ইনসাইড পলিটিক্স

শেষ হয়ে যাচ্ছে আজমত উল্লার রাজনৈতিক অধ্যায়?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail

আওয়ামী লীগের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের অন্যতম। একজন শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তি, আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি দলের এই দুঃসময়ের সাথী। বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল গাজীপুরে। কিন্তু সেই আজমত উল্লা হোঁচট খেলেন। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে এই হোঁচট তাকে কি রাজনীতি থেকে ছিটকে দিল?—গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর এই প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে। 

আজমত উল্লা হলেন আওয়ামী লীগের সেই সমস্ত পরীক্ষিত নেতাদের একজন যারা তিল তিল করে বেড়ে উঠেছেন, সংগঠনের জন্য জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। উচ্চশিক্ষিত আওয়ামী লীগের এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক গ্রহণ করেছেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি যতটা না জনপ্রিয় তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। একসময় গাজীপুরের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে ছিলেন। গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি গাজীপুর আওয়ামী লীগের অপরিহার্য এবং অবিসংবাদিত নেতায়  হিসেবে বিবেচিত হতেন। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকেই তার রাজনীতিতে বিপর্যয়ের অধ্যায় শুরু হয়। 

একটা সময় মনে করা হতো গাজীপুর হলো দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সংগঠন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রচন্ড দুঃসময়ও গাজীপুরের সংগঠন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে গাজীপুরের ভূমিকা বিরোচিত। আর সেই ভূমিকার পিছনে যাদের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয় তাদের মধ্যে অবশ্যই আজমত উল্লা অন্যতম। প্রয়াত নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং আজমত উল্লা জুটি গাজীপুর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছে, বিস্তৃত করেছে এমন কথা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই বলেন। কিন্তু সেই আজমত উল্লার রাজনীতির করুণ অধ্যায় এখন সমাপ্তির পথে। 

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আজমত উল্লা। কিন্তু নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতা এম এ মান্নান এর কাছে পরাজিত হন। এটি তাকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করেনি, বিপর্যস্ত করেনি। এই সময় আস্তে আস্তে গাজীপুরের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে জাহাঙ্গীর আলমের। জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাহচর্যে এবং আশীর্বাদে গাজীপুরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে শুরু করেন। গাজীপুরের অন্যান্য নেতাদেরকে ডিঙিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হতে থাকেন। আর এর ফলে তৈরি হয় গাজীপুর আওয়ামী লীগের বিভক্তি। এই বিভক্তির আওয়ামী লীগের জন্য কাল হয়েছে। 

২০১৮ সালের নির্বাচনে আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। জনপ্রিয়তা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে সেই সময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলম ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন। আর আজমত উল্লাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আজমত উল্লার সম্পর্ক কখনোই মধুর ছিল না। বরং দুইজনের বৈধতা নির্বাচনের পর প্রকাশ্য হতে শুরু করে। 

জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমনকি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি সমালোচিত হন। এর ফলে তিনি দল থেকে বহিস্কৃত হন। জাহাঙ্গীরপণ্থিরা মনে করেন যে জাহাঙ্গীর আলমকে ফাঁদে ফেলানোর পিছনে আজমত উল্লার একটা ভূমিকা ছিল। যদিও আজমত নিজে এ ধরনের কুৎসিত রাজনীতি করেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও জাহাঙ্গীর এই বক্তব্য বিভিন্ন ভাবে প্রচার করেন। পরবর্তীতে গাজীপুরে আজমত উল্লা এবং জাহাঙ্গীর আলম বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়নি, আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু  আজমত উল্লার মনোনয়ন পাওয়াকে ব্যক্তিগত যুদ্ধ হিসেবে দেখেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দলের বাধা-বিপত্তি অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রার্থী হন এবং তার মাকে প্রার্থী করেন। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলম তার মা'র প্রার্থীতা বহাল রাখেন এবং নির্বাচনে লড়াই করেন। এই নির্বাচন ছিল আসলে আজমত উল্লা বনাম জাহাঙ্গীর আলমের লড়াই। জাহাঙ্গীর আলম পুরো ব্যাপারটিকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আজমত উল্লার বিরুদ্ধেই তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় সময় ব্যয় করেছেন। এখন নির্বাচনে মূলত জাহাঙ্গীর আলমের বিজয় হলো। আর এর ফলে আজমত উল্লা গাজীপুরের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। একদিকে যেমন জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশেই সিটি করপোরেশন পরিচালিত হবে অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একটা বিরাট কর্মীবাহিনী জাহাঙ্গীরের দিকে ঝুঁকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবন সায়াহ্নে এসে আজমত এখন নতুন করে রাজনীতিতে তার কর্মীদের সংগঠিত করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তাছাড়া আদর্শবান এই নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বিপুল বিত্তের কাছে লড়াই করে কতটুকু টিকবেন সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর সে কারণেই অনেকে মনে করছেন একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদের করুণ অধ্যায়ের সমাপ্তি শুরু হলো গাজীপুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

আজমত উল্লা   গাজীপুর   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রশাসনে আরও কত ‘বেনজীর’ আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে: রব

প্রকাশ: ০৮:২২ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রশাসনের অভ্যন্তরে আরও কত ‘বেনজীর’ আছে তা দ্রুত খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। 

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের যে ফিরিস্তি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ। স্বাধীন দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্তরে-স্তরে চিহ্নিত দুর্বৃত্তচক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সরকার অসংখ্য বেনজীর সৃষ্টি করেছে। ফলে রাষ্ট্র দুর্বৃত্তের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়ে পড়েছে।

চাকরিরত অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর কয়েক হাজার বিঘা জমির মালিক হওয়া- আওয়ামী  দুঃশাসনের এক ভয়াবহ চিত্র! নির্বাচনবিহীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের অপশাসনের ফলশ্রুতিতে আরও অসংখ্য ভয়াবহ চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হতে থাকবে।  
অবৈধ সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সহযোগী এমন অসংখ্য বেনজীর প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে আছে। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। নয় তো বা রাষ্ট্র অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়বে, যা হবে মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। 

রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত অপরাধীদের রেহাই দেওয়ার জন্য সরকার যদি নতুন কোনো কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়, তবে তা হবে রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী। জনগণ কোনোক্রমেই রাষ্ট্র ধ্বংসের সরকারি পাঁয়তারাকে মেনে নেবে না।

জেএসডি   আ স ম আবদুর রব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জামায়াতের খালেদা প্রীতি

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়া এখন অসুস্থ। তিনি ফিরোজায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারের অনুকম্পায় ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। অথচ এই জামিনের জন্য বিএনপি আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। আন্দোলন করে কোন লাভ হয়নি। জামিন পাওয়ার জন্য তারা আইনের আশ্রয় নিয়ে মাঝ পথে থেমে গেছে। এখন সরকারই তাকে তার বাসভবনে থেকে চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছে। রাজনীতিতে তিনি নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বেগম খালেদা জিয়ার একধরনের অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, এখন বিএনপির পুরো কর্তৃত্ব তারেক জিয়ার হাতে। তারেক জিয়া যা বলছে, সেটি বিএনপির চূড়ান্ত এবং শেষ কথা বলেই বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যেই গতকাল জামায়াতের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আম এবং লিচু পাঠানো হয়েছে। 

জানা গেছে, গতকাল বিকালে জামায়াতের নেতারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার জন্য আম এবং লিচু পাঠান। রাজশাহী এবং সাতক্ষীরা থেকে কয়েক ঝুড়ি আম এবং বেশ কিছু লিচু বেগম জিয়ার জন্য তার কার্যালয়ে দিয়ে আসা হয়। এই আম এবং লিচু অবশ্য অর্ধেক সেখানে রেখে বাকিটা ফিরোজায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এখন ডায়বেটিকস্, উচ্চ রক্তচাপ, সহ নানারকম জটিলতায় ভুগছেন। তার কিডনির অবস্থাও ভালো না। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এধরনের রসালো ফল খাওয়ার অনুমতি দেন না চিকিৎসকরা। 

চিকিৎসকরা অনুমতি না দিলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এই উপঢৌকন বেগম জিয়াকে পাঠানো হয়েছে। বেগম জিয়া তা গ্রহণও করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি জামায়াতের এই প্রেম বা ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি জামায়াতের আলাদা একটি ভালোবাসা এবং মমতা রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত নানা কারণেই বেগম জিয়া এবং বিএনপির কাছে ঋণী। 

স্বাধীনতার পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল এবং ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল গড়ার কোন সুযোগ ছিল না। এই সাংবিধানিক বিধির কারণে জামায়াতের রাজনীতি আপনা আপনি নিষিদ্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পুনরায় শুরু করেন চান এবং জামায়াতকে রাজনীতির মাঠে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসে। এরপর জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী এবং জামায়াতের ঘৃণিত নেতা, পাকিস্তানের নাগরিক গোলাম আযমকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন এবং বাংলাদেশে থাকার অনুমতি দেন। আজকের জামায়াত যে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তার পেছনে জিয়াউর রহমানের অবদান আছে বলেই অনেকে মনে করেন।  

১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। সরকার গঠনের মতো তার অবস্থা ছিল না। সেই সময় জামায়াতই তার পাশে দাঁড়ায় এবং জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বেগম জিয়া সরকার গঠন করেন। ১৯৯৬ সালে পরাজয়ের পর জামায়াত-বিএনপির প্রকাশ্য প্রেম হয়। এবং বেগম খালেদা জিয়াই আগ্রহী হয়ে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করেন। এবং এ সম্পর্কের জেরে চার দলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০১ এর নির্বাচনে এ চার দলীয় জোট বিজয়ী হয়। আর চার দলীয় জোটের বিজয়ের পর স্বাধীনতা বিরোধী কুখ্যাত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদকে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দেন বেগম খালেদা জিয়া। মন্ত্রিত্ব থাকার কারনে তাদের গাড়িতে শোভা পায় শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। আর একারনেই জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কটা অত্যন্ত গভীর। 

গত কিছুদিন ধরে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি দূরত্ব ছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বলা হয়েছিল যাতে জামায়াতের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না করা হয়। আর এ কারণেই জামায়াতকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০ দলীয় জোটকেও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার জামায়াত বিএনপির প্রকাশ্য প্রেম দেখা যাচ্ছে আর তারই অংশ হিসেবে এই আম উপঢৌকন খালেদা জিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

জামায়াত   খালেদা জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজিজ-বেনজীর কার সৃষ্টি, প্রশ্ন ফখরুলের

প্রকাশ: ০৫:৩২ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজিজ-বেনজীর কার সৃষ্টি? তাদের (সরকার) সৃষ্টি। আজিজের অবস্থান কোথায় ছিল? কোথা থেকে তাকে কোথায় টেনে তোলা হয়েছে। এখন বেনজীর আহমেদের হাজার হাজার অপকর্ম বের হচ্ছে, সবই লুটের ফিরিস্তি। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘ডামি নির্বাচনে রাতের ভোটে বিজয়ীরা লুটপাট-অপকর্মে জড়িয়েছে। এখন আলোচনায় আসছে আজিজ-বেনজীরের অপকর্ম-লুটপাটের বিষয়। এই আজিজ-বেনজীর কার সৃষ্টি? এটা তো তাদেরই (আওয়ামী লীগ) সৃষ্টি।’

তিনি বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর চামড়া মোটা হয়ে গেছে। তাদের যত কথাই বলুন কিছু যায়-আসে না, কর্ণপাত করে না। তাদের লক্ষ্য একটাই, সেটি হলো লুটপাট করা। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং সেই ক্ষমতাকে ভোগ করা ও লুট করার জন্য এটা করছে তারা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের তথাকথিত ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ীরা গ্রামেও লুটপাট করছে। মধ্যরাতের নির্বাচনের নেতারা এখন দেশের বাইরে লুটপাটের টাকা পাচার করছে। এক ভূমিমন্ত্রী দেশের বাইরে ৩৬৫টি ঘরবাড়ি করেছেন। আমাদের বয়স হয়েছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মারামারি করতে পারবো না, এখন যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বাধীনতার সময় দলমত ছেড়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আজ আবার সেই সময় এসে গেছে। আজ দেশ মুক্ত করতে হবে, দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে, পাচারকারীদের রুখে দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিয়ে সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। অথচ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব আপনাদের ছিল। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের আস্থার ওপরে সেটাকে বাস্তবায়ন করেন। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেন। আজ ভোটের অধিকার নেই, ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে রাতের আধারে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।’

প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আজিজ আহমেদ   আইজিপি   বেনজীর আহমেদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক জিয়াকে কি দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে কোটালীপাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেছেন, এখন একটাই কাজ তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা। এই কথাটি তিনি খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কিছু বলেন তখন নিশ্চয়ই তার কার্যকারণ থাকে এবং ভেবে চিন্তে তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি দূরদর্শীসম্পন্ন একজন দার্শনিক চিন্তাবিদও বটে। আজকে সবাই যা ভাবে তিনি তা ভাবেন অনেক আগেই। আগামীকালের ভাবনা তিনি আজকে করেন। আর এ কারণেই তিনি একজন দক্ষ এবং বিশ্বমানের রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কোন প্রেক্ষাপটে কেন হঠাৎ করে তারেক জিয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় এই বক্তব্যটি দিয়েছেন, যখন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য তারিখ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী ৪ জুলাই নতুন পার্লামেন্ট দিয়েছেন। এই সময় যুক্তরাজ্যের টানা ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি একটি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি অনিবার্য বলেই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কদিন আগে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি তৃতীয় স্থান দখল করেছে। লেবার পার্টির ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় আগামী দিনে তাদের ক্ষমতায় আসার বার্তা দিয়েছে বলেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন।

আর এরকম একটা পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে আগাম নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। ঋষি সুনাক সেই দাবি শুনেছেন কিনা তা জানা যায়নি, তবে তিনি আগামী নির্বাচন নিয়ে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন যে, শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হলে কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থা আরও খারাপ হবে, এরকম বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি আগাম নির্বাচন দিয়েছেন। কিন্তু তার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই ৭৮ জন কনজারভেটিভ এমপি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ঋষি সুনাকের নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। আর এই বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টি যে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসতে চাইছে সেটি অনেকের কাছে স্পষ্ট।

এরকম পরিস্থিতিতে লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে আওয়ামী লীগ বহুমুখী সুবিধা পাবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী ব্রিটিশ এমপি এবার নির্বাচনেও তার জয়ের প্রায় অনিবার্য বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তিনি যদি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন এবং লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি যে মন্ত্রী হবেন তা অনিবার্য। কারণ এরই মধ্যেই লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় তিনি অন্তর্ভুক্ত আছেন।

আর লেবার পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ৭৫’র নারকীয় ঘটনার পর লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরাই জাতির পিতার হত্যার বিচার চেয়ে ছিলেন এবং সেটি নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল ব্রিটিশ এমপিদের উদ্যোগে। আর এসব বাস্তবতা থেকেই লেবার পার্টি ব্রিটেনে সরকার গঠন করলে তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সহজ হবে বলেই অনেকে মনে করছেন। এরকম একটি বাস্তবতা থেকেই প্রধানমন্ত্রী হয়ত তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না: কাদের

প্রকাশ: ০১:৫৬ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের কাজই হচ্ছে ফটোসেশন করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোজার মাসেও আমরা সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছি আর তারা ইফতার পার্টি করেছে। বিএনপির সাথে আমাদের নীতিগতভাবেই অনেক পার্থক্য আছে। 

বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালনে বার বার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তারা (বিএনপি) সাহায্যের নামে ফটোসেশন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৭ মে) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের যে বাস্তবতা জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এসব দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায়... বিএনপির কথা যদি আমি বলি, একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালনে তারা বার বার ব্যর্থ হয়েছে। তারা সাহায্যের নামে ফটোশেসন করে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা যে স্রোতের মতো এসেছে বাংলাদেশে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক সাহায্য করেছেন। তিনি আমাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন উদারভাবে, যেটা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস রোহিঙ্গাদের সাহায্যে পাশে ছিলাম। তখন দেখা গেছে এক বা বড়জোর দু'দিন ফটোসেশনের জন্য গিয়েছে তারা।

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের বিভাগীয় টিমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাহায্য করবে। আবহাওয়া উন্নত হলে তারা সেসব এলাকায় যাবেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য সহায়তা করবেন।


বিএনপি   দুর্যোগ   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন