ইনসাইড ইকোনমি

বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০২:০৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ১১টি খাতে আগামী কয়েক বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে।

নির্মাণাধীন একশোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এক ডজন হাই-টেক পার্ক, সম্ভাবনাময় ১১টি খাত এবং নতুন পাওয়া সামুদ্রিক অঞ্চল সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য এই তিনটি বড় শক্তি রয়েছে বাংলাদেশের হাতে। 

তার ওপর বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। এর ফলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে ৪১১ বিলিয়ন ডলারের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে বিপুলসংখ্যক পণ্য ও সেবার জন্য বাংলাদেশ এক বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। 

এসবই নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি জানিয়ে এখনই এফডিআইয়ের (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ) জন্য সঠিক সময় বলে মনে করছেন বিদেশী বিনিয়োগকারী, সহযোগী সংস্থা, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন-২০২১-এর প্রথমদিনের প্লেনারি সেশনের আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা।

শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনের অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা অবকাঠামো ফাস্ট-ট্র্যাক করতে এবং ভোক্তা বাজার বড় করতে সরকারের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রধান আকর্ষণ বলে স্বীকার করেছেন।

তারা অবশ্য বলেছেন যে, কর ব্যবস্থা আরও সহজ করা দরকার। এবং কোনো ক্রুজ জাহাজকে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে যেন ৪০টি দপ্তরের ছাড়পত্র না লাগে, সেজন্য একটি ওয়ান-স্টপ সমাধান প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিয়োগকারীদের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের আশ্বাস দেন।

 

শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি বলেন, ১১টি খাতে আগামী কয়েক বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে এফডিআই বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, এফআইসিসিআই সরকারের নীতি ও প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা তৈরিতে সহায়তা করার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখছে।


ইউনিলিভার দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট সঞ্জীব মেহতা বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশে আছে। চট্টগ্রামে একটি মাত্র কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ঢাকায় দ্বিতীয় কারখানা স্থাপন করা হয়। বিশাল ভোক্তা থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ খুব আকর্ষণীয় গন্তব্য বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কর-কাঠামো সহজ করা হলে বাংলাদেশ একটি দুর্দান্ত বিনিয়োগ গন্তব্য হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এখন পণ্য বৈচিত্র্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, 'আমি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে গিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাক খাতে প্রায় ১ লাখ নতুন কর্মসংস্থান দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য গেমচেঞ্জার হবে।'

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে (আইএফসি) বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার নুজহাত আনোয়ার বলেন, 'এই পর্যায়ে আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একটি উন্নয়ন মডেলে পরিণত হয়েছে। এখন পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছার জন্য দেশের নতুন অর্থায়ন কৌশল থেকে শুরু করে নীতি সংশোধন পর্যন্ত একটি কৌশল প্রয়োজন। 

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবকাঠামোর জন্য ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৬০৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এই অর্থায়নের ৭৫ শতাংশ আসতে হবে  বেসরকারি খাত থেকে।

 

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, "বাংলাদেশ অসম্ভবকে সম্ভব করছে, বিশ্বজুড়ে এর স্বীকৃতিও আছে।" এদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, "অর্থনীতিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে সম্পদ যথেষ্ট না। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব।" "দ্বিতীয় বিষয়টি হলো বিদেশি পুঁজি বাড়ানোর জন্য অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার। আমি মনে করি পুঁজি বাজার আধুনিকীকরণের দারুণ সুযোগ আছে। এমনভাবে বিকাশের সম্ভাবনা আছে যাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।" 

সম্মেলনের অন্য সেশনে বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, দেশী ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক।  

মৎস্য জরিপের জন্য যৌথ উদ্যোগ, টুনা ফিশিংয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় প্রকল্প নির্ধারণ, জ্বালানির জন্য ভর্তুকি ও দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা রাখার মত পরামর্শ দেন তিনি। 

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড একে আবদুল মোমেন বলেন, "বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির বেশিরভাগ সম্পদই কাজে লাগানো হয়নি। এর ভগ্নাংশ থেকেই আমরা লাভবান হচ্ছি।" আরেকটি সেশনে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ৪৫৯টি কারখানার সাথে আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন চালু আছে। "এসব কারখানায় প্রায় ৪৭ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে, ৩৮টি দেশের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আছে," বলেন তিনি।


বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী সদস্য এম এরফান শরীফ শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছুটি, শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা এবং অন্যান্য কর ছাড়ের কথা তুলে ধরেন। তবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া এর আগে বলেছিলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও একই সাথে বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্স ছাড় দেওয়ার কারণে বোর্ড প্রায়ই সংকটে পড়ে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, "এটি এক নতুন, আলাদা বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ দেখে সরে দাঁড়ায় না।" "কোভিড-পরবর্তী বিশ্বের সব নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগকে আলিঙ্গন করে নিতে প্রস্তুত আমরা। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ভিশন ২০৪১ এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার আহবান জানাই," বলেন তিনি। হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ইডিএফ ঋণ পরিশোধে বিলম্ব হলে গুনতে হবে অতিরিক্ত সুদ

প্রকাশ: ১২:৩২ পিএম, ২০ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ না করলে দণ্ড হিসেবে অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে। এ ক্ষেত্রে দিতে হবে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ সুদ। আর ইসলামী শরিয়াহ ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

রোববার (১৯ মার্চ) এ সংক্রান্ত সার্কুলার দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, ইডিএফ থেকে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে বিলম্ব হলে, মেয়াদোত্তীর্ণ অংশের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ‘দণ্ড সুদ’ দিতে হবে রপ্তানিকারকদের। আর ইসলামী শরিয়াহ ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অথোরাইজড শাখা ঋণের অর্থসহ সুদ ও ‘দণ্ড সুদ’ বাংলাদেশ ব্যাংককে দেবে।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণের সুদহার নিয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তিন শতাংশ সুদহারে অর্থ দেবে। আর সাড়ে চার শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে।

এতদিন ইডিএফ থেকে ব্যাংকগুলো আড়াই শতাংশ সুদহারে ঋণ নিয়ে রপ্তানিকারকদের কাছে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতো।

২০২০ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ইডিএফ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত করোনায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সুদহার নামিয়ে আনা হয়েছিল। এর আগে সুদহার ছয় মাসের লন্ডন ইন্টার-ব্যাংক অফারড রেটের (লাইবর) সঙ্গে দেড় শতাংশ যুক্ত করে নির্ধারণ করা হতো। সে ক্ষেত্রে লাইবর রেট প্রতিদিনই ওঠানামা করায় সুদহার তিন থেকে চার শতাংশে পড়ে যেত রপ্তানিকারকদের জন্য।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আসছে রমজান, বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রকাশ: ০৮:৫৬ পিএম, ১৯ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

চলতি বছরের তৃতীয় মাস মার্চে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার বা ৭৩৩ কোটি টাকার (প্রতি এক ডলার সমান ১০৭ টাকা ধরে) প্রবাসী আয় আসছে দেশে। প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেকর্ড ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২২ হাজার ৭১৪ কোটি টাকার প্রবাসী আয় আসবে দেশে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।

রোববার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে এসেছে ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। মার্চের  রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের অঙ্ক ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এর আগে, সদ্য সমাপ্ত ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এ‌সে‌ছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১০৭ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এ‌সে‌ছিল ১৪৯ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার।

হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, মার্চের ১৭ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৯৮ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ সেবার বিনিময়ে দেশে রেমিট্যান্স আয় আনতে ফরম সি পূরণ করার শর্ত শিথিল করেছে। পাশাপাশি সেবা খাতের উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের ঘোষণা ছাড়াই ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রেমিট্যান্স বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে বৈধ উপায়ে ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা, রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা দেওয়া, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজ করার পাশাপাশি অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ন অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা এবং রেমিট্যান্স পাঠাতে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে।  

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪০১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৩৪৩ কেটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ে ৫৭ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। বিদায়ী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্স   প্রবাসী   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সোনার দামে রেকর্ড, ভরি লাখ ছুঁই ছুঁই

প্রকাশ: ০৯:২২ পিএম, ১৮ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

দেশের বাজারে ভরিতে স্বর্ণের দাম একলাফে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা বেড়েছে। এর আগে কখনোই একলাফে সোনার দাম এতো বাড়েনি। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি এখন প্রায় লাখ টাকা ছুঁয়েছে।

শনিবার (১৮ মার্চ) রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, নতুন দাম রোববার (১৯ মার্চ) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজস্বী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১. ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ৯৮ হাজার ৭৯৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি পড়বে ৯৪ হাজার ৩০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৮০ হাজার ৮৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম হবে ৬৩ হাজার ৩০১ টাকা।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস সোনার দাম কমায়। যা ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি সোনার দাম কিছুটা কমানো হয়। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসেই দুবার সোনার দাম কমায় বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৯২ হাজার ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ৮৮ হাজার ৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৭৫ হাজার ৪৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ৬২ হাজার ৮৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চে ওঠে যায় সোনার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকায়।

সোনা   বাজুস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ন্যাশনাল ব্যাংকের টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৫:৪৯ পিএম, ১৮ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail ন্যাশনাল ব্যাংকের টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত

বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনার লক্ষ্যে টাউন হল মিটিং করল ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। শনিবার (১৮ মার্চ) সকালে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি এই দুই ভাবে টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

টাউন হল মিটিং এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আমানত ও ঋণ এবং সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহমুদ হোসেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কৌশলগত কর্মপন্থা প্রণয়নসহ সার্বিক প্রবৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

রাজধানীর একটি কনফারেন্স সেন্টারে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রইস উদ্দিন ও হোসেন আখতার চৌধুরী সহ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন ডিভিশনের কর্মকর্তাগণ। এছাড়া ভার্চুয়ালি দেশে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিটি শাখা-উপশাখা, আঞ্চলিক কার্যালয় সহ বিদেশের সাবসিডায়ারি সমূহের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এই টাউন হল মিটিং এ সংযুক্ত ছিলেন।


ন্যাশনাল ব্যাংক   টাউন হল   মিটিং   অনুষ্ঠিত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

যুক্তরাজ্যের বাজারে ২০২৯ পর্যন্ত মিলবে এলডিসি সুবিধা

প্রকাশ: ১১:২৩ এএম, ১৭ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

যুক্তরাজ্যের বাজারে ২০৩০ সাল নাগাদ রপ্তানির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এরমধ্যে শুধু পোশাক রপ্তানি হবে ১১ বিলিয়ন ডলারের। যুক্তরাজ্যের সম্প্রতি ঘোষিত ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিটিসিএস)-এর আওতায় বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা ২০২৯ এর নভেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হবে। এলডিসি সুবিধার আওতায় ডিউটি-ফ্রি সুবিধাও মিলবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের এফসিডিও (ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস) ‘এক্সপান্ডিং অ্যান্ড ডাইভার্সিফায়িং এক্সপোর্ট টু দ্য ইউকে মার্কেট’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফসিডিও’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ডানকান ওভারফিল্ড, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুল ইসলাম ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিড-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর প্যানেল আলোচনায় চামড়া এবং জুতা শিল্প, কৃষিজাত এবং কৃষিজাত প্রসেসড খাদ্য, মাছ এবং চিংড়ি ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিসিটিএস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে এলডিসি উত্তরণ হওয়ার পরও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করবে। এই সুবিধা একই সঙ্গে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য পোশাক খাত ছাড়াও অন্যান্য খাতগুলোর প্রচারের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ডিসিটিএস সুবিধা নিতে এবং তাদের রপ্তানি পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করার জন্য র্যাপিড গবেষণা এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কনসালটেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে বেশ কিছু পলিসি রিকমেন্ডেশন চিহ্নিত করতে পেরেছে র্যাপিড। এরমধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে অপরিহার্য বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পোশাক খাতের বাইরের রপ্তানিকারকদের মাঝে মূল স্টেকহোল্ডারদের দ্বারা যুক্তরাজ্যের বাজারের তথ্যের প্রচার ও প্রসার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও এএইচএম আহসান তার বক্তৃতায় বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থাকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উচ্চ আমদানিশুল্ক ভোক্তা এবং উৎপাদক উভয়কেই নিরুৎসাহিত করে। তাই সরকার ট্যারিফ র্যানশনালিজেশনে কাজ করছে।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমাদের রপ্তানিকারকরা ইইউ জিএসপি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ডিসিটিএস সম্পর্কে খুব কম জানেন। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে তারা এটি থেকে সুবিধা নিতে পারে। ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশের শুল্কের হার কমাতে হবে। তাই আমাদের রপ্তানিকারকদের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন