ইনসাইড বাংলাদেশ

হঠাৎ করেই পাকিস্তান দূতাবাসের রহস্যময় তৎপরতা

প্রকাশ: ১০:০১ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

পাকিস্তান দূতাবাস হঠাৎ করে রহস্যময় তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পাকিস্তান দূতাবাসের অতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর সমাগত। আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব আমরা। আর এই সময় পাকিস্তান দূতাবাস বিভিন্ন ইস্যুতে কেন সরব হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পর্যন্ত এ বিষয় নিয়ে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, তারা কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু পাকিস্তান দূতাবাসের সাম্প্রতিক তৎপরতায় উদ্যোগে বিভিন্ন মহল বিস্ময় প্রকাশ করেছে। কিছুদিন আগে পাকিস্তান দূতাবাস একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলবাদী, বুদ্ধিজীবীদেরকে একাট্টা করার চেষ্টা করেছিল। গত ৯ নভেম্বর লাহোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বন্ধুত্ব সম্মেলনের নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি যোগদান করেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে আবার পাকিস্তান দূতাবাস বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের উদ্যোগে খেল খেল নামে একটি চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, চলচ্চিত্রটি ঘটা করে দেখানোর আয়োজন করছে পাকিস্তান দূতাবাস। এই ছবিটিও অত্যন্ত বিতর্কিত, আপত্তিকর। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ছবির ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কেন সেটি একটি বড় বিস্ময়। কারণ, এই ছবিটিতে পাকিস্তান বাংলাদেশের ক্ষমা প্রসঙ্গটি এসেছে ভিন্নভাবে, পরস্পর পরস্পরের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং বন্ধু হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের উপর সুস্পষ্ট আঘাত বলেই মনে করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে। সেই খেলায় পাকিস্তানি দর্শকরা যেন মিরপুর স্টেডিয়ামে যান এবং তাদের পতাকা উত্তোলন করেন তাঁর ব্যবস্থাও করছে পাকিস্তান দূতাবাস। এজন্য টিকেট সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দূতাবাসের কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক সময়ে স্টেডিয়াম পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে কিছু ব্যক্তি হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। তখন বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের কোন নাগরিক তাদের দলকে সমর্থন জন্য পতাকা নিয়ে যেতে পারে। আর এই সুযোগটি নিতেই পাকিস্তান দূতাবাস এবার ঘটা করে মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে যাওয়া পাঁয়তারা করছে। আমাদের বিজয়ের মাস মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে এটি ভয়ংকর একটি আপত্তিকর বিষয় বলে মনে করছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষ। আর এজন্যই পাকিস্তান দূতাবাসের তৎপরতা বন্ধের জন্য বিভিন্ন মহল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। আবার ১৬ ডিসেম্বর মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-ভারত হকি ম্যাচ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই ম্যাচটি বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন মহল সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিজয় দিবসের দিনে বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে এটি অবিশ্বাস্য এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। এছাড়াও পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে সাহিত্য সভা, সাংস্কৃতিক সভা ইত্যাদির আয়োজন করছে। হঠাৎ করে পাকিস্তান দূতাবাসের এই তৎপরতার রহস্য কি এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

'এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় রোহিঙ্গা সমাধান জরুরি'

প্রকাশ: ০৯:৪৯ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অঞ্চলের (দক্ষিণ এশিয়া) শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে জাপান। এ সমস্যা সমাধানে দেশটি এ অঞ্চলে একটি ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ বাস্তবায়ন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে। একটি ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ বাস্তবায়ন করা গেলে এটি এ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য দেশটি কাজ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে জাপান দূতাবাস।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, আমি রোহিঙ্গাদের রক্ষা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নিবেদিত কাজের প্রশংসা করছি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।


রোহিঙ্গা   জাপান   জাতিসংঘ   মিয়ানমার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সুতা-তুলা জাতীয় জিনিসে খুব সহজেই আগুন ধরে যায়: ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশ: ০৮:৪৪ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ফায়ার সার্ভিস আ্যন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, জাহিন নিটওয়্যারস পোশাক কারখানাটির বেশিরভাগ বিল্ডিংয়েই কাপড়, সুতা, তুলা জাতীয় জিনিস রয়েছে। এ জাতীয় জিনিসে খুব সহজেই আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত ছড়ায়। 

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় অবস্থিত জাহিন টেক্সটাইল নামের একটি রপ্তানিমুখি পোশাক কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, কাপড়, সুতা ও তুলার মতো পোশাক তৈরির কাঁচামাল মজুত থাকার কারণেই জাহিন নিটওয়্যারস পোশাক কারখানার আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
 
যখন চারটি ভবন একসঙ্গে জ্বলছিল এটার ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা আগুন লাগা চার ভবনের মধ্যে তিনটি ভবনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। একটি ভবন থেকে কিছু ধোঁয়া এখনো বের হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আগুন লাগার খবর পাই। প্রথম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। এরপর আমাদের সোনারগাঁয়ের ইউনিটও এখানে এসেছে, আশেপাশের এলাকা থেকেও কয়েকটি ইউনিট এসে কাজ করছে। আমরা পৌনে পাঁচটা থেকে কাজ শুরু করি। আগুন পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পর বলতে পারবো এর সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ বলেন, কেউ নিখোঁজ এমন অভিযোগ আমরা পাইনি। বিল্ডিংগুলো যেহেতু স্টিলের সে কারণে আগুনে এগুলে গলে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আগুন পুরোপুরি নিভলে আমরা তল্লাশি চালাবো। একইসঙ্গে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করবো। কমিটি দেখবে আগুনটা কীভাবে লেগেছে এবং কীভাবে এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিংয়ে ছড়িয়েছে।

এর আগে বিকেল চারটার দিকে ওই পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন   গার্মেন্টস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শেষ মুহূর্তে ফলাফল পজিটিভ আসায় প্রতিদিন ফ্লাইট বাতিল প্রায় ৫৫০ প্রবাসীর

প্রকাশ: ০৮:৪২ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মহামারি করোনাভাইরাস আবারও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে শেষ মুহূর্তে করোনা শনাক্ত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ জন প্রবাসী কর্মীকে বিদেশে যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২০০ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী কর্মী বলে জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এরকম অবস্থায় অনেক প্রবাসী কর্মী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া নিয়ে সংশয়ের মধ্যে পড়েছেন।

মাদারীপুরের বাসিন্দা প্রবাসী কর্মী জুমাদিন আহমেদ বলেন, আমার ২৬ জানুয়ারি দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটের ৪৮ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করতে দিয়েছিলাম। তখন নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। এ কারণে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হই। এখন তো বুঝতে পারছি না কী করব। 

নিয়ম অনুযায়ী, আরব আমিরাতে যেতে হলে যাত্রীর ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগের করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট থাকতে হবে।

আমিরাতগামী আরেক যাত্রী মোহাম্মদ রকিবুল হাসান জানান, ২৫ জানুয়ারি তার বিমানের ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগে ঢাকায় করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসায় তিনি নির্ধারিত তারিখে ফ্লাইট করতে পারেননি।

জুমাদিন ও রাকিবুল দুজনেই জানান, তাদের ভিসার মেয়াদ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে শেষ হয়ে যাবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে, তারা সমস্যায় পড়বেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাতিল করা ফ্লাইটের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন করার এবং প্রায় ২ সপ্তাহ পরের ফ্লাইটে টিকেট বুক দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ৫০০ যাত্রী বিদেশে যান। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রবাসী কর্মী কর্মস্থলে যোগ দিতে দেশ ছাড়েন।

প্রবাসী কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনা পজিটিভ হওয়ায় যারা ফ্লাইট বাতিল করেছেন, তাদের বেশিরভাগই কর্মস্থলে যোগদানের তারিখের কাছাকাছি সময় টিকেট করেছিলেন যেন ছুটির সর্বোচ্চ সময় তারা দেশে থাকতে পারেন।

কিন্তু বিদেশ যাওয়ার আগ মুহূর্তে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে ফ্লাইট বাতিল করা প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন যে তাদের করোনার কোনো লক্ষণ নেই।

বিমানবন্দরের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার জানান, অনেকেই মনে করেন যে তারা করোনা আক্রান্ত হলে তাদের জ্বর, কাশি, সর্দি দেখে দেবে। কিন্তু এখন অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন, যাদের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ডা. শাহরিয়ার বলেন, বিদেশগামী যাত্রীদের ফ্লাইটের অন্তত ৭ দিন আগে খুব সতর্ক থাকা উচিত। ফ্লাইটের তারিখের ৭ দিন আগে কেনাকাটা বা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, যদি কোনো বিদেশগামী যাত্রীর করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে, তবে পরের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

২০২১ সালের জুনের নির্দেশনা বলা হয়, ৭ দিন পর সরকার পরিচালিত ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট এলে যাত্রীরা বিদেশে যেতে পারবেন।

ফ্লাইট বাতিল   প্রবাসী   বিমানবন্দর   করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার সামনে ৭০০ দিনের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সে হিসেবে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদ আয়ু আছে আর প্রায় ৭০০ দিন। এই ৭০০ দিন আওয়ামী লীগ সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে, ঘরে-বাইরে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। যেহেতু গত টানা তিন বছর সরকার পরিচালনায় শেখ হাসিনা একাই সবদিক সামলাচ্ছেন, তাই আগামী ৭০০ দিন শেখ হাসিনার জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গতকাল জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শেষ হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা নিজেও এই চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন এবং তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সবসময় শেখ হাসিনার সাহস, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতাই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আগামী ৭০০ দিন কিভাবে শেখ হাসিনা জটিল-কঠিন পরিস্থিতিগুলো সামাল দেন, সেটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মুখ্য আলোচনার বিষয়। আগামী ৭০০ দিন তাকে কি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে, সেটি যদি আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করি তাহলে দেখব যে-

১. আন্তর্জাতিক চাপ: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক বাংলাদেশের ওপর নানা বিষয়ে দৃশ্যমান চাপ সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭ জন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সামনে আরো নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে কোনো কোনো মহল মন্তব্য করছেন। বাংলাদেশ থেকে যারা অবৈধ পথে নগদ অর্থ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ করেছেন সেই সম্পদের অর্থের উৎস জানতে চাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অবশ্যই এটি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বিভিন্ন দেশ থেকে যারা নগদ অর্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ করেছে তাদের প্রত্যেককেই জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জো বাইডেন সরকার। কাজেই, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইতোমধ্যে জাতিসংঘে র‍্যাব নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছে ১২টি মানবাধিকার সংস্থা। আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও একজন এমপি র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন। আর এই সবকিছু মিলিয়ে সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। আর এই চাপ সামাল দিতে হবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি কিভাবে এই চাপ সামাল দেন সেটাই দেখার বিষয়।

২. বিভিন্ন অপপ্রচার: গত দুই বছর ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে বিরামহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে। বিদেশে থাকা পলাতক গোষ্ঠীর বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তাদের অর্থায়নে বাংলাদেশবিরোধী বিশেষ করে সরকারবিরোধী নানারকম অপপ্রচারে লিপ্ত। এই অপপ্রচারের মাত্রাগুলো যত নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসবে তত বাড়বে। প্রশ্ন হলো, এই অপপ্রচারগুলো মোকাবেলা করে উন্নয়নের বার্তা শেখ হাসিনা কিভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিবেন বা এই অপপ্রচারগুলো যে কেবলই মিথ্যা প্রচারণা সেটি প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

৩. সংগঠনে বিশৃঙ্খলা: নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সংগঠনের মধ্যে নানারকম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দলের মধ্যে বিভক্তি প্রচণ্ড আকার ধারণ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিভক্তির কথা শোনা যায়। এই বিভক্তি কাটিয়ে সুশৃঙ্খল শক্তিশালী দলকে নির্বাচনের মাঠে নামানো আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

৪. প্রশাসনের ভূমিকা: গত একযুগ আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলো প্রশাসন, এটি অনেকেই বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশাসনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। তাদের বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিপুলভাবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও আগামী নির্বাচনের আগে এই প্রশাসন কতটুকু আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবে, সেটি নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে, বিভিন্ন পর্যায়ের মাঠ প্রশাসনের মধ্যে যে সরকারবিরোধী প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

৫. দুর্নীতি: এই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেমন অনেক উন্নতি হয়েছে, তেমন দুর্নীতির অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আর এই দুর্নীতির অভিযোগগুলো অধিকাংশই অতিরঞ্জিত আর মনগড়া। আর এই সমস্ত অভিযোগগুলোকে মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করতে হবে।

কাজেই, আগামী ৭০০ দিন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নির্বাচনের মাঠে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে।

শেখ হাসিনা   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে ৩ ঘণ্টায়ও নেভেনি আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৩ ইউনিট

প্রকাশ: ০৭:৫৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে অলিম্পিক বিস্কুট ফ্যাক্টরির বিপরীতে অবস্থিত জাহিন গার্মেন্টসে লাগা ভয়াবহ আগুন তিন ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো হয় ইউনিট সংখ্যা। এদিকে অগ্নিদুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর উপজেলার সোনারগাঁও রোডের এ পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ফায়ার স্টেশনের ডিউটিম্যান মো. আকরাম হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট) আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, সোনারগাঁ থেকে তিনটি, ডেমরা থেকে দুইটি, আদমজী থেকে দুইটি, নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে একটি, বন্দর থেকে একটি, গজারিয়া থেকে একটি, ঢাকা থেকে তিনটিসহ ১৫/১৬টি ইউনিট কাজ করছে।

আকরাম হোসেন বলেন, শুক্রবার হওয়ায় কারাখানায় ছুটি ছিল। ভেতরে কেউ আছে কি না আমরা এখনও নিশ্চিত নই। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে ইউনিট সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার জানান, ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে জাহিন গার্মেন্টসে লাগার সংবাদ সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর প্রথম ইউনিট পৌঁছায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই ৪টা ৪৫ মিনিটে।

এরপর একে একে আগুন নিয়ন্ত্রণে পাঠানো হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট। আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, তিনটি দোতলা ভবনের প্রথম এবং দ্বিতীয় তলায় আগুন জ্বলছে। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। আগুন নির্বাপণ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেসের দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. নাদির বলেন, ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। আমাদের বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো হতাহতের খবর পাইনি।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা খবর পেয়ে জেলার বিভিন্ন স্টেশনের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখন তাৎক্ষণিক হতাহত ও আগুনের সূত্রপাত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো যাচ্ছে না।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন