ইনসাইড বাংলাদেশ

ফিরে দেখা: ২৮ অক্টোবর ২০০৬

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নির্দলীয় নিরেপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনে সারা দেশ যখন উত্তাল, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের ধ্বনিতে তখন ঢাকা শহর প্রকম্পিত হচ্ছিল ঠিক তখনই খবর আসে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বিচারপতি কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হচ্ছেন না। এই দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচারপতি কে এম হাসান জানান, ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ কে এম হাসানের এই ঘোষণা আন্দোলনের প্রথম বিজয় হিসেবে মনে করে মাঠে থাকা ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এর আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কে এম হাসান যদি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয় তাহলে সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে লগি-বৈঠা হাতে ঢাকায় চলে আসে। কর্মীরা ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা হাতেই চলে এসেছিল ঢাকায়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের পল্টন ময়দানে জড়ো হতে বলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সকালে পল্টন ময়দানের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগ কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট ছোঁড়ে। এ সময় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক যাবৎ পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘাত চলে। সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে দুপুর বারোটা থেকে দুইটা পর্যন্ত। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ এই দিন ঢাকায় প্রায় ১৫ হাজারের মতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধলে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা  বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট বাদ দিয়ে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট, গুলিস্তান, জিরোপয়েন্ট, পল্টন মোড় হয়ে তোপখানা রোড, বিজয় নগর এবং ঐদিকে দৈনিক বাংলার মোড় পর্যন্ত অবস্থান নেয়। উত্তর গেটে অবস্থান নেয় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। সারা ঢাকা শহর থেকে স্রোতের মতো মানুষ যখন জমায়েত হচ্ছিল তখন নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের দিকে ধ্বাবিত হয়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ের সামনে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেটে আটকে যায়। ব্যারিকেটের পূর্ব পাশে জামায়াত এবং পশ্চিম পাশে ১৪ দলের অবস্থান। এক পর্যায়ে দুপুরে উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই প্রান্তের সমর্থকদের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে  রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই গুলির শব্দ। যখন অর্নগল গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল তখন ১৪ দলের নেতারা কিছুটা পিছু হটে। ১৪ দলের নেতাকর্মীরা তোপখানা রোডে অবস্থান নেয়। এর পর দিনভর দফায় দফায় সংর্ঘষ হয়। ২৮ অক্টোবরের আগের দিন এবং পরের দিনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত হয়েছিল। তিন দিনের তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ কার্যত রাজপথ দখলে নেয়।

উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য মতে, বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মধ্যে কিছু ছিল ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ এবং কিছু ছিল গুলির শব্দ। পুরো এলাকায় তখন এমন অবস্থার তৈরি হয়েছিল যে ককটেল এবং গুলি কোন দিক থেকে আসছে সেটি বোঝা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ দফায় দফায় ব্যাপক টিয়ারশেল এবং রাবার বুলেট ছুঁড়েছিল ঐদিন।

২৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর অষ্টম জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি ঘটে। ২৮ অক্টোবর ছিল বিএনপি সরকারের শেষ দিন। সেদিনই বঙ্গভবনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শপথ হওয়ার কথা। এর আগে কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করে।

মুহম্মদ হাবিবুর রহমান রচিত বাংলাদেশের তারিখ দ্বিতীয় খন্ডে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নিজেকে নিজের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব দেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতারা সরাসরি প্রত্যাখান করেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যেই পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে যায়। সারাদেশে ১২ নিহত, সহস্রাধিক আহত হয়। সারা দেশ সংঘাত জর্জরিত হয়ে এক পর্যায়ে অচল দেশে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেন তা মেনে নিন। শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতির সংবিধান মান্য করা উচিত। এ দিন শেখ হাসিনার এসএসএফ প্রটেকশন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

২৯ অক্টোবর একটি পত্রিকার ছাপানো খবরে বলা হয়, পুলিশের সহযোগিতায় শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী যখন উত্তর গেটের সমাবেশে বক্তব্য দিতে শুরু করেন তখন বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছি। সে অবস্থাতেই তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। ঐদিন মিছিলে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাতে ছিল বাঁশ আর কাঠের বৈঠা। জামায়াতের কর্মীদের হাতে ছিল গজারি কাঠের লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র। আওয়ামী লীগের কর্মীরা জামায়াতের সমাবেশের দিকে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করলেও জামায়াত-শিবিরের গুলির মুখে পিছিয়ে আসে।

ঐ পত্রিকার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে "মুখে কাপড় বাঁধা জামায়াত-শিবির কর্মীদের হাতে দেখা গেছে রিভলভার, পিস্তল ও শটগান। বিকেলে জামায়েতের আমির ও শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী যখন বায়তুল মোকারমের উত্তর ফটকের সামনে বক্তৃতা করছিলেন, তখন তার পাশে একজন দলীয় কর্মী অস্ত্র বের করেন। পরে সিনিয়র নেতারা তাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করা থেকে নিবৃত করেন।" ২৮ অক্টোবর ঢাকায় যেমন সহিংসতা হয়েছে সেদিন ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে। ২৯ অক্টোবরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। সেদিন অন্তত সাতজন মারা যায়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনদিনের রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশে অন্তত ২৩জন নিহত হয়েছেন।

মুহম্মদ হাবিবুর রহমান রচিত বাংলাদেশের তারিখ দ্বিতীয় খন্ডে ২৯ অক্টোবরের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, এ দিন রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে ১৪ দল অনুপস্থিত ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতির আচারণ দেখে সিদ্ধান্ত নেব নির্বাচনে যাব কিনা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এইট পাশ নন। তিনি অধ্যাপনা করেছেন। আশা করি সংবিধান বোঝেন। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বর দেখার জন্য। তা না করে তিনি নিজেই বিয়ে করে ফেলেন তাহলে তাকে অভিভাবক মেনে নেয়া যায় না। অন্যায় করে কেউ পার পায়নি, তিনিও পাবেন না।


২৮ অক্টোবর ২০০৬  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জ শতভাগ ফেল করা ৪ মাদ্রাসাকে শোকজ

প্রকাশ: ০১:২৪ পিএম, ১৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

শনিবার (১৮ মে') উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামছুল হক এসব মাদ্রাসার সুপারদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

 

নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপারকে ২৬ মে দুপুর ২টায় শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় তার প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী কেন পাস করেনি তার লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

মাদ্রাসাগুলো হলো, বগুড়া দাখিল মাদ্রাসা, এলংজানী দাখিল মাদ্রাসা, হাজী আহমেদ আলী দাখিল মাদ্রাসা ও বড় কোয়ালিবেড় দাখিল মাদ্রাসা।

 

এ বছর বগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন, এলংজানী মাদ্রাসা থেকে ১২ জন, হাজী আহমেদ আলী মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন এবং বড় কোয়ালিবেড় মাদ্রাসা থেকে ১২ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু এদের কেউই পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি।

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামছুল হক জানান, উল্লিখিত মাদ্রাসার সুপারগণ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদ্রাসার সুপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের মাদ্রাসার অবস্থান। এসব এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক চেষ্টা করেও শ্রেণিকক্ষে আনা যায় না। অনেক শিক্ষার্থীই মাদ্রাসায় আসে না। লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের কোনো আগ্রহ নেই। ফলে পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয় হয়েছে।'


মাদ্রাসা   শতভাগ ফেল   এসএসসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সৌদিতে আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০১:১৮ পিএম, ১৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়া আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শনিবারে মৃত্যুবরণ করা ওই হজযাত্রীর নাম- মো. মোস্তফা, বয়স ৮৯ বছর। 

রোববার (১৯ মে) হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক হজযাত্রী মারা যান। গত ১৫ মে মদিনায় তার মৃত্যু হয়। এটি এবার হজে যাওয়া প্রথম কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু। আসাদুজ্জামানের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৭ নম্বর মাসকা ইউনিয়নের সাতাশী গ্রামে।

হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২৮ হাজার ৭৬০ জন। এদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ৭৪৭ জন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২৫ হাজার ১৩ জন। মোট ৭২টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব পৌঁছান। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ২৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।


সৌদি আরব   বাংলাদেশ   হজযাত্রী   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মেট্রোরেলে ভ্যাট বসানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ

প্রকাশ: ০১:০৮ পিএম, ১৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

মেট্রোরেলে ভ্যাট বসানোর সিদ্ধান্ত পুর্বিবেচনার করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক।

রোববার (১৯ মে) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ডিএমটিসিএল আয়োজিত ঢাকা মেট্রোরেলের ব্রান্ডিং সেমিনারে তিনি কথা বলেন। এর আগে জুলাই থেকে মেট্রোরেলে ভাড়ার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেই এনবিআর।

এম এন সিদ্দিক বলেন, ‘এর আগে মেট্রো রেলে ভ্যাট বসানো হয়েছিল। তখন তা জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। এখন সেটা আবার জুলাই থেকে কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে। যদি ভ্যাট দিতে হয় তাহলে এটি যাত্রীর দিতে হবে। তাই এটি রিভিউ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেল চালু করার পর থেকে পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম তিনবার বেড়েছে। কিন্তু মেট্রো রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এখন ভ্যাট যুক্ত হলে ভ্যাটের টাকা যাত্রীদের দিতে হবে, মেট্রোরেলের পক্ষে সেটি বহন করা সম্ভব না। ফলে মেট্রোরেলের ভাড়ার পরিমাণ বেড়ে যাবে।

সেমিনার উপস্থিত ছিলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সচিব বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, ঢাকা উওর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরি প্রমুখ।


মেট্রোরেল   ভ্যাট   পুর্নবিবেচনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ১৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব করতে চাই। শিল্পখাত একান্তভাবে পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত। যারা যেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন, যেন শিল্পের বর্জ্য নদীতে না পড়ে। আমাদের পানি যেন কোনোরকম দূষিত না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ ভৌগোলিক সীমারেখায় অত্যন্ত ছোট, কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে বড়। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের পরিবেশ এবং সবকিছু পরিকল্পিতভাবে হওয়া উচিত। স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া উচিত। শিল্প আমাদের গড়ে তুলতে হবে। শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই সকলকে করতে হবে। সামান্য একটু কেমিক্যালের পয়সা বাঁচাতে গিয়ে দেশের সর্বনাশ এবং নিজের সর্বনাশ করবেন না।

রোববার (১৯ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা-২০২৪ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ শিল্প বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক . মো. মাসুদুর রহমান প্রমুখ 


শিল্পখাত   পরিবেশবান্ধব   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নওগাঁয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ক্রয়-বিক্রয়ের মহোৎসব!

প্রকাশ: ১২:৪৪ পিএম, ১৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ডাকাহার চৌধুরী পুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত অভিযোগ করেন কালিগ্রাম মুনসিপুর গ্রামের মৃত তহির উদ্দীন মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম।

বিগত ২০২১-২২ অর্থ বছরে জেলার রানীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ডাকাহার চৌধুরী পুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে কয়েক দফায় ৫৯ টি ঘর নির্মাণ করেন উপজেলা প্রশাসন। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘর ভূমি গৃহহীনদের মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে নির্মাণ করলেও এই প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই অনৈতিকভাবে বরাদ্দ পেয়েছেন যাদের জমি বাড়ি আছে সেই সব ব্যক্তিরা। বরাদ্দ প্রাপ্তদের নিজের জমি বাড়ি থাকায় সেখানে বসবাস না করে উদ্বোধনের কিছুদিন পর হতে শুরু হয় ঘর ক্রয়-বিক্রয়। এই ক্রয়-বিক্রয়ে অনেকে যারা বৈধ উপায়ে ঘর পায়নি তারা নিরুপায় হয়ে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ঘর ক্রয় করে বসবাস করছে। আবার অনেকে অল্প দামে ঘর কিনে রাখছে বেশী দামে বিক্রয়ের আশায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পে নং ঘর বিক্রয় করেন মোঃ বেনো হোসেন, ক্রয় করেন আজিজার। ৩৫ নং ঘর মোঃ ফেকরুল ডাকাহার গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে ইউনুছ আলীর কাছে বিক্রয় করেন এবং একই ঘর ইউনুছ আলী আবারও বিক্রয় করেন দুলালের নিকট। ৩৭ নং ঘর আলম বিক্রয় করেন শরিফুলের কাছে।

ডাকাহার গ্রামের ছলিম উদ্দীনের নিজস্ব জমি থাকার পরও বাপ-ছেলে ২টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে, এছাড়াও তারা ২টি ঘর বিক্রয়ের জন্য ক্রয় করে রেখেছে। রহমান কবিরাজ ওই গ্রামের মধ্যে তার ছাঁদ দেওয়া পাঁকা বাড়ি আছে, তবু ২টি ঘর কিনে রেখেছে।

আশ্রয়নের সহ-সভাপতি ডাবওয়ালা হাচিন আলীর গ্রামের মধ্যে জমি বাড়ি থাকার পরও তার মা হাসিনা বেগমের নামে ১টি ঘর, নিজের নামে ১টি ঘর স্ত্রীর নামে ১টি ঘর সহ মোট ৩টি ঘর বরাদ্দ নিয়ে রেখেছেন। মায়ের ঘর বিক্রির জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের নিকট দামাদামী চলছে।

এই আশ্রয়নের সকল ঘর বিক্রয়ের মূল হোতা হাচিন আলী বলে জানান স্থানীয়রা। এই প্রকল্পে ৫৯টি ঘরের মধ্যে ২০টি ঘর ব্যাতিত সকলই ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে বঙ্গবন্ধু কন্যার মুজিব বর্ষের মূল উদ্দেশ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে প্রযোজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।

অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি ঘর ভূমিহীনরা পায় না। যাদের ঘর আছে তারা পায়, তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবী সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘর গুলো দেওয়া হউক।’

উপকারভোগী নারগিস এর থেকে ৩০ নং বাড়ি ক্রয় করেন আশরাফুল, যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোন বাড়ি পাইনি তবে নারগিস আমাকে বসবাসের জন্য বাড়িটি থাকতে দিয়েছে।’ ক্রয় করেছেন কিনা প্রশ্নে বলেন, ‘কাগজ করে নিয়েছি তবে কোন টাকা দেয়নি।’

অসহায় ভূমিহীন সেফালী বেগম বলেন, ‘মারা গেলে মাটি দেওয়ার মত জায়গাও আমার নেই, ঘর পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম, ধরার কোন লোক নেই, তাই সরকারি ঘর আমাকে দেওয়া হয়নি।’

ব্যাপারে একডালা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম (আপেল) জানান, ‘মুজিব বর্ষের ঘর গুলো নিয়ে আমি সহ চেয়ারম্যান সাহেব অনেক চেষ্টা করেও বিক্রয় করা থেকে আটকানো যাচ্ছে না। তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবী তদন্ত করে প্রকৃত ভূমিহীনদের ঘর গুলো দেওয়া হউক।’

একডালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার ভূমিহীনদের ঘরগুলো বিক্রয় হচ্ছে। আমি আইনশৃংখলা মাসিক মিটিংএ এবিষয়ে একাধিক বার বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবী করছি। এই আশ্রয়নের কমিটির কয়েকজন নেতা এর সঙ্গে জড়িত।’

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাবাসসুম জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’


আশ্রয়ণ প্রকল্প   ঘর বিক্রি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন