ইনসাইড টক

‘করোনা একদম থাকবে না এটা এখনো বলার সময় আসেনি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৩ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, পৃথিবীতে করোনা আসার পরে সারা বিশ্বে এই করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, জাতিসংঘ কাজ করছে, ডাব্লিউএইচও এটা নিয়ে কাজ করছে, বিভিন্ন দেশের সাইন্টিস্ট-চিকিৎসকরা এটা নিয়ে কাজ করছে, প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে, করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, চিকিৎসার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশেও সরকার সফলতার সাথে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে, হাসপাতালে চিকিৎসকরা যতটা পেরেছে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকারের সহযোগিতার মাধ্যমে।

আগামী বছর করোনার প্রকোপ থাকবে কিনা, করোনার ট্যাবলেটের কার্যকারিতা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, আমাদের দেশে সফলতার সাথে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে পারায় এখন কোভিড নিয়ন্ত্রণে। আমাদের দেশের সরকারের টার্গেট যে আক্রান্তের হার জিরোতে নিয়ে আসবে এবং মৃত্যুর হারও জিরোতে নিয়ে আসবে। এই টার্গেটে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সারাবিশ্ব এই টার্গেটে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের আগামী জুনের মধ্যে ৮০ শতাংশ জনসাধারণকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার কথা।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় বিশ্বের আধুনিক দেশ প্রায় সবগুলো তাদের টার্গেটে পৌঁছতে পেরেছে। আমরাও আশা করি যে হার্ড-ইমিউনিটি ডেভেলপ করবে বা ৮০ শতাংশে যেতে পারলে ঝুঁকি-মুক্ত হবে। এরফলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে। অথবা আমাদের সরকারের যে টার্গেট আক্রান্তের হার জিরোতে চলে আসবে। সেই প্রেক্ষাপটে আগামী বছর করোনা আসলে শূন্যের কোটায় চলে আসবে। একদম থাকবে না এটা এখনো বলার সময় আসেনি।

করোনার ট্যাবলেট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, করোনার ট্যাবলেট তৈরির সক্ষমতা আমাদের দেশের ঔষধ কোম্পানির আছে। এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটা কোম্পানি বের করেছে। এটার কারয়িতা নিয়ে বলা মুশকিল। তবে মনে করা হয় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কার্যকরী অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু এটা খাওয়ালে ভালো হয়ে যাবে সেটি বলা মুশকিল। এখনো এটা কোন দেশেই এস্টাব্লিশড না। ডাব্লিউএইচও’তেও না, কোন জার্নালে বা গবেষণাও না।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘হিরো আলম সহজেই সমাজের নিম্নবর্গের লোকজনের সমর্থন পেয়েছেন’

প্রকাশ: ০৪:১৭ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আমাদের মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্যমতে ভোটার উপস্থিতি ২৫ শতাংশ। গত ৩০ বছরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, গত উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের উৎসাহ উদ্দীপনা কম ছিল। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মেয়াদের শেষের দিকে উপ-নির্বাচন অুনষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের জয়-পরাজয়, কোন অবস্থাতেই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। এটা হচ্ছে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার প্রধান কারণ।

গতকাল বুধবার ( ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পদত্যাগ করা আসনে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া উপ-নির্বাচন নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রফেসর . নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য প্রফেসর . কলিম উল্লাহ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক আসাদুজ্জামান খান।

উপ-নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রফেসর . কলিম উল্লাহ বলেন, প্রথমত, মেয়াদের শেষের দিকে উপ-নির্বাচন অুনষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের জয়-পরাজয়, কোন অবস্থাতেই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রায় সবগুলোই ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। এই নির্বাচন পরবর্তীকালে প্রার্থীরা কতটুকু অবদান রাখতে পারবে সেটা নিয়ে একটি সংশয় থেকেই যায়। এটি আরেকটি কারণ। তৃতীয়ত মনে রাখতে হবে, ছয়টি আসন বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসন। তাদের পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই সংসদে থাকবে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বিএনপির টিকিট ছাড়াই সাবেক বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু ব্যক্তি মানুষটাতো ওই ব্যক্তিই রয়ে গেছেন। সেটাও একটি কারণ।

বগুড়া- আসনে প্রথম দিকে হিরো আলম এগিয়ে থাকলেও পরে হিরো আলম হেরে মন্তব্য করেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল চুরি হয়েছে। এই অভিযোগটা কতটা সত্যি? - বিষয়ে তিনি বলেন, এই জায়গাটা ঐতিহাসিকভাবেই ডান ধারার লোক অধ্যুষিত এবং তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্র্যাক যখন সেখানে তুত গাছ লাগিয়েছিল; তারা এতোটাই ইমোশোনাল যে, তারা সেই তুত গাছ ছিড়ে ফেলেছিল, জায়েজ নয়- এই বিবেচনায়। আমি পরবর্তীতে জায়গাটা ঘুরে দেখেছি। মাগুরার যে উপ-নির্বাচনটি হয়েছিল বিএনপির আমলে, তার মাস দুই/তিন পরে, বগুড়া উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই উপ-নির্বাচন আমি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলাম এবং পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে যে, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতাই এখনো বজায় আছে। সেখানে যেহেতু বিএনপি নির্বাচন করছে না, তাই হিরো আলম একটি পপুলার ফিগার হওয়ায় সহজেই নিম্নবর্গের মানুষদের সমর্থন পেয়েছিল। তিনি যেহেতু একজন পাবলিক ফিগার, এই ইমেজটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন। ফলে সেই বিবেচনায় আমার মনে হয, তিনি ভালোই ভোট পেয়েছেন। তবে আসলে ব্যক্তি আর দল দুটোর মধ্যেতো গুণগত পার্থক্য আছে। এখানে যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়েছে, সেখানে বুকে হাত দিয়ে বলা যাবে না যে, ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কলিম উল্লাহ বলেন, আমি তাকে (হিরো আলম) সম্মান করি। তিনি এটা বলতে পারেন, সমাজের নিম্নবর্গের একজন মানুষ তিনি এবং তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করতে চাইছেন, এটি একটি শ্রেণির মানুষ হয়তো নাও চাইতে পারে, যদি সমাজের শ্রেণিভুক্ত মানুষজনের বিচার বিশ্লেষন আমরা করতে চাই। তবে তিনি যে যুক্তি দাড় করিয়েছেন যে শিল্পী মমতাজ যদি তৃণমূল থেকে ওঠে এসে সংসদে থাকতে পারেন, তবে উনি পারবেন না কেন? এটা হচ্ছে তার যুক্তি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একই সঙ্গে তিনি দুইটি আসনে দাড়িয়েছেন, ফলে তার মনোযোগ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে এবং তার যে চেষ্টা সেটাও কিন্তু সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তিনি যদি শুধুমাত্র বগুড়া- আসনেই চেষ্টা করতেন- আমার ধারনা আরও হয়তো ভালো করতে পারতেন।


উপ-নির্বাচন   নির্বাচন   বাংলাদেশ   হিরো আলম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পরিবার কিংবা আশেপাশের মানুষজন থেকে খুব একটা সাপোর্ট পাইনি’

প্রকাশ: ০৪:১৫ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সিনেমা, যেমন- আয়নাবাজি, মুনপুরা, তামিল সিনেমা ৯৬, জোকার এবং অতি সম্প্রতি বলিউড চলচ্চিত্র থি ইডিয়টসের রিমেক বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তে বেশ আলোচনায় এসেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ। পাঠকদের জন্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী অহনা

প্রশ্নঃ আপনার সিনেমা রিমেকের যাত্রা কবে থেকে শুরু এবং এই যাত্রায় কি কি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন?

উত্তরঃ আমি তো বর্তমানে শুধু সিনেমা রিমেকের কাজ করছি। আমার অভিনয়ের শুরু ২০১৬ সাল থেকে। শুরুর দিকে আমার পরিবার কিংবা আশেপাশের মানুষজন থেকে খুব একটা সাপোর্ট পাইনি। পরবর্তীতে যখন ধারাবাহিক ভাবে কাজ গুলো করতে থাকি নিজের অদম্য ইচ্ছে নিয়ে, এরপর দেখলাম মানুষজন আস্তে আস্তে আমাকে সাপোর্ট করতে শুরু করে। তবে রিমেকের ক্ষেত্রে অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলে, যে এইগুলো কোনো মৌলিক কাজ না। তাদেরকে আমি বলবো, একটি সিনেমার বাজেট থাকে শতকোটি টাকা, সেই সিনেমা আমরা জিরো বাজেটে করি। এইজন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। একটি নেগেটিভ কথা বলার আগে ভাবা উচিত কেননা কাজটি করতে অনেক ধৈর্য, পরিশ্রম ও সময় লাগে।

প্রশ্নঃ পরবর্তীতে নিজের মৌলিক কোনো কাজের পরিকল্পনা আছে?

উত্তরঃ জ্বী অবশ্যই। খুব সম্ভবত সামনের মাসেই আমরা মৌলিক কাজ শুরু করবো। এরজন্য আমরা নোয়াখালীতে একটি শ্যুটিং এর পরিকল্পনা করেছি। পুরো টিমের সাথে আলোচনা করে বাকি সিদ্ধান্ত আমরা খুব দ্রুত নিয়ে নিবো।

প্রশ্নঃ ব্যক্তিগত ভাবে আপনার প্রথম যেই কাজটি আমার চোখে পড়েছে, সেটি হলো হূমায়ন ফরিদী স্যারের একটি ছবি আপনি রিক্রিয়েট করেছিলেন, ৫০ বছর আগে ও পরে। পরবর্তীতে হূমায়ন ফরিদী স্যারের কোনো সিনেমা রিমেক করার পরিকল্পনা আছে আপনার? 

উত্তরঃ হূমায়ন ফরিদী স্যারের সর্বশেষ কাজ দেখেছি ‘জয়যাত্রা’। সেখানে তাঁর ‘পঞ্চানন সাহা’ চরিত্রটি করার পরিকল্পনা আছে। তিনি নিঃসন্দেহে একজন দূর্দান্ত অভিনেতা, তাঁর সব কাজ ই আমার পছন্দ, তবে এই চরিত্রটি আমাকে ভাবাচ্ছে।

প্রশ্নঃ সাম্প্রতিক সময়ে আপনার করা থ্রি ইডিয়টসের রিমেক নিয়ে একটু কথা বলি। রিমেকটিতে এত মিলিয়ে কাস্ট কীভাবে পেয়েছেন? কাস্টিং এর ক্ষেত্রে কি আপনাদের আলাদা কোনো টিম আছে? 

উত্তরঃ  কাস্টিং সিলেকশন গুলো মূলত আমি ই করে থাকি। থ্রি ইডিয়টসের পরিকল্পনা করার পর আমি সিনেমাটি পূনরায় দেখি। এবং তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, কোন চরিত্র কাকে ভালো মানাবে। আমার রিমেকটিতে ‘রাজু’ চরিত্রটিতে যে অভিনয় করেছে, সে আমার বিভাগের ই বন্ধু, শরীফ। আরেকটি চরিত্রের কথা না বললেই না, সেটি হলো রাজুর মায়ের চরিত্র। এটি করেছেন আমার বিভাগের ছোট বোন। আমি যখন ভাবছিলাম এই চরিত্রগুলো কার সাথে ভালো মানায়। তখন ব্যক্তি পর্যবেক্ষনের জায়গা থেকেই আমার মনে হয়েছে তাঁদের সাথে এই চরিত্রগুলো ভালো যায়। এভাবেই আসলে আমার আশেপাশে যার সাথে যেই চরিত্রগুলো ভালোভাবে যায়, তাঁদের  সবার সাথে কথা বলে, তাঁদের সুবিধামত অবসর সময়ে কাজ গুলো করেছি।

প্রশ্নঃ এখন পর্যন্ত আপনার করা কাজের মধ্য থেকে, আপনার সবচেয়ে পছন্দের কাজ কোনটি? এবং সেই কাজের ক্ষেত্রে আপনার বিশেষ কোনো স্মৃতি আছে?

উত্তরঃ সবগুলো কাজ ই নিজের সন্তানের মত, খুব ই প্রিয়। যদি বিশেষ করে বলতে হয় তবে বলব ‘জোকারের’ কথা। হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘জোকার’, এই সিনেমার চরিত্রটি অস্কার ও পেয়েছে। এই সিনেমা রিমেক করতে গিয়ে একটি ঘটনা স্মরণীয় ছিলো। সেটি হলো ‘জোকারের’ ড্রেস টা আমি বাংলাদেশের কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। প্রায় একমাস আমি এই ড্রেস খুঁজেও পাইনি। পরবর্তীতে আমার চারুকলার বন্ধুদের দিয়ে এই ড্রেসটি তৈরী করিয়েছিলাম। এটা আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ও স্মরনীয় ছিলো।

প্রশ্নঃ এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী?

উত্তরঃ সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। এটাই আসলে উদ্দ্যেশ, কাজের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা।

প্রশ্নঃ খুব শীঘ্রই আমরা আপনার নতুন কোনো কাজ দেখতে পাচ্ছি কি?

উত্তরঃ খুব শীঘ্রই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চঞ্চল চৌধুরী স্যারের ‘লাল খাম বনাম নীল খাম’ নাটকটির রিমেক করার পরিকল্পনা করছি। এবং এর পরেই আমরা আমাদের মৌলিক কাজ শুরু করবো।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মা কখনোই সন্তানের অভিভাবক না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

‘আমাদেরকে আসলে যেতে হবে অনেক দূর। তার মাঝখানে আমি বলতে পারি যে, এইটা অনেক ছোট একটা পদক্ষেপ। যেভাবে এ রায়টিকে যুগান্তকারী বলা হচ্ছে- আসলে এই রায়টি এমন যুগান্তকারী তেমন কিছু না। এটা এজন্য নয়, কারণ অভিভাবকত্ব বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে আমি দেখছি এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে- যেটা কিনা পুরোপুরি একটা ভুল ধারণা থেকে ‘এখন থেকে সন্তানের অভিভাবক মা’। এই বিষয়টি একদমই ঠিক নয়। আমাদের দেশে যে আইনগুলো রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন বা যার যার ধর্ম অনুযায়ী পারিবারিক আইনগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে যে বিষয়টি আমাদের পারিবারিক আইনে বলা আছে খুব স্পষ্টভাবে যে, বাবা হচ্ছে সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক এবং মা হচ্ছে সন্তানের জিম্মাদার। আসলে মা সন্তানের কোনো অভিভাবক নয়। পিতার অবর্তমানে সন্তানের অভিভাবক হচ্ছে দাদা বা অন্যান্যরা ক্রমানুসারে।’-বলছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা।        

সম্প্রতি উচ্চ আদালতে রায় হয়েছে, মায়েরা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে থাকতে পারবেন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাবাই অভিভাবক হিসেবে থাকতেন, এই রায়ের ফলে সমাজে এর প্রভাব, জাপানি দুই শিশুর ব্যাপারে সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়, নারীর ক্ষমতায়নে দেশের আইন বিভাগ এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা- এর সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন নারীর ক্ষমতায়ন, সম্প্রতি হাইকোর্টের রায় এবং সমাজে এর প্রভাবের কথা। পাঠকদের জন্য আইনজীবী মিতি সানজানার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার-এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, এখানে যে বিষয়টি সেটি আসলে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। এখানে শুধুমাত্র আগে যেখানে ফরম পূরণ করার ক্ষেত্রে বাবার নামটা বাধ্যতামূলক ছিল, এখন বাবার নামটা বাধ্যতামূলক না। যদি কেউ পিতৃ পরিচয়হীন থাকেন বা পিতা না থাকেন কিংবা বাবার নাম তারা উল্লেখ করতে না চান, সেক্ষেত্রে মায়ের নাম ব্যবহার করা যাবে বা অন্যান্য যদি অভিভাবক থাকে, যারা ছিন্নমূল শিশু আছে রাস্তায় পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো অন্য যারা অভিভাবক আছেন, আইনগত অভিভাবক আছেন, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো এটি প্রয়োজ্য হবে। কাজেই বাবার নাম বাধ্যতামূলক নয়। এর মাধ্যমে মা যে অভিভাবক হয়ে যাচ্ছে আসলে ব্যাপারটা তা না। 



তিনি বলেন, ‘মা কখনোই সন্তানের অভিভাবক না, পিতা হচ্ছে সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক।’ 

সম্প্রতি জাপানি দুই শিশুকে মায়ের তত্ত্বাবধানে দেয়া হলো, সেক্ষেত্রে কি আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না? -এমন প্রশ্নের উত্তরে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে জিম্মাদার হিসেবে আইনে যা ছিল, পারিবারিক আইনে যা ছিল সেটাই। স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি যে, শুধুমাত্র বাধ্যতামূলকভাবে পিতার নাম ব্যবহার করা না এবং এখানে বলা আছে যে, পিতৃ পরিচয়হীন শিশু। কাজেই সেই পিতৃ পরিচয়হীন শিশুর যে স্টিগমা (কলঙ্ক), কেউ যদি নাম উল্লেখ করতে না চান, তাদেরকে ধরে নিতে হবে, তাদের পিতৃ পরিচয় নেই বা তাদের আসলে সেই স্টিগমা-টা (কলঙ্ক) নিয়েই এই ধরনের ফরমগুলো পূরণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা দেখি নাই। এখন পর্যন্ত আমরা জানি যে, শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। 

তিনি বলেন, সন্তানের সম্পত্তির অভিভাবক পিতা, মাতা কখনও সেই অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারেন না। যদি না আদালত তাকে মনোনীত করে। সেটি পিতার অধিকার। সন্তানের শরীর এবং সম্পত্তির সম্পূর্ণ অভিভাবক হচ্ছেন বাবা। অভিভাবক হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সন্তানের শরীর এবং সম্পত্তির দায়-দায়িত্বে থাকেন এবং সমস্ত ভরণ-পোষণের তত্ত্বাবধানেও থাকেন। মা শুধুমাত্রই জিম্মাদার, তা-ও একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত। তারপরের থেকে সে আসলে বাবার জিম্মাদারিত্বে চলে যায়। তবে যদি কোর্ট মনে করে যে, সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য মা’র কাছেই থাকবে তখন শুধুমাত্র কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা শুধুমাত্র কাস্টডি (হেফাজত) পান, তবে সবক্ষেত্রে এটা না।



সমসাময়িক সময়ে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সরকার কি ধরনের পদক্ষেপগুলো নিয়েছে এবং কি ধরনের পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, উনারা শীর্ষ পর্যায়ে আছেন। শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের দিয়েই যদি আমরা বাংলাদেশের বড় দৃশ্যপটটি দেখি, সেটিই তো আসলে সব নয়। বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে অর্ধেকের বেশি হচ্ছে নারী। এখানে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার- উনাদের উদাহরণ দিয়ে বিচার করা যায় না। উচ্চপদস্থ কয়জন সিইও আছে, সেটা দিয়েও বিচার করা যায় না। তৃণমূল থেকে সর্বস্তরে কয়জন নারীর ক্ষমতায়ন হলো, সেটি দেখার বিষয়। সমাজে নারীর প্রতি যে সম্মান এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো কি না, তা দিয়েই নারীর উন্নয়ন বিচার করা উচিত। 

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, সারাদেশের যে চিত্রটি আমরা দেখি, বাংলাদেশের নারীরা এখন পর্যন্ত সম্মানের জায়গা থেকে যদি দেখি, সে জায়গাটি এখন পর্যন্ত আমি মনে করি তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। অনেক নারীবান্ধব আইন হয়েছে, অনেক কিছু ফ্যাসিলিটেড (সুবিধাজনক) করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সরকার ভালো ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন নারীবান্ধব। কিন্তু সেটি আসলে পারিবারিক শিক্ষা থেকে শুরু করে আইনের যে প্রয়োগ, আইনের প্রয়োগের জায়গাটিতে অনেক অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এখনও আমরা দেখি সর্বোচ্চ আদালত থেকে বলা হয় যে, মহিলা কাজী (বিয়ের কাজী) নিয়োগের ক্ষেত্রে যে রায় আমরা দেখতে পেয়েছি, মহিলা কাজী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ ধরনের বিষয়গুলো আসলে খুবই দুঃখজনক। অনেক কিছুই এখনও আমরা দেখতে পাই, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, অনেক বহুদূর যাওয়ার রয়েছে আমাদের।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

“এই দেশে আর সুজাতা সিং-এর কোনো প্রভাব থাকবে না”

প্রকাশ: ০৪:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“আমাদের জনগনের সাপোর্টের যে ডেপোজিট, হালখাতা- এই জায়গায় আমরা সফল। এখন আমরা নববর্ষে, ২০২৩ সালের শেষে কতটা সফল হবো- এটা নিয়েই আমাদের আলোচনার বিষয়। আমরা প্রথম মাসটা কাটিয়েছি। এই মাসটিতেও আমরা বিভিন্নভাবে তৎপর ছিলাম। যদিও এই মাসটিতে আমাদের সকল নেতারা, যারা নীতি নির্ধারক, তাদের সকলেই কারাগারে নিক্ষেপ ছিল, আমাদের মহাসচিব কারাগার থেকে বেড়িয়ে এসে তিনি নতুন উদ্দীপনায়, নতুন গতিতে আবার নতুনভাবে কাজ শুরু করেছেন। এটা বলাবাহুল্য ইতিমধ্যেই আমাদের গ্লোবাল পলিটিক্সও আজকে জনগনের স্বপক্ষের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে।”- বলছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। 

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আমি বলবো, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় থাকা রূপপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পণ্যবাহী যে জাহাজটি, তারা ভারতে খালাস করতে চেয়েছিল, সেই জায়গায়ও তারা ব্যর্থ হয়েছে। তার মানে সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আমাদের এই দেশে আর সুজাতা সিং-এর কোনো প্রভাব থাকবে না। ২০১৪- এর ইলেকশনে সুজাতা শিং এসে এরশাদ সাহেবকে সিএমইচ-এ পাঠিয়ে, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র অনধিকার চর্চা করে আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে ভুলুণ্ঠিত করার যে পদক্ষেপ তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং নিয়েছিল, সেইটা আর হবে না- এটা সুনিশ্চিত।

একের পর বিএনপি সভা-সমাবেশসহ, যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা, ‘পদযাত্রা’  কর্মসূচি, এর আগে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি, ঢাকায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিএনপির আন্দোলন- এছাড়াও বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা ২৭ দফা ঘোষণা এবং বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা, পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং প্রাপ্তির কথা। পাঠকদের জন্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন। আজ প্রকাশ হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আমরা ডোনাল্ড লু’র সফরের সময়ও দেখেছি এবং একইসাথে রাশিয়ার সেংশন দেওয়া জাহাজটি ভারতে খালাস করতে চেয়েও সেটা করতে পারেনি দেখেছি এবং এম জে আকবর, ভারতের বিজেপির প্রভাবশালী নেতা, তিনি ঘোষণাই দিয়েছিলেন তারা এই জাহাজটির পণ্য ভারতে খালাস করতে দিবে না। তাহলে ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে গণতন্ত্রহীনতার যে চর্চা, সেটা হতে পারবে না। এ জায়গাটিতে, আমাদের বিদেশি যে পরাশক্তিগুলো আমাদের ওপরে দৃষ্টি দিয়ে আছে, তারা এই জায়গাটি কনফার্ম করেছে। আমরা বুঝতে পেরেছি, এবারের নির্বাচন অর্থাৎ ২০২৪-এর যে নির্বাচন আর কোনো যেন-তেন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই জিনিসটি জনগনের মধ্যে বিশাল একটি প্রভাব সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ পর পর তিনটি নির্বাচনে কারচুপি করে, তারা নির্বাচনকে কুক্ষিগত করে যে ক্ষমতায় এসেছে, এইবার সেই সুযোগটি তাদের আদৌ হবে না। এই যে আদৌ হবে না, এই জায়গাটিতেই আমাদের সবচেয়ে বড় বিজয় এসেছে। এখন আমাদের মূল বিষয়টি হলো, করতে পারবে না, কিন্তু কিভাবে করতে পারবে না, সেই সিস্টেমকে ডেভেলপ করা। এই সিস্টেমকে ডেভেলপ করতে হলে, আমাদের নির্বাচনকালে একটি সরকারের জন্য জোড় দাবি করতে হবে। 

তিনি বলেন, যেহেতু ইতিমধ্যেই আমরা ছোট্ট নেতা হতে বড় নেতা, প্রত্যেকেই জেল-জুলুম হুলিয়ায় এতোটাই অভ্যস্থ হয়েছি, আমাদের সীমাহীন আত্মবিশ্বাসের একটি শক্তি আমরা অর্জন করেছি। আমরা জেলে যেতে পারি কিন্তু আমরা হার মানবো না। এই যে বিশ্বাস, এই যে আত্মবিশ্বাস- এটাই হচ্ছে আমাদের ২০২২ সালের সবচেয়ে বড় বিজয়। এ বিজয়টাকে নিয়েই আমরা ২০২৩ সালে আবার নতুন ধারাবাহিকতায়, আবার এই আন্দোলনটাকে ক্রমান্বয়ে যে ১০ মাস আছে, এই ১০ মাসে আন্দোলনটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যেহেতু এইবার বাংলাদেশের নাগরিক, জনগন হতে শুরু করে বহির্বিশ্বে সকলেই বুঝতে পেরেছে, এই সরকার একটি জুলুমের সরকারের জায়গায় তারা নিজেদেরকে শাষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে- এটি আর জনগনের কাছে বুঝবার বাকি নয়। 

আরও পড়ুন: (প্রথম পর্ব )‘প্রশাসনের ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি’ 


সুজাতা সিং   আ ন ম এহসানুল হক মিলন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রশাসনের ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“মূলত বিএনপির আন্দোলনটাকে ধারাবাহিকভাবে এস্কেলেট (ধাপে ধাপে বৃদ্ধি) করতে হবে। টাইম বার্সেস ফারেনহাইট (সময় বনাম উত্তাপ বা চাঙ্গা), আমরা যদি গ্রাফে এটি দেখাই। তাহলে আমাদের সময় আছে মাত্র ১১ মাস। আবার নির্বাচনের আগে আছে ১০ মাস। তাহলে আমাদের গড়ে এদিকে ১০ মাস, ওদিকে ১০ মাস। বিএনপি যেভাবে এগুচ্ছিলো, অর্থাৎ ১০ই ডিসেম্বরের যে মহা সমাবেশ, সেখানে এসে বিএনপিকে আনেকটা নাজেহাল করলো প্রশাসন। তখন বিএনপি বনাম প্রশাসন হয়ে গেলো। ১০ই ডিসেম্বর প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ প্রটেকশন। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে এখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব। প্রশাসনের ইচ্ছেমাফিক একটি রাজনৈতিক দল কখনও চলতে পারে না। প্রশাসন একটি রাজনৈতিক দলের ইচ্ছমাফিক চলবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, ঘোড়ায় গাড়ি টানবে, গাড়িকে ঘোড়া টানবে না। আমরা বলবো, পল্টনে করবো, প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ দ্য সিকিউরিটি, কমফোর্ট। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে পল্টনে করতে দেব না। এতে কি হলো? ঘোড়া গাড়ি টানলো না, গাড়ি ঘোড়া টানলো।”- বলছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।                

একের পর বিএনপি সভা-সমাবেশসহ যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছে, ‘পদযাত্রা’  ঘোষণা , এর আগে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি, ঢাকায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিএনপির আন্দোলন- এছাড়াও বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্র গঠনে রূপরেখার ২৭ দফা ঘোষণা এবং বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা, পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং প্রাপ্তির কথা। পাঠকদের জন্য  ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন। আজ প্রকাশ হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ একটি খুব কঠিন পলিটিক্স করলো। প্রশাসনের সাথে আমাদের একটি বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করার একটি ট্রেপ (ফাঁদ) করলো। এই ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি, প্রশাসনের ফাঁদে। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে প্রশাসন বনাম বিএনপি হয়ে যাক, আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি না। এই জায়গাটায় খুব চাণক্য পলিটিক্স করেছে আওয়ামী লীগ। আমরা পল্টনে মিটিং করবো, তারা জনগণের ভোগান্তি হবে বিবেচনায় পল্টনে মিটিং করতে দিবে না। এটা আদৌ কোনো সত্য কথা নয়। যেখানেই মিটিং করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। চীন-মৈত্রীর মাঠেই করুক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই করুক, যেখানেই করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। আওয়ামী লীগ একটি খোরা যুক্তি খাড়া করলো, তারা পল্টনে সমাবেশ করতে দেবে না। আমরা পল্টন যদি দখল করতাম সমাবেশের জন্য, ৩/৪ ঘণ্টা সমাবেশে থাকতাম। তারা স্রেফ বলতে পারতো ৩ ঘণ্টার জন্য আপনারা পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করবেন, ৩ ঘন্টার এক মিনিট বেশিও আপনার পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন না। হয়ে যেত এবং তারা আমাদেরকে ৩ ঘণ্টার জন্য সিকিউরিটি দিতো। 

তিনি বলেন, কিন্তু তারা বললো, পল্টনে করা যাবে না। প্রশাসনের এই বিমাতাসুলভ আচরণ আওয়ামী লীগ এটা করালো চালাকি করে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে যে আওয়ামী লীগ অফিস, ওটাতো চিরতরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে যখন তাদের সমাবেশ হয়, তখন সেটাও তো বন্ধ হয়েই যায়। কিংবা শেরে বাংলা নগরে, চীন-মৈত্রীর মাঠে সমাবেশ করলে, সেটাও কিন্তু বন্ধ হয়েই যায়। আমরা তো শুধু তিন ঘন্টার জন্য চেয়েছিলাম। সারা বাংলাদেশে ৯টি সমাবেশ করে ১০ম সমাবেশে যে মমেন্টামটা  আমাদের গ্রো করেছিলো, যে গতিটা হয়েছিলো, প্রশাসনের সঙ্গে বৈরী ভাব করে সেটাকে তারা বাধাগ্রস্থ করলো। যেহেতু আমরা আস্তে আস্তে, আন্দোলনটা ধাপে ধাপে ওপরে উঠতেছিল, তারা আমাদের গতিটাকে প্রজেক্টাইলের মতো, অর্থাৎ একটা ঢিল ছুড়লে, এটা আকাশে উঠে আবার পড়তে থাকে, এটা পড়তে থাকলো নিচের দিকে। সে জায়গাটাতে আমাদেরকে খানিকটা পিছিয়ে দিয়েছে। তাহলে এখন আমাদের আন্দোলনে গতিপ্রকৃতি কি হবে? 

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আন্দোলনটাকে তুঙ্গে ওঠানো, আমাদের দলের যে পরিকল্পনাটা ছিল, ২০২২ সালের আমাদের দলীয় সালতামামিতে, আমরা সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা, এটা আমরা সফল হয়েছি। কারণ ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সমাবেশকে তারা প্রশাসন দ্বারা খানিকটা ব্যর্থ করতে পারলেও, মূলত আমরা ৯টি সমাবেশে প্রমাণ করেছি, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের মধ্যে আমাদের একটি অবস্থান আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি এবং আওয়াজ দিতে পেরেছি, যেটা ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৪ থেকে শুরু করে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে শুরু করে বর্তমান, এই ১৪ বছরে সেরা আন্দোলন আমরা ২০২২-এ দেখিয়েছি। এতে এই জিনসিটাই প্রতয়ীমান হয়, বিএনপির যে ভোট ব্যাংক, সাপোর্ট ব্যাংক, জোট ব্যাংক, যেটি আমাদের রয়েছে, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটি একটি কার্যকর।আমাদের সক্ষমতা আছে আন্দোলন করার, ২০২২ সালের সালতামামিতে এটা আমরা দেখতে পেয়েছি।


বিএনপি   আ ন ম এহসানুল হক মিলন   সাক্ষাৎকার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন