কোর্ট ইনসাইড

তারেক-জুবাইদার বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় আজ

প্রকাশ: ১০:৫০ এএম, ০২ অগাস্ট, ২০২৩


Thumbnail

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় রায়ের দিন আজ বুধবার (২ আগস্ট) ধার্য রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

এ রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী ও অরাজক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সে জন্য সতর্ক অবস্থানে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

এর আগে গত ২৪ জুলাই আদালতে সবশেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন দুদকের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। 

গত ২১ মে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদার সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

গত ১৩ এপ্রিল একই আদালত তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ মামলায় তাদের পলাতক দেখানো হয়।

জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলার বাকি দুই আসামি তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানু। ২০০৮ সালে তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে আদালতে হাজির হতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান।

গেজেটে বলা হয়, তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আদালতের বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, তারা গ্রেফতার ও বিচার এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে রয়েছেন। সেহেতু তাদের আগামী ধার্য তারিখের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে।

গত বছরের ১ নভেম্বর একই আদালত তারেক ও জুবাইদার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে তারা পলাতক।

তারেক রহমানের শাশুড়ি মারা যাওয়ায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।


তারেক   জুবাইদা   বি এন পি   দুদক   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


কোর্ট ইনসাইড

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতেই হবে: আপিল বিভাগ

প্রকাশ: ০৩:২৬ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ আয়কর দিতেই হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৮ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয় যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তাদের উদ্ভূত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পুনঃনির্ধারণ করা হলো। ১ জুলাই থেকে এটা কার্যকর হবে। ’

২০১০ সালের ১ জুলাই এনবিআরের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ ও উদ্ভূত আয়ের উপর প্রদেয় আয়করের হার হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। ’

পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রিট আবেদন করলে উচ্চ আদালত ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর ধার্য করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের পর আপিল বিভাগ ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এক আদেশের মাধ্যমে সরকারের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপ না করার আদেশ দিয়েছিলেন।

২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আয়কর দিতে হবে না বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনগুলোর হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির আদেশও বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়   ট্যাক্স   আপিল বিভাগ  


মন্তব্য করুন


কোর্ট ইনসাইড

ব্যক্তি পর্যায়ে হাতি পালনের লাইসেন্স স্থগিত

প্রকাশ: ০৩:০৭ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ব্যক্তি পর্যায়ে হাতি পালনের লাইসেন্স প্রদান ও বিদ্যমান লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। 

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাকিব মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। এর আগে অভিনেত্রী জয়া আহসান ও প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রিটটি দায়ের করা হয়। 

সার্কাস, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও চাঁদা তোলার মতো কাজে হাতিকে ব্যবহার করতে নির্যাতনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ করা হয় রিটে।

লাইসেন্স স্থগিত   ব্যক্তি পর্যায় হাতি পালন  


মন্তব্য করুন


কোর্ট ইনসাইড

দুই দেশের বিচার বিভাগ প্রায় একই: ভারতের প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ: ০২:৪৩ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড় বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিচার বিভাগ প্রায় একই। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের বিচার বিভাগ ও সংস্কৃতি প্রায় একই।

আজ রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের অপর পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এজলাসে (প্রধান বিচারপতির কোর্ট) আসেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়। তার সঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দুজন বিচারপতি। তারা হলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস।

বাংলাদেশের আপিল বিভাগের অপর পাঁচ বিচারপতি হলেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।

এজলাসে আসন গ্রহণের পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আমাদের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ। ভারতের প্রধান বিচারপতি ও দেশটির দুজন বিচারপতি উপস্থিত আছেন।’

এরপর ভারতের প্রধান বিচারপতি ও অপর দুই বিচারপতিকে অভিনন্দন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি ও দুজন বিচারপতির উপস্থিতি অত্যন্ত সম্মানের। তিনজন বিচারপতির উপস্থিতি এই প্রথম, যা ইতিহাসের অংশ।

অতিথিদের ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। তিনি বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য ভারতে বিচারিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

এরপর আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যতালিকার ১ থেকে ৫ নম্বর ক্রমিক থাকা মামলার শুনানি গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। যা পর্যবেক্ষণ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড় ও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস। এরপর ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড় বলেন, ‘আমি ও আমার সিনিয়র দুজন সহকর্মীর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত সম্মানের।’

পর্যবেক্ষণ করা মামলার শুনানির বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ক্ষেত্রে তিনিও অনুরূপ আদেশ দিতেন। আইনজীবীরা প্রশিক্ষণের জন্য আগ্রহী হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি।

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের অপর পাঁচ বিচারপতি। তাদের সঙ্গে এজলাস ত্যাগ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড় ও দেশটির অপর দুই বিচারপতি।


ভারত   বিচারপতি   বাংলাদেশ   ভারত  


মন্তব্য করুন


কোর্ট ইনসাইড

গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ১২:৫৩ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে কঠোরভাবে এ নির্দেশ মানার কথা বলা হয়েছে। 

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তীর্থ সলিল রায়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না মর্মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। 

এই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবরেটরি কোনো লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনো উপায়ে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করতে পারবে না। 

পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ নীতিমালা দাখিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে আজ রায় দেন হাইকোর্ট্। 

রুল জারির পর রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেছিলেন, ভারতে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হলে প্রসূতি মায়ের মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক চাপে গর্ভপাত করার ঘটনাও ঘটে।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।


মাতৃগর্ভ   শিশু   লিঙ্গ   পরিচয়  


মন্তব্য করুন


কোর্ট ইনসাইড

অবসরের ৬ মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা প্রদানের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৭:১৩ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীকে ৬ মাসের মধ্যে অবসর ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। .সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের দ্বৈত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, এটা চিরন্তন সত্য যে শিক্ষকরা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এজন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারেন না। যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিয়েই শিক্ষকদের অবসর ভাতা কিভাবে দ্রুত দেওয়া যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাথায় রাখতে হবে।

এদিকে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ ভাগ কর্তনের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দশ ভাগ কর্তন করলে সে পরিমাণ সুবিধা শিক্ষকদের দিতে হবে। একেক সময় একেক ধরনের সিদ্ধান্ত কাম্য নয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯’ এর প্রবিধান-৬ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫’ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষকদের  মূল বেতনের ২ শতাংশ ও কর্মচারীদের ৪ শতাংশ কাটার বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল হতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল উল্লিখিত প্রবিধানমালাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধানগুলো সংশোধন করে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে দুইটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনও বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি বলে জানান মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের বেতন হতে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ কাটার বিপরীতে কোনও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাতেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলে শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন।

পরবর্তীতে নতুন একটি প্রবিধানমালা জারি করে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরের ৬ মাসের মধ্যে কেটে নেওয়া ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ অর্থের বিপরীতে সুবিধা প্রদান করার নির্দেশনা চেয়ে সাপ্লিমেন্টারি রুলের জন্য আবেদন দাখিল করেন। শুনানির পর বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিবাদীদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন।


হাইকোর্ট   অবসরদের ভাতা   এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন