ইনসাইড আর্টিকেল

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ১৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আজ আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস। ইউনেস্কো ঘোষিত এই দিবস পালনের লক্ষ্য হচ্ছে, বহুমুখী সমাজে সহনশীলতা শিক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর সব মানুষের সুষম ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করা।

ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয়, ১৯৯৫ সাল থেকে ‘আন্তর্জাতিক সহনশীলতা বর্ষ’ উদযাপন করা হবে। ১৯৯৬ সালের ১৬ নভেম্বর ইউনেস্কোর ২৮তম অধিবেশনে ‘সহনশীলতার মৌলিক নীতি ঘোষণা’ গৃহীত এবং প্রতিবছরের ১৬ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইউনেস্কো মনে করে, মানব সমাজ স্বাভাবিকভাবেই বৈচিত্র্যময় এবং এ বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে ভিন্ন মত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে মানুষের মধ্যে সহনশীল মনোভাব প্রয়োজন। সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার উপস্থিতি সংঘাতের পথকে প্রশস্ত করে না। বরং সহনশীল পরিবেশ এ সামাজিক বাস্তবতাকে সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যমে সমাজের অন্তর্নিহিত সক্ষমতা বাড়ায়।

সহনশীলতার মৌলিক নীতি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহনশীলতাকে বাস্তবায়ন করা। সহনশীলতা হচ্ছে সবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদাকে উন্নত করার অপরিহার্য নীতি।’

প্রসঙ্গত, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো নানা কর্মসূচি নিয়েছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ডিসেম্বরে ভয় দেখাচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের বিজয়ের ৫২ বছর পার হচ্ছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। কিন্তু এই ডিসেম্বরে দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা অর্থাৎ রাজাকারদের উত্তরসূরীরা, রাজাকারদের সন্তান-সন্ততিরা এখন নতুন করে তাদের হিংস্র চেহারা দেখাচ্ছে, তাদের হিংস্র নখ বের করছে। আমাদের বিজয়কে আবার ক্ষতবিক্ষত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। রাজাকারপুত্ররাই এখন দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সব অর্জন ম্লান করে দেওয়ার একটি সংগ্রাম করছে। এবারের ডিসেম্বর তাই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় গোটা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ছিল, একাত্ম ছিল এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর সহ ছাত্র, যুবক তরুণরা জীবন দিয়েছে রক্ত দিয়েছে, আমাদের পবিত্র ভূমির জন্য। কিন্তু সেই সময়ে অল্প কিছু রাজাকার-আলবদর-আলশামস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তাদের সহযোগিতা করেছিল। এই সমস্ত রাজাকার- আলবদররা জামায়াত, মুসলিম লীগ সহ বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনের ছত্রছায়ায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করা, বাঙালিদের বাড়িঘর লুণ্ঠন করা এবং নির্বিচারে হত্যায় সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে তার নির্বাচনী ইশতেহারে। এই অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে ২০১০ সালে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় এবং যুদ্ধাপরাধের শিরোমনি বেশ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। এদের মধ্যে ছিল যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর মতো দুর্বৃত্ত ধর্ষক এবং হত্যাকারীরা। কিন্তু এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি তৎপরতা কমে যায়নি। বরং এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-সন্ততিরা এখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত দেশে এবং বিদেশে। এবারের বিজয় দিবসে সেই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখা যাচ্ছে। 

যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীরা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দন্ডিত প্রাপ্ত হয়েছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সন্তানরা এখন ক্রিয়াশীল। তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য। বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  দ্বিতীয় প্রজন্মের রাজাকাররা তথ্যসন্ত্রাসের এক ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে। শুধু যে বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা তথ্য সন্ত্রাস করছে এমনটি নয়। বরং রাজাকারপুত্ররা এখন দেশেও সক্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা একজন স্বীকৃত রাজাকার ছিলেন। সেই রাজাকার পুত্রই এখন বিএনপির অঘোষিত নেতা। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ের মাসে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত করতে চাইছেন। বিএনপির মধ্যে রাজাকারদের অনেক সন্তানরাই এখন সক্রিয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের জনসভায় যুদ্ধাপরাধী ঘৃণিত রাজাকার সাকা চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী যে ভাষায় কথা বলেছেন তা আমাদের স্বাধীনতার প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এরকম রাজাকারপুত্ররা এখন বিএনপিতে প্রকাশ্য হচ্ছে। জামায়াতের গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের পুত্ররা সক্রিয়। বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ অপরাধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পুত্ররা এখন আবার সংগঠিত হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। বিজয়ের মাসে এদেরকে প্রতিহত করাই বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

চার গ্রামের ২০ হাজার মানুষের ভরসা একটি নৌকা

প্রকাশ: ১০:৩৬ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

শেরপুর সদর উপজেলার কামারচরের ৬নং চর নামক স্থানে দশআনি নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম একটি নৌকা। পার্শ্ববর্তী জেলার জামালপুরের ৪নং চর, ডিগ্রীর চর, আখ্রাবাদসহ মোট ২০ হাজার মানুষের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ওই একটি নৌকা দিয়েই পার হতে হচ্ছে নদী।

জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কামারেরচর ইউনিয়ন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বুক চিড়ে বয়ে গেছে দশআনী নদী। বিগত ২০ বছর আগে একটি কাঠের সেতু থাকলেও বন্যায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ২০ বছর থেকে চার গ্রামের ২০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র মাধ্যম মাত্র একটি নৌকা। দীর্ঘদিনে একটি সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও সম্ভব হয়নি নানা জটিলতায়।

এদিকে চরাঞ্চলের মাটি উর্বর হওয়া এসব গ্রামে সবজি আবাদে বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু নৌকা দিয়ে পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয় কৃষকদের। মোটা অঙ্কের লোকসান গুণতে হয় তাদের। এছাড়াও দশআনি নদীর ওপার প্রত্যন্ত হওয়ায়, সেসব গ্রামে
গড়ে ওঠেনি ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সেসব গ্রামের হাজারো ছেলে-মেয়েদের বাধ্য হয়ে আসতে হয় নদীর এপারে কামারচরে। যেখানে রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি ডিগ্রী কলেজ একটি আলিয়া মাদরাসা। এদিকে নৌকা দিয়ে স্কুল-কলেজে আসতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীসহ অভিবাবকদের।

কামারের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ বলেন, আমরা এই সেতু দিয়ে প্রত্যেক দিন স্কুলে যাই। সময় আমাদের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হয়। অনেকসময় নদীতে বই খাতা পরে ভিজে যায়। স্কুল ৯টায় শুরু হয়। ভয়ে একা নৌকা দিয়ে পার হতে পারি না। স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।

কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, নদীর এপারে অনেক কৃষি পণ্যের আবাদ হয়। হাজার হাজার মণ বেগুন, পাট, গম, ধান নষ্ট হয়। কারণ যোগাযোগ ভালো না থাকায় পণ্য বাজারে তুলতে পারি না। তাই লাভবান হতে পারি না।

৪নং চর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত এই স্কুলে শিক্ষাকতা করি। নদী পারাপারের জন্য আমাদের নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। দেখা যায় আমরা সময়মত স্কুলে যেতে পারি না। নদী পার হওয়ার জন্য বসে থাকতে হয়। এই ৬নং চরের দশআনি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই এলাকার যোগাযোগ, ব্যবসা শিক্ষাব্যবস্থার অনেক পরিবর্তন হবে।

বিষয়ে কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবীব জানান, দশআনি নদীতে একটি সেতু নির্মাণ মানুষের প্রাণের দাবি। ইতোমধ্যে সরকার দলীয় হুইপ এবং শেরপুর ১নং আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন। আশা করি দ্রুতই দশআনি নদীতে সেতু নির্মাণ হবে।

ব্যপারে এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দশআনি নদীতে সেতু তৈরির যাবতীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

অন্যরকম বিজয়ের মাস: কেটে যাক আতঙ্ক-শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আমাদের বিজয়ের মাস শুরু হলো আজ থেকে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব এবং আনন্দের মাস এটি। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করেছে। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই আমাদের  বিজয়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক জনপদ দখল করে নিচ্ছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। অবশেষে আমাদের বিজয় আসে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা পাই আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের মানচিত্র এবং আমাদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। কিন্তু বিজয়ের মাস এবার অনেক আতঙ্কের, অনেক উৎকণ্ঠার, নানারকম অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে। বিজয়ের মাস এলেই বাঙালি উৎসবে মেতে ওঠে। পয়লা ডিসেম্বর থেকে বিজয় দিবস পর্যন্ত নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসাহ উদ্দীপনা, আলোচনা-সেমিনার ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পুরো দেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার বিজয় দিবস অন্যরকম।

৫২ তম বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। এবার বিজয় দিবসে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি নতুন করে আস্ফালন দিচ্ছে। জঙ্গিরা তাদের নখ বের করতে শুরু করেছে। আর বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রের নামে বিজয় দিবসকে আবার কুলষিত করার এক অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরকম এক প্রেক্ষাপটেই এবার বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিজয়ের মাসে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার কথা শোনা যাচ্ছে ১০ ডিসেম্বর নিয়ে। ঐদিন বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। মহাসমাবেশের স্থান নিয়ে এখন এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, বিএনপি আসলে একটি রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করছে। এ নিয়ে জনমনে নানা রকম অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ১০ ডিসেম্বর কি হবে সেটা যেমন দেখার বিষয় কিন্তু ১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিজয় উৎসবে কিছুটা হলেও এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাহলে বিএনপি কি ইচ্ছা করেই, জেনে বুঝে বিজয়ের মাসে এরকম উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

বিএনপি সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত। তারাও এখন সংঘটিত হচ্ছে বিভিন্নভাবে। সম্প্রতি আদালত থেকে দুই জঙ্গি পলায়নের ঘটনা বাংলাদেশে আবার নতুন করে জঙ্গিদের তৎপরতার শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের মাসে তারা আঘাত করতে পারে এমন আশঙ্কাও কেউ কেউ করছেন। তাছাড়া ১৭ ডিসেম্বর অর্থাৎ বিজয় দিবসের পরদিন হেফাজত ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। হেফাজত কেন ঢাকায় হঠাৎ করে মহাসমাবেশ ডাকলো এবং বিজয়ের মাসে এই ধরনের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি কি করতে চায় সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন?

গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, স্বাধীনতার মাস বিজয়ের মাস। এ বিশেষ মাসগুলোকে বিএনপি-জামায়াত, মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী টার্গেট করে। এ সমস্ত মাসগুলোতে নানারকম সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং জনজীবনের জন্য পীড়াদায়ক ঘটনাগুলো ঘটিয়ে তারা বিজয়ের আনন্দ, ভাব-গাম্ভীর্যের পরিবেশ ইত্যাদিকে ম্লান করতে চায়। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। তবে ১৯৭১ বীর বাঙালি যেমন তার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করেছিল ঠিক তেমনি এখনো যে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, গুজব এবং নানারকম সহিংসতার নীলনকশা সেগুলোকে মাড়িয়ে উৎসবমুখর হয়ে পড়বে আমাদের বিজয় উৎসব। বিজয় দিবস আনন্দঘন হবে, আমরা আমাদের বীর শহীদদের যেমন স্মরণ করব তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি সেটিকে উদযাপন করব।


ডিসেম্বর   বিজয় মাস   বিজয় দিবস   স্বাধীনতা   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ষষ্ঠদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (২৮ নভেম্বর)।

১৯৪৪ সালে ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার আবদুল আজিজ ও মুন্নি বেগম দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়ে এ সময় ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৭ সালে তার বহুমুখী প্রতিভায় মুগ্ধ প্রিয়কন্যা ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে বিয়ে দেন ঢাকার শেষ সরদার আলহাজ্ব মাজেদ সরদার। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। ছেলে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরবর্তীতে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা-১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ।

১৯৯৬ এর মার্চে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে তারই নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরী করে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ঘটানো হয় এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারাত্মক আহত হন। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে মারা যান।


মেয়র মোহাম্মদ হানিফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ইটভাটা গিলে খাচ্ছে খেজুর গাছ


Thumbnail

প্রকৃতির বৈচিত্রতায় ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে এসেছে শীত। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘন কুয়াশায় প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি।সেই শীতের সাথে তাল মিলিয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। গ্রাম বাংলার বিশেষ এক ঐতিহ্য খেজুর গাছ। 

একসময় গ্রামবাংলার আঁকাবাঁকা পথে সারি সারি দেখা যেত খেজুর গাছ, কিন্তু এই খেজুর গাছ আজ বিলুপ্তি পথে। শীতের সকাল আর খেজুরের রস দু’য়ে মিলে ছিল একাকার। কালের বির্বতনে এখন আর সে চিত্র চোখে পড়ছে না।নেপথ্যে রয়েছে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা গুলি। কিছু অসাধু চক্র ইটভাটায় প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন খেজুর গাছ যার ফলে আজ বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ সহ খেজুর-গাছের-রস।

তবুও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য।বিগত কয়েক বছর পূর্বেও এই অঞ্চলের কিছু মানুষ শীতকাল এলে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিকেল হলেই ধারালো ছেনি বা দা কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে এই গাছ থেকে ওই গাছের মাথায় রাজত্ব করে বেড়াত। গাছি তার মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পের মতো করে খেজুর গাছের গলায় দা চালিয়ে দিতেন এবং ঘটি বেঁধে চলে আসতেন।

পরের দিন সকাল বেলা ঘটি ভর্তি রস নিয়ে নিচে নেমে আসতেন এবং এই রস বিক্রি করে সংসারের যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন। কেউ কেউ কাঁচা রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রি করতেন। এভাবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুর রসের একটি চিরাচরিত সম্পর্ক স্থাপন হয়। তখন কৃষকের ঘরে উঠত নতুন ধান। খেজুরের রস আর নতুন ধান গ্রাম-বাংলার মানুষের মধ্যে নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা করে রাখত। নতুন ধানের পিঠা আর খেজুরের রস শীতের সকালকে করে রাখত মধুময়। ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের ধুম চলত।

সময় বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবন প্রণালি। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি। মানুষ নিজের প্রয়োজনে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ও ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে আশপাশের খেজুর গাছসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলছে আবার কেউ কেউ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিদেশি গাছের বাগান করছেন। এতে শীতের সকালে খেজুরের রসের স্বাদ আস্বাদন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের মানুষ।খেজুর গাছ কমে যাওয়া এ অঞ্চলে এখন খেজুরের রস ও গুড় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। মন চাইলেও এখন আর কাঁচা রস পাওয়া সম্ভব হয় না। টাটকা রস পাওয়া বড়ই মুশকিল ব্যাপার।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় হাজার হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। এখন কয়েক গ্রাম ঘুরে দু’একটি খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার হয়ে পড়েছে। যদিও দু’একটি গাছের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তা থেকে রস সংগ্রহ করার সুযোগ হচ্ছে না। দক্ষ গাছিরা তাদের পেশা পরিবর্তন করায় খেজুর গাছ থাকলেও রস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে খেজুরের রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ।শহরের মানুষরা তো তার ছোঁয়াই পায় না।
 
তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।সেখানে হয়তো এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলার ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পিঠার নাম জানতে পারে ও আকার আকৃতি দেখতে পারে। গুটি কয়েক ছাড়া কেউ ক্রয় করেও খেতে পারে না। বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে রাখা হয় পিঠা আর দর্শনার্থীরা দেখে দেখে মনে মনে স্বাদ-আস্বাদন করে বাড়ি ফিরে যান।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে জেলায় সর্বত্র বহু খেজুর গাছ ছিল। ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে খেজুর গাছ কেটে অনেকটাই সাবাড় হয়ে গেলেও যা আছে, ৭৮টি ইউনিয়ন মানুষের খুশি করার পক্ষে কম। ইটভাটায় জ্বালনি হিসাবে অনেক গাছ বিক্রি করা হয়েছে। রস মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ ভাড়া হয় ২/৩ শ’ টাকায়। মৌসুমের শেষে অনেকেই গাছা বিক্রি করে দেন। মূলত ইট ভাটার জ্বালানির জন্য খেজুর গাছের চাহিদা রয়েছে। যদিও দাম অন্য গাছের তুলনায় কম।

ইট ভাটার আইনুযায়ী: কোন ব্যক্তি ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করিবেন না৷ এই আইনের কোন বিধান বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং অপরাধ বিচারকালে আদালত যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ধারা ৬ এর অধীন আটককৃত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্তযোগ্য, তাহা হইলে আদালত উক্ত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিবেন৷

খেজুর গাছের মালিকরা জানান, শীত দ্রুত এসে পড়ায় রস সংগ্রহকারীদের চাহিদা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে একটি খেজুর গাছ থেকে ২০-৩০ কেজি রস পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন গাছ কাটা হলে তিন দিন রস পাওয়া যাচ্ছে।
 
গাছিরা জানান, আমাদের উপজেলাতে একসময় অনেক খেজুর গাছ ছিলো কিন্তু কালের বির্বতনে তা হারিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে ৫ বছর আগে আমাদের গাছ কাটার জন্য আমার মত অনেক লোক পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলো কিন্তু এখন তেমন খেজুর গাছ না থাকায় এই কাজ কেও করতে চাই না।
রসপায়ীরা জানান, শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে খেজুর রস খাওয়ার মজাই আলাদা। আরও মজা লাগে খেজুরের রস দিয়ে গুড়/পাটালি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের পিঠা বানিয়ে খাওয়া। সকাল ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস রস খেলে শরীর অনেকটা সতেজ থাকে।
 
তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নে গাছি আশরাফ আলী (৪৫) বলেন, আমি প্রায় ২৬বছর যাবত খেজুর গাছ কেটে আসছি। খেজুর গাছ বিলুপ্তি হওয়ায় আগের মতন খেজুর গাছ কাটা লাগে না। খেজুর গাছ গুলো এখন যাচ্ছে ইট ভাটায়। জ্বালানি কাঠ ও কয়লা আপেক্ষা খেজুর গাছ সস্তা দামে পাওয়া যায় বলে ইট ভাটায় এর চাহিদা বেশি। কেননা, খেজুরের গাছে পোড়ানো ইটের রং গাঢ় হয়। সময়ের পরিবর্তনে ও সচেতনতার অভাবে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস।

সকল রসপায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য খেজুর গাছ কেটে ইটের ভাটায় বিক্রয় করছে। যদি এই অসাধু ব্যাবসায়ীদের এখনি আটকানো না যায় তাহলে ভবিষৎতে সাতক্ষীরা জেলা সহ প্রায় সকল উপজেলায় খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কার হয়ে পরবে।

খেজুর গাছ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন