ইনসাইড আর্টিকেল

যে পাঁচ কারণে সারাদিনই ক্লান্ত লাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:৩৬ এএম, ১৫ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঘুমানোর আগে ক্লান্তি। ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি। সারাদিনই যেন জোর করে নিজেকে ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনই চলছে দিনের পর দিন। এমন সমস্যা রয়েছে অনেকের। কিন্তু কেন এমন হয়? তা জানা প্রয়োজন। না হলে সমস্যার সমাধান হবে কীভাবে?

নানা কারণেই ক্লান্তি আসতে পারে শরীর ও মনে। তবে শহুরে মানুষদের যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমন পাঁচটি বিষয়টি তুলে ধরা হল:

খাওয়া: খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো না হলে ক্লান্তি কাটানো কঠিন। অনেকেই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসেছেন। যখন খিদে পেল বা সময় হল, তখনই খেয়ে নেন। তাতে শরীর সময় মতো পুষ্টি পায় না। ফলে কর্মশক্তিও কমতে থাকে।

ঘুম: এক কালে ছিল টিভি দেখার নেশা। এখন তার সঙ্গে ফোন, কম্পিউটারের মতো নানা ধরনের জিনিস যোগ হয়েছে। এসবের টানে কমছে ঘুমের সময়। তাই প্রয়োজন মতো বিশ্রাম পাচ্ছে না শরীর। ক্লান্তিও কাটছে না।

ওজন: শরীরের ওজন যত বেশি হবে, যেকোনও কাজেই তত বেশি খাটনি হবে। ফলে অনেক বেশি শক্তি ক্ষয় হবে। তাই স্থূলতার কারণেও কাটতে চায় না ক্লান্তি।

মানসিক চাপ: মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নির্ভর করে ক্লান্তি। টানা মানসিক চাপ থাকলে তার চাপ গিয়ে পড়ে পেশিতেও। মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যাও লেগে থাকে। সব মিলে ক্লান্তি থেকে যায়।

ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকলেও জানান দেয় শরীর। ক্লান্তি হল ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর উপসর্গ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সম্পর্কে জাতির পিতার মূল্যায়ন

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির আদর্শিক গুরু। বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন লেখায়, বক্তৃতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দীকে খুব একটা স্মরণ করা হয় না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সম্পর্কে জাতির পিতার মূল্যায়ন পাওয়া যায় তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে। আজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পাঠকদের জন্য অসমাপ্ত আত্মজীবনীর একটি চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

শহীদ সাহেব ছিলেন উদার, নীচতা ছিল না, দল মত দেখতেন না, কোটারি করতে জানতেন না, গ্রুপ করারও চেষ্টা করতেন না। উপযুক্ত হলেই তাকে পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন। কারণ, তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল অসীম। তাঁর সাধুতা, নীতি, কর্মশক্তি ও দক্ষতা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে চাইতেন। এজন্য তাঁকে বার বার অপমানিত ও পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। উদারতা দরকার, কিন্তু নীচ অন্তঃকরণের ব্যক্তিদের সাথে উদারতা দেখালে ভবিষ্যতে ভালর থেকে মন্দই বেশি হয়, দেশের ও জনগণের ক্ষতি হয়।

আমাদের বাঙালির মধ্যে দুইটা দিক আছে। একটা হল 'আমরা মুসলমান, আর একটা হল, আমরা বাঙালি।' পরশ্রীকাতরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে। বোধহয় দুনিয়ার কোন ভাষায়ই এই কথাটা পাওয়া যাবে না, 'পরশ্রীকাতরতা। পরের শ্রী দেখে যে কাতর হয়, তাকে ‘পরশ্রীকাতর' বলে। ঈর্ষা, দ্বেষ সকল ভাষায়ই পাবেন, সকল জাতির মধ্যেই কিছু কিছু আছে, কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই, ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশি হয় না। এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি। এমন উর্বর জমি দুনিয়ায় খুব অল্প দেশেই আছে। তবুও এরা গরিব। কারণ, যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।

অনেক সময় দেখা গেছে, একজন অশিক্ষিত লোক লম্বা কাপড়, সুন্দর চেহারা, ভাল দাড়ি, সামান্য আরবি ফার্সি বলতে পারে, বাংলাদেশে এসে পীর হয়ে গেছে। বাঙালি হাজার হাজার টাকা তাকে দিয়েছে একটু দোয়া পাওয়ার লোভে। ভাল করে খবর নিয়ে দেখলে দেখা যাবে এ লোকটা কলকাতার কোন ফলের দোকানের কর্মচারী অথবা ডাকাতি বা খুনের মামলার আসামি। অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটা কারণ।

বাঙালিরা শহীদ সাহেবকে প্রথম চিনতে পারে নাই। যখন চিনতে পারল, তখন আর সময় ছিল না। নির্বাচনের সব খরচ, প্রচার, সংগঠন তাঁকেই এককভাবে করতে হয়। টাকা বোধহয় সামান্য কিছু কেন্দ্রীয় লীগ দিয়েছিল, বাকি শহীদ সাহেবকেই জোগাড় করতে হয়েছিল। শত শত সাইকেল তাকেই কিনতে হয়েছিল। আমার জানা মতে পাকিস্তান হয়ে যাবার পরেও তাঁকে কলকাতায় বসে দেনা শোধ করতে হয়। আমি পূর্বেই বলেছি, শহীদ সাহেব সরল লোক ছিলেন। তিনি ধোঁকায় পড়ে গেলেন। পার্লামেন্টারি বোর্ডে তাঁর দল সংখ্যাগুরু থাকা সত্ত্বেও নিজের লোককে তিনি নমিনেশন দিতে পারলেন না। নাজিমুদ্দীন সাহেবের দল পরাজিত হওয়ার পরে তারা অন্য পন্থা অবলম্বন করলেন। ঘোষণা করলেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না অর্থাৎ শহীদ সাহেবই দলের নেতা হবেন। তিনি শহীদ সাহেবকে অনুরোধ করলেন যারা পূর্ব থেকে মুসলিম লীগে আছে। তাদের নমিনেশন দেওয়া হোক, কারণ এরা সকলেই শহীদ সাহেবকে সমর্থন করবেন। খাজা সাহেব যখন নির্বাচন করবেন না তখন আর ভয় কি? শহীদ সাহেব এই কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে পুরানা এমএলএ প্রায় সকলকেই নমিনেশন দিয়ে দেন। বোধহয় তখন বাংলাদেশে একশত উনিশটা সিট মুসলমানদের ছিল। এই চাতুর্যে প্রায় পঞ্চাশজন খাজা সাহেবের দলের লোক নমিনেশন পেয়ে গেল। আবার কেন্দ্রীয় লীগে খাজা সাহেবের সমর্থক বেশি ছিলেন। লিয়াকত আলী খান, খালিকুজ্জামান, হোসেন ইমাম, চুন্দ্রিগড় সাহেব সকলেই শহীদ সাহেবকে মনে মনে ভয় করতেন। কারণ সকল বিষয়েই শহীদ সাহেব এঁদের থেকে উপযুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ডও প্রায় ত্রিশজনের নমিনেশন পাল্টিয়ে দিলেন। এদের মধ্যে দুই একজন শহীদ সাহেবেরও সমর্থক ছিলেন, একথা অস্বীকার করা যায় না।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ডিসেম্বরে ভয় দেখাচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫২ বছর পার হচ্ছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। কিন্তু এই ডিসেম্বরে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা অর্থাৎ রাজাকারদের উত্তরসূরীরা, রাজাকারদের সন্তান-সন্ততিরা এখন নতুন করে তাদের হিংস্র চেহারা দেখাচ্ছে, তাদের হিংস্র নখ বের করছে। আমাদের বিজয়কে আবার ক্ষতবিক্ষত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। রাজাকারপুত্ররাই এখন দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সব অর্জন ম্লান করে দেওয়ার একটি সংগ্রাম করছে। এবারের ডিসেম্বর তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় গোটা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল, একাত্ম ছিল এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর সহ ছাত্র, যুবক তরুণরা জীবন দিয়েছে রক্ত দিয়েছে, আমাদের পবিত্র ভূমির জন্য। কিন্তু সেই সময়ে অল্প কিছু রাজাকার-আলবদর-আলশামস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তাদের সহযোগিতা করেছিল। এই সমস্ত রাজাকার- আলবদররা জামায়াত, মুসলিম লীগ সহ বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনের ছত্রছায়ায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করা, বাঙালিদের বাড়িঘর লুণ্ঠন করা এবং নির্বিচারে হত্যায় সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে তার নির্বাচনী ইশতেহারে। এই অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় এবং যুদ্ধাপরাধের শিরোমনি বেশ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। এদের মধ্যে ছিল যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর মতো দুর্বৃত্ত ধর্ষক এবং হত্যাকারীরা। কিন্তু এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি তৎপরতা কমে যায়নি। বরং এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-সন্ততিরা এখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দেশে এবং বিদেশে। এবারের বিজয় দিবসে সেই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে। 

যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীরা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দন্ডিত প্রাপ্ত হয়েছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সন্তানরা এখন ক্রিয়াশীল। তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য। বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা তথ্যসন্ত্রাসের এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে। শুধু যে বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা তথ্য সন্ত্রাস করছে এমনটি নয়। বরং রাজাকারপুত্ররা এখন দেশেও সক্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা একজন স্বীকৃত রাজাকার ছিলেন। সেই রাজাকার পুত্রই এখন বিএনপির অঘোষিত নেতা। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ের মাসে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত করতে চাইছেন। বিএনপির মধ্যে রাজাকারদের অনেক সন্তানরাই এখন সক্রিয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের জনসভায় যুদ্ধাপরাধী ঘৃণিত রাজাকার সাকা চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী যে ভাষায় কথা বলেছেন তা আমাদের স্বাধীনতার প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এরকম রাজাকারপুত্ররা এখন বিএনপিতে প্রকাশ্য হচ্ছে। জামায়াতের গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের পুত্ররা সক্রিয়। বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ অপরাধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পুত্ররা এখন আবার সংগঠিত হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বিজয়ের মাসে এদেরকে প্রতিহত করাই বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

চার গ্রামের ২০ হাজার মানুষের ভরসা একটি নৌকা

প্রকাশ: ১০:৩৬ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

শেরপুর সদর উপজেলার কামারচরের ৬নং চর নামক স্থানে দশআনি নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম একটি নৌকা। পার্শ্ববর্তী জেলার জামালপুরের ৪নং চর, ডিগ্রীর চর, আখ্রাবাদসহ মোট ২০ হাজার মানুষের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ওই একটি নৌকা দিয়েই পার হতে হচ্ছে নদী।

জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কামারেরচর ইউনিয়ন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বুক চিড়ে বয়ে গেছে দশআনী নদী। বিগত ২০ বছর আগে একটি কাঠের সেতু থাকলেও বন্যায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ২০ বছর থেকে চার গ্রামের ২০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম মাত্র একটি নৌকা। দীর্ঘদিনে একটি সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও সম্ভব হয়নি নানা জটিলতায়।

এদিকে চরাঞ্চলের মাটি উর্বর হওয়া এসব গ্রামে সবজি আবাদে বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু নৌকা দিয়ে পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয় কৃষকদের। মোটা অঙ্কের লোকসান গুণতে হয় তাদের। এছাড়াও দশআনি নদীর ওপার প্রত্যন্ত হওয়ায়, সেসব গ্রামে
গড়ে ওঠেনি ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সেসব গ্রামের হাজারো ছেলে-মেয়েদের বাধ্য হয়ে আসতে হয় নদীর এপারে কামারচরে। যেখানে রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি ডিগ্রী কলেজ একটি আলিয়া মাদরাসা। এদিকে নৌকা দিয়ে স্কুল-কলেজে আসতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীসহ অভিবাবকদের।

কামারের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ বলেন, আমরা এই সেতু দিয়ে প্রত্যেক দিন স্কুলে যাই। সময় আমাদের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হয়। অনেকসময় নদীতে বই খাতা পরে ভিজে যায়। স্কুল ৯টায় শুরু হয়। ভয়ে একা নৌকা দিয়ে পার হতে পারি না। স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।

কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, নদীর এপারে অনেক কৃষি পণ্যের আবাদ হয়। হাজার হাজার মণ বেগুন, পাট, গম, ধান নষ্ট হয়। কারণ যোগাযোগ ভালো না থাকায় পণ্য বাজারে তুলতে পারি না। তাই লাভবান হতে পারি না।

৪নং চর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত এই স্কুলে শিক্ষাকতা করি। নদী পারাপারের জন্য আমাদের নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। দেখা যায় আমরা সময়মত স্কুলে যেতে পারি না। নদী পার হওয়ার জন্য বসে থাকতে হয়। এই ৬নং চরের দশআনি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই এলাকার যোগাযোগ, ব্যবসা শিক্ষাব্যবস্থার অনেক পরিবর্তন হবে।

বিষয়ে কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবীব জানান, দশআনি নদীতে একটি সেতু নির্মাণ মানুষের প্রাণের দাবি। ইতোমধ্যে সরকার দলীয় হুইপ এবং শেরপুর ১নং আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন। আশা করি দ্রুতই দশআনি নদীতে সেতু নির্মাণ হবে।

ব্যপারে এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দশআনি নদীতে সেতু তৈরির যাবতীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

অন্যরকম বিজয়ের মাস: কেটে যাক আতঙ্ক-শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আমাদের বিজয়ের মাস শুরু হলো আজ থেকে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব এবং আনন্দের মাস এটি। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করেছে। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই আমাদের  বিজয়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক জনপদ দখল করে নিচ্ছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। অবশেষে আমাদের বিজয় আসে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা পাই আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের মানচিত্র এবং আমাদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। কিন্তু বিজয়ের মাস এবার অনেক আতঙ্কের, অনেক উৎকণ্ঠার, নানারকম অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে। বিজয়ের মাস এলেই বাঙালি উৎসবে মেতে ওঠে। পয়লা ডিসেম্বর থেকে বিজয় দিবস পর্যন্ত নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসাহ উদ্দীপনা, আলোচনা-সেমিনার ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পুরো দেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার বিজয় দিবস অন্যরকম।

৫২ তম বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এবার বিজয় দিবসে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি নতুন করে আস্ফালন দিচ্ছে। জঙ্গিরা তাদের নখ বের করতে শুরু করেছে। আর বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রের নামে বিজয় দিবসকে আবার কুলষিত করার এক অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরকম এক প্রেক্ষাপটেই এবার বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিজয়ের মাসে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার কথা শোনা যাচ্ছে ১০ ডিসেম্বর নিয়ে। ঐদিন বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। মহাসমাবেশের স্থান নিয়ে এখন এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, বিএনপি আসলে একটি রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করছে। এ নিয়ে জনমনে নানা রকম অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ১০ ডিসেম্বর কি হবে সেটা যেমন দেখার বিষয় কিন্তু ১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিজয় উৎসবে কিছুটা হলেও এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাহলে বিএনপি কি ইচ্ছা করেই, জেনে বুঝে বিজয়ের মাসে এরকম উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

বিএনপি সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত। তারাও এখন সংঘটিত হচ্ছে বিভিন্নভাবে। সম্প্রতি আদালত থেকে দুই জঙ্গি পলায়নের ঘটনা বাংলাদেশে আবার নতুন করে জঙ্গিদের তৎপরতার শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের মাসে তারা আঘাত করতে পারে এমন আশঙ্কাও কেউ কেউ করছেন। তাছাড়া ১৭ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয় দিবসের পরদিন হেফাজত ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। হেফাজত কেন ঢাকায় হঠাৎ করে মহাসমাবেশ ডাকলো এবং বিজয়ের মাসে এই ধরনের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি কি করতে চায় সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন?

গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, স্বাধীনতার মাস বিজয়ের মাস। এ বিশেষ মাসগুলোকে বিএনপি-জামায়াত, মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী টার্গেট করে। এ সমস্ত মাসগুলোতে নানারকম সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং জনজীবনের জন্য পীড়াদায়ক ঘটনাগুলো ঘটিয়ে তারা বিজয়ের আনন্দ, ভাব-গাম্ভীর্যের পরিবেশ ইত্যাদিকে ম্লান করতে চায়। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। তবে ১৯৭১ বীর বাঙালি যেমন তার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করেছিল ঠিক তেমনি এখনো যে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, গুজব এবং নানারকম সহিংসতার নীলনকশা সেগুলোকে মাড়িয়ে উৎসবমুখর হয়ে পড়বে আমাদের বিজয় উৎসব। বিজয় দিবস আনন্দঘন হবে, আমরা আমাদের বীর শহীদদের যেমন স্মরণ করব তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি সেটিকে উদযাপন করব।


ডিসেম্বর   বিজয় মাস   বিজয় দিবস   স্বাধীনতা   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ষষ্ঠদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (২৮ নভেম্বর)।

১৯৪৪ সালে ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার আবদুল আজিজ ও মুন্নি বেগম দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়ে এ সময় ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৭ সালে তার বহুমুখী প্রতিভায় মুগ্ধ প্রিয়কন্যা ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে বিয়ে দেন ঢাকার শেষ সরদার আলহাজ্ব মাজেদ সরদার। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরবর্তীতে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা-১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ।

১৯৯৬ এর মার্চে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে তারই নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরী করে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ঘটানো হয় এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারাত্মক আহত হন। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে মারা যান।


মেয়র মোহাম্মদ হানিফ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন