ইনসাইড পলিটিক্স

জাপা না তৃণমূল কে হবে প্রধান বিরোধী দল

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কে আসবে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করার পরও বিরোধী দল হয়েছিল জাতীয় পার্টি। বিএনপি মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছিল। যদিও বিএনপি সেই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে। কিন্তু কারচুপির অভিযোগ করলেও বিএনপির ছয়জন সদস্য প্রায় পুরো পাঁচ বছরই সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহিলা কোটাতেও একজন সংসদ সদস্য সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবার বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে আবার কি জাতীয় পার্টি নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে নাকি এবার নির্বাচনের আগে নতুন চমক তৃণমূল বিএনপির বিরোধী দল হবে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে জাতীয় পার্টিকে পিছিয়েছে ফেলে তৃণমূল বিএনপির এবার বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি আঁচ করতে পেরেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত গড়িমসি করছেন। যদিও আজ থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হচ্ছে এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি মানেই নির্বাচনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত৷ নয়। 

জাতীয় পার্টির বিভিন্ন মহল সরকারের কাছ থেকে নির্বাচনে কত আসন পাবে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট আশ্বাস চাইছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনের ওপর কোন রকম প্রভাব বিস্তার সরকার করবে না। নির্বাচনে কে কত আসন পাবে এই সমস্ত বিষয়গুলো ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। যার ফলে জাতীয় পার্টি নিরপেক্ষ নির্বাচনে কতগুলো আসন পাবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারও কোন আশ্বাস দিতে পারে না। 

অন্যদিকে তৃণমূল বিএনপি গঠিত হয়েছে বিএনপির কিছু জনপ্রিয় নেতাদেরকে নিয়ে। তৈমুর আলম খন্দকার, শমসের মবিন চৌধুরী সহ বিভিন্ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এলাকায় তাদের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া বিএনপিতে যারা নির্বাচন করতে চান কিন্তু বিএনপি নির্বাচন না করায় তারা তাদের এলাকায় অবস্থান ক্ষুন্ন করেছিলেন এবং এলাকা নিয়ে শঙ্কিত হয়েছিলেন তাদের নতুন ঠিকানা হয়েছে তৃণমূল বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিবে এবং এ ধরনের নির্বাচনে যদি প্রাক্তন বিএনপির নেতারা প্রার্থী হন তাহলে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোটের একটি বড় অংশ তৃণমূল বিএনপি পাবে। আবার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তৃণমূল বিএনপি জয়ী হবেন।

তৈমুর আলম খন্দকারের আসনের কথাই যদি ধরা যায় সেখানে শামীম ওসমান হবেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। আর তৈমুর আলম খন্দকারকে নিশ্চিত ভাবে প্রকাশ্যে বা গোপনে সহায়তা দেবেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর আইভির যদি সমর্থন পান তাহলে নারায়ণগঞ্জের এই আসনে একটা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। একই অবস্থা হবে তার শমসের মবিন চৌধুরী আসনে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এখন যদি শমসের মবিন চৌধুরী নির্বাচনে দাঁড়ান এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে যদি কোন্দোল থাকে তাহলে সেই আসনটিতে কি ফলাফল হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এরকম বহু আসন আছে যেখানে তৃণমূল বিএনপি ভাল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং জাতীয় পার্টির চেয়ে তাদের জনপ্রিয়তা বেশি। কারণ তারা বিএনপি থেকে এসেছেন এবং আওয়ামী বিরোধী ভোট গুলো তাদের পকেটে যাবে। 

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে অংশগ্রহণ করছে। সে হিসেবে জাতীয় পার্টিকে অনেকেই আওয়ামী লীগের বি টিম মনে করে। কেউ কেউ তাদেরকে অনুগত বিরোধী দল মনে করে। এরকম অবস্থায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে কতটা ভালো হবে তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। তা ছাড়া হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির আগের সেই ক্রেজ নষ্ট হয়ে গেছে। এরশাদ ছাড়া জাতীয় পার্টির কোন জাতীয় নেতাও নাই। জি এম কাদের একজন গ্রহণযোগ্য স্বজন ব্যক্তি বটে। কিন্তু তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেননি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা নয়, তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে কোন রকম কারচুপি হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং এই সুষ্ঠু নির্বাচনে যে জেতে সেই হবেন সংসদ সদস্য। সেই বিবেচনায় জাতীয় পার্টি না তৃণমূল বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হবে তা জানার জন্য আমাদের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন   দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন   তৃণমূল বিএনপি   জাতীয় পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক জিয়াকে কি দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে কোটালীপাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেছেন, এখন একটাই কাজ তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা। এই কথাটি তিনি খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কিছু বলেন তখন নিশ্চয়ই তার কার্যকারণ থাকে এবং ভেবে চিন্তে তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি দূরদর্শীসম্পন্ন একজন দার্শনিক চিন্তাবিদও বটে। আজকে সবাই যা ভাবে তিনি তা ভাবেন অনেক আগেই। আগামীকালের ভাবনা তিনি আজকে করেন। আর এ কারণেই তিনি একজন দক্ষ এবং বিশ্বমানের রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কোন প্রেক্ষাপটে কেন হঠাৎ করে তারেক জিয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় এই বক্তব্যটি দিয়েছেন, যখন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য তারিখ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী ৪ জুলাই নতুন পার্লামেন্ট দিয়েছেন। এই সময় যুক্তরাজ্যের টানা ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি একটি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি অনিবার্য বলেই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কদিন আগে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি তৃতীয় স্থান দখল করেছে। লেবার পার্টির ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় আগামী দিনে তাদের ক্ষমতায় আসার বার্তা দিয়েছে বলেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন।

আর এরকম একটা পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে আগাম নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। ঋষি সুনাক সেই দাবি শুনেছেন কিনা তা জানা যায়নি, তবে তিনি আগামী নির্বাচন নিয়ে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন যে, শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হলে কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থা আরও খারাপ হবে, এরকম বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি আগাম নির্বাচন দিয়েছেন। কিন্তু তার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই ৭৮ জন কনজারভেটিভ এমপি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ঋষি সুনাকের নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। আর এই বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টি যে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসতে চাইছে সেটি অনেকের কাছে স্পষ্ট।

এরকম পরিস্থিতিতে লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে আওয়ামী লীগ বহুমুখী সুবিধা পাবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী ব্রিটিশ এমপি এবার নির্বাচনেও তার জয়ের প্রায় অনিবার্য বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তিনি যদি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন এবং লেবার পার্টি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি যে মন্ত্রী হবেন তা অনিবার্য। কারণ এরই মধ্যেই লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় তিনি অন্তর্ভুক্ত আছেন।

আর লেবার পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ৭৫’র নারকীয় ঘটনার পর লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরাই জাতির পিতার হত্যার বিচার চেয়ে ছিলেন এবং সেটি নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল ব্রিটিশ এমপিদের উদ্যোগে। আর এসব বাস্তবতা থেকেই লেবার পার্টি ব্রিটেনে সরকার গঠন করলে তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সহজ হবে বলেই অনেকে মনে করছেন। এরকম একটি বাস্তবতা থেকেই প্রধানমন্ত্রী হয়ত তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না: কাদের

প্রকাশ: ০১:৫৬ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের কাজই হচ্ছে ফটোসেশন করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোজার মাসেও আমরা সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছি আর তারা ইফতার পার্টি করেছে। বিএনপির সাথে আমাদের নীতিগতভাবেই অনেক পার্থক্য আছে। 

বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালনে বার বার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তারা (বিএনপি) সাহায্যের নামে ফটোসেশন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৭ মে) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের যে বাস্তবতা জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এসব দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায়... বিএনপির কথা যদি আমি বলি, একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালনে তারা বার বার ব্যর্থ হয়েছে। তারা সাহায্যের নামে ফটোশেসন করে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা যে স্রোতের মতো এসেছে বাংলাদেশে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক সাহায্য করেছেন। তিনি আমাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন উদারভাবে, যেটা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস রোহিঙ্গাদের সাহায্যে পাশে ছিলাম। তখন দেখা গেছে এক বা বড়জোর দু'দিন ফটোসেশনের জন্য গিয়েছে তারা।

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের বিভাগীয় টিমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাহায্য করবে। আবহাওয়া উন্নত হলে তারা সেসব এলাকায় যাবেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য সহায়তা করবেন।


বিএনপি   দুর্যোগ   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রলীগে শৃঙ্খলা ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাদ্দাম-ইনান?

প্রকাশ: ১২:০৭ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের প্রতি ছাত্র সমাজের প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল। তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিল ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সাদ্দাম-ইনান সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। তাদের দায়িত্ব কালেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ডাকাতির মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক হয়েছেন। এছাড়া সাদ্দাম-ইনানের নানবিধ কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং সংগঠনে আদর্শ নৈতিকতা চর্চায় ঘাটতি থাকায় একের পর এক অপকর্মে জড়াচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সাদ্দাম-ইনান কী ছাত্রলীগের হাল ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন?

হলের সিট দখল, হল নিয়ন্ত্রণ: ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে হল, আসন পান না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চিত্র বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাধে অছাত্ররা আবাসিক হলের এক/একাধিক আসন দখল করে আছেন।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অছাত্রদের হল ত্যাগের আলটিমেটাম দিলেও তা কর্ণপাত করেনি ছাত্রলীগের অছাত্র নেতা কর্মীরা।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বড় সমস্যা সিট বাণিজ্য। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আবাসিক হলের ছাত্রদের সিট দিতে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ অনেক দিনের।

রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান (বাবু) সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব সহ অনেক অছাত্র নেতা হলে দাপটের সঙ্গে অবস্থান করছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অছাত্র বহিষ্কৃতদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছিল চবি প্রশাসন। কিন্তু তা কার্যকর করতে পারে নি।

অহেতুক সংঘর্ষে  জড়ায় ছাত্রলীগ: ছাত্রলীগ এখন যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, মাদকের কারাবারসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। শক্তিশালী সমগোত্রীয় বিরোধী ছাত্র সংগঠন না থাকায় ছাত্রলীগ নানা গ্রুপ, উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছে। এর নেপথ্যেও আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, হলের সিট নিয়োগ বাণিজ্য টেন্ডারবাজির মতো বিষয় জড়িত। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চায়ের দোকানে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের তিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ছাত্রলীগের ৮০ জন আহত হয়। এসবের বাইরেও সারাদেশে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষসহ নানা অপকর্মে জড়ানোর সংবাদ প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমে আসতে দেখা যায়।

ধর্ষণ কাণ্ড : সম্প্রতি ক্যাম্পাসে কৌশলে এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের কক্ষে আটকে রাখে জাবি শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। পরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের এই নেতা। মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।

মাদকের কারবার মাদক সেবন: ফেব্রুয়ারি র‌্যাব ব্রিফিং জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা যে তথ্য পেয়েছে তা অ্যালার্মিং। ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যবসা কেনাবেচা হয় প্রকাশ্যেই। মাদক ব্যবসায় লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এছাড়া অনেক ছাত্রলীগ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক সেবন মাদক কারবারের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

টেন্ডারবাজি নিয়োগ বাণিজ্য: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি  আকতারুজ্জামান সোহেল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার গুঞ্জন প্রকট হচ্ছে। কিছুদিন আগে লিটনের বিরুদ্ধে তারই অনুসারীরা নানাবিধ অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষকের যোগসাজশে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ একটি চক্র নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন ঠিকাদারের থেকে সালামি নেবার বিষয়টি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগ বাণিজ্য টেন্ডারবাজিতে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এসব বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের বিষয়ে ছাত্রলীগ জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। অপরাধীদের বিষয়ে আমরা আমাদের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।

এদিকে ২৪ মে (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অপরাধীকে আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি। অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।


ছাত্রলীগ   সাদ্দাম   ইনান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

চীন থেকে ফিরেই ভারতের সমালোচনায় মেনন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

চীন থেকেই ফিরে ভারতের সমালোচনায় মুখর হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন। সাম্প্রতিক সময়ে ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি চীন নিয়ে যান। এ সফরের উদ্দেশ্য কি ছিল বা কেনই বা চীন তাদেরকে জামাই আদর দিয়ে নিয়ে গেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানায়নি ইদানিং সুবিধাভোগী নেতারা। তবে চীন থেকে ফিরে আসার পর যেন রাশেদ খান মেননের মগজ ধোলাই হয়েছে তা দিব্যি বোঝা গেল। চীন থেকে ফেরার পরেই তিনি এখন ভারত বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। 

গতকাল ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত অভিন্ন পানি বন্টণ: প্রেক্ষিত পদ্মা ও তিস্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি ও তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র সমালোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে যে তিস্তা মহা পরিকল্পনার জন্য যে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাকে জুতা মেরে গরু দান বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখন মাওলানা ভাসানীর মতো ফারাক্কা মিছিল করার মতোও গুরুত্ব আরোপ করেন। শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে যে অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে তার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তীব্র হিসেবে ধরা পরে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে রাশেদ খান মেনন গঙ্গা এবং তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে এতো মরিয়া হলেন কেন? 

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন দীর্ঘদিন ধরেই কুড়িগ্রাম অঞ্চলে তিস্তা নদীর চারপাশে জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব দিচ্ছিলো। ১০০ কোটি ডলারের এই প্রস্তাবের মূল বিষয়টি ছিল বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি থেকে এই জলাধারগুলোকে ভরানো হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এই পানিগুলো দিয়ে শুষ্কতা কাটানো হবে। তবে ভারত এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করছিল। এবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের সময় ভারত একটি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র এক বিকল্প প্রস্তাব দেয় এবং সেখানে ভারত অর্থায়ন করার জন্য প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পানি বণ্টনের একটা সমাধান হবে বলে অনেকে মনে করেন। ভারতের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর তারা বাংলাদেশের সঙ্গে পানি চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালা করবে। 

সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর চীন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনেক আগ্রাসী হয়ে গেছে। বিভিন্ন লোভনীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে চীন আসছে। যদিও বাংলাদেশ এখন চীনের সাথে বিনিয়োগের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে। নতুন করে বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশ একটু রক্ষণশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর এ কারণেই চীন এখন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক মিত্রের সন্ধান করছে। যারা বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা উষ্কে দিবে এবং ভারতের সমালোচনার মাধ্যমে চীনকে সামনে আনবে। চীন ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই এখন প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে এবং ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে যেন চীন পন্থীদের প্রভাব বাড়ে সে চেষ্টা করছে। ১৪ দলের নেতাদের চীন সফরের পর এই সংবাদ সম্মেলন তারই ইঙ্গিত বহন করে। 

এখন ৫০ সদস্যের একটি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল চীনে অবস্থান করছেন। এবং তারা ফিরে আসার পর পরই কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে। সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতিতে চীন প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে যেন রাজনীতিবিদরা ভারত বিরোধীতায় নামেন এবং চীনের প্রকল্পের স্বার্থগুলো বাস্তবায়িত হয়। আর এই কারণেই রাশেদ খান মেনন এখন নতুন করে আবার চীন পন্থী হিসেবে নিজেকে যালাই করে নিলেন। চীনে রাজনীতিবিদদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি মগজ ধোলাই করার জন্য- এ প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে। 


ওয়ার্কার্স পার্টি   রাশেদ খান মেনন   চীন   ভারত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

এবার দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি মুখোমুখি হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া তারা আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সেক্টরে যে অনিয়ম এবং দুর্নীতিগুলো হয়েছে সেগুলো একাট্টা করে তারা জনসম্মুখে তুলে ধরতে চায়। এই শ্বেতপত্র তৈরি করার জন্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিএনপি পন্থী ব্যক্তিদেরকে কাজে লাগানো হবে বলেও বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার, ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা, সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কথিত দুর্নীতি এবং বেনজীর আহমেদের কথিত দুর্নীতির বিষয়গুলো বিএনপির শ্বেতপত্রে জায়গা পাবে বলে জানা গেছে।  

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে চায়। বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। আর এই লুটপাটে বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী তথ্যাদি হাজির করা হবে এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে। তবে, কবে নাগাদ এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে সেই সম্পর্কে কোন কিছুই বলা হয়নি। 
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যে কমিটিতে বিএনপি পন্থী অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদদের রাখা হবে, ব্যাংকিং সেক্টরের কয়েকজন বিএনপির কর্মকর্তাকেও এটির মধ্যে রাখা হবে বলে জানা গেছে। আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই শ্বেতপত্র তৈরির পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশিত হবে বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগও বিএনপির আমলে হাওয়া ভবন ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগও বিএনপির পাল্টা হিসেবে ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের কাহিনী প্রকাশ করবে। এই সময় সিএনপি কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবনের কেলেঙ্কারি, পদোন্নতি কেলেঙ্কারি, খাম্বা কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন অনিয়মগুলোকে আবার নতুন করে একাট্টা করে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি এই সময়ে বিএনপির কোন কোন নেতার বিদেশে কি কি সম্পদ ছিল সেটিও আওয়ামী লীগ প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী টিম এ নিয়ে কাজ করছে এবং এই তথ্য প্রমাণগুলো ইতোমধ্যেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির আমলের যে দুর্নীতি এবং অনিয়মগুলো হয়েছে সে সম্পর্কে আওয়ামী লীগ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছিল। তবে এখন নতুন করে সেটিকে আবার শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা হবে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, শ্বেতপত্রে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি এবং যারা প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগী তাদের বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে জানা গেছে। এবং এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম করেছে তাদেরকে নতুন করে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দুর্নীতিকেই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 


দুর্নীতি   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন