ইনসাইড টক

‘পাকিস্তানের ওদ্ধত্যপূর্ণ কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৬ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, এটাতো অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। কারণ খেলাধুলার প্র্যাকটিসে কখনো কোনো জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম নেই। একমাত্র বিদেশের মধ্যে ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে নিয়ম অনুযায়ী উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেট দল যেটা করেছে, তা চরম ধৃষ্টতা, ওদ্ধত্যপূর্ণ। এটাকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ক্রিয়া নীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা। তারা এ ধরণের কাজ আগেও করেছে। আমি মনেকরি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের উচিত তাদের কৈফিয়ত তলব করা এবং তাদেরকে এ ওদ্ধত্যপূর্ণ কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা। তারা যদি তা না করে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। 

বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল অনুশীলনের সময় পাকিস্তানী পতাকা উড়ানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় শাহরিয়ার কবির এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য শাহরিয়ার কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

এখানে রাজনীতি আছে কি না জানতে চাইলে শাহরিয়ার কবির বলেন, এটা সবসময়ই রাজনীতির ব্যাপার। তারা তো কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পাকিস্তান কর্তৃক গণহত্যা কোনো কিছুই স্বীকৃতি দেয়নি। যেই মিরপুর স্টেডিয়ামে তারা এই কাজটি করেছে, এই গোটা মিরপুরই একাত্তর সালে ছিল পাকিস্তানের বধ্যভূমি। ঢাকার সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এই মিরপুরে। সেই শহীদদের প্রতি তো তাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। একাত্তর সালে তারা যাদের হত্যা করেছে, এখন সেই জায়গায় পাকিস্তানের পতাকা উড়াচ্ছে। প্রতিবাদ করাটা ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব। সব ব্যাপারে তো প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা বলার দরকার নেই। এর জন্য ক্রিকেট বোর্ডই যথেষ্ট। ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করবে যে কেন তারা প্রথা ভেঙ্গে এটা করেছে? পাশাপাশি এ ঘৃণ্য কাজের জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কাণ্ড না ঘটায় তার জন্য সতর্ক করে দেবে। যদি পাকিস্তান এটা না করে তাহলে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট না খেললে আমাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, তাদের উচিৎ হচ্ছে পাকিস্তানের কাছে এটা কৈফিয়ত তলব করা। বাংলাদেশে এসে তারা এভাবে আমাদের শহীদদের অবমাননা করবে, প্রথা ভাঙ্গবে, এটা তো হতে পারেনা। এটা তো প্রথা ভঙ্গ, পৃথিবীর কোন দেশে এই ধরণের নিয়ম নাই। তার মানে বাংলাদেশে কোন নিয়ম-নীতি আছে, এটা তারা মানার দরকার মনে করে না। পাকিস্তানী পতাকা উড়িয়ে দিল। আমাদের পতাকা উড়াবার কতগুলো নিয়ম আছে। বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশী পতাকা যখন-তখন যেখানে-সেখানে উড়ানো যায় না। বিশেষ করে বিদেশিরা। খেলার সময় কোন বাংলাদেশী পতাকা দেখালে আমরা তার সমালোচনা করতে পারি কিন্তু সেটা আইনত নিষিদ্ধ না। কিন্তু এরা যেটা করেছে এটা তো বে-আইনি কাজ করেছে, নীতি বহির্ভূত কাজ এটা। পৃথিবীর কোন দেশে এটা করা হয়না।

শাহরিয়ার কবির বলেন, এই ধরণের ধৃষ্টতা পাকিস্তান ক্রিকেট দল আগেও এখানে দেখিয়েছে। আমাদের অনেকের মধ্যে তো এখনো পাকিস্তান প্রেম আছে। একাত্তরে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে গণহত্যায় সহযোগিতা করেছিল তারা তো এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও তাদের অনেকে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের যেটা বলার আমরা সেটা বলে যাচ্ছি ধারাবাহিকভাবে। আমরা সবসময় বলেছি যে পাকিস্তানের দূতাবাস বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে সেটার সমালোচনা করেছি। বলেছি যে কূটনৈতিক পর্যায়ের সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ের নামিয়ে আনার জন্য। কারণ, বারবার তারা আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে কটাক্ষ করেছে। গণহত্যাকে অস্বীকার করছে, গণহত্যার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপাচ্ছে। তাদের ধৃষ্টতার তো কোন অন্ত নেই। তো সেই জন্য তারা ক্রিকেট খেলতে এসেও সেই ধরণের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করবে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করবে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়ম-নীতিকে অগ্রাহ্য করবে এটাতো মেনে নেয়া যায়না। গর্হিত অপরাধ তারা করেছে, এর জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।

পরিবারকেন্দ্রিক   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের উৎসাহ আর উদ্দীপনা ব্যাপক। এটি শুধু এখন নয়, উদ্বোধনের আগেও ছিল। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের যে আবেগ ও উৎসাহ, সেটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ, অতি উৎসাহ এটি থাকবেই। কারণ সারাদেশের মানুষের আবেগ জড়িত আছে এই সেতুর সাথে। তবে কারো কারো উৎসাহের সাথে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্নের বিষয় এবং সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান করে দেখবেন। বিষয়টি নিয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজ খবর এবং আরও নজরদারি করার দরকার বলে আমি মনে করি। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিন সেতু উপরে উঠে ছবি তোলা, টিকটক ভিডিও বানানো এবং পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নেওয়া প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের স্বপ্ন পূরণের বাস্তব নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই পদ্মা সেতু। ফলে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হতেই পারেই। এটা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে সকল বিষয়ের দিকে বিশেষ নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং আরও বেশি তৎপর থাকবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। কারণ পদ্মা সেতু আমাদের একটি বড় স্থাপনা, যেটা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি এবং উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। সেটার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয় এবং এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলেছে পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে। দেশের অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা এর সাথে জড়িত আছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমাদের দেশে অপরাজনীতি আছে। আবার বিরোধীতার জন্য বিরোধীতাকারীদের সংখ্যাও আছে। যারা মূলত এ ধরনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। এ ধরনের রাজনীতির করার নেতাও আছে, যারা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে সাধুবাদ জানাতে পারেন না। সুতরাং তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং সাময়িক সময়ের জন্য। সেতুতে পারাপারের সঙ্গে জড়িত সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হলেই শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'


Thumbnail 'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনসহ যে সংকটগুলো আছে, সেগুলো নিরসনের জন্য সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে। 

বন্যা পরিস্থিতি, বন্যার্তদের পুনর্বাসন নদীভাঙনসহ বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য এ কে এম এনামুল হক শামীম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বন্যার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন। আমিও এলাকাগুলোতে গিয়েছিলাম। এখন আওয়ামী লীগ এমপি, জনপ্রতিনিধি এবং সকল সহযোগী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বন্যার্তদের পাশে সরকার এবং আওয়ামী লীগ রয়েছে। সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে। দিন দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা যেগুলো আছে, প্রত্যেক জায়গায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেইভাবেই আমরা এলার্ট রয়েছি, প্রস্তুত রয়েছি। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যেনো নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে তারা সর্বোচ্চ নজরদারী দেন। 

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রতি বছরই এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে বন্যা কয়েক দফা হয়, বর্ষা হয়, নদীভাঙন হয়, ঘূর্ণিঝড় হয়, সাইক্লোন হয় এটা আমরা প্রতি বছরই জানি এবং সেই ভাবেই আমরা আগাম প্রস্তুতি রাখি। মূলত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সব সময় এলার্ট থাকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এলার্ট থাকি। 

বন্যা পরিস্থিতি   বন্যা   বন্যার্ত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টানিং পয়েন্ট’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, আজকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। স্বাধীনতা অর্জন করার পর আমার মধ্যে যে ধরনের অনুভূতি ছিল, আজকেও সেই একই অনুভূতি কাজ করছে। পদ্মা সেতুর মতো এতো বড় মেগা প্রজেক্ট যেটি নানা রকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আজকে চূড়ান্ত দৃশ্যমান হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজের অর্থ ব্যয়ে যখন পদ্মা সেতু হলো তখন বার বার সেই একাত্তরের কথাই মনে পড়ছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাঙালি জাতি পারে না এমন কোনো জিনিস বা কাজ নেই। প্রয়োজন শুধু যোগ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্ব ঠিক থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে বাঙালি জাতি সম্ভব করতে পারে। আর সেটা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে প্রমাণিত হয়েছে। আজ ২০২২ সালে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন, আর যিনি মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে পারেন বা মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসেন আসল কৃতিত্ব তখন তারই হয়। পদ্মা সেতু বেলায় সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পদ্মা সেতু নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র, এতো বিরোধীতা, কিন্তু তিনি কখনো হতাশ হননি। 

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, একবার বঙ্গবন্ধুকে এক বিবিসি সাংবাদিক বলেছিল, আপনার দেশ যে স্বাধীন হলো, আপনার দেশে তো কিছু নাই, আপনি কি দিয়ে দেশকে দাঁড় করাবেন। তখন বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলেছিলেন, আমার দেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। বঙ্গবন্ধু তাকে এও বলেছিলেন, মাটি ও মানুষ এই দুটি জিনিস কখনো আমাকে বিচলিত করে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে সে কথাই পুনরাবৃত্তি করেছেন তার বক্তব্যে। শেখ হাসিনা যাদের উপর আস্থা রেখেছিল তারা উনার বরখেলাপ করেননি। সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই শেখ হাসিনার ওপর যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হবে না বলে যারা সমালোচনা করেছিলেন, বিরোধীতা করেছিলেন, আজকে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ তারা নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপারে অবগত নন। তারা দেশের মানুষের সক্ষমতাকে অস্বীকার করেছিলেন। যা তাদের ভুল ছিল। একাত্তরে আমরা বড় কোনো অস্ত্র শস্ত্র ছাড়াই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ােই করে জয়ী হয়েছি। কারণ আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আছে, তার রক্ত আছে।

পদ্মা সেতু   উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'পদ্মা পাড়ের মানুষকে পদ্মা সেতু নতুনভাবে বাঁচতে স্বপ্ন দেখাবে'

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail 'পদ্মা পাড়ের মানুষকে পদ্মা সেতু নতুনভাবে বাঁচতে স্বপ্ন দেখাবে'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, পদ্মা সেতুর আশেপাশের যে অঞ্চলগুলো আছে, আমরা যেগুলোকে পদ্মা সেতুর বিশেষ সুবিধাভোগী বলে থাকি, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওই ২১টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলা একেবারে দরিদ্র্য জেলা। বাংলাদেশের দরিদ্র্য জেলাগুলোর যে তালিকা সেখানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩টি জেলা আছে। সেখানকার মানুষ যারা চরাঞ্চলের অর্থাৎ যারা সুন্দরবনের আশেপাশে বাস করছেন, যারা প্রতিবছর আইলা বা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা মেনেই নিয়েছে যে, তাদের জীবনটা এ রকমই হবে। খোলা আকাশের নিচে কোনো রকম একটা ঘর থাকবে, মাছ ধরবে সেটা বিক্রি করে তারা জীবন চালাবে। কারণ সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন, এভাবেই তাদের থাকতে হবে, এটা তারা মেনেই নিয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর হওয়াতে এখন তাদের মানসিক জগতের একটা পরিবর্তন হবে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাধারণ মানুষের জীবনে পদ্মা সেতু কি ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে, ওই এলাকার মানুষের মধ্যে এখন একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের যে জীবনযাত্রা সেটাই তাদের জীবনযাত্রা না। আগে তারা শাক সবজি উৎপাদন করতো,  হয়তো মাছ ধরতো বা ফুল চাষ করতো, কিংবা ছোট খাটো কৃষিকাজ করতো। এগুলো তাদেরকে বেশিরভাগ সময় চরাঞ্চলেই বিক্রি করতে হতো। আবার যারা মহাজন আছেন তারাও এসব কিনে খুব বেশি লাভবান হতো  না। কারণ পদ্মা পাড়ে তাদের তিন/চার দিন ধরে অপেক্ষা করতে হতো, ৮/১০ মাইল গাড়ির লাইন দাঁড়িয়ে থাকতো, এতে করে বেশির ভাগ সময় প্রায় অর্ধেক কাঁচামালই তাদের পচে যেতো বা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু পদ্মা সেতু হয়ে গেলে, একটি গ্রামের অতি ক্ষুদ্র কৃষকেরাও একসঙ্গে তাদের উৎপাদিত, পুইঁশাক, করলা বা তাদের ধরা ছোট মাছগুলো ছোট ট্রাকে করে সেটা ২/৩ টনের হতে পারে, এভাবে তারা কিন্তু এখন ঢাকা এনে বিক্রি করে আবার দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে। এই যে নতুন একটা জাগরণ, নতুনভাবে বাঁচতে তাদের স্বপ্ন দেখা বা আশা করা এটাই হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সবচেয়ে বড় অর্জন এবং এটাই হবে সেতুর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব। এর ফলে ওই এলাকার পুরো চিত্র বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবার ঈদের সময় দেখি যে, লঞ্চ ডুবে যায়, আগুনে ফেরি পুড়ে যায়, মুর্মূষু রোগী ফেরির মধ্যেই মারা গেছে, এরকম শত শত ঘটনা আছে। কিংবা প্রসূতি মা সময় মতো হাসপাতালে যেতে না পারার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই রকম হাজারো নীরব কান্না আছে ওই অঞ্চলে। যাদের সাথে এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তারাই জানে এর কষ্টটা। আমরা হয়তো সেটা সেরকমভাবে উপলদ্ধি করতে পারবো না। যে কারণে আমাদের চেয়ে তারা আরও ভালো বুঝতে পারবে এই সেতু গুরুত্ব কতটুকু।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন