ইনসাইড আর্টিকেল

হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় হাঁটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৯ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

যে কোনো বয়সের মানুষের শরীর ঠিক রাখতে হলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সব ব্যায়াম সব বয়সের জন্য উপযোগী নয় এবং সব ব্যায়াম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সব বয়সের জন্য মানানসই। সহজে করা যায়। হাঁটার উপকারিতাও অনেক। এর চেয়ে সহজ ব্যায়াম আর নেই। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়াম কম খরচে শরীর ভালো রাখা যায়। ঘরে-বাইরে যে কোনো জায়গায় করা যায়। ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতা ছাড়া কোনো অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে না।

ডায়াবেটিস রোগীর উপকার

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাট-বাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা। অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা বা নামার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বা সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হাঁটলে এবং শরীরে ওজন সাত শতাংশ কমালে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে প্রায় ৫৮ ভাগ। যদি ডায়াবেটিস হয়েই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটা বিশেষ কার্যকর। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তের সুগার কমে, ওষুধ কম লাগে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেদ কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে শুধু ডায়েটিং করেন। কিন্তু হাঁটাহাঁটি না করে বা অলস জীবনযাপন করে শুধু ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ মেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা।

হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় শরীরে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশংকা কম থাকে। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে জমে থাকা মেদ কমে। রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন কমে যায়। এই মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। হাঁটার ফলে ভালো কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বাড়ে। ফলে রক্তনালিতে ব্লক সহজেই হয় না। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায় না। তাই হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

হাঁটা ও কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং রক্ত সরবরাহ বাড়ে। এগুলো বেশি কর্মক্ষম থাকে। হাঁটার ফলে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে ফলে পেশির শক্তি বাড়ে। শরীরের ওজন কমে। শরীর থাকে ফিট। নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটাচলা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতো কাজ করে। হাঁটার ফলে উচ্চরক্তচাপ হয় না এবং আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হাঁটা চলার মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিন্মাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়। কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশংকাও কমে যায়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ রোধে

পোস্ট মেনপোজাল (রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী) নারী এবং বয়স্ক পুরুষদের সাধারণ রোগ হচ্ছে অষ্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামান্য আঘাত বা অল্প উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব নারী প্রতিদিন অন্তত এক মাইল হাঁটেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশংকাও কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য

হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার কিছু পদার্থ এনড্রফিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন নিঃসরণ হয়। ফলে মন-মেজাজ ভালো থাকে। হাঁটার ফলে মনে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে, মানসিক চাপ কম বোধ হয়। এনড্রফিন নামক রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে গেলে ঘুম আরামদায়ক হয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন হাঁটার ফলে বিষণœতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন তাদের বোধশক্তি ৪০ মিনিটের কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

রংপুরের চিকলি বিল। এই বিলের সৌন্দর্য সবাইকেই মুগ্ধ করে। এককালে স্থানটি ব্যবহৃত হতো সি প্লেনের ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে। শীত আসলেই নানা অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠতো এই বিল। রংপুরের হনুমানতলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন এই চিকলি বিলের পাশেই গড়ে উঠেছে দর্শণীয় চিকলি ওয়াটার ও গার্ডেন পার্ক। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পার্ক এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশবাসীর কাছে।

বিল পাড়ে মনোরম পরিবেশে দু’দণ্ড বসার ব্যবস্থা আছে। আরও আছে চিত্তবিনোদনের জন্য স্থাপিত মিনি রেলগাড়ি ও বিভিন্ন রাইড।

বর্তমানে চিকলির বিল দু’ভাগে বিভক্ত। বিলের দক্ষিণে গড়ে উঠেছে ওয়াটার পার্ক। সেখানে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। সেখানে আরও আছে বিভিন্ন ওয়াটার রাইড। আর বিলের উত্তর পাশ যার নাম চিকলি ওয়াটার গার্ডেন। যার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

সেখানকার বিশালকার চরকিতে চড়লে রংপুর শহরের বার্ডস আই ভিউ পাবেন। পড়ন্ত এক বিকেল কাটানোর জন্য অসাধারণ এক স্থান এই চিকলির বিল।

চিকলি ওয়াটার পার্ক এর মূল আকর্ষণ হলো কৃত্রিম ঝরনা। দিনের চেয়ে রাতে এই ঝরনা দেখতে বেশি ভালো লাগে। নানা রঙের আলোর ঝলকানিতে চোখ ভরে যাবে।

পার্কের ভেতরে বেশ কয়েকটি ক্যানেল আছে। সেখানকার স্বচ্ছ খেলা করছে রঙিন মাছ। চাইলে স্পিড বোটেও গা ভাসাতে পারবেন এই পার্কে। দর্শনার্থীদের বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেয়ার বা বেঞ্চের ব্যবস্থা রাখা আছে।

কীভাবে যাবেন চিকিলি বিল?

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেরেক রংপুর এসে সহজেই যেতে পারবেন চিকলির বিলে। রংপুর শহরের এক প্রকার কেন্দ্রেই যার অবস্থান।

চিকলির বিল আসার পথ মূলত দুটি- একটি সাগরপাড়ার দিয়ে আরেকটি শহরের পুলিশ লাইনের সামন দিয়ে হনুমানতলা বাজার পার হয়ে একটু সামনেই হাতের বামেই বিলে প্রবেশের পথ।

চিকলির বিল যাওয়ার কথা বললে সহজেই রিকশা কিংবা অটো পেয়ে যাবেন। সেখানে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের জায়গা থাকায় প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বিখ্যাত চিকলির বিল থেকে।

রংপুর   চিকলি বিল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?


Thumbnail আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?

বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্য যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে যে বিষয়টি দেখা যায়, তা হলো মসলিন উৎপাদন এবং এই মসলিন কাপড়ের ব্যবহার। মসলিন কাপড় এমন এক কাপড় ছিল যা বিলাস এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।  

মসলিন কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ। প্রায় ১৬টি ধাপে তৈরি করা হতো এই মসলিন কাপড়। মধ্যযুগে পৃথিবীর সর্বত্র এই কাপড় নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক হৈ চৈ। সকলেই তখন এই মসলিন কাপড়ের কদর করেছিলেন। তবে বিত্তশালী মানুষেরা ছিল মসলিনের গুরু ব্যবহারকারী। কথিত আছে, মসলিন এতটাই নরম ছিল যে একটা ছোট আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েক'শ গজ মসলিন কাপড় গলে যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এই কাপড়ের উৎপাদন কমে যেতে থাকে। বর্তমানে এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অথচ, ভারতের বেঙল প্রদেশের ঢাকায় ছিল একসময় মসলিন তৈরি ঘাটি। 

মেঘনা নদীর পাড়ে ছিল তখনকার মসলিন কাপড় তৈরির কারখানা। মসলিন কাপড় তৈরিকারকদের উত্তরাধিকাররা এখনো জামদানি শাড়ি তৈরি করে থাকেন যা মসলিন কাপড়েরই পরিবর্তীত রূপ কিন্তু, মসলিন কাপড়ের সাথে এর তফাত অনেক। বাস্তবে যদিও মসলিনের গুণগত মান আর জামদানির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা হয়, তাও জামদানি বেশ সমাদৃত এখনো অবদি বাংলায়। 

এই মসলিন কাপড় এর পুনঃউৎপাদনের জন্য কাজ করছিলেন একদল গবেষকরা। প্রায় ছয় বছরের গবেষণায় তারা সফলও হয়েছেন তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে। ছয়টি মসলিন শাড়ি উৎপাদন করে তারা প্রমাণ করেছেন বাংলায় এখনো মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে। এর ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বোনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি। ঠিক সে রকমই, যেমনটি বলা হতো—আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটি শাড়ি। ইতোমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।



মসলিন কাপড় তৈরি করার জন্য প্রয়োজন একধরনের বিশেষ সুতোর। তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন বানানোর জন্য দরকার ছিল "ফুটি কার্পাস" গাছের,  আবার সেই গাছ কি আসল গাছ কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল মসলিন কাপড়ের। এই দু'টো জিনিস জোগাড় করাটাই যেন ছিল গবেষকদের মূল চ্যালেঞ্জ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও রাঙামাটি থেকে এই গাছের খবর আসে। গবেষকেরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ও লংদু; বাগেরহাট, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে মোট ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা হিসেবে নেওয়া হয় গাছের তুলা, বীজ, পাতা, কাণ্ড ও ফুল। সম্ভাব্য ফুটি কার্পাসের এই জাতটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব মাঠে ও আইবিএসসির মাঠে চাষ করা হয়। 

ফুটি কার্পাসের পরীক্ষার জন্য যখন মসলিন কাপড়ের নমুনা আবশ্যক তখন বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর সাহায্য করতে নারাজ। তখন কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গিয়েও অনেক চেষ্টার পরও বিফল হন গবেষকরা। কারণ, মসলিন তৈরিতে তুলার জাত এবং আবহাওয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অবশেষে কিছু নমুনা দেশ থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। যা দিয়ে পরবর্তীতে মসলিন কাপড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

গবেষকরা মোট ছয়টা শাড়ি উৎপাদন করেছিলেন যা হুবুহু ঐতিহাসিক মসলিনের মতো, যা একটি আংটির ভেতর দিয়ে ঢুকে যায় অনায়াসে কয়েকশো গজ। একটি শাড়ি তারা উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। দেশের মাটিতে ফুটি কর্পাস চাষের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন এবং তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন কাপড়ের বস্ত্র তৈরি যেন এক বিপ্লব। 

এই গবেষণায় সাফল্যের পর শিগগিরই মসলিন কাপড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তাছাড়া, মসলিনের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মসলিন কাপড়ের এই উৎপাদন বহাল থাকলে, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মসলিন কাপড়ের উৎপাদনই যেন "ঢাকায় মসলিনের পুর্নজন্ম।"

মসলিন   কাপড়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ Jun, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব বাবা দিবস আজ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের ৫২টি দেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে ১৯ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার এক গির্জায় ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ‘বাবা দিবস’ প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে; সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বিশ্ব বাবা দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মৃৎশিল্প নাকি ‘মৃতশিল্প’?


Thumbnail মৃৎশিল্প নাকি ‘মৃতশিল্প’?

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পের একটি হলো মাটির শিল্প। এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি নানা তৈজসপত্র ছিল এই দেশের প্রতি ঘরের নিত্য সামগ্রী। বাংলাদেশের রাজশাহী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন শহরে কারিগরদের রাজত্ব ছিল একচেটিয়া। তাদের তৈরি আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল ছিল বাংলার সংস্কৃতির অংশ। যা এখনো বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য হিসেবে পরগণিত হয়। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং আগ্রহের অভাবে মৃৎশিল্প আজ মৃতপ্রায়। 

গ্রামাঞ্চলে মেলা মানেই আমরা বুঝতাম নিত্যপণ্য, আর মাটির তৈরি সুদর্শন সব তৈজসপত্র। এতটাই আগ্রহ আর প্রয়োজনীয়তার জায়গা দখল করে ছিল এই মাটির শিল্প। রাজশাহীতে হওয়া রথের মেলায় বসতো বিশাল সারিবদ্ধ মাটির তৈজসপত্রের দোকান। মৃৎশিল্পীরা তাদের তৈরি পণ্য নিয়ে আসতেন। এই মেলা এতটা জমজমাট ছিল যে, বাইরের জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা আসতেন তাদের তৈরি মাটির পণ্য বেচাকেনা করতে। এখন মেলা অনুষ্ঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু ব্যবসায়ীরা আর আসেন না আশানুরূপ সংখ্যায়। মানুষের আগ্রহের কমতি মেলায় মৃৎশিল্পীদের এবং মাটির শিল্পের অনুপস্থিতির প্রধান কারণ।  

দুই যুগ আগেও দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ ছিল অনেক মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তখন তৈরিকৃত প্রতিটা জিনিসের চাহিদা এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার ছিল ব্যাপক। এখন,  মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদার জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্লাস্টিক, কাঁচ এর ধাতব উপাদান সমূহ। অথচ, আগে পূজা, অনুষ্ঠান, নবান্ন, পিঠা উৎসব বাংলার সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি ঘটনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল মাটির তৈরি জিনিসপত্র।  



দেশের এখনো কিছু গ্রামাঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে মাটির তৈরি জিনিসপত্র এর চাহিদা আছে বলে রাজশাহী, ফরিদপুর অঞ্চলে কিছু মৃৎশিল্পীর পরিবার টিকে আছেন। যারা বংশ পরম্পরায় এই কাজ এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। তবে তাদের কাজ অনুযায়ী এর চাহিদা নিয়ে অসন্তুষ্টি আছেই। ফরিদপুর অঞ্চলের কারণ্যপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে তৈরি হতো আগে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল। পালপাড়া নামে খ্যাত এই জায়গায় মৃৎশিল্পীরা পাল্লা দিয়ে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতো। উঠোন জুড়ে হাঁড়ি-কলসির মেলা বসতো। সেসব তৈরি জিনিস শুকিয়ে ঘরে তোলা, রং করা,  সব যেন উৎসবের মতন করা হতো। কিন্তু সেই পাড়ায় এখন হাতেগোনা কিছু পরিবার আছে যারা এই কাজের ধারিবাহিকতা বজায় রাখছেন।  

বাজারে মাটির তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ হারিয়েছে দিনদিন সব ধরণের ধাতব বস্তুর উপর নির্ভরশীলতা বাড়ার জন্য। নান্দনিক এবং রুচিশীলতা অনুশীলনকারী অনেকেই এখনো মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর করলেও সে সংখ্যা খুবই কম। যার কারণে মৃৎশিল্পীদের আগ্রহ কমছে। অনেকেই অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে নামমাত্র জিনিসপত্র বানাচ্ছেন। মাটির জিনিসের দাম পাচ্ছেন না বলে অনেকেই এই পেশা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। এতে মূলত দেশে মৃৎশিল্পী যেমন কমে আসছে তেমনি দেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অবক্ষয় ঘটছে দিনের পর দিন। 

বাংলাদেশের সবখানে চৈত্র-বৈশাখে মেলা বসে। পাল পরিবারের সদস্যরা সেখানে এখন অন্য ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হন। শহরাঞ্চলে, ড্রইং/লিভিং রুমে দেখতে পাওয়া যায় নানা ধরণের মাটির পণ্য। বিত্তবানরা ঘর সাজাতে আজকাল আগ্রহ প্রকাশ করে মাটির জিনিসই কেনেন। কম ব্যয়ে ঘর সাজাতে মাটির তৈরি পণ্যই সেরা। কিন্তু, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক সহ অন্য সকল ধাতব বস্তুর দাম বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি মাটির তৈরি জিনিসের দাম। তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন মৃৎশিল্পীরা। 



মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের ইতিহাসের এবং সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা শিল্পকর্ম। প্রাচীনযুগে দেয়ালের ফলক থেকে শুরু করে কারুকাজ সকলই করা হতো মাটি দিয়ে। কিন্তু এই শিল্প দিনকে দিন বিলুপ্তির পথে এগুচ্ছে। এ শিল্প যেনো হারিয়ে না যায়, কোনোভাবেই ‘মৃতশিল্পে’ পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরই।  মৃৎশিল্পীরা বিশ্বাস করেন যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে হারিয়ে যাওয়া মৃৎশিল্পের অতীত-ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

মৃৎশিল্প   মাটির পণ্য   মাটির শিল্প  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

অতিষ্ঠ গরমে ঘুরে আসুন শৈলশহর থেকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৬ Jun, ২০২২


Thumbnail

প্রচণ্ড গরমে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই গরমে কোথাও ঘুরতে গিয়েও শান্তি নেই! কারণ প্রখর তাপে দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়াই এখন অনেকটা মুশকিল। কেমন হতো যদি এই গরমেও শীতের দেশে ঘুরতে যাওয়া যেত! চাইলে কম খরচেই ঘুরে আসতে পারেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের এক শহর থেকে। যেখানে এই গরমেও মিলবে শীতের অনুভূতি। বলছি, দক্ষিণ ভারতের অপূর্ব সুন্দর শৈলশহর উটির কথা। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর শহরটি তামিলনাড়ুর বিখ্যাত ও জনপ্রিয় স্থান। এই শহরে হিমালয় না থাকলেও আছে নীলগিরি, চা বাগান, টয়ট্রেন আর গভীর অরণ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক উটি ভ্রমণে কী কী দেখবেন-

গ্লেমরগান



উটির সবচেয়ে রোমান্টিক স্থান হলো গ্লেমরগান। তইউক্যালিপ্টাসের জঙ্গল ও স্বচ্ছ জলের হ্রদে ঘেরা একটি ছোট এক গ্রাম এটি। এখান থেকে মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান ও মোয়ার ভ্যালির মন্ত্রমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য দেখতে পাওয়া যায়। চাইলে সেখান থেকে ঘুরেও আসা যায়।

উটি’র শ্যুটিং স্পট ও গোলাপ বাগান



উটির আরেক অপূর্ব সুন্দর স্থান হলো শ্যুটিং স্পট। স্থানীয়রা এই স্থানকে ষষ্ঠ মাইল নামে ডাকে। সিনেমার রোমান্টিক দৃশ্য বা গানের শুটিংয়ের জন্য আদর্শ এক স্থান এটি। খোলা মাঠের চারধারে সবুজে সবুজ গাছপালা পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে।

এমনই আরও এক স্থান হলো গোলাপ বাগান বা রোজ গার্ডেন। বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার গোলাপফুল ফুটে আছে এই বাগানে। ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে এই বাগানেই নাকি সর্বাধিক গোলাপ পাওয়া যায়। সারা বিশ্বের ১৫টি গোলাপ বাগানের মধ্যে একটি। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব রোজ সোসাইটিস কর্তৃক সম্মানিত গার্ডেন অব এক্সিলেনস পুরস্কার পেয়েছে।

ক্যাথরিন ঝরনা



সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার উঁচু থেকে পাথরের মাটিতে আঁচড়ে পড়ছে ক্যাথরিন ঝরনা। জোড়া জলপ্রপাত দেখতে চাইলে উটির এই অন্যতম সুন্দর স্থানে যেতেই হবে। পাহাড়ের গায়ে পাথরের বিভাজিকা ঝরনাটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। সেখানে গেলে ঝরনার গায়ে দেখতে পাবেন রংধনু।

ডোড্ডাবেটা শৃঙ্গ