ইনসাইড টক

‘পাকিস্তানের ওদ্ধত্যপূর্ণ কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, এটাতো অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। কারণ খেলাধুলার প্র্যাকটিসে কখনো কোনো জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম নেই। একমাত্র বিদেশের মধ্যে ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে নিয়ম অনুযায়ী উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেট দল যেটা করেছে, তা চরম ধৃষ্টতা, ওদ্ধত্যপূর্ণ। এটাকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ক্রিয়া নীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা। তারা এ ধরণের কাজ আগেও করেছে। আমি মনেকরি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের উচিত তাদের কৈফিয়ত তলব করা এবং তাদেরকে এ ওদ্ধত্যপূর্ণ কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা। তারা যদি তা না করে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। 

বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল অনুশীলনের সময় পাকিস্তানী পতাকা উড়ানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় শাহরিয়ার কবির এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য শাহরিয়ার কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

এখানে রাজনীতি আছে কি না জানতে চাইলে শাহরিয়ার কবির বলেন, এটা সবসময়ই রাজনীতির ব্যাপার। তারা তো কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পাকিস্তান কর্তৃক গণহত্যা কোনো কিছুই স্বীকৃতি দেয়নি। যেই মিরপুর স্টেডিয়ামে তারা এই কাজটি করেছে, এই গোটা মিরপুরই একাত্তর সালে ছিল পাকিস্তানের বধ্যভূমি। ঢাকার সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এই মিরপুরে। সেই শহীদদের প্রতি তো তাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। একাত্তর সালে তারা যাদের হত্যা করেছে, এখন সেই জায়গায় পাকিস্তানের পতাকা উড়াচ্ছে। প্রতিবাদ করাটা ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব। সব ব্যাপারে তো প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা বলার দরকার নেই। এর জন্য ক্রিকেট বোর্ডই যথেষ্ট। ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করবে যে কেন তারা প্রথা ভেঙ্গে এটা করেছে? পাশাপাশি এ ঘৃণ্য কাজের জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কাণ্ড না ঘটায় তার জন্য সতর্ক করে দেবে। যদি পাকিস্তান এটা না করে তাহলে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট না খেললে আমাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, তাদের উচিৎ হচ্ছে পাকিস্তানের কাছে এটা কৈফিয়ত তলব করা। বাংলাদেশে এসে তারা এভাবে আমাদের শহীদদের অবমাননা করবে, প্রথা ভাঙ্গবে, এটা তো হতে পারেনা। এটা তো প্রথা ভঙ্গ, পৃথিবীর কোন দেশে এই ধরণের নিয়ম নাই। তার মানে বাংলাদেশে কোন নিয়ম-নীতি আছে, এটা তারা মানার দরকার মনে করে না। পাকিস্তানী পতাকা উড়িয়ে দিল। আমাদের পতাকা উড়াবার কতগুলো নিয়ম আছে। বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশী পতাকা যখন-তখন যেখানে-সেখানে উড়ানো যায় না। বিশেষ করে বিদেশিরা। খেলার সময় কোন বাংলাদেশী পতাকা দেখালে আমরা তার সমালোচনা করতে পারি কিন্তু সেটা আইনত নিষিদ্ধ না। কিন্তু এরা যেটা করেছে এটা তো বে-আইনি কাজ করেছে, নীতি বহির্ভূত কাজ এটা। পৃথিবীর কোন দেশে এটা করা হয়না।

শাহরিয়ার কবির বলেন, এই ধরণের ধৃষ্টতা পাকিস্তান ক্রিকেট দল আগেও এখানে দেখিয়েছে। আমাদের অনেকের মধ্যে তো এখনো পাকিস্তান প্রেম আছে। একাত্তরে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে গণহত্যায় সহযোগিতা করেছিল তারা তো এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও তাদের অনেকে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের যেটা বলার আমরা সেটা বলে যাচ্ছি ধারাবাহিকভাবে। আমরা সবসময় বলেছি যে পাকিস্তানের দূতাবাস বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে সেটার সমালোচনা করেছি। বলেছি যে কূটনৈতিক পর্যায়ের সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ের নামিয়ে আনার জন্য। কারণ, বারবার তারা আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে কটাক্ষ করেছে। গণহত্যাকে অস্বীকার করছে, গণহত্যার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপাচ্ছে। তাদের ধৃষ্টতার তো কোন অন্ত নেই। তো সেই জন্য তারা ক্রিকেট খেলতে এসেও সেই ধরণের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করবে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করবে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়ম-নীতিকে অগ্রাহ্য করবে এটাতো মেনে নেয়া যায়না। গর্হিত অপরাধ তারা করেছে, এর জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অসুস্থতা নিয়ে মন্তব্য করে নিকৃষ্ট মানুষিকতার পরিচয় দিয়েছেন সিইসি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পক্ষপাতদুষ্ট এবং তার পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার অন্য তিনজন সহকর্মীও তার প্রতি অনুগত, সরকারের প্রতি অনুগত। তাই তারা মধ্যরাতে ভোট হওয়া স্বত্বেও তারা নির্বাক। মাহবুব তালুকদারকে আমি এ পর্যন্ত যা দেখেছি, তিনি জনগণের ভোটাধিকার, মানুষের অধিকার এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও বেগবান করার পক্ষে সবসময় অবস্থান নিয়েছেন।

সিইসি নুরুল হুদা ও ইসি মাহবুব তালুকদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মাহবুব তালুকদার একজন অসুস্থ ব্যক্তি এবং চিকিৎসার জন্য বিধিসম্মতভাবে সরকারের সহায়তা পেয়েছেন। এই সুবিধা সব সরকারি কর্মকর্তাই নিয়ে থাকেন। তার প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে আচরণ করেছেন, এটি মেনে নেওয়া যায় না। তার অসুস্থতা নিয়ে মন্তব্য করে একটি নিকৃষ্ট মানুষিকতার পরিচয় দিয়েছেন সিইসি। সত্যতা, সততা কিংবা সৌজন্যবোধের মতো বিষয়গুলো মনে হচ্ছে সিইসির অভিধানে নেই। পাশাপাশি সিইসির বিজ্ঞতা নিয়েও নাগরিক সমাজে প্রশ্ন আছে। দুর্ভাগ্যবশত এসব ব্যক্তিদেরই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। 

নির্বাচন কমিশন আইন বিষয়ে তিনি বলেন, পুরনো পন্থায় তো আর নতুন গন্তব্যে যাওয়া যাবে না। যে আইনটি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে পুরনো প্রজ্ঞাপনকে আইনের মোড়কে সংসদে পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, এটি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে কিংবা স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের নিয়ে হবে না। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো কিছুই নেই। যার ফলে এই আইনের মাধ্যমে নূরুল হুদার মতো ব্যক্তিরাই নিয়োগ পাবেন। এটি আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। এই আইনের সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো স্বচ্ছতার অভাব। এমনকি এই আইন প্রণয়ন করে বিগত দুটি কমিশনকেও এক প্রকারের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আমি মনে করি এই আইন আমাদের জন্য কোনো ধরণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। পাশাপাশি আইন যাই থাকুক না কেন, নির্বাচনকালীন সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ নির্বাচনকালীন সরকার যদি নিরপেক্ষ না হয় তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়৷

সিইসি   ইসি গঠন আইন   মাহবুব তালুকদার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আইনের এ.বি.সি কেউ বুঝে না, আমিও বুঝাতে বুঝাতে ক্লান্ত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনটি নিয়ে এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সব আইনের প্রথম এক নম্বর ধারা থাকে ‘শিরোনাম’। আমি শেষ মূহুর্তে আইনটির শিরোনাম নিয়ে বলেছিলাম, আইনটির শিরোনাম হোক আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন। তাহলে হয়তো একটা জায়গায় সরকার সৎ থাকতো। এটা তো আসলে তাই হয়েছে। আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, আগামী জাতীয় সংসদ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. শাহদীন মালিক।

আইনের শিরোনাম ‘আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন’ রাখা উচিত মনে করার কারণ এবং আপনার কেনো মনে হয় সার্চ কমিটি কোনো যোগ্য মানুষ খোঁজে বের করতে পারবে না, জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইনের এ বি সি ডি কেউ বুঝে না। আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছি আইনের এ.বি.সি বুঝাতে বুঝাতে। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্যও এরকম একটি আইন আছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এরকম একটি আইন আছে, তথ্য কমিশন গঠনে এরকম একটি আইন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদাধিকার বলে কমবেশি হাইকোর্টের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সদস্যরাই নিয়োগকৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন সাহেব গত রোববার বলেছিলেন যে, উনি প্রথম দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সদস্য এবং পরবর্তী মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওনাদের মিটিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ থেকে এনভেলাপে কয়েকটি নাম এবং সিভি দিয়ে দেওয়া হয়। উনারা ওই নাম ও সিভিগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। মতিন সাহেব খুবই সিনিয়র লোক। খায়রুল হক সাহেব তাকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি হয়েছিল। উনি গত রোববার একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে এ কথাগুলো বলেছেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাহদীন মালিক বলেন, আইনমন্ত্রী বোধহয় আমাদের তৈরি করা আইনের খসড়াটি পড়েননি। তাই তিনি আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলেছেন। ২০১১ সালে আমরা যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম, সেটি ছিলো শামসুল হুদা কমিশনের জন্য। আমাদের দেশের মূল আইনের টেক্সট হলো ৪০ হাজার পৃষ্ঠা। এখন দশ বছর আগে শামসুল হুদা কমিশনকে কি আইন প্রস্তাব করেছিলাম, ওইটা তো আর মুখস্থ করে বসে নাই। আপনারা সাংবাদিকরাও তো চাইলে এটি মিলিয়ে দেখতে পারেন। তাহলেই তো দেখতে পাবেন ব্যত্যয়টা কোথায় আছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সকলে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো আইন পাস হয়ে গেছে। এখন তো পরামর্শের কোনো কিছু নাই। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে তারা এই আইনকে কিভাবে নিবে। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আইনের আলাপ-আলোচনা করে সবকিছু দেখে শুনে আইনের খসড়া করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে এই এই আদলে আইনটি হলে ভালো হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় থাকবে। আমরাও জানবো কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই আইনে তো স্বচ্ছতার কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। এখন তো আইন-ই পাস হয়ে গেছে। এখন আর কথা বলে লাভ নেই। গতকাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বলেছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না বলে এটাকে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ আইন বললে বোধহয় আরও সৎ হতো।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের অনিশ্চয়তা দেখেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু সাজেশন আছে। এটি আমাদের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতেও ছিল। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী এই সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ মার্চ ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হলো যে, বর্তমানে বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ এই সংশোধনী পাস হওয়ার দিন থেকে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত করা হলো। এটা তো হয়েছে এবং আমাদের এই ঐতিহাসিক উদাহরণ তো রয়েছে। এখন ঝুটঝামেলা না করে সংবিধান সংশোধন করে বলে দিলেই হবে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হইয়া ছিল, আজকে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর পর থেকে এই সংসদের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা হইলো। বিষয়টি এখন ওইদিকেই যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ আইনের একটি জায়গায় বলা আছে, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মেয়াদ পাঁচ বছর। এখন এটাকে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর সংশোধন করে দিলেই ঝামেলা শেষ হয়ে গেল।

নির্বাচন কমিশন আইন   সংবিধান   রাজনৈতিক দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নাম পাবলিক করলে আস্থার জায়গা শক্ত হতো’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ৫০ বছর পরে এসে এটাকে যদি বলা হয় নির্বাচন কমিশন আইন তাহলে এটা হাস্যতুল্য হয়ে যায় না? যেটা সবসময় বলা হয়েছে যে, আইনটা পড়লে মনে হয় রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য করার জন্য, একটা সার্চ কমিটি গঠন করার জন্য এটি করা হয়েছে। ঠিক যেভাবে আগের সার্চ কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কিন্তু এটি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ পাস হওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, সিভিল সোসাইটি যদি মনে করে এরকম একটা অপূর্ণাঙ্গ আইনকে যদি মেনেও নিতে হয় তাহলে সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি ছিলো যে, সার্চ কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে রাষ্ট্রপতির কাছে সেগুলো পাবলিক করা হোক। তাহলেই তো জনগণের আস্থার জায়গা অনেক বেশি শক্ত হতে পারতো। জনগণ জানতো যে আমরা ক, খ নামগুলো দিয়েছি। এখন ক এবং খ কে, এটা জনগণ জানে। এটা বিচার-বিশ্লেষণ করবে এবং এটা বুঝবে, এই যে সার্চ কমিটি করেছে আইনের মাধ্যমে সেখানে প্রকৃত যথার্থ ব্যক্তিকে তারা বের করেছে সার্চের মাধ্যমে নাকি তারা শুধুমাত্র একপেশে নাম দিয়ে দিয়েছে। সেখানেই বুঝা যাবে নির্বাচন কেমন হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে যে নামগুলো দেওয়া হচ্ছে সেগুলো প্রকাশে আপত্তি কোথায়? যাদের মধ্য থেকে বেঁছে নিবেন সেই নামগুলো সকলে জানুক, তাদের মধ্য থেকে বেঁছে নিক। কোন অসুবিধা নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন উপাচার্যের প্যানেল করা হয় তিন জনের নাম তো পাঠানো হয় এবং সেই তিন জনের নাম সবাই জানে। সেখানে রাষ্ট্রপতি চাইলে ১ নম্বর জনকে না দিয়ে ৩ নম্বর জনকে উপাচার্য করতে পারেন। কিন্তু জনগণ তো দেখলো যে কে লিস্টের ১ নম্বরে ছিলেন। তখন মানুষের মনে একটা জবাবদিহিতার জায়গা সৃষ্টি হয়। সেই জায়গাটি তো গোপন করে রাখার মত কিছু নয়। সরকার যদি মনে করে জনগণের সরকার, জনগণের রাষ্ট্র, জনগণ কেন্দ্রিক প্রশাসন হবে। তাহলে লুকিয়ে রেখে তো কোনদিন সুশাসন হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশন   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ফরিদ ‍উদ্দিন হয়তো দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাচ্ছেন না’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে শিক্ষার্থীদের সাত দিন ধরে চলমান অনশন ভাঙ্গার প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, প্রথমত এটি একটি চরম স্বস্তির খবর। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেভাবে তাদের জীবন-মরণ এবং উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ, এ দুইটি বিষয়কে সমান করে দেখেছিল। অর্থাৎ তাদের জীবনের মূল্য হচ্ছে প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের সমান। এর থেকে যে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসতে পেরেছে, আমি মনে করি এটি একটি সফলতা। যারা যারা এ সংকট নিরসনে ভূমিকা রেখেছে বিশেষ করে ড. জাফর ইকবাল স্যারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে তিনি সস্ত্রীক সিলেটে গিয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়েছেন। এ জন্য ওনার প্রতি আমাদের সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। 

ড. জাফর ইকবাল স্যারের অনুরোধে শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান অনশন ভাঙ্গা, শিক্ষর্থীদের আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জাফর ইকবাল স্যার তো আর সরকারের সাথে যোগাযোগ না করে সিলেটে যান নাই। অবশ্যই তিনি সরকারের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে সেখানে গিয়েছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জাফর ইকবাল স্যারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও স্যারের যোগাযোগ আছে। ফলে সরকারের তরফ থেকে ইশারা পেয়েই তিনি এটা করেছেন। 

তিনি বলেন, এখন যেসব সমস্যা আছে, তা সমাধান করতে হবে। এখন যেহেতু অনশন ভেঙ্গে গেছে, আমি মনে করি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিনের দিক থেকে একটা কাজ করা দরকার। সেটি হলো একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে পুরো ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করা। উনি যদি বলেন আমি দায়ী হলেও চলে যাবো, নির্দোষ হলেও থাকবো না, কিন্তু একটি তদন্ত করা দরকার, তাহলে পরে ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না। 

ভিসি ফরিদ ‍উদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভিসি ফরিদ উদ্দিন সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে, একটা পর্যায়ে হয়তো উনি নিজেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে চাইবেন না। উনি হয়তো বদনাম বা দায় কাঁধে নিয়ে চলে আসতে চাইছেন না। সেই জন্যই হয়তো এখন পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। কেননা উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন তিনবার ডীন ছিলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন, ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এমনকি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টিও উনার তদারকিতে হয়েছিল। আমি যখন জগন্নাথ থেকে চলে আসলাম, তখন তিনি একা পুরো জিনিসটিকে গুছিয়ে এনেছেন এবং করেছেন। তিনি দক্ষতার সাথে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বয় করে বলতে গেলে এক হাতে পুরো ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। গুচ্ছ পরীক্ষার সব কৃতিত্ব উনার। প্রশ্নের গোপনীয়তা মেইন্টিন করা, পরীক্ষার গুণগত মান মেনন্টেইন করা, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়া, এই বিষয়গুলোতে তার অসাধারণ দক্ষতা আছে। 

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের করা সংবাদ সম্মেলনটি দেখেছি। ছাত্রদের অভিযোগ টংঘর উঠিয়ে দিয়েছে। আবার আমি শুনেছি টংঘরে বিভিন্ন সময় মাদক পাওয়া গেছে, এটা,সেটা অনেক কিছু। তারপর ভিসি নাকি আল্পনা আঁকতে দেয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে আল্পনা আঁকতে হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ। কেউ কিন্তু বলতে পারেনি যে, তিনি স্বজনপ্রীতি করেছেন, নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন কিংবা প্রকল্পর টাকা মেরে খেয়েছেন, যেগুলো আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। এমনকি যারা আন্দোলন করছেন, তারাও এ ধরণের কথা বলেনি। ফলে তার যোগ্যতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত নই। 

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, শাহজালালে ঘটনা যেটি হয়েছে, তা একটি হল কেন্দ্রিক। একটি হলের সমস্যা সমাধানে প্রভোস্ট অপারগতা প্রকাশ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো ‍গ্রুপ থাকে। শিক্ষক থাকে, শিক্ষক সমিতি থাকে, শিক্ষার্থী থাকে। এগুলোকে ম্যানেজ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ছাত্ররা এক দুই দিন সময় দিলে হয়তো এটি ম্যানেজ হয়েও যেতো। কিন্তু এর ভেতরে ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করাতে বিষয়টি উল্টো দিকে ঘুরে যায়। তবে এখানে বলা উচিত  যে পুলিশের হামলার আগে ও পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা লাঞ্ছিত করেছে। শিক্ষকদের দৌড়ানি দেয়া হয়েছে। রুমে তালাবন্দি করা হয়েছে। ইট মারা হয়েছে। এখন এগুলো কোনটা আগে হয়েছে আর কোনটা পরে হয়েছে তা জানতে তদন্ত হওয়া দরকার। পুলিশ আগে আক্রমণ করলো নাকি শিক্ষার্থীরা আগে আক্রমণ করেছে, এগুলো নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু সেখানে তো সিসিটিভি আছে। ফলে আমি চাই একটি তদন্ত হোক। 

তিনি বলেন,  ফরিদ ‍উদ্দিনের দোষ হিসেবে আন্দোলনকারীরা যা বলছে, তা হলো ক্যাম্পাসে পুলিশ আক্রমণ করেছে। এখন পুলিশ যে আক্রমণ করলো, তা কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আক্রমণ করলো, তা কিন্তু আমরা জানি না। পুলিশের আক্রমণে ফরিদ উদ্দিনের কি ভূমিকা ছিল? ফরিদ ‍উদ্দিনকে তো তার রুমে আটকিয়ে তালা মেরে রাখা হয়েছিল। এখন ফরিদ উদ্দিনিই কি পুলিশ ডেকে নিয়ে এসেছে এবং আক্রমণ করতে নির্দেশ দিয়েছে? আমার তো মনে হয় না। পরবর্তীতে আন্দোলনের সাথে তো দেখলাম ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে গেছে।  

জাফর ইকবাল স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে সিরিয়াস পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা নিজেদের জীবনের সাথে ভিসির পদত্যাগকে সমান করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছিল। একজন ভিসির পদত্যাগের সাথে যদি শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের মূল্য সমান করে ফেলে, তখন বিষয়টি মারাত্মক বলেই ধরে নেওয়া যায়। এখন পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হচ্ছে। বাদবাকি যে বিষয়গুলোতে ঘাটতি আছে, তা আশু সমাধান করে ফেলা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিনের উচিত একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আর ভিসি ফরিদ উদ্দিন শাবিপ্রবিতে আর থাকবে বলে মনে হয় না।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়   ছাত্র আন্দোলন   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘৬০ শতাংশ লিংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপপ্রচারটা যেখানে হচ্ছে সেটিকে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে তৈরি না, এগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মাধ্যম সেই মাধ্যমগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, তাদের যে পলিসি সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়। সেই কারণে শুধু বাংলাদেশ না, সকল দেশের জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। শুধুমাত্র অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য দেয়া কিংবা মানহানিকর বিষয় না। এটি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত থাকে, সন্ত্রাসে যুক্ত থাকে এবং সাম্প্রদায়িকতা তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের আইনি অবকাঠামো ছিলো না। যেটা ছিলো তা হলো আইসিটি অ্যাক্ট-২০০৬, যেটা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়। এর মধ্যে বহুল আলোচিত কয়েকটি ধারা যেমন- ৫৭ ধারা, ৫৪ ধারা যুক্ত করা ছিলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, অপপ্রচার রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০১৩ সালে যখন হেফাজতের কর্মকাণ্ড গুলো হয় তখন তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশোধন করা হয়। বস্তুতপক্ষে এটা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য টার্গেট করাও ছিলো না। ২০১৮ সালে আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করি। এই আইনে আইনি কাঠামোটা দেয়া হয়েছে। আইনি কাঠামোর যেটা সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এটি তো বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যে প্লাটফর্মটা আমাদের না সেই প্লাটফর্ম তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা।

অপপ্রচার রোধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না তথ্যটি সঠিক নয়। আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ নিয়ে আমরা একবার ফেসবুক বন্ধও করেছিলাম। বন্ধ করে দেয়ার পর ১৫ দিনের বেশি এটা বন্ধ ছিলো। আমরা মনে করি, বন্ধ করাটা সমাধান নয়। কারণ, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। ওষুধ খেয়ে এটাকে সারাতে হবে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেসবুক-ইউটিউবের সাথে আমাদের কোন যোগাযোগই ছিলো না। আমি এসে তাদের সাথে যোগাযোগ করি, তাদের সাথে বৈঠক করি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম এদের উচ্চপর্যায়ের আমেরিকান কর্মকর্তাদের সাথে বার্সেলোনায় বৈঠক করি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নিয়মিত প্রায় তিন মাস পরপর আমরা একটা করে অফিসিয়াল মিটিং করি। কখনো ভার্চুয়ালি করি, কখনো ফিজিক্যালি করি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে না এটা একেবারেই ভুল তথ্য। আমরা এখন সবকয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করি। তাদেরকে প্রতিদিন শত শত লিংক পাঠাই। এই লিংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৬০ শতাংশ লিংক ওরা বন্ধ করেছে। এটা আমাদের জিরো ছিলো। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় এসে জিরো থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত আমরা আনতে পেরেছি। তারা আমাদের বাংলাদেশের জন্য এখন একজন প্রতিনিধিও দিয়েছেন একজন বাংলাদেশী নাগরিককে। তারা আমাদের সাথে প্রায় প্রতিদিনিই যোগাযোগ করি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা ইউটিউব, গুগল, টিকটকসহ সকলের সাথে কথা বলেছি। এইটুকু আমি বলতে পারি, ২০১৮ সালে যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় ছিলাম তার চাইতে অনেক ভালো এখন। আমরা এরইমধ্যে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছি। কোন ওয়েবসাইট যদি ক্ষতিকর কিছু করে, অনিবন্ধিত হয়, বেআইনি হয়, সেগুলোকে আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। ইতোমধ্যে আমরা ২২ হাজার  পর্নো সাইট বন্ধ করেছি, ৬ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি এবং অনিবন্ধিত সাইট বন্ধ করেছি।

মোস্তাফা জব্বার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন