ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ত্রিপুরায় নিরঙ্কুশ জয় পেলো বিজেপি

প্রকাশ: ১১:৫২ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ভোটের আগে যা ভাবা, যা গণনা, ফলাফলও ঠিক তাই। ত্রিপুরার পুরভোটে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। তবে তার মধ্যেও আগরতলা শহরে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করল, বিজেপির ‘শেষের শুরু হল এই ফল থেকেই। আর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের দাবি, রাজ্যকে ‘বদনাম করার চেষ্টার জবাব দিয়েছেন মানুষ।

ত্রিপুরার পুর নিগম, পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত মিলে মোট ৩৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২৯টিই রাজ্যের শাসক দলের দখলে। তার মধ্যে ১১২টি তারা আগেই জিতে নিয়েছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ওয়ার্ডের নিরিখে বিরোধীদের ঝুলিতে গিয়েছে নামমাত্র আসন। কিন্তু এই ‘গেরুয়া ঝড়ের আবহেও ভোটপ্রাপ্তির বিচারে আগরতলায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গোটা রাজ্যের পুর এলাকার ভোটের ফলের নিরিখে অবশ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামেরা।

পুরভোটে এ বার শাসক দলের বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, গা-জোয়ারি ও ছাপ্পার অভিযোগ উঠেছিল ভূরি ভূরি। এমন নির্বাচনকে ‘প্রহসন আখ্যা দিয়ে পুরভোট বাতিলের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থে হয়েছে দুই বিরোধী দল সিপিএম ও তৃণমূল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোথাও কোনও পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ না দেওয়ার প্রতিবাদে রবিবার গণনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণও করেনি বামেরা। ভোটবাক্স খোলার পরে এ দিন দেখা গিয়েছে, আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের ৫১টিতেই জয়ী বিজেপি। শহরের ২৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, বামেরা দ্বিতীয় ২৫টিতে। পুরভোটে ত্রিপুরায় খাতাও খুলেছে তৃণমূল। আমবাসা পুর পরিষদের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুমন পাল তাঁর জয়কে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় বলেই বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের পুরভোটে আগরতলা পুরসভা জিতেছিল বামফ্রন্ট।

ত্রিপুরার যে ১৩টি পুর এলাকায় ভোট ছিল, তার সবকটিই এ বার জিতেছে বিজেপি। যে ২২২টি আসনে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে বিজেপির দখলে ২১৭টি। সিপিএম পেয়েছে ৩টি আসন। তৃণমূল এবং তিপ্রা মথা ১টি করে ওয়ার্ড জিতেছে। তিপ্রা মথার প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্যের দাবি, কোনও জনজাতি সংগঠনের শহুরে এলাকায় জয় এই প্রথম। গোটা রাজ্যে পুর এলাকা ধরে হিসেব করলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামেরাই। তাদের প্রাপ্ত ভোট ১৯.৬৫%। তৃণমূল পেয়েছে ১৬.৩৯%। আর বিজেপির ভোট ৫৯.০১%। শুধু আগরতলা পুর এলাকা ধরলে আবার তৃণমূল থাকছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম বার লড়তে নেমে আগরতলায় তৃণমূল পেয়েছে ২০.১৩%। বামেদের ভোট সেখানে ১৭.৯%। কংগ্রেস পেয়েছে ১.৮%। আর জয়ী বিজেপির প্রাপ্তি ৫৭.৪% ভোট। এই চিত্র সামনে রেখে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার মন্তব্য, ‘‘এই ফলে হতাশার তো কিছু নেই-ই, বরং উৎসাহিত হওয়ার কারণ আছে। বিজেপির শেষের শুরু হল। গণতন্ত্রের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ত্রিপুরার মানুষ আমাদের ভরসা দিয়েছেন।’’

তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য, আগরতলা-সহ বেশ কিছু এলাকার ওয়ার্ডে বাম ও তৃণমূল মিলে যা ভোট পেয়েছে, তা বিজেপির চেয়ে বেশি।

তৃণমূল নেতৃত্বের যুক্তি, মাত্র তিন মাসের রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে তাঁরা ত্রিপুরায় পুরভোটের ময়দানে নেমেছিলেন। গোটা প্রচার-পর্ব এবং নির্বাচনে হামলা ও মামলার সঙ্গে লড়তে হয়েছে। ভোটে বিস্তর ‘জালিয়াতি সত্ত্বেও এই সামান্য সময়ে যে সমর্থন তাঁরা পেয়েছেন, সেই ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করা যাবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘সবে তো শুরু। এ বার আসল খেলা হবে!’’ টুইট করে এ দিন তিনি বলেছেন, ‘নামমাত্র উপস্থিতি নিয়ে শুরু করে পুরভোটে ২০%-এর বেশি ভোট পেয়ে প্রধান বিরোধী হিসেবে উঠে আসা যে কোনও দলের পক্ষেই ব্যতিক্রমী। আমরা তিন মাস আগে কাজকর্ম শুরু করেছিলাম এবং অন্য দিকে, ত্রিপুরায় গণতন্ত্রকে জবাই করতে বিজেপি কোনও চেষ্টাই বাদ রাখেনি। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে ত্রিপুরায় তৃণমূলের সব কর্মীকে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক সাহসের জন্য অভিনন্দন!

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব অবশ্য পুরভোটে তাঁর দলের জয়ের পরে বলেছেন, ‘‘ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের পুণ্যভূমির যারা ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন ত্রিপুরাবাসী। ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। তাই বিজেপিকে ৯৮.৫০% আসনে জয়যুক্ত করে ত্রিপুরাবাসী উপহার দিয়েছেন।’’ তৃণমূলের প্রতি ইঙ্গিত করে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘ত্রিপুরাকে বদনাম করার চেষ্টায় যারা ছিলেন, তাঁরা দেখুন কৈলাসহর অথবা সোনামুড়ায় সংখ্যালঘু এলাকাতেও মানুষ উন্নয়নের পক্ষে আস্থা প্রদর্শন করেছেন। কিছু দিন ধরে ত্রিপুরাকে বদনাম করার চেষ্টা হয়েছে।’’ পুর নির্বাচনে সাফল্যের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আগরতলা পৌঁছে এ দিন তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবের সরকারকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘গত পুর নির্বাচনে বিজেপি ১৪.১% ভোট পেয়ে ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল করেছিল। তৃণমূল ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে একই ভাবে পরিবর্তন আনবে। অনেক জায়গায় রিগিং-ছাপ্পা করে, কোথাও কোথাও গণনায় কারচুপি করেও তারা তৃণমূলের উত্থান আটকাতে পারেনি।’’ গণনা-পর্ব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করায় রাজ্য তৃণমূলের আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সিপিএম অবশ্য এই পুরভোটের হিসেব-নিকেশ থেকে বড় কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ। দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর কথায়, ‘‘যে নির্বাচনকে বাতিল করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছে, সেখান থেকে কে দ্বিতীয় বা তৃতীয়, সেই বিচার অর্থহীন! বিজেপির শাসনে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও জনগণের ভোটের অধিকারের উপরে যে আক্রমণ চলছে, তা থেকে ত্রিপুরাকে বার করে আনতে সংগ্রামের ময়দানে আরও সক্রিয় হতে হবে।’’ ত্রিপুরা রাজ্য বামফ্রন্টের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, ‘অভূতপূর্ব সন্ত্রাস, নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের সচেতন ব্যর্থতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সুযোগের ব্যবহার করে শাসক বিজেপি নগর সংস্থার নির্বাচনকে পুরোপুরিই প্রহসনে পরিণত করেছে।

তবে বাম নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০টি পুর এলাকার মধ্যে ১৩টিতে (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফয়সালা হয়েছে ৭টির) লড়াই করেছে বামফ্রন্ট। তিনটিতে লড়াই করেছে তৃণমূল। তাই সার্বিক ভাবে তৃণমূলের ‘প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার দাবি ঠিক নয় বলে বামেদের পাল্টা দাবি। তাঁরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আগরতলায় বিজেপির দুজন ‘বিক্ষুব্ধ বিধায়ক পিছন থেকে তৃণমূলকে মদত করেছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী প্রতিমা ভৌমিকও মন্তব্য করেছেন, পুরভোটে তাঁদের ‘সাফল্য এসেছে বামেদের হারিয়েই। সূত্র: আনন্দবাজার



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

হন্ডুরাসের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট জিওমারা ক্যাস্ত্রো

প্রকাশ: ০৩:৪৩ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসে প্রথমবার কোনো নারী হিসেবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন জিওমারা ক্যাস্ত্রো। 

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে শপথ গ্রহণ করেন ৬২ বছরের ক্যাস্ত্রো। দেশটির নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে প্রথম নির্বাচিত এই নারী প্রেসিডেন্টকে।

বামপন্থি লিব্রে পার্টির এই নেত্রী গতবছর ২৮ নভেম্বরে ভোটে জয় লাভ করেন। রাজধানী তেগুসিগালপার জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজারো মানুষের সামনে হয় তার অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।  

দেশবাসীকে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত হন্ডুরাসের দায়িত্ব গ্রহণ করতে তিনি প্রস্তুত। তবে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনে কঠোর হওয়ার কথাও বলেন তিনি।

জিওমারা ক্যাস্ত্রোর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও। অভিষেকের পর ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে তিনি প্রথম বৈঠক করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ক্যাস্ত্রোর স্বামী ম্যানুয়েল জেলায়া।

হন্ডুরাসের সরকারপ্রধান হয়ে চরম বেকারত্ব, সহিংসতা, দুর্নীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে ক্যাস্ত্রোকে। তার ওপর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে সংকট ও চাপের মুখেও রয়েছে দেশটি।


হন্ডুরাস প্রেসিডেন্ট  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা পেলো টাটা

প্রকাশ: ০২:০৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ঘরের ছেলে যেন ঘরে ফিরলো। দীর্ঘ ৬৯ বছর প্রতীক্ষার পর আবারো ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিয়েছে দেশটির বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান টাটা গ্রুপ। টাটা গ্রুপের হাত ধরেই ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের প্রথম বিমান সংস্থা। ১৯৫৩ সালে সংস্থাটি অধিগ্রহণ করেন নেয় সরকার। এরপর আবারো প্রতিষ্ঠানটির কাছে ফিরলো ভারতের প্রথম বিমান সংস্থাটি। 

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখর দেখা করার কয়েক ঘণ্টার মাঝেই এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয় টাটা গ্রুপ। 

আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখর বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। টাটা গ্রুপে এয়ার ইন্ডিয়াকে ফিরে পেয়ে খুশি আমরা। বিশ্বমানের উড়ান সংস্থায় পরিণত করার জন্য আমরা সবার সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’ 

২০১৯ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার ১০০ শতাংশ শেয়ারই বিক্রি করার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। একাধিকবার দরপত্র জমা দেওয়ার সীমা বাড়ানোর পর দুটি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ঋণে জর্জরিত উড়ান সংস্থা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে টাটা গ্রুপ এবং স্পাইসজেটের প্রোমোটার অজয় সিং।

২০২১ সালের ৮ অক্টোবরে কেন্দ্র ঘোষণা করে, টাটা গ্রুপের হাতে ফিরছে এয়ার ইন্ডিয়া। টাটা ২ হাজার ৭০০ কোটি রুপিতে এয়ার ইন্ডিয়া কিনে নেয়। সেইসঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ঋণের দায়ও টাটার।  

গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় উড়ান সংস্থার ঋণের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৫৬২ কোটি রুপি। টাটা গ্রুপের হাতে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা তুলে দেওয়ার আগে সেই ঋণের ৭৫ শতাংশ বা ৪৬ হাজার ২৬২ কোটি রুপি এয়ার ইন্ডিয়া অ্যাসেটস হোল্ডিং লিমিটেড কাছে যাবে। তবে বসন্ত বিহারে এয়ার ইন্ডিয়ার হাউজিং কলোনি, মুম্বাইয়ের নরিম্যান পয়েন্ট এবং নয়াদিল্লীতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিল্ডিং পাবে না টাটা।

এয়ার ইন্ডিয়া   টাটা   নরেন্দ্র মোদী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেন সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের ডাক যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ১২:৩৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

রাশিয়ার সাথে প্রতিবেশী ইউক্রেনের সাম্প্রতিক উত্তেজনার রেশ এখন আর ইউরোপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি উন্মুক্ত বৈঠকের ডাক দিয়েছে। 

আগামী সোমবার (৩১ জানুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদে এই বৈঠকের ডাক দিলো বিশ্ব মোড়ল দেশটি। 

বৈঠকের বিষয়ে একটি বিবৃতিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড রাশিয়ার আচরণকে ‘হুমকিমূলক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ইউক্রেন সীমান্তে ১ লাখের বেশি রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনকে নিশানা করে অন্যান্য অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে রাশিয়া। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি স্পষ্ট হুমকি তৈরি করছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা বলেছেন, ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদকে চলমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায়, তবে আন্তর্জাতিকভাবে করণীয় কী হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

লিন্ডা বলেন, বসে বসে দেখা ও অপেক্ষার সময় এটি নয়। এখন নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ মনোযোগ দরকার। সোমবার তাঁরা খোলামেলা ও ফলপ্রসূ আলোচনার আশা করছেন। 

লিন্ডা মনে করেন, নিরাপত্তা পরিষদের আসন্ন বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের কথা আরও বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যাবে। ইউক্রেন প্রশ্নে আগ্রাসী আচরণের জন্য ক্রেমলিনকে একঘরে করে দেওয়া যাবে।

রোমানিয়ার একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে নিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতা থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদে তারা একা বোধ করবে। তাঁরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্য দেখাতে পারবেন।

লিন্ডা বলেন, ‘আমার মনে হয় না, নিরাপত্তা পরিষদে কোনো দেশ চুপচাপ বসে থাকবে, আর বলবে যে অন্য দেশে রাশিয়ার আক্রমণ করাটা ঠিক আছে।’

কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত আজ শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি করতে চেয়েছিল। তবে আজ ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত ফোনালাপের কথা মাথায় রেখে বৈঠকের দিন সোমবার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা মোতায়েন নিয়ে মস্কোর সঙ্গে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা চলছে। কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে মস্কো। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকার কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের একটি রাশিয়া। পরিষদে উত্থাপিত যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার অধিকার রয়েছে দেশটির।


জাতিসংঘ   নিরাপত্তা পরিষদ   যুক্তরাষ্ট্র   রাশিয়া   ইউক্রেন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১১:২৮ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাসের মাঝে ব্রিটেনে চলা কঠোর লকডাউনে নিজ সরকারি বাসভবনে একাধিক পার্টির খবর প্রকাশ্যে আসার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পুলিশি ও সংসদীয় কমিটির তদন্ত। এবার বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন তার নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির বেশ কয়েক জন এমপি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বিভিন্ন পার্টি নিয়ে তদন্ত করছেন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা সু গ্রে। এ প্রসঙ্গে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, তদন্ত শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তবে কবে সেই তদন্ত শেষ হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি বরিস জনসন। শুধু বলেছেন, ‘‘কী গতিতে, কী পদ্ধতিতে তদন্ত চলছে তা আমরা জানি না। আমরা তদন্তে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করছি না। তবে শুধু এটুকু আপনাদের আশ্বাস দিতে পারি— তদন্ত শেষ হলে যখন সু গ্রে রিপোর্ট পেশ করবেন, আমি অসম্পাদিত রিপোর্টটি আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”

লেবার নেতা কের স্টায়মারও বলেছেন, “গ্রে’র রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা সবাই।”

ব্রিটিশ আইন অনুসারে, ক্ষমতাসীন দলের অন্তত ১৫ শতাংশ এমপি যদি তাদের দলীয় নেতার (অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন, তাহলে তা পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য গ্রাহ্য হবে। কতজন এমপি আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি।

ব্রিটেন   বরিস জনসন   লকডাউন   করোনা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফাইজারের করোনার খাওয়ার বড়ির অনুমোদন দিলো ইইউ

প্রকাশ: ১০:৫২ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইসরায়েলের পর এবার প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের খাওয়ার বড়ির অনুমোদন দিলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ইইউয়ের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) মার্কিন ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাইজারের তৈরি করোনা বড়ি প্যাক্সলোভিডের ব্যবহারের অনুমোদন দিলো।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে ইইউয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনার স্টেলা কিরিয়াকিডেস বলেন, করোনার মারাত্মক শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য প্যাক্সলোভিড বড় বদল আনতে পারে। ওমিক্রন ও অন্য ধরনগুলোর বিরুদ্ধে ওষুধটির কার্যকারিতার বড় প্রমাণ দেখা গেছে।

বাসা থেকেই ফাইজারের বড়ির মাধ্যমে করোনার চিকিৎসা চালানো যাবে বলে জানিয়েছে ইএমএ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যেসব প্রাপ্তবয়স্কদের আলাদা অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে না এবং যাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁরাই নিতে পারবেন এই চিকিৎসা।

গবেষণার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হচ্ছে, প্যাক্সলোভিড বড়ি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মারাত্মক শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি কমায়। ফলে এই চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বেশ কম। এমনকি করোনার অতিসংক্রামক ধরন ওমিক্রনের রুখতেও বেশ কার্যকর ফাইজারের করোনা বড়ি।

ফাইজার   ইইউ   ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি   করোনা   ভাইরাস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন