা জানান তিনি।

আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলে গত ১ নভেম্বরের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন দেশটির সাবেক কট্টরপন্থি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া ক্ষমতায় যেতে তিনি চরম কট্টরপন্থি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের পক্ষে থাকা দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। নেতানিয়াহুর জোটে থাকা উগ্রপন্থি এসব দলগুলোর মধ্যে রিলিজিয়াস জায়োনিজম নামে একটি দলও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর অধীনে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে সম্ভবত আরও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠবে। এর আগে ২০২১ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহু একটানা ১২ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ওই সময়কালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবৈধ বসতির রেকর্ড সম্প্রসারণ হয়েছিল।

আল জাজিরা বলছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই ধরনের ইসরায়েলি অবৈধ বসতি আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি বলে বিবেচিত হয় এবং সংকট সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অংশ হিসাবে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক হিসাবে মনে করা হয়।

এদিকে নেতনিয়াহুর জোটে থাকা রিলিজিয়াস জায়োনিজম নামক ওই উগ্রবাদী দলটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থন করে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে থাকে। নেতানিয়াহুর নতুন ওই জোটে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের তত্ত্বাবধানের জন্য একটি পদও বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাম-ঘেষা ইসরায়েলপন্থি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জে স্ট্রিটের সাথে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। এসময় তিনি নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানান। যদিও ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের সঙ্গে প্রবীণ এই ইসরায়েলি নেতার সম্পর্ক অনেকটা সাংঘর্ষিক ছিল।

রোববার ব্লিংকেন বলেন, ‘আমরা একক কোনও ব্যক্তি নয় বরং সরকার যেসব নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে সেটির মাধ্যমে তাদের মানদণ্ড পরিমাপ করব।’

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ‘নিরলসভাবে’ কাজ করবে।

ব্লিংকেন আরও বলেন, ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের দ্ব্যর্থহীনভাবে বিরোধিতা করব আমরা। যার মধ্যে (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে) অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া, পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থায় ব্যাঘাত, ধ্বংস এবং উচ্ছেদসহ সহিংসতার প্ররোচনাও রয়েছে।’

তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসন ‘এলজিবিটিকিউ জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ইসরায়েলের সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারের সমান প্রশাসনসহ মূল গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর ওপর জোর দেবে।’

আল জাজিরা বলছে, নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থি জোটে নোয়াম নামে একটি গোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার নেতা আভি মাওজ এলজিবিটিকিউ অধিকারের ঘোর বিরোধী। এছাড়া নেতানিয়াহুর জোটের অন্য অংশীদার কট্টরপন্থি জিউশ পাওয়ার পার্টিও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থন করে।

জিউশ পাওয়ার পার্টির নেতা ইতামার বেন-গভির গত বছর পর্যন্ত ফিলিস্তিনি-বিদ্বেষী ধর্মীয়-অতি-ডানপন্থি উস্কানি প্রদানকারী হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী উস্কানি এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ-বিরোধী সক্রিয়তার জন্য ২০০৭ সালে বেন-গভিরতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

বেন-গভির অবশ্য বলছেন, তিনি এখন আর সকল ফিলিস্তিনিকে তাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে নন। তবে শুধুমাত্র যাদেরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘সন্ত্রাসী’ বলে মনে করা হবে সেসব ফিলিস্তিনিকে বহিষ্কার পক্ষে তিনি।


ফিলিস্তিন   যুক্তরাষ্ট্র   নেতানিয়াহু   হুঁশিয়ারি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পাকিস্তান দুর্বল হচ্ছে ইমরান খানের কারণে

প্রকাশ: ১১:৪৮ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধানকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন। শাহবাজ বলেন, নিজের শাসনের জন্য ইমরান পাকিস্তানের ভিত্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন। খবর দ্য ডনের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান সম্প্রতি সংসদীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কটূক্তি শুরু করেছেন।

শাহবাজ শরিফ এক টুইট বার্তায় বলেন, পিটিআই নেতার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষমতায় যাওয়া। এমনকি তা এই দেশের ভিত্তিকে দুর্বল করে হলেও।

তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আঘাত করে যাচ্ছেন ইমরান খান। তাছাড়া আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও অস্বীকার করেছেন তিনি।

ইমরান খান তার সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল বাজওয়ার সময় বাড়ানো ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সারও একই কথা বলেছেন।

সম্প্রতি আগাম নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্য লং মার্চ শুরু করে পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ। কিন্তু লং মার্চ চলাকালে দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হন। এরপর এই পদক্ষেপ স্থগিত থাকলেও ২৬ নভেম্বর লং মার্চ করেন তিনি।

এদিকে হামলার জন্য শাহবাজ শরিফকে দোষারোপ করেছিলেন ইমরান। যদিও তা অস্বীকার করে আদালতের কাছে তদন্ত দাবি করেছিলেন শাহবাজ।


পাকিস্তান   ইমরান খান   শেহবাজ শরীফ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইরানে নৈতিকতা পুলিশ বিলুপ্ত, আদৌ বন্ধ হবে নীতিপুলিশি?

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল একটি ধর্মীয় সম্মেলনে বলেছেন, ইসলামি নীতি- নৈতিকতা নিয়ে খবরদারি করার জন্য তৈরি দেশটির বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হিজাব না পরার জন্য এই বাহিনীর হাতে আটক মাহসা আমিনি নামে ২২ বছরের এক তরুণীর মৃত্যুর পর ইরানে গত আড়াই মাস ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরির কাছ থেকে এই ঘোষণা আসে।

উল্লেখ, চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগে ইরানের নীতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি (২২)। এর ঠিক তিন দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয় আমিনির। তার পরিবার ও বহু ইরানির ধারণা, পুলিশের ব্যাপক নির্যাতনে মারা যান আমিনি। কিন্তু ইরান সরকার ও দেশটির পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে। এর পরপরই ইরানজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে এই বিক্ষোভ। 

বিক্ষোভের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো, পুরো বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নারীরা। বিক্ষোভে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখের পড়ার মতো। রাস্তায় নেমে হিজাব পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। অনেকে প্রকাশ্যে চুল কেটেও বিক্ষোভে শামিল হন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হিজাববিরোধী ছিল তুঙ্গে। 

বিক্ষোভ দমাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাহী আদেশ দেন সেনাবাহিনীকেও। সব হুমকি উপেক্ষা করে নিজেদের অবস্থানে অটল থেকে রাস্তায় নামে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী। সকলের মুখে একটাই স্লোগান, 'নারী, জীবন, মুক্তি'-যা মূলত দেশটিতে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও সমতার আহ্বান।

বিক্ষোভকারীদের ধারণা, তারা যদি এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ান তাহলে একদিন তাদেরও একই ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে। দেশটিতে  এলিট রাজনীতিকদের দুর্নীতি, ৫০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে দারিদ্রের ঊর্ধ্বগতি, পারমাণবিক আলোচনায় অচলাবস্থা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব তরুণদেরসহ একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে হতাশ করে তুলেছে। এর মধ্যেই ইরানজুড়ে এমন নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেশটির সরকারকে প্রবল চাপে ফেলে। 

দেশটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ইরানি সমাজে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিপ্লবের পরপরই দেশটির নারীদের হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়। সেইসঙ্গে নারীরা তাদের অনেক অধিকারও হারান। যার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ ও কাজের অধিকার এবং সাত বছরের বেশি বয়সী সন্তানকে রাখার বিষয়ও। 

আজ রোববার বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অবশেষে প্রবল বিক্ষোভে মুখে ইরান পিছু হটেছে। দেশটি তাদের নীতি পুলিশ বিলুপ্ত করেছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল একটি ধর্মীয় সম্মেলনে বলেছেন, ইসলামি নীতি-নৈতিকতা নিয়ে খবরদারি করার জন্য তৈরি বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি, গার্ডিয়ানসহ ডজন খানেক আন্তর্জাতিক মিডিয়া খবর দিয়েছে, হিজাব বাধ্যকতামুলক করে জারি করা আইনটি সরকার পুনর্বিবেচনা করছে। দেশটি বাধ্যতামূলক হিজাব আইন তুলে নিতে পারে-এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

তবে দেশটির সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলেও চলমান বিক্ষোভ নিভে যাওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিবিসির ফার্সি বিভাগের সাংবাদিক। কারণ, বিক্ষোভকারীরা নতুন করে তিন দিনের ধর্মঘট ডেকেছে।

এছাড়া বিক্ষোভ দমাতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর তাণ্ডবে দেশটিতে যে চার শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করেছে তাও এক প্রকার মেনে নিয়েছে ইরান। যদিও দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। তাই এখন সময়ের অপেক্ষা দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মেয়াদ আর কতদিন?


ইরান   নৈতিকতা পুলিশ   মাহশা আমিনি   বিক্ষোভ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন