ইনসাইড পলিটিক্স

এতো টাকা বিএনপি পাচ্ছে কোত্থেকে?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ মে, ২০২৩


Thumbnail এতো টাকা বিএনপি পাচ্ছে কোত্থেকে?

গত বছর অক্টোবর থেকে বিএনপি যখন সারাদেশে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করেছিল, তখন বিএনপির মধ্যে টাকার উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি নেতারা সারাদেশে সমাবেশের নামে খিচুড়ি উৎসব করেছে। রাতভর বিএনপির কর্মীদেরকে বিনা পয়সায় খিচুড়ি, বিরানী, তেহারী খাওয়ানো হয়েছে। নেতারা দামী হোটেলে থেকেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মীদেরকে আনার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল। 

বিএনপির এই বিপুল টাকার উৎস নিয়ে সে সময়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছিলেন, লন্ডন থেকে ডলার আসছে এবং সেটি দিয়ে বিএনপি ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত। কিন্তু সে সময়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামীপন্থী অনেক ব্যবসায়ী, শিল্পপতি- যারা বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে লাভবান হয়েছেন, তারাই বিএনপিকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন, যেন ভবিষ্যতে বিএনপি তাদেরকে সহায়তা করে। এরপর সরকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে, যারা নব্য আওয়ামী লীগার হয়ে দুই পক্ষেই যোগাযোগ রাখছে- তাদেরকে সতর্ক করে। এরপর ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা ছাড়ার লাগাম টেনে ধরেন এবং লন্ডনে টাকা দেওয়া বন্ধ করেন। 

আওয়ামীপন্থী একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী- যিনি মিডিয়া ব্যবসার সাথেও যুক্ত, তিনি লন্ডনে টাকা দিয়েছেন- এমন অভিযোগও পাওয়া গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধেও বিএনপিকে টাকা দেওয়ার আভিযোগ ওঠেছিল। এই সমস্ত বিষয়গুলো নজরে আসার পর- তারা আস্তে আস্তে টাকা দেওয়া কমিয়ে দেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্ধ করে দেন। কিন্তু আবার বিএনপি বিপুল পরিমাণ টাকা পাচ্ছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। কোন সূত্র থেকে বিএনপি টাকা পাচ্ছে- তা বোঝা না গেলেও বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচির ব্যাপকতা এবং ঘন ঘন কর্মসূচি দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হচ্ছে যে, বিএনপিকে আন্দোলন করার জন্য কেউ কেউ তাদেরকে গোপনে অর্থ দিচ্ছে। 

গত কয়েক দিনে বিএনপি লাগাতার কর্মসূচি করেছে। সারাদেশেই এই সমস্ত কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সাধারণ হিসেবে দেখা গেছে যে, একটি জেলায় এ ধরনের কর্মসূচি করতে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অন্তত লাগে। ঢাকায় এ ধরনের কর্মসূচি করতে লাগে এক কোটি টাকা। তাহলে এতো টাকা বিএনপি পাচ্ছে কোত্থেকে? কারা তাদের টাকা দিচ্ছে? 

বিভিন্ন মহল মনে করছে, কিছু কিছু ব্যবসায়ী যারা আওয়ামী লীগের আমলে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, তারাই এখন বিএনপিকে নানা রকম সহযোগিতা দিতে শরু করেছেন। তারা বিএনপির সাথে যোগাযোগও করছেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরকারের টানাপোড়েনের পর, অনেকেই এখন বিএনপি নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। আর এ কারণেই মাঝখানে টাকার প্রবাহ বন্ধ থাকার কারণে বিএনপির আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। এখন আবার টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে আন্দোলনের গতি বেড়েছে। তবে যে সমস্ত ব্যবসায়ী গোপনে লন্ডনে এবং ঢাকায় বিএনপি নেতাদেরকে অর্থকড়ি দিয়ে সাহায্য দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং প্রকাশ্যে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ঘোষণা দেয় এবং সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সবিধা আদায় করে।

দেশে আরেকটি নাশকতা, অগ্নিসন্ত্রাসের রাজনীতি থামাতে গেলে- এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের এই দ্বৈত তৎপরতা বন্ধ করতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। 


টাকা   বিএনপি   কর্মসূচি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগ ছেড়ে রাজনীতিতে উদ্বাস্তু তারা

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

এক সময় তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। মেধাবী নেতা ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ত্যাগ করার পর তারা রাজনীতিতে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকেন। এখন নিজেরাই রাজনীতিতে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে মূলধারার নেতৃত্বের বাইরে যে কেউ টিকতে পারে না- এই সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এ রকম অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা তাদের নিজেদের ভুলে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নিজেরাই সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ আগামী ২৩ জুন তার ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। আওয়ামী লীগের এই প্লাটিনাম জয়ন্তীর সময় এই সমস্ত উদ্বাস্তু নেতাদের নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ড. কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। জাতির পিতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তরতর করে রাজনীতির সিঁড়িতে তার উত্তরণ ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি ১৯৭১ এ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকা ছিল রহস্যময়। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ১৯৯১ নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে যান। তিনি গণফোরাম নামের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম দেন। কিন্তু এই গণফোরাম পর্বতের মূষিক প্রসবের মতোই রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে গণফোরাম একটি অস্তিত্বহীন, গুরুত্বহীন রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিগণিত হয়। এখন বয়সের ভারে নুয়ে থাকা ড. কামাল হোসেন নিজেকে রাজনীতিতে থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবল সম্ভাবনা এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিভ্রান্তি এবং ভুল রাজনীতির চোরাগলিতে নিজেকে অস্তিত্বহীন হিসেবে পরিণত করেছেন।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: মোস্তফা মোহসীন মন্টু ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকায় সংগঠন পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করার পিছনে মন্টুর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশ লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসী তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মিলে গণফোরাম গঠন করেছিলেন। গণফোরাম থেকে তিনি কিছুদিন আগে বহিষ্কৃত হয়ে নিজেই। একটি রাজনৈতিক দোকান খোলার চেষ্টা করছেন বটে, তবে সেই চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। এই চেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। 

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ: অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা এবং ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর ইমেজ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কাজ করেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে তিনি সংস্কারপন্থি হয়ে ওঠেন। এর আগেও তার বিভ্রান্তি হয়েছিল। তিনি আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মিলে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এক এগারোতে তার বিভ্রান্তির কারণে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন পাবনার আসন থেকে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের আর থাকেননি। ২০১৮ নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। গত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র করে পরাজিত হন। রাজনীতিতে তিনি এখন উদ্বাস্তু। 

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ: আওয়ামী লীগের ৭৫ পরবর্তী ছাত্র নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করা হত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে। তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি যাদেরকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন তাদের মধ্যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ছিল অন্যতম। কিন্তু তিনিও এক এগারোর সময় সংস্কারপন্থি হয়েছেন এবং সংস্কারপন্থি হওয়ার কারণেই তিনি পরবর্তীতে রাজনীতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ২০১৮ নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবার তিনি আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। রাজনীতিতে তিনি এখন পথভ্রষ্ট এবং অস্তিত্বহীন। 

মাহমুদুর রহমান মান্না: মাহমুদুর রহমান মান্নাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতিথি পাখি হিসেবে ছিলেন। একদা বাম রাজনীতি করা মান্নাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রত্যাশা থেকে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্নাও এক এগারোর সময় সংস্কারপন্থি হয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক ঐক্য নামের একটি মুদির দোকানের মত রাজনৈতিক দল খুলে কোন রকম অস্তিত্ব টিকানোর চেষ্টা করছেন বটে। তবে আদর্শ বিবর্তিত সুবিধা ভোগী এই রাজনৈতিক নেতা এখন মূল্যহীন। 

এভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে যারা ছিটকে পড়েছেন তারা নিজেরাই রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছেন।

আওয়ামী লীগ   ড. কামাল হোসেন   সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ   মাহমুদুর রহমান মান্না  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৯:১৬ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয়ের যৌথসভা ডাকা হয়েছে। 

বুধবার (১৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

যৌথসভা   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পরিবর্তন আতঙ্কে বিএনপির আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাজেট নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলেছিল যে, ঈদের পর তাদের ভাষায় গণবিরোধী বাজেটের বিরুদ্ধে তারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। কিন্তু পরিবর্তন আতঙ্কে বিএনপির সব আন্দোলন ভেস্তে গেছে। বিএনপি এখন নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত। দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকছেন কখন কার পদ যায়, কে টিকে থাকে এ নিয়ে। বিএনপির মধ্যে এই আতঙ্ক এখন দুর্বিষহ অবস্থায় নিয়ে গেছে দলটিকে। দলের নেতাকর্মীদের এখন আন্দোলনের জন্য মাঠে নামানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

উল্লেখ, গত ১৩ জুন থেকে বিএনপিতে শুরু হচ্ছে তারেক জিয়ার স্বেচ্ছাচারিতা এবং তছনছ অভিযান। এই তছনছ অভিযানে দলের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব দলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৩৯ জনের পদ পরিবর্তন করা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে একটি টালমাটাল অবস্থা চলছে বিএনপির মধ্যে। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কেউ জানে না। 

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন সিনিয়র নেতাদেরকে এড়িয়ে চলছেন। তাদের সাথে রুটিন কথাবার্তা বলা ছাড়া তেমন কোনো পরামর্শ গ্রহণ করছেন না। সারাক্ষণই তিনি ব্যস্ত থাকছেন তৃণমূলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ, আলোচনা করতে। আর তৃণমূল এতে কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে বটে, তবে নেতারা নতুন কোন কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে না। 

এর আগে বিএনপি সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। এই লক্ষ্যে ৫৪ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা ধারাবাহিক ভাবে আলাপ আলোচনা শুরু করেছিল। সেই আলাপ আলোচনায় সমমনা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে একটি স্টিয়ারিং কমিটি যেন গঠন করা হয়, যারা যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করবে এবং আন্দোলনকে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করবে। কিন্তু সেই যৌথ আন্দোলনের প্রক্রিয়াও থেমে গেছে। 

বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, বাজেটের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। অর্থপাচার, দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে। কিন্তু বিএনপির কোন নেতাই এখন আন্দোলনে আগ্রহী নয়। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূচকগুলো বলছে, এখন বিএনপি ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলের ভেতর যারা বিশ্বাসঘাতক, যারা দলীয় কর্মকাণ্ডে অমনোযোগী, যারা দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বিএনপিতে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিএনপির এই পরিবর্তন ইতিবাচক না নেতিবাচক সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এই পরিবর্তনের দমকা হওয়ায় এখন বিএনপির আরও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। 

বিভিন্ন সময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিল। আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের ঝুঁকি নিয়েছিল তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং যারা চাটুকার, লন্ডনে নিয়মিত যোগাযোগ করেন, দলের কোন কর্মসূচিতে থাকেন না তারাই এখন দলে সবচেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যে পদোন্নতিগুলো ঘটেছে সেই পদোন্নতিতে তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যারা চাটুকার এবং সারাক্ষণ তারেক জিয়ার সমীহ করে চলে। দলের ভেতর যারা খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ তাদের আরও কোণঠাসা করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পরিবর্তনের চাপ বিএনপির এখন চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। এখন থেকে পিষ্ঠ অবস্থায় বিএনপি আন্দোলনে ফিরে আসবে কিভাবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিএনপি   তারেক জিয়া   রাজনীতির খবর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন মহাসচিব নিয়ে তৃণমূলের সাথে তারেকের সংলাপ

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি এবং সীমাহীন আতঙ্ক। তার মধ্যে তারেক জিয়া তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলার জন্য পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরকে গত রাতে বলেছেন, যে কোন সময় যে কেউ বাদ পড়তে পারেন। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না তাদের দলে থাকার দরকার নেই। 

বিএনপিতে এখন তাই কমিটি এবং পদে থাকা না থাকার এক ধরনের আতঙ্ক চলছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তৃণমূলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। এবার তিনি বৈঠক করছেন দলের সম্ভাব্য মহাসচিব কাকে করা যায় তা নিয়ে। 


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব থাকতে চান না। এটা তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া তাকে পরবর্তী মহাসচিব চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছেন। এরকম অবস্থায় তারেক জিয়া এখন নতুন মহাসচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। কিন্তু নতুন মহাসচিব কে হবে—এই নিয়ে তারেক জিয়া তৃণমূলের মতামত গ্রহণ করছেন। তৃণমূল কাকে পছন্দ করে সেই বিষয়টিকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে সবার আগে। 

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলছেন যে, বিএনপিতে এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পাল্টে গেছে। আগে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত এবং সেই সিদ্ধান্ত তৃণমূলকে জানিয়ে দেওয়া হতো। এখন তৃণমূলের মতামতের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে মতামত দেওয়া হয় সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করার চেষ্টা করা। তবে একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, এগুলো স্রেফ আইওয়াশ। তৃণমূলের কাছ থেকে শুধুমাত্র মতামত নেওয়া হয়। এটি এক ধরনের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডবাজি বলেও মনে করছেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। তবে সেটি যাই হোক না কেন, নতুন মহাসচিব হিসেবে বেশ কিছু নাম সামনে এসেছে এবং আগামী কিছু দিনের মধ্যেই নতুন মহাসচিব হিসেবে কাউকে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এখন জাতীয় নির্বাহী কমিটি পরিবর্তন সম্পন্ন হচ্ছে। সামনে স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠন হবে। এরপর মহাসচিব পরিবর্তন হবে। বিএনপিতে আপাতত কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। কারণ বিএনপি যদি কাউন্সিল করে তাহলে অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে অনেক সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। আর এই কারণেই কাউন্সিল এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তবে বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন যে, এখন কাউন্সিল করার মত রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী হয় মামলার শিকার হচ্ছেন অথবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ রকম অবস্থায় কাউন্সিল করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আর এ কারণেই কাউন্সিল ছাড়াই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রদবদল করা হচ্ছে। তবে মহাসচিব কে হবে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে যে আলোচনা গুলো হচ্ছে তাতে নানারকম মতামত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, আসলে মহাসচিব কে হবেন এটি চূড়ান্ত করবেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াই। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হবে।

বিএনপি   তারেক জিয়া   মহাসচিব   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শ্যাম ও কুল দুটিই রক্ষা করে চলতে হচ্ছে: কাদের

প্রকাশ: ০১:১৮ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পুরো বিশ্বই এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সব দেশের রাজনীতি এখন কঠিন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অবস্থায় বিদেশি ফান্ডিং কমে এসেছে। আমাদের এখন শ্যাম কুল দুটিই রক্ষা করে চলতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ে ঈদুল আজহার পর প্রথম কর্ম দিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হচ্ছে মোটরসাইকেলের, এরপর অটোরিকশা। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের রাজনীতি করতে গিয়ে অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছেন। ইদানিং বেপরোয়া ড্রাইভিং, মোটরবাইক ইজিবাইকের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায় আছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে একটি মোটরসাইকেলে দুজন এবং হেলমেট পরার বাধ্যবাধকতা থাকায় দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। এটা শুধু শহর নয়, মফস্বল গ্রামেও মানছে।নোহেলমেট, নোফুয়েলকার্যকর করায় এটা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বন্যা ঘূর্ণিঝড়ে দেশের অনেক জেলায় রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। এসব রাস্তামেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বন্যা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কগুলো শিগগিরই সংস্কার মেরামত করা হবে।


ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন