ইনসাইড পলিটিক্স

কী চায় জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি?


Thumbnail

অন্তর্বর্তীকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠন করে সেই সরকারকে বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে নাগরিক অধিকার বিষয়ক একটি সংগঠন ন্যাশনাল কমিটি ফর সিভিল রাইটস জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নৈশভোজ করায়। এই নৈশভোজে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠনটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার এবং সদস্য সচিব সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এই নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানায়, এতে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান (মান্না), গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের নৈশভোজে সংগঠনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ ইনসাফ কায়েম কমিটির পক্ষে বেশ কিছু প্রস্তাব বা ইশতেহার তুলে ধরেন। সেখানে সংগঠনটির পক্ষে নতুন অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকার গঠন করে সেই সরকারকে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনটির আহবায়ন এবং সদস্য সচিব দাবি করেছেন, ২০১৩ সাল থেকে তারা এই প্রক্রিয়াটির জন্য কাজ করছেন এবং সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেই সময়েই। পরবর্তীতে তারা এই সংগঠনটিকে নতুন করে আবার পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। 

এদিকে এই সংগঠনটির নৈশভোজ আয়োজনের পরপরই দেশের রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে শুরু হয়েছে নানমুখী আলোচনা। গজিয়েছে প্রশ্ন এবং সন্দেহের ডালপালাও। কেউ বলছেন, রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এই আয়োজনের খরচ কোত্থেকে এসেছে এবং যারা এই আয়োজন করেছেন তারা কারা? তারা কী চায়? আবার কেউ কেউ সন্দেহ করছেন কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার এবং সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে নতুন করে রাজনীতিতে আসার ছক তৈরি করছে। দেশে বিদেশে জামায়াতের টাকার অভাব নেই। তাই এ ধরনের একটি অুনষ্ঠানের খরচ বহন করা জামায়াতের জন্য কোনো বিষয় নয়।

নৈশভোজে সংগঠনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়, ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ তৈরি করে আজ অবধি যে গৃহদাহ জারি করা হয়েছে, তার ফলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশের পরিগঠনকে সব সময়ই ব্যহত করা হয়েছে। শুধু ইসলাম নয়, সকল ধর্মেরই ধর্মপ্রাণ মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে যেমন অস্বীকার করা হয়েছে, তেমনই একইভাবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশকেও ধর্মের বিপরীতে স্থাপন করে তাদের বিকাশ, পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যকে নষ্ট করে ধর্মকে স্রেফ পরিচয় সর্বস্ব সাম্প্রদায়িকতায় পর্যবসিত করা হয়েছে। এর ফলে মানুষের ইহলৌকিক বিকাশে ধর্মের ভূমিকা রুদ্ধ হয়েছে, তেমনি নৈতিক ও আত্মিক বিকাশের ক্ষেত্রগুলোকেও ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।  

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে চান। অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে নতুন গঠনতন্ত্র বা শাষনতন্ত্র প্রণয়নের সভা আহবান করা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুনভাবে একটি শাষনতন্ত্র উপহার দেওয়া। স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন এবং নির্বাচনের সময় সকল নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসা। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পরপরই অন্তর্বর্তী নতুন সরকার এবং নতুন গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নতুন জাতীয় নির্বাচন হবে। নতুনভাবে বাংলাদেশ গঠনের এটাই সঠিক পথ বলে তারা মনে করেন।  

প্রস্তাবনায় বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা না গেলে গত কয়েক দশকে গড়ে ওঠা সুবিধাবাদী, সন্ত্রাসী ও লুটেরা শক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত না করে তথাকথিত জাতীয় বা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রেখে ক্ষমতা লাভের খায়েশমাত্র। তাই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে উৎখাত করে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল ছোট-বড় সব দলকে নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হচ্ছে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন সভা আহ্বান করা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠন করা। নতুন গঠনতন্ত্রে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনের সময় সব নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের পরপরই অন্তর্বর্তী জাতীয় সরকার পদত্যাগ করবে এবং নতুন গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নতুন জাতীয় নির্বাচন হবে। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে নতুনভাবে বাংলাদেশ গঠনের এটাই সঠিক পথ।

যদিও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি বলেছে, ওই নির্বাচনে জয়ী হলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে তারা। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত জাতীয় সরকারের ২৭ দফা রূপরেখা দিয়ে কয়েকটি দল ও জোটকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। এর মধ্যেই ইনসাফ কায়েম কমিটি বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের অভিমত প্রকাশ করল।

এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নৈশভোজে যারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং যারা আয়োজন করেছেন, তাদের অনেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। এই আয়োজন এবং সংগঠনটিও সরকার বিরোধী আন্দোলনের একটি অংশ। সেখানে তারা যে ধরনের প্রস্তবনা তুলে ধরেছেন, সে ধরনের দাবি নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে। এই সংগঠনটির সাথে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। যদি সম্পৃক্ততা নাও থাকে- তথাপিও বিএনপির দশ দফা, সরকার গঠনের রূপরেখার ২৭ দফার সঙ্গে তাদের প্রস্তাবনার যথেষ্ট মিল রয়েছে। এছাড়াও তাদের প্রস্তবনায় ইসলামী ইস্যু এবং ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে- একটি সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরি করতেই চেষ্টা করছেন তারা। এখন দেখার বিষয় জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটির নামে জামায়াত নতুন কোনো পরিকল্পনা করছে কি না?

জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি   বিএনপি   জামায়াত   সরকার   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নির্বাচন বর্জন: লাভের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি বিএনপির

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। বিএনপির এ সিদ্ধান্তে হতবাক স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। 

বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে দেখা গেছে যে, শেষ পর্যন্ত তাদের ধারণা ছিল উপজেলা নির্বাচনের বিষয়টি তারা উপেক্ষা করবে। এমনকি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা অনেক প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গতকাল বিএনপি উজজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

উপজেলা নির্বাচন এবার দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করছে না। এরকম একটি নির্বাচন বিএনপি কেন বর্জন করলো এবং এ বর্জনের ফলে কি লাভ হবে তা নিয়ে বিএনপির মধ্যেই আলোচনা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই প্রথম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় পদ পদবী রয়েছে এমন ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। দলীয় পদ পদবী নেই কিন্তু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এরকম আরও ৭৬ জন উপজেলা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। এখন তারা কি করবেন এ নিয়ে তারা নিজেরাই একটি বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন। 

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, যারা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এবং তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি নমনীয় থাকবে। কিন্তু গতকাল বিএনপির এ সিদ্ধান্ত তাদেরকে হতাশ করেছে। এর ফলে বিএনপির মধ্যে দু’ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছে। 

অনেকেই যারা স্থানীয় পর্যায়ে পদ পদবী গ্রহণ করে আছেন তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। কারণ যদি নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ২ শতাধিক বিএনপির নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এখন আবার নতুন করে বিএনপি যদি তাদেরকে বহিষ্কার শুরু করে তাহলে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। একারণে অনেকে প্রত্যাহার করতে পারেন। কমিটিতে যাদের পদ পদবী নেই তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে অনেকে মনে করছেন।  

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র সরকার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেই প্রার্থী হয়েছেন। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ফোন ধরছেন না বলে তিনি জানিয়েছেন। 

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, মূলত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং এ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচিত হয়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, উপজেলা নির্বাচন করা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আলোচনাটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। এবং এ আলোচনা না হওয়ার কারণে এখন দলটি নতুন করে সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন বর্জন   বিএনপি   উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মন্ত্রী-এমপিরাই আওয়ামী লীগের নির্দেশ মানছে না

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, মন্ত্রী এবং এমপিরা উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারবে না। তাদেরকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই রকম বার্তা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লিখিত নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করাতে মাঠে নেমেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকাতেই এমপিরা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন। 

আওয়ামী লীগের যারা যারা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তাদের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের পছন্দের প্রার্থীদেরকে উপজেলায় দাঁড় করানো হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অন্তত এক ডজন বার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী এবং এমপিরা যেন উপজেলা নির্বাচনে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশ মানা হয়নি তার জেলাতেই। তিনি নির্দেশ দেয়ার পরও তার জেলায় এমপিরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন। অনেক স্থানে এমপিদের আত্মীয়-স্বজন প্রার্থী হয়েছেন। 

নোয়াখালীতে দুই এমপির ছেলে প্রার্থী হয়েছেন। হাতিয়ায় চেয়ারম্যান পদে নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে আশিক আলী এবং সুবর্ণচরে চেয়ারম্যান পদে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইসরাক শাবাব চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এমপি মামুনুর রশিদ কিরনের ছেলেকেও প্রাথী ঘোষণা করেছেন এমপি নিজে। 

শুধু তাই নয়, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগর টগরের ছোট ভাই আলী মুনছুর বাবু চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন এবং সেখানে এমপি সরাসরিভাবে প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছেন। অনেক স্থানে মন্ত্রী এবং এমপিরা তাদের প্রার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নামছেন। 

মাদারীপুরের সদর উপজেলায় শাজাহান খানের বড় ছেলে আসিবুর রহমান খান প্রার্থী হয়েছেন এবং শাজাহন খান তার পক্ষে কাজ করছেন বলেও জানা গেছে। নরসিংদী-২ আসনের ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপের শ্যালক ঘোড়াশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি শরিফুল হককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে কাউকেই দিচ্ছে না। 

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব ও তার পরিবারের চাপে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেননি বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া। এভাবে নির্বাচনের ব্যাপারে এমপিদের প্রভাব এবং প্রতিপত্তি বেড়েই চলেছে। 

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে নাটোরে। সেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-৩ আসনের এমপি জুনায়েদ আহমেদ পলকের শ্যালক প্রার্থী হয়েছেন। এবং তাকে জিতিয়ে রাখার জন্য একজন প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগও উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। তবে আওয়ামী লীগের লোকজন বলছেন যে, এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। 

বিভিন্ন উপজেলায় প্রার্থীতার হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের এমপিদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই, ভাতিজা, শ্যালক, মামা-ভাগ্নেসহ নানা রকম আত্মীয় স্বজন উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেই নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে।  


আওয়ামী লীগ   উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যেসব কারণে পিছু হটল জামায়াত

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে পিছু হটল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির যেসব নেতা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ছিলেন, এরই মধ্যে তাদের প্রার্থী না হতে বারণ করা হয়েছে। জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনার পর উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার এ সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতারা তৃণমূলে জানিয়ে দিয়েছেন। সেইসঙ্গে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জামায়াত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত না থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয়ভাবে নানারকম প্রচার ও গণসংযোগও করছিলেন। বিশেষ করে রোজার মধ্যে এবং ঈদুল ফিতরে তারা ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন।

দলটির নেতারা বলছেন, মূলত বেশকিছু কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাচ্ছে না জামায়াত। তার মধ্যে মোটাদাগে চারটি কারণের কথা বলছেন নেতারা।

কারণগুলো হচ্ছে…

১। মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে ক্ষমতাসীনদের ‘হস্তক্ষেপ’

২। বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা ও পরিবেশের প্রতি জনগণের ‘আস্থার সংকট’

৩। গণতন্ত্র না থাকা এবং

৪। উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘অবৈধ সরকার’কে বৈধতা না দেওয়া

এদিকে, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখের (সোমবার) আগেই সিদ্ধান্ত বদল করায় জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গাসহ বেশকিছু উপজেলায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন তারা ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করছিলেন। এতে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক বার্তা যায়। নির্বাচনে গেলে কী লাভ আর কী ক্ষতি—এটা ভেবে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাকেও সম্মান জানাতে চান তারা।

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। এরই মধ্যে সারা দেশে দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ মনোনয়ন জমা দিলে তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি-জামায়াতসহ প্রায় ৬৩টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে। বিএনপিও এ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ইসলামী দলগুলোর অন্যতম চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবমিলিয়ে জামায়াতকেও শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিতে হলো।

এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে শুরুর দিকে কিছুটা নমনীয় ছিল জামায়াত। জয়ের সম্ভাবনা আছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাব আছে—এমন উপজেলাগুলোতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এবং প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চলামান রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতিতে ঈদের আগে দলের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক ডাকে জামায়াতে ইসলামী। সেখানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঈদুল ফিতরের পরপরই গত শনিবার উপজেলা নির্বাচন না করার বিষয়ে জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতাদের মাধ্যমে তৃণমূলে মৌখিকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ব্যাপারে জামায়াতের নেতারা বলছেন, তারা পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার সর্বশেষ প্রমাণ গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন।

দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অসংখ্য রাজনৈতিক দল এ সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন করেছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘অবৈধ সরকার’কে বৈধতা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। তা ছাড়া নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়কে বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।

গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী শুধু নয়, বাংলাদেশের কোনো গণতান্ত্রিক দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। কারণ, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোট দিতে যায়নি। তারা একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছে। সেই জনরোষ এখনো আছে। সুতরাং যেসব কারণে আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছি, সেসব কারণেই উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছি না। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের জন্য রাজনীতি করে। জনগণের প্রতি জামায়াতের দায়বদ্ধতা আছে। দায়িত্বশীল দল হিসেবে জামায়াত জনমতকে উপেক্ষা করে নির্বাচনে যেতে পারে না’।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপর অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামায়াতের শতাধিক প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলাসহ) হন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ২৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যানসহ ৩৯ জন ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলাসহ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করে জামায়াত। দলের নিবন্ধন না থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ছিল জামায়াত নেতাদের। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে সেবার কেউ নির্বাচনে অংশ নেননি।


উপজেলা নির্বাচন   জামায়াত   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিসহ স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসী শক্তিকে প্রতিহত করব: কাদের

প্রকাশ: ০৮:৪৮ এএম, ১৭ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে বিজয়কে সুসংহত করার পথে প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে সন্ত্রাসী এ অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, বিজয়কে সুসংহত করার পথে প্রতিবন্ধকতা হলো বিএনপির মতো সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী অশুভ শক্তি। এ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। আজকের এ দিনে বিএনপিসহ স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসী শক্তি সব অপশক্তিকে, যারা আমাদের বিজয়কে সংহত করার প্রতিবন্ধক, এদের আমরা পরাজিত করব, পরাভূত করব, প্রতিহত করব। আমাদের লড়াইকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি তো কোনো দাবিকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বলতে পারি না। মন্ত্রিসভা আছে, প্রধানমন্ত্রী আছেন। তারা এত বছর পর দাবিটা তুলছেন, কেন তুলছেন এটাও জানার দরকার আছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নেব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ধারাবাহিক লড়াইয়ে আমরা এগিয়ে যাব। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বয়ে নিয়ে যাব, এটাই হোক আমাদের শপথ।

এর আগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


বিএনপি   মুজিবনগর দিবস   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৮:৪৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার তাদের সব অপকর্মকে আড়াল করতেই জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। অপরাধ না করেও মিথ্যা মামলায় আসামি হওয়া, গ্রেপ্তার হওয়া ও কারাগারে যাওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির আওয়ামী ডামি সরকার নব্য বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় জুলুম, অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘দেশের মানুষ নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন দিশেহারা তখন দখলদার আওয়ামী সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নতুন মিথ্যা মামলায় আটকসহ আদালতকে দিয়ে সাজা প্রদান ও জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণের অমানবিক খেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীনদের নির্মম আচরণ, দৌরাত্ম্য এবং দাপটে মানুষ এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনের শাসনহীন এই দেশে নিরপরাধ মানুষরাই সরকারের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের পর কতৃর্ত্ববাদী আওয়ামী সরকার তাদের দুঃশাসন চালাতে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। তবে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সংগ্রামী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আবুল খায়ের লিটন, হাজারীবাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মজু, ২২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসভাপতি ইসলাম উদ্দিন, হাজারীবাগ থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ হোসেন মন্টি, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন, হাজারীবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মাসুম, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন, মহিলা দল নেত্রী ফাহমিদা এবং বংশাল থানার অপর একটি মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৬ জন নেতাকর্মী যথাক্রমে মো. সোহেল, মো. সিদ্দিক, সাহেদ, আনিস, সাবের ও মাসুদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, সাজা বাতিল এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন