ইনসাইড আর্টিকেল

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:১০ এএম, ২৯ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উদযাপিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় `জানুন স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন।` 

দেশে বাড়ছে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। এক বছরে স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বাংলাদেশে । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, দেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ২০১৯ সালে মারা গিয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৫০২ জন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ৮৫ হাজার ৩৬০ জনে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার ঘাটতি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবনের প্রবণতা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনসহ নানা কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে মৃত্যুও বাড়ছে। বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে স্ট্রোক সংঘটিত হয়। বিশেষ করে রক্তনালী বন্ধ হয়ে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে মস্তিষ্কে এই রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। রক্তে থাকে অক্সিজেন আর পুষ্টিগুণ। ফলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো মারা যায়। স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো উচ্চরক্তচাপ। সারাবিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক।

স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে হলে লক্ষণও জানা চাই। কারণ, লক্ষণ না জানার কারণে স্ট্রোক হওয়ার পরও চিকিৎসা নিতে দেরি করে অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষণগুলোকে সংক্ষপে বলা হয় FAST। এখানে F = Face = মুখ বেঁকে যাওয়া, A = Arm = হাত দুর্বল অথবা অবশ হয়ে আসা, S = Speech = কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয় এবং T = Time তথা যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে আগে থেকেই খোঁজ নিয়ে রাখতে হবে কোন হাসপাতালে স্ট্রোকের ভালো চিকিৎসা রয়েছে।

দেশে স্ট্রোকের রোগী বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা জানান, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। বয়স বাড়লে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। সে হিসেবে মৃত্যুও বাড়বে। এ ছাড়া ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশে এসব গ্রহণের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের প্রবণতা। করোনার সময়ে অনেকেই দুশ্চিন্তা ও নানা মানসিক চাপে ছিল। স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। সে কারণেও ২০২০ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল ২০১৮ সালে স্ট্রোক নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। দেশের ৬৪টি জেলার ২৫ হাজার ২৮৭ মানুষের ওপর করা ওই জরিপের ফলাফলে বলা হয়, দেশে এখন প্রতি হাজারে ১১ দশমিক ৩৯ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী আছে। ৬০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৭ গুণ বেশি। নারীর চেয়ে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। স্ট্রোকের প্রকোপ শহরের চেয়ে গ্রামে কিছুটা বেশি।

‘বিশ্ব স্ট্রোক দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ গতকাল বৃহস্পতিবার নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে ‘সায়েন্টিফিক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয় ও বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কম্পিউটার-ফটোকপির দোকানে দালালদের আখড়া

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনের ওয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মার্কেট। পৌর এলাকার রাজারামপুরে মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধ সাইনবোর্ড দেখে বাইরে থেকে মনে হবে কম্পিউটার-ফটোকপির দোকান। এসব দোকানে কম্পিউটার-ফটোকপির পাশাপাশি ভেতরে প্রকাশ্যে চলছে পাসপোর্ট দালালদের কারবার। ভুয়া সিল ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে যাবতীয় নকল কাগজপত্র। হাত বাড়ালেই মিলছে সব। পাসপোর্ট অফিসের সামনে এসব দোকান ঘর ঘিরেই তৎপর পাসপোর্ট দালাল চক্রের সদস্যরা।

সরজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ঘুরে বিভিন্ন সেবাগ্রহিতার সঙ্গে কথা বলে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সামনে গড়ে ওঠা মার্কেটেই পাসপোর্ট দালালদের আনাগোনা। দোকানের সামনে ফেস্টুনে লেখা- নতুন পাসপোর্ট প্রসেসিং ও নবায়নের কাজ করা হয়। এ পাসপোর্ট অফিসে ঢুকতে ডান পাশেও গড়ে উঠেছে মার্কেট। সেখানেও  লেখা- এখানে ব্যাংক ড্রাফট ও পাসপোর্টের ফরম পূরণ করা হয়। পাসপোর্ট অফিসের সমানের মার্কেটে ছয়টি এবং ডান পাশের মার্কেটে দুই দোকানে পাসপোর্ট দালালির কারবার চলে। সারাক্ষণ এখানে দালালদের প্রকাশ্য হাঁকডাক। বেশিরভাগ পাসপোর্ট প্রত্যাশী ই-পাসপোর্টের ফরম পূরণ করতে গিয়ে দালালের ফাঁদে পড়ছেন। ফরম পূরণ শেষ হলেই দ্রæততম সময়ে পাসপোর্ট করার অফার দেয় দালালরা। পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য টাকার অংক ভিন্ন। যেমন- সিরিয়াল ছাড়া আবেদন জমা করতে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট পেতে ২ হাজার, নামের বানান এবং জন্ম তারিখ সংশোধনে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।

সূত্র বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক দালালদের নিয়ন্ত্রণ করেন পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মো. নাজমুল ইসলাম। কয়েকদিন থেকে এ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নেই। এ সুযোগে নাজমুলই সব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা গেছে। পাসপোর্টের আবেদনপত্রের জন্ম সনদ, বয়স বিভ্রান্তি, সত্যায়নে ভুল নির্ণয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অফিসটিতে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা পাসপোর্টকারী সহযোগিদের ভেতরে ঢুকতে না দিলেও অনায়াসে যাতায়াত করছে দালালরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে তৈরি হয় পাসপোর্ট। বাইরে থেকে দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে পাসপোর্ট অফিস। দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করতে গেলেই পড়তে হয় হয়রানিতে। পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশের দালাল চক্রের হাতে জিম্মি পুরো পাসপোর্ট অফিস।

সেবাগ্রহীতারা জানান, আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকার নির্ধারিত ফি (ব্যাংক চালান) জমা দিয়ে চালানপত্র দেওয়ার পরও অফিসের কর্মকর্তারা নানা ধরনের ভুল চিহ্নিত ও তা সংশোধন করে অন্যদিন জমা দেয়ার কথা বলেন। তবে ঘুষ দিলেই রিসিভ করা হয় আবেদন ফরম।

তারা বলেছেন, দালাল ছাড়া যদি আবেদনটি জমা হয়েই যায়, তবুও নিষ্কৃতি নেই। অফিসের ভেতরে সার্ভার নষ্ট, অফিসার আসেননি, ছবিতে সমস্যা, জন্ম তারিখ ভুল এমন হাজারও সমস্যা তুলে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় পাসপোর্ট ডেলিভারি। তবে টাকা দিলেই দ্রুত মেলে পাসপোর্ট।

পাসপোর্ট অফিসে গিয়েও হারুন রশিদ ও রবিউল ইসলাম তাদের পাসপোর্ট জমা দিতে পারেননি। হতাশ হয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। পাসপোর্ট অফিসে এবং চলে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। হারুন রশিদ বলেন, আমি গ্রাম থেকে এসে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেয়ার পরও আমার আবেদন ফরম জমা নেয়নি। আমার বিয়ের কাবিননামা কাগজ নিয়ে পরের দিন আসতে বলেছেন। আগামিকাল আবার যাবো জানি না আবার কি ভুল ধরে।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ভোটার আইডি কার্ড হয়নি। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট আবেদন ফরম জমা দিতে গিয়েছিলাম। তাদের কথা মতো পাসপোর্ট অফিসের বাইরের কম্পিউটার দোকান থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদের সার্চ কপিও দিয়েছি। তারপরও বাবার ভোটার আইডি কার্ডের মূল কপি লাগবে বলে আবেদন ফরম ফেরত দিয়েছেন। আবার কাল যাবো দেখি কি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, এই পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের বদলি হয়েছে। গত রোববার তিনি ঢাকা চলে গেছেন। এখানে নতুন অফিসার আসবেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করি। দালালদের কোন প্রশ্রয় নেই। তবে অভিযোগকারীদের অফিসে আসতে বলার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।  



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘বাকশাল’ ব্যবস্থার প্রবর্তণ

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘বাকশাল’ ব্যবস্থার প্রবর্তণ।

আজ ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সেই ২৫ জানুয়ারি- একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই তারিখে এদেশের রাজনীতিতে রচিত হয়েছিল নতুন ইতিহাস, সূচনা হয়েছিল রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়। ওইদিন সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পেশকৃত সংবিধানের  চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস হয়। এর মাধ্যমে দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসন তথা ‘বাকশাল’ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়। 

একইসঙ্গে এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। অত্যন্ত অশ্চর্যজনক বিষয় যে, সে সময়ে ভেতরে ভেতরে সরকার বিরোধী চক্রের অনেকেই সরকার হঠানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হত্যা, খুন, গুমসহ নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সেই দিনে মাত্র ১১ মিনিটে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিলটি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়নি। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিলটি জাতীয় সংসদে ২৯৪ ভোটে পাশ হয়। এই বিলের বিরোধীতা করেন মাত্র ৩ জন বিরোধী, ১ জন স্বতন্ত্র সদস্য ‘ওয়াক আউট’ করেন। ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা অনেকেই মনে মনে করলেও জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে কেউ গলার সর উঁচু করতে সাহস করেননি, এমন কি প্রকাশ্যে খুব কম সংখ্যক সংসদ সদস্যই বিরোধীতা করেছিলেন।  

‘বাকশাল’ ব্যবস্থা প্রনয়ণ এবং জাতীয় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রসহ তাদের অনুসারীরা ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করলেও- এর একটি সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল। যে কারণটি ছিল দেশ গঠনের দ্বিতীয় বিল্পব এবং হানাহানি, লোভ-লালসা থেকে অবসান। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে নিবেদিত। ঠিক তখনও সক্রিয় ছিলো এই দেশবিরোধী চক্র। নিজেদের দেনা-পাওনা-চাহিদা পূরণ না হওয়ায় ভেতরে ভেতরে ফুঁসে ওঠতে থাকে এই চক্রটি। ওই সময়ে চক্রটি সরকার হঠানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ওঠে। বর্তমান বাংলাদেশেও এই চক্রটি এখনও বিদ্যমান। 

গণতান্ত্রিক সংসদীয় রাজনীতিক দলের সুযোগ নিয়ে সে সময় অনেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা গোপনে চক্রান্ত করে সরকার হঠানোর কৌশলে নিমত্ত হয়। স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন এবং বামপন্থী দলের কর্মীরা সরকার দলীয় অনেক নেতাকে হত্যা করে। তারা তখন সর্বত্র খুন, হানাহানি এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। রাজনৈতিক এমন অস্থিরতা বিরাজ দেখে- তা নিরসন করতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাকশাল’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এছাড়া সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনার পিছনে রাজনৈতিক সমস্যা ছাড়াও অর্থনৈতিক সংকট ছিল অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। পরপর কয়েক বছর বন্যা ও খরার কবলে পড়ে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তার উপর বিশ্বব্যাপি মুদ্রাস্ফীতির কারণে অত্যাধিক মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হয় এবং সে সময় রফতানিতেও ছিল বেহাল দশা। রফতানিকৃত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়া, কালোবাজারী ও চোরাচালান বেড়ে যাওয়া, দুর্নীতি ইত্যাদির ফলে তখন দেশে একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়। বিদেশ থেকে যেসব সাহায্য সহযোগিতা এসেছিল, সেগুলোরও সঠিক বন্টন হয়নি লুটেরা নেতাদের কারণে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। দেশব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেও সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনা হয়।

সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিলেও সবাই যে সে নির্দেশ পালন করেছিল, তা বলা যায় না। তার ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া প্রচুর অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার, শান্তিকমিটি ও চীনপন্থী বিভ্রান্ত বিপ্লবীদের নানা দল-উপদল রাষ্ট্রে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শুরু করেছিল। দেশের বেশ কয়েকটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানা নামে বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে এরা বিরোধিতা করেছিল; বিশেষ করে পিকিংপন্থী বিভ্রান্ত বামধারার সশস্ত্র বিভিন্ন দল-উপদল, যারা স্বাধীন দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র প্রদর্শন, লুটপাট, থানা ও ফাঁড়িতে হামলা ইত্যাদি অপরাধের সঙ্গে গুপ্তহত্যাও শুরু করেছিল। নিঃসন্দেহে এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তৃত্বের প্রতি ছিল একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। ১৯৭৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লুট হয়েছিল প্রায় ১৯টি থানা ও ফাঁড়ি। স্বাধীনতার প্রথম বছরে ৩৩৭টি ছিনতাই, প্রথম ১৬ মাসে ২৩০৫টি গুপ্তহত্যা এবং প্রথম দুই বছরের মধ্যেই ৪৯০৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল । এসব গুপ্তহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর সেটা করেছিল বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার দালালরা।

সেই সময় বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। মার্কসবাদী এবং মস্কোপন্থীরা দেশের অভ্যন্তরে গোপনে উগ্র কার্যকলাপে ব্যস্ত ছিল। এরা সমগ্র দেশে গুপ্ত হত্যা, লুণ্ঠন, রাহাজানি করতে থাকে। ফলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ১৯৭৪ সালে এক অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে। ফলে সব দিক বিবেচনা করেই দেশ পুনর্গঠনে বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।   

এ সময় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি  ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর প্রতি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বঙ্গবন্ধুর নিকট তার প্রেরিত এক বাণীতে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

‘বাকশাল’ ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল)- নামে জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই দলের চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজে এবং সম্পাদক হন এম মনসুর আলী। বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় দল হিসেবে পরিগণিত হয়। আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ পদক্ষেপকে তিনি তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’র সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বাকশালের দর্শন বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন দেশের সবক’টি সংবাদপত্রও বিলুপ্ত করেছিলেন। সে সময় শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার এবং বাংলাদেশ টাইমস- এ চারটি পত্রিকা সাময়িকভাবে প্রকাশনার সুযোগ দেয়া হয়।

এর আগে ওই বছরের ৭ জুন বাকশালের গঠনতন্ত্র, কার্যনির্বাহী ও কেন্দ্রীয় কমিটি, পাঁচটি ফ্রন্ট এবং এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় দলের চেয়ারম্যান হিসেবে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল পদে প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলীর নাম ঘোষণা করেন। জিল্লুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মণি ও আবদুর রাজ্জাককে দলের সেক্রেটারি করা হয়। বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে যে পাঁচটি ফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল, সেগুলো হলো- জাতীয় কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় মহিলা লীগ, জাতীয় যুবলীগ ও জাতীয় ছাত্রলীগ। এর সেক্রেটারিরা হলেন যথাক্রমে ফণীভূষণ মজুমদার, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, বেগম সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ এবং শেখ শহীদুল ইসলাম। ১৫ জনকে নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ জন সদস্য রাখা হয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

বাকশাল-এর কার্যনির্বাহী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন যারা: 

কার্যনির্বাহী কমিটি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- চেয়ারম্যান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ, আবুল হাসানাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আবদুল মালেক উকিল, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, শ্রী মনোরঞ্জন ধর, ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, মহীউদ্দিন আহমদ, গাজী গোলাম মোস্তফা, জিল্লুর রহমান- সেক্রেটারি, শেখ ফজলুল হক মনি-সেক্রেটারি  এবং আবদুর রাজ্জাক-সেক্রেটারি হিসেবে কমিটিতে ছিলেন।

কেন্দ্রীয় কমিটি

কেন্দ্রীয় কমিটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি এবং চেয়ারম্যান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপ-রাষ্ট্রপতি, এম মনসুর আলী- প্রধানমন্ত্রী এবং সেক্রেটারী জেনারেল, আবদুল মালেক উকিল-  স্পীকার, খন্দকার মোশতাক আহমদ- বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যমন্ত্রী, আবুল হাসানাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান- শিল্পমন্ত্রী, মুহম্মদ উল্লাহ- ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী, আবদুস সামাদ আজাদ- কৃষিমন্ত্রী, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী- শ্রম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী, শ্রী ফণী মজুমদার- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, ড. কামাল হোসেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন- গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী, আব্দুল মান্নান- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী, আবদুর রব সেরনিয়াবত- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী, শ্রী মনোরঞ্জন ধর- আইন, সংসদ বিষয়াবলী ও বিচারমন্ত্রী, আব্দুল মমিন- খাদ্য, বেসামরিক সরবরাহ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী, আসাদুজ্জামান খান- পাটমন্ত্রী, এম কোরবান আলী- তথ্য বেতারমন্ত্রী, ড. আজিজুর রহমান মল্লিক- অর্থমন্ত্রী, ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী- শিক্ষামন্ত্রী, তোফায়েল আহমেদ- রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন- চীফ হুইপ, আবদুল মমিন তালুকদার- সমবায় প্রতিমন্ত্রী, দেওয়ান ফরিদ গাজী- বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী- প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, তাহের উদ্দিন ঠাকুর- তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী, মোসলেম উদ্দিন খান- পাট প্রতিমন্ত্রী, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মঞ্জুর- যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, কে এম ওবায়দুর রহমান- ডাক, তার ও টেলিফোন প্রতিমন্ত্রী, ডা. ক্ষিতীশচন্দ্র মণ্ডল- ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী, রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ- বন, মৎস্য ও পশুপালন প্রতিমন্ত্রী, এম বায়তুল্লাহ- ডেপুটি স্পীকার, রুহুল কুদ্দুস- রাষ্ট্রপতির প্রধান সচিব, জিল্লুর রহমান এমপি- সেক্রেটারী, মহিউদ্দিন আহমদ এমপি, শেখ ফজলুল হক মণি- সেক্রেটারী, আব্দুর রাজ্জাক এমপি- সেক্রেটারী, আনোয়ার চৌধুরী, বেগম সাজেদা চৌধুরী এমপি, বেগম তসলিমা আবেদ এমপি, জনাব আবদুর রহিম- দিনাজপুর, আব্দুল আওয়াল এমপি- রংপুর, লুৎফর রহমান এমপি- রংপুর, এ কে মুজিবুর রহমান এমপি- বগুড়া, ড. মফিজ চৌধুরী এমপি- বগুড়া, ডা. আলাউদ্দিন এমপি- রাজশাহী, ডা. আসহাবুল হক এমপি- কুষ্টিয়া, জনাব রওশন আলী এমপি- যশোর, শেখ আবদুল আজিজ এমপি- খুলনা, সালাহ উদ্দিন ইউসুফ এমপি- খুলনা, মি. মাইকেল সুশীল অধিকারী- খুলনা, কাজী আবুল কাশেম এমপি- পটুয়াখালী, মোল্লা জালাল উদ্দিন আহমদ এমপি- ফরিদপুর, শামসুদ্দিন মোল্লা এমপি- ফরিদপুর, শ্রী গৌরচন্দ্র বালা- ফরিদপুর, গাজী গোলাম মোস্তফা এমপি- ঢাকা, শামসুল হক এমপি- ঢাকা, সামসুদ্দোহা এমপি- ঢাকা, রফিক উদ্দিন ভূইয়া এমপি- ময়মনসিংহ, সৈয়দ আহমদ- ময়মনসিংহ, শামসুর রহমান খান এমপি- টাঙ্গাইল, নুরুল হক এমপি- নোয়াখালী, কাজী জহিরুল কাইউম এমপি- কুমিল্লা, ক্যাপ্টেন সুজাত আলী এমপি- কুমিল্লা, এম আর সিদ্দিকী এমপি- চট্টগ্রাম, এম এ ওয়াহাব এমপি- চট্টগ্রাম, শ্রী চিত্তরঞ্জন সূতার এমপি, সৈয়দা রাজিয়া বানু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, শ্রী মং প্রু সাইন- মানিকছড়ির রাজা, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, আতাউর রহমান, পীর হাবিবুর রহমান, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, মোহাম্মদ ফরহাদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, তৌফিক ইমাম- সচিব- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নুরুল ইসলাম- সচিব, ফয়েজ উদ্দিন আহমদ- সচিব, মাহবুবুর রহমান- সচিব- সংস্থাপন বিভাগ, আবদুল খালেক- উপরাষ্ট্রপতির সচিব, মুজিবুল হক- সচিব- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আব্দুর রহিম- রাষ্ট্রপতির সচিব, মইনুল ইসলাম- সচিব- পূর্ত গৃহনির্মাণ ও শহর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, সৈয়দুজ্জামান- সচিব- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, আনিসুজ্জামান- সচিব, ড. এ সাত্তার- রাষ্ট্রপতির সচিব, এম এ সামাদ- সচিব- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আবু তাহের- সচিব- ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়, আল হোসায়নী- সচিব- বিদ্যুৎ শক্তি মন্ত্রণালয়, ডা. তাজুল হোসেন- সচিব- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মতিউর রহমান- চেয়ারম্যান- টিসিবি, মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান, এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খোন্দকার- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান, কমোডর এম এই খান- বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান, মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান- মাহাপরিচালক বিডিআর, এ কে নাজির উদ্দিন আহমদ- গভর্নর- বাংলাদেশ ব্যাংক, ড. আবদুল মতিন চৌধুরী- উপাচার্য- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. মাযহারুল ইসলাম- উপাচার্য- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ড. মুহম্মদ এনামুল হক- উপাচার্য- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এটিএম সৈয়দ হোসেন- অতিরিক্ত সচিব, নুরুল ইসলাম- আইজিপি- পুলিশ, ড. নীলিমা ইব্রাহীম, ড. নুরুল ইসলাম- পরিচালক- পিজি হাসপাতাল, ওবায়দুল হক- সম্পাদক- বাংলাদেশ অবজার্ভার, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু- সম্পাদক- ইত্তেফাক, মিজানুর রহমান- প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক- বিপিআই, আনোয়ারুল ইসলাম- যুগ্ম সচিব- রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, ব্রিগেডিয়ার এ এন এম নুরুজ্জামান- পরিচালক- জাতীয় রক্ষী বাহিনী, কামারুজ্জামান- সভাপতি- বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, ডা. মাজহার আলী কাদরী- বাংলাদেশ চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ছিলেন।


জাতির পিতা   বঙ্গবন্ধু   বাকশাল   প্রবর্তণ   ১৯৭৫ সাল   একদলীয় শাসন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশে অনেক গণ আন্দোলন হয়েছে তবে ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনকেই একমাত্র ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যূত্থানরূপে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর একটি কারণ এমন ও হতে পারে যে ১৯৫২ সালের পর গণতন্ত্র রক্ষায় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটিই ছিলো একমাত্র আন্দোলন যা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। আজ ২৪ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক গণ অভ্যূত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তিকামী নিপীড়িত জনগণের পক্ষে জাতির মুক্তি সনদ খ্যাত ছয় দফা এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্র সমাজের দেওয়া ১১ দফা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল এ গণঅভ্যুত্থান।

১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান এর পটভূমি নিয়ে ভাবলে প্রথমেই চলে আসে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের কথা। সেই সময়গুলোতে অনবরত প্রচার করা হতো যেইসব কথা তার মূল কথা হলো- "ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তির চেয়ে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের আলোকে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাসের আকাঙ্ক্ষাই ছিলো পাকিস্তান আন্দোলনের  মূল কথা। ১৯৬৯ সালের যুদ্ধ শেষ হলো তাশখন্দ চুক্তির মাধ্যমে। পাকিস্তান যে কাঙ্ক্ষিত জয় পায়নি তার প্রমান তাশখন্দ চুক্তি করতে বাধ্য হওয়া। এই অঞ্চলের বাঙ্গালীরা এইসব প্রচার প্রপাগান্ডার  পর ও অনুধাবন করতে পেরেছিলো যে পূর্ব পাকিস্তানকে অরক্ষিত রাখা হয়েছে। ভারত যদি পূর্ব পাকিস্তান আক্রমন করতো তবে নিমিষেই তা দখল করতে পারতো৷ এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার যে তত্ত্ব দিয়ে আসছিলো তা হলো, পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা পশ্চিম পাকিস্তানে নিহিত৷  পরবর্তীতে দেখা গেলো তা শূন্যগর্ভ বক্তব্য মাত্র। পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ এভাবেই প্রভাব ফেলছিলো বাঙ্গালীর উপর। এরপর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। এতে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্র হলে পাকিস্তানি শাসকেরা একে নস্যাৎ করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে। এ মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দুর্বার ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে তোলে। এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা স্বৈরাচারী আইয়ুব দমন-পীড়নের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। এবং  ২০ জানুয়ারি পাক পুলিশের গুলিতে শহীদ হন গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান (শহীদ আসাদ)। আসাদের আত্মদানের পর তার রক্তামাখা শার্ট নিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ছাত্ররা। শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২, ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি ও পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে সাধারণ জনতা মিছিল বের করে।

এছাড়াও ঊনসত্তরের এদিন ঢাকায় সচিবালয়ের সামনের রাজপথের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর ও রুস্তমসহ  আরও কয়েকজন শহীদ হন। প্রতিবাদে সংগ্রামী জনতা সেদিন সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ জনগণ আইয়ুব মোনায়েম চক্রের দালাল, মন্ত্রী, এমপিদের বাড়িতে এবং তাদের মুখপত্র হিসাবে পরিচিত তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান অবজারভারে আগুন লাগিয়ে দেয়। জনগণ আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেইট নামকরণ করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এক তাত্পর্যপূর্ণ মাইলফলক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা, পরবর্তীতে ১১ দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়েই রক্তাক্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে মহান স্বাধীনতা। ১৯৬৯ এর শেষের দিকে ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রদেশের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’। যা ছিল ‘প্রদেশ’, জনগণের অবিসংবাদিত নেতার কণ্ঠে ‘দেশ’ হিসেবে তা স্বীকৃত হয়ে যায় সে দিনটি থেকে। পরের বছর সত্তরের নির্বাচনে এই বাংলাদেশের জনগণ ৬-দফার প্রশ্নে ম্যান্ডেট প্রদান করে। একাত্তরের মহান মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ‘দেশ’ পরিণত হয় স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রে। ২৪ জানুয়ারি মহান গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য এভাবেই পূরণ হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নলকূপ থেকে পানি তুলতে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে দিতে হবে টাকা

প্রকাশ: ০৮:০২ এএম, ২১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

নলকূপের পানি টাকা ছাড়া মিলছেনা আর।পানি তুলতে টাকা নিবেই ওয়াসা, না দিলে জরিমানা।পানি পরিমাপ করতে বসানো হচ্ছে মিটার। কতৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।

আগে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে অনুমোদন নিতে হতো। আর প্রতি বছরে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে সেই লাইসেন্স নবায়ন করলেই ফুরিয়ে যেতো কাজ। কিন্তু এখন থেকে শুধু লাইসেন্স নবায়ন করেই  পানি পবেনা নগরবাসী। এবার নলকূপ থেকে পানি তুললেই গুনতে হবে বাড়তি টাকা। সেই টাকা পরিমাপের জন্য প্রতিটা নলকূপে বসানো হবে মিটার ও। যদিও ওয়াসার দাবি— রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করলে টাকা দিতেই হবে।

বাড়তি ফি নিয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন— ‘মাটির নিচ থেকে পানি তুলতেও কেন তাদের টাকা দিতে হবে। এ পানির মালিকও কি ওয়াসা?’

এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ  বলেছেন, ‘পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন ১৯৯৬ এর ২৪ এর উপ–ধারা ২ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি তুলতে বাড়তি মূল্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গ্রাহক বাড়ি বানাতে কোটি টাকা খরচ করতে পারলে পানির জন্য লাখ টাকা খরচ করতে এত উদাসীনতা কেন? তাছাড়া পানি একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। রাষ্ট্রের বিধি অনুসারে মাটির নিচের যে কোন সম্পদ ব্যবহার করতে গেলে অনুমতি ও ব্যবহারের সমান টাকা সরকারকে দিতে হবে। আমরা আগামীতে অভিযান শুরু করবো। কেউ নলকূপ বসিয়ে ওয়াসার লাইসেন্স না করে থাকলে জরিমানা করা হবে। এরপরও গ্রাহক সচেতন না হলে পাম্প খুলে নিয়ে আসা হবে।’

এদিকে ক্রমবর্ধমান হারে গত দুই বছরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় কমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। চট্টগ্রাম ওয়াসা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের পরও শহরের অর্ধেকের বেশি মানুষ গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করছেন। চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে, হালিশহর এলাকায় ২০২১ সালে পানির স্তর ছিল ১৭০ ফিট। সেখানে ২০২২ সালে পানির স্তর ১০০ ফিট নেমে জায়গা করে নিয়েছে ২৭০ ফিট মাটির নিচে। অন্যদিকে কোতোয়ালী, নিউমার্কেট ও পাথরঘাটায় গত দুই বছরে পানির স্তর নেমেছে ২২০ ফিট থেকে ৩৮০ ফিট নিচে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির অভাব দেখা দিতে পারে বন্দর নগর চট্টগ্রামে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তররের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস  বলেন, ‘গত ২০২১ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত চট্টগ্রামে পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর জরিপ করতে গেলে দেখা যায় একই স্তরের অনুমোদনের অতিরিক্ত দুইশত বেশি নলকূপ বসানো হয়েছে। এখন একটা লেয়ারে এতো মানুষ পানি উঠাতে থাকলে পানি কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।’    

ওয়াসা জানিয়েছে— চট্টগ্রামে গভীর লাইসেন্স প্রাপ্ত নলকূপের সংখ্যা ৪ হাজার ৩শ’। তবে গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৭৪২টি নলকূপ। যা থেকে লাইসেন্স নবায়ন বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার। অন্যদিকে বাকি অর্ধেক নলকূপ অবৈধ রয়ে যাওয়ায় বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

মূলত এসকল অনিয়ম রোধ করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায় চট্টগ্রাম ওয়াসা।

তাই নলকূপ থেকে পানি তুলতে যে ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে তার যৌক্তিকতা দেখিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ  বলেন, ‘এখানে দুইটি বিষয় আছে; প্রথমত ওয়াসার পানির পরিমাণ নিয়ে সমস্যা নাই। চাহিদা অনুপাতে পানি পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। পানির দৈনিক উৎপাদন ৪৫ থেকে ৫০ কোটি লিটার। দ্বিতীয়ত বর্তমানে টিউবওয়েলের কারণে পানির বিলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বেশিরভাগ গ্রাহকই পানি বেশি ব্যবহার করে কম দেখানোর চেষ্টা করছে। মিটার পরিদর্শক মিটার অনুসারে মাসিক বিল করলেও গ্রাহক বলে আমরা আমাদের পাম্পের পানি ব্যবহার করি, ওয়াসার পানি আমাদের দরকার হয় না। কিন্তু গ্রাহক প্রায় সময় মিটার খুলে ওয়াসার পানি ব্যবহার  করছে। ফলে গ্রাহক ওয়াসাকে বিতর্কিত করে দেয়। তাছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার নিয়ে এখন থেকেই লাগাম টানতে হবে। না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভূগর্ভস্থ পানির অভাবে ভুগবে।’

তবে ওয়াসার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নাখোশ নগরবাসী। নিউমার্কেট এলাকার বিসমিল্লাহ বিল্ডিংয়ের জমিদার সাফায়েত খান  বলেন, ‘নতুন ভবন করার পর ৬০ হাজার টাকায় ওয়াসার পানির লাইন নিয়েছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই ওয়াসার পানির মান ভালো থাকতো না। পরে ৪ লাখ টাকা খরচ করে ডিপ টিউবওয়েল বসাই। এ বছর লাইসেন্সের জন্য ৫৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। এখন শুনছি আমাদের আবার মিটার বসাতে হবে। মিটারের জন্য নাকি তিন হাজার টাকা দিতে হবে। পানি নিয়ে এভাবে সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করতে থাকলে আমাদের এখন থেকে বৃষ্টির আশায় বসে থাকতে হবে।’ 

 

ডিসি রোড এলাকার নুর হোসেন  বলেন, ‘আমি এই এলাকায় প্রায় ৭-৮ বছর ধরে থাকি। প্রায় সময় আমাদের এলাকায় ওয়াসার পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। গত তিনদিন ধরে বালতিতে পানি ভরলে দেখি সাদা ফেনা উঠে। সাথে নালার পানির মতো দুর্গন্ধও বের হয়। ওয়াসাকে অভিযোগ দিলে চার দিন পর ওয়াসার মানুষ এসে লিকেজ ঠিক করে। এই অবস্থায় আবার ওয়াসা ডিপের পানির জন্য টাকা দাবি করছে। পানির জন্য এত হয়রানিতে পড়তে হলে আমাদের পানি না খেয়ে বসে থাকতে হবে।’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন  বলেন, ‘ওয়াসা এমনিতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী লাইনের পানি সরবরাহ করতে পারছে না। সেকারণে নগরবাসী বাধ্য হয়ে টাকা খরচ করে নলকূপ স্থাপন করে পানি উত্তোলন করছেন। সেখানে যদি নতুন করে ফি নেওয়া হয় তা হবে অমানবিক ও অন্যায়।

এমন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানান এস এম নাজের হোসাইন



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

'ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি' দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

১৯৯২ সালের ১৯ শে জানুয়ারি ১০১ সদস্য নিয়ে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ঘাতক  দালাল নির্মল কমিটি।  এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক দালালেরাই স্বাধীন দেশে উদ্ভূত করে আসছিল মৌলবাদী রাজনীতি। যাদের সাথে যুদ্ধাপরাধ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, তারাই হয়ে উঠছিল মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক হর্তাকর্তা।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র বিশ বছরের মাথায় চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীরা যখন রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছিলেন সে সময় তার প্রতিবাদ করার জন্য মূলত  গড়ে উঠেছিলো এই সংগঠন।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হবার পর ১৯৮১ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর তার নানান ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। শেষ পর্যন্ত আসল রূপ দেখিয়ে ১৯৯১ সালে গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচন করা হয়। গোলাম আযমের রাজনীতিতে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে এর প্রতিবাদ জানাতেই গড়ে উঠেছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতি শুরুর দিকে শহরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ব্যাপক সমর্থন ছিল। ১৯৯৪ সালে এক প্রতীকী বিচারের মাধ্যমে গোলাম আযমের ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। ১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন এবং প্রতীকী ফাঁসি হিসেবে গোলাম আযমের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছিল। লাখো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল গণআদালতের সাহসী পদক্ষেপ।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যখন গঠন করা হয়েছিল, তখন থেকেই রাজনৈতিক সমর্থন চেয়েছিল সংগঠনটি। কারণ যেকোনো আন্দোলনের সফলতার মুখ দেখতে হলে রাজনৈতিক সমর্থন সব থেকে বেশি জরুরি এবং যেহেতু জেনোসাইড আইনে আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়া হচ্ছিল সেহেতু চলমান রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া তা নিয়ে এগোনোর পথ খুবই সরু হয়ে গিয়েছিল।

সেই সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে বিএনপি এই কমিটির জন্য কখনোই কোনো সমর্থন দেখায়নি। বরং গণআদালতে জনগণের সমর্থন সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তাই তারা নির্মূল কমিটির নেতা, সদস্য বা সমর্থকদের হেনস্তা করার সব ধরনের পন্থা বেছে নিয়েছিল। আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে মামলা, হয়রানি, গ্রেফতার করা শুরু করে তারা। এরপরও থেমে থাকেনি এই কমিটি।  পরবর্তীতে এই 'গন আদালতের'  নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার চার দশক পর ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা বিরোধীদের স্বরুপ উন্মোচনের জন্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। ঘাতক দালালদের বিরুদ্ধে সদা লড়াই করা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ঘাতক বিরোধী লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা মাথায় নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন তিনি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শক্তিশালী লড়াইয়ের ইতিহাস সদা জাগ্রত রাখার দায়িত্ব এই কমিটির

স্বাধীন বাংলাদেশে সবচেয়ে সাহসী এই সংগঠন আগামীর পথে আরও অনেক বেশি দৃঢ়তার সাথে আপসহীন পথ চলবে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বার শপথে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।


ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন