ইনসাইড পলিটিক্স

শামীমের প্রস্তাবে রাজি হননি বেগম জিয়া (ভিডিও)

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়াকে মুচলেকা দিয়ে বিদেশ পাঠানোর একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। কিন্তু শামীম ইস্কান্দারের প্রস্তাবে রাজি হননি বেগম খালেদা জিয়া। আর এ কারণেই তাকে শেষ পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ফিরোজায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

শামীম ইস্কান্দার সরকারের প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে শামীম ইস্কান্দারকে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

বিভিন্ন সূত্র মতে, নির্বাচনের আগেই শামীম ইস্কান্দার চেয়েছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে। কিন্তু সেই সময় বেগম জিয়া বিদেশে যেয়ে কী করবেন, কী বলবেন সে বিষয়ে সরকার ঝুঁকি নিতে চায়নি। আর এই ঝুঁকি না নেওয়ার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর শামীম ইস্কান্দার সরকারের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেন এবং তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে বলেন, যেহেতু এখন নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে, রাজনীতিতে সরকার আর কোন বড় ধরনের ঝুঁকিতে নেই, এরকম বাস্তবতায় সরকার চাইলে বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে। সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে তার আলাপ আলোচনা শুরু হয়। শামীম ইস্কান্দার স্বপ্রণোদিত হয়ে বলেন, যদি সরকার তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় তাহলে তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বিএনপির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্কও ত্যাগ করবেন। এছাড়াও বেগম জিয়া আরও কিছু ছাড় দিতেও রাজি আছেন বলে শামীম ইস্কান্দার জানান। এরকম বাস্তবতা গত ২৭ মার্চ বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আবার বাড়ানো হয় এবং পূর্বের শর্তে তা বাড়ানো হয়।

বেগম জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির পর তাকে বিদেশ নেওয়ার ব্যাপারে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করেন তার ছোট ভাই। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বেগম জিয়াকে রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তিনি যে কোন সময় খারাপ অবস্থার দিকে চলে যেতে পারেন এমন একটি বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে জানান, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর, তিনি সিসিইউতে আছেন। কিন্তু ৩ দিন পরেই রহস্যময়ভাবে বেগম খালেদা জিয়া বাড়িতে ফিরে যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলেন যে, তার অবস্থা যেহেতু স্থিতিশীল হয়েছে সেহেতু তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

কিন্তু বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, শামীম ইস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর জন্য যে সব সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, সেই সব সমঝোতা প্রস্তাবে রাজি হননি বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মনে করেছেন যে, এটি অপমানজনক এবং এই প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। আর এ কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। বেগম খালেদা জিয়া ছোট ভাইয়ের প্রতি উষ্ম প্রকাশ করেছেন বলেও জানা যায়।

অন্য একটি সূত্র বলছে, শামীম ইস্কান্দার যখন এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে দোড়ঝাপ করছেন ঠিক সে সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস এবং আমানউল্লাহ আমান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তারা তাকে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ জানান। আর এ কারণেই শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া শামীম ইস্কান্দারের প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলে একাধিক বিএনপির সূত্র জানিয়েছে।



শামীম ইস্কান্দার   বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির হিসেব নিকেশ

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের ছুটির পর পরই সারাদেশে শুরু হচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের আমেজ। ঈদের মধ্যেই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে উৎসাহী প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ঈদে তারা জনসংযোগ করে জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ঈদের পর পরই উপজেলা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে এবং এই উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী ঈদুল আযহা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন নিয়েই রাজনীতির মাঠ ব্যস্ত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

এবার উপজেলা নির্বাচনে কার কি অবস্থান সেটা দেখে নেয়া যাক:
 
১. আওয়ামী লীগ: উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করছে না। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তারা স্ব-উদ্যোগে এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি কমবে বলে আশা করা হয়েছিল এবং সেরকম আশাবাদ থেকে আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের একটি ‘ফ্রি স্টাইল’ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ৫-৭ জন, কোথাও কোথাও ১০ জন পর্যন্ত প্রার্থীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত বলেই অনেকে মনে করছেন। যদিও দলটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী এবং এমপিদেরকে উপজেলা নির্বাচন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেউ যেন কোন প্রার্থীকে সমর্থন না দেয়, সেরকম বক্তব্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেসমস্ত বক্তব্য কেউ শুনছেন না। মন্ত্রী-এমপিরা তাদের নিজস্ব ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এবং উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভিতরেই একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। 

২. বিএনপি: উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এক রহস্যময় অবস্থান তৈরি করেছে। যদিও অন্তত ২’শ টি উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদেরকে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে এবং তারা জনসংযোগও শুরু করেছেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির হাই কমান্ড কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচন বর্জন বা অংশগ্রহণ কোন কিছুই বলছেন না। বরং যারা যারা অংশগ্রহণ করছেন তারা স্বতন্ত্র হয়ে অংশগ্রহণ করলে দলগতভাবে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে। তবে মজার ব্যাপার হলো যে, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি নেতারা উপজেলা নির্বাচনে ‘ফ্রি স্টাইলে’ অংশগ্রহণ করছে না। যেসমস্ত উপজেলায় বিএনপি অংশগ্রহণ করছে এবং যে সমস্ত উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীদেরকে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে সেসমস্ত এলাগুলোতে একক প্রার্থী দেখা যাচ্ছে। ফলে এই স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি একটি বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

৩. জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। তবে ক্ষয়িষ্ণু জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে খুব একটা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, কয়েকটি পকেট ছাড়া জাতীয় পার্টি অধিকাংশ স্থানেই এখন নেই বললেই চলে। রংপুর, সিলেটের মতো কয়েকটি অঞ্চলে হয়তো জাতীয় পার্টি কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে সারা দেশে প্রভাব রাখার মতো অবস্থানে এ দলটি নেই। 

৪. জামায়াত: এবার জামায়াত উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। বেশ সংঘবদ্ধভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে। তারা ঢালাওভাবে সব উপজেলায় অংশগ্রহণ না করে যেখানে যেখানে তাদের শক্ত ভিত্তি রয়েছে সে উপজেলাগুলোকে বেছে নিয়েছে। এরকম প্রায় একশ উপজেলায় জামায়াত অংশগ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার উপজেলা নির্বাচনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এই উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত তার রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করতে চাই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলন না সংগঠন: কোন পথে যাবে বিএনপি?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি কী এখন সংগঠন গোছাবে না সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে—এ নিয়ে বিএনপি এখন সিদ্ধান্তহীনতায়। দলের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেও কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। একদিকে সংগঠনের হতশ্রী অবস্থা, নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত, তাদের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে হতাশা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য একটা তাগিদ রয়েছে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিএনপি কী করবে তা নিজেরাই ঠিক করতে পারছে না। 

ঈদের ছুটিতে বিএনপির নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুতেই তারা কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। বিএনপির মধ্যে আন্দোলন এবং সংগঠন কোনটা আগে— এ নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ নিয়ে ৩ ভাগে বিভক্ত। 

বিএনপির বেশিরভাগ নেতাই মনে করছেন যে, সবার আগে সংগঠন গোছানোর দরকার, সর্ব প্রথমে দরকার দলের একটি কাউন্সিল অধিবেশন করা এবং কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে কর্মক্ষম মাঠের নেতাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। সংগঠন গোছানো ছাড়া আন্দোলন করলে আবার তা মুখ থুবড়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিএনপির এই অংশের নেতারা। তারা বলছেন যে, স্থায়ী কমিটির সহ মাঠ পর্যায়ের তৃণমূলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে হবে এবং এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একটি নতুন আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব। 

তবে বিএনপির একটি অংশ এই মতের সাথে একমত নন। তারা মনে করছেন যে, দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। জেলে অনেকে পলাতক জীবনযাপন করছেন। এরকম অবস্থায় কাউন্সিল করা অযৌক্তিক হবে এবং সংগঠন যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় রেখে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে হবে। বিএনপির এই অংশের নেতারা মনে করেন যে, জনগণ সরকারের ওপর সন্তুষ্ট নয়, আন্দোলনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। শুধু দরকার কিছু সঠিক দিক নির্দেশনা এবং নেতৃত্ব। 

আর বিএনপির তৃতীয়াংশের নেতারা মনে করছেন, আন্দোলন এবং সংগঠন দুটি পাশাপাশি চলা উচিত। এক দিকে যেমন সংগঠনে শূন্যস্থানগুলো দ্রুত পূরণ করা দরকার, অন্যদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখা দরকার। এই অংশের নেতারা মনে করছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নতুন নির্বাচনের দাবির চেয়ে এখন জরুরি জন গুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়গুলোকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া উচিত। যেমন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, অর্থ পাচার, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি এই সমস্ত বিষয়ে আন্দোলন করে জনসম্পৃক্ততা অর্জন করা প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেই তারা মনে করছেন৷ 

তবে বিএনপির মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় যে ইস্যুটি দাঁড়িয়েছে তা হলো, কে বিএনপির হাল ধরবেন। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই বললেই চলে। এমনকি ঈদের দিন তিনি যে সিনিয়র নেতাদের ডেকে ছিলেন সেখানেও তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। 

বিএনপি দ্বিতীয় প্রধান নেতা লন্ডনে পলাতক। তিনি তার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দলকে ব্যবহার করেন। তার টাকা পয়সা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আদায়ই প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির তৃতীয় প্রধান নেতা যিনি মাঠে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ এবং তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে চান না। 

এরকম অবস্থায় বিএনপিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতাই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেটি বিএনপির প্রধান সংকট। আর একারণেই বিএনপির নেতারা মনে করছেন যে, আগে তাদেরকে একজন সঠিক নেতা নির্বাচন করতে হবে। সেই নেতার নেতৃত্বে তারা আন্দোলন করবে। তবে বিএনপির প্রায় সব নেতাই স্বীকার করছেন যে, আন্দোলনের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে নির্বাচনের দাবি বা সরকার পতনের আন্দোলন সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর একারণেই বিএনপি মনে করছে, তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে কঠিন সময়ের জন্য। 

আন্দোলন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি এ দেশের সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা: কাদের

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এ দেশের সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। তারা বৈশাখের চেতনাবিরোধী, তা আজ দেশে প্রতিষ্ঠিত সত্য।

রোববার সকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন উপলক্ষে বাহাদুর শাহ পার্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির চেতনা ও হৃদয়ে পাকিস্তান। তারা বাঙালির সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তার হোসেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।


ওবায়দুল কাদের   রাজনীতি   সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অসুস্থ নেতাদের ভারে অচল বিএনপি

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই এখন অসুস্থ। সুস্থ নেতা খুঁজে পাওয়াই জন্য বিএনপিতে ভার। ঈদের দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফিরোজায় গিয়েছিলেন অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে দেখা করতে। সেই সাক্ষাতের সময় বেগম খালেদা জিয়া মজা করে নেতাদেরকে বলেছিলেন, আপনারা কেউই তো সুস্থ নন। আমরা তো এক অসুস্থ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়া এই কথাকে অস্বীকার করেননি। এরপর বেগম জিয়া বিভিন্ন নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সুস্থ নেতা কেউই নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন অসুস্থ। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। তার অবস্থা এখন পর্যন্ত শঙ্কা মুক্ত নয়। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই বর্ষীয়ান নেতা এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন। 

বিএনপির আরেক নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তার নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তিনি চলাফেরা খুব একটা করেন না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি ঘর থেকে বেরোন না। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হৃদরোগ ছাড়াও কিডনির সমস্যা এবং নানা রকম শারীরিক জটিলতা আক্রান্ত। কদিন আগে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করিয়ে এনেছেন। 

বিএনপির আরেক নেতা মির্জা আব্বাস একাধিক রোগে আক্রান্ত এবং নানা রকম নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের শরীরও ভালো না। তিনি অসুস্থ এবং নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। লাঠি ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। 

বিএনপির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়েরও নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তবে তিনি অন্যদের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বলেই দাবি করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তারও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও অন্য পর্যায়ের নেতাদেরও শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। 

বিএনপির একজন নেতা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা জেল জুলুম নির্যাতন, শারীরিক এবং মানসিক নিপীড়নের কারণে বিএনপির নেতারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি দলকে কোন সার্ভিস দিতে পারছেন না। এমনকী কোন রকম অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এরকম অসুস্থ নেতার সংখ্যা বিএনপিতে এখন বেশি। 

বিএনপির অনেকে মনে করছেন যে, ক্রমশ বিএনপি একটি অসুস্থ দলে পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা দলে তরুণ সক্ষম তাদেরকেও সামনের দিকে নিয়ে আসাটাই যৌক্তিক বলে মনে করেন বিএনপির অনেক নেতা। না হলে এই অসুস্থ নেতাদের ভারে বিএনপি নিজেরা অচল হয়ে পড়ছে বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয় যে, অতীতে অবদানের জন্য অসুস্থ নেতারা পদ আকড়ে রাখবেন নাকি সামনের দিনগুলোতে বিএনপিকে বিকশিত করার জন্য তারুণ্যকে সামনে আনা হবে। বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছেনে যে, অসুস্থ নেতারা সব পদ আকড়ে রাখার কারণে বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনও বিকশিত করতে পারছে না।

বিএনপি   অসুস্থ নেতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি-জামায়াতের সিরিজ বৈঠক: একসাথে কাজ করার গুঞ্জন

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের ছুটিতে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সিরিজ বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। ঈদের আগের দিন, ঈদের দিনে, ঈদের পরদিন-এই তিন দিনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। 

বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বাসভবনে জামায়াতের অন্তত তিন নেতার বৈঠক হয়েছে ঈদের দিন। এছাড়াও বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ড. মঈন খানের সঙ্গেও জামায়াতের নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে যে, বিএনপি এবং জামায়াতের মহানগর পর্যায়ে নেতারাও নিজেদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আর এই সব যোগাযোগের লক্ষ্য হল একটাই তা হল অভিন্ন ভাবে কাজ করা যেন তারা আস্তে আস্তে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের জনমত সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন। আর এই জনমত সৃষ্টি বা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিএনপি এবং জামায়াত অভিন্ন কৌশল নিয়েছে। 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কৌশলগত কারণে বিএনপি-জামায়াত প্রকাশ্য কোন জোট গঠন করবে না। ২০ দলীয় জোটের যে মৃত্যু হয়েছে তা নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নেই বলেই দুটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে তারা অভিন্ন ধরনের কর্মসূচি এবং একই রকম অবস্থান থেকে কর্মসূচি পালন করবে। আগামী দিনগুলোতে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচটি বিষয় অভিন্ন কর্মসূচি পালন করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জনগণের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এমন বিষয় এবং জনগণ সহজে সাড়া দেয়, সেই ধরনের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসে আগে জনমত সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি এবং জামায়াত। আর এ কারণেই এক দফা আন্দোলন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন নিয়ে এখনই কোন কর্মসূচিতে যাবে না এই দুটি রাজনৈতিক দল। বরং তারা সামনে যে সমস্ত ইস্যুতে অভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে;

১. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করবে ঈদের পর থেকেই। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে মানববন্ধন, ভুখা মিছিলের মতো নতুন ধরনের কর্মসূচি বলে দুই দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। 

২. লোডশেডিং: ইতোমধ্যে গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দাবদহ বাড়ার সাথে সাথে লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং এটি নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত বড় ধরনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

৩. অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাট: অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাট নিয়েও বিএনপি এবং জামায়াত নতুন করে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সামনের দিনগুলোতে এ নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারে বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

৪. ভারত বিরোধী কর্মসূচি: ভারতের আগ্রাসন, সীমান্ত হত্যা সহ নানা প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত এবং বিএনপি স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভারত বিরোধী কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৫. দুর্নীতি: দুর্নীতির ব্যাপারেও বিএনপি এবং জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম জনসংযোগ মূলক এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম পালন করবে। চলতি বছর শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি রাজনৈতিক দল পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে বলে দল দুটির সূত্রে জানা গেছে।


বিএনপি-জামায়াত   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন