ইনসাইড টক

‘শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়ার দাবি আমি সমর্থন করি’


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি অসুস্থ। তার আগে বিষয়টি হলো তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। এই সাজাপ্রাপ্ত আসামীর কারাগারে থাকার কথা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মানবতার মা, তিনি মানবিক কথা ভেবে তিনি তাকে তার বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং সেখানে সুচিকিৎসা নিচ্ছেন। সেই বাসায় থেকে তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কাজেই এই বিষয়টিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা না করে যারা খালেদা জিয়ার অসুস্থতার নন ইস্যুকে পলিটিকাল ইস্যু করতে চাচ্ছেন তাদের যে কোনো মতলব রয়েছে, তারা যে আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না, তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ইস্যুতে বিএনপির আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের হাফ-ভাড়ার দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয় রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার শঙ্কা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মানবিকতার সুযোগের কথা যদি বলেন তাহলে আমাদের পিছনের কথা বলতে হবে। এই বেগম খালেদা জিয়াই বাংলাদেশে ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের পার্লামেন্টে এনেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে সে, তার ছেলে তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কাজেই ওদের কোনো মানবতা নাই। কিন্তু পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন এর বাহিরে কোন মানবিকতা দেখানোর সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়না।

বেগম জিয়ার কিছু হলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে, বিএনপির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার কিছু হলে সরকারের দায়-দায়িত্ব কেন আসবে? সরকার তাকে সুচিকিৎসা দিচ্ছেন। একটি দেশে আপনি, আমি এদেশের সর্বশ্রেণীর মানুষ, এদেশের এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। কাজেই সে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুযোগ তিনি নিচ্ছেন, উচ্চতর চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন হায়াত-মওত, এই দুটি জিনিস মানুষের কাছে থাকে না। এই হায়াত এবং মওত দুটিই হলো আল্লাহ তা’য়ালার কাছে। কাজেই এই নিয়ে কোন রাজনীতি চলে না, এই নিয়ে কাউকে দায়ী করে চলে না। কাজেই এটি মূর্খতা।

তারেক জিয়া দেশে আসলেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেয়া হবে, এমন কোন রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সেটি মনে করিনা। তবে আমি মনে করি ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী এবং বিদেশে অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানকে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে সব সময় দাবি জানিয়ে যাচ্ছি। এটি একটি জন-দাবি। আমরা চাই যে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং সাজার মুখোমুখি হোক।

সাম্প্রতিক সময়ে হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিচ্ছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পর যাত্রী কল্যাণ সমিতি আন্দোলন করছে, সেই সাথে খালেদা জিয়ার ইস্যু। সবকিছু মিলিয়ে কি রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, সাধারণ পরিবহণের ভাড়া এত বৃদ্ধি করার কোন যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। তবে আমি ছাত্রদের হাফ-ভাড়ার সঙ্গে আমি একমত। ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। রাস্তায় এনিয়ে আন্দোলনের কোন সুযোগ নেই। যদিও অশুভ শক্তি চেষ্টা করছে এটিকে ব্যবহার করা। কাজেই, সে ব্যাপারে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, দলকেও অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, একটি মহল, একটি অপশক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানতে পারেননি, যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, তারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনার হাতে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এসেছে তখন তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তা লক্ষ্য করেছে এবং অভিনন্দন জানিয়েছে। 

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য কমিশন গঠন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর নাট-বল্টু খোলার ঘটনা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই পদ্মা সেতুসহ রাষ্ট্রকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করে সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা খালেদা জিয়া, ড. ইউনূসেরা। এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থ সরিয়ে নেওয়া, পাশাপাশি জাইকার অর্থ সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে, এশিয়ান ডেভেলমেন্ট ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নেওয়া জন্য কথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা টাকা সরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের এই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক, দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা তা তোয়াক্কা না করে পদ্মা সেতু সফল করেছেন, সম্পন্ন করেছেন এবং স্বপ্ন এখন বাস্তবতায় এসেছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং ড. ইউনূসের সঙ্গে এদেশের আরও কিছু সুশীল ব্যক্তি জড়িত ছিল, যারা এই পদ্মা সেতুর বিরোধীতা করেছে। সেই ব্যক্তিদের অবশ্যই মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন গঠন করে তাদেরকে জাতির সামনে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে আইনের মুখোমুখি করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ সেই দিন ছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি, আজকে তা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী। এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মুখোশ উন্মোচন হওয়া উচিত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যারা বিরোধীতা করেছে, অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত এবং অবিলম্বে তাদের বিচার শুরু করা দরকার। এছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ঘটনা ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি।

পদ্মা সেতু   বিরোধীতাকারীরা   রাষ্ট্রদ্রোহী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।

পরিবারকেন্দ্রিক   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের উৎসাহ আর উদ্দীপনা ব্যাপক। এটি শুধু এখন নয়, উদ্বোধনের আগেও ছিল। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের যে আবেগ ও উৎসাহ, সেটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ, অতি উৎসাহ এটি থাকবেই। কারণ সারাদেশের মানুষের আবেগ জড়িত আছে এই সেতুর সাথে। তবে কারো কারো উৎসাহের সাথে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্নের বিষয় এবং সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান করে দেখবেন। বিষয়টি নিয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজ খবর এবং আরও নজরদারি করার দরকার বলে আমি মনে করি। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিন সেতু উপরে উঠে ছবি তোলা, টিকটক ভিডিও বানানো এবং পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নেওয়া প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের স্বপ্ন পূরণের বাস্তব নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই পদ্মা সেতু। ফলে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হতেই পারেই। এটা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে সকল বিষয়ের দিকে বিশেষ নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং আরও বেশি তৎপর থাকবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। কারণ পদ্মা সেতু আমাদের একটি বড় স্থাপনা, যেটা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি এবং উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। সেটার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয় এবং এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলেছে পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে। দেশের অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা এর সাথে জড়িত আছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমাদের দেশে অপরাজনীতি আছে। আবার বিরোধীতার জন্য বিরোধীতাকারীদের সংখ্যাও আছে। যারা মূলত এ ধরনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। এ ধরনের রাজনীতির করার নেতাও আছে, যারা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে সাধুবাদ জানাতে পারেন না। সুতরাং তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং সাময়িক সময়ের জন্য। সেতুতে পারাপারের সঙ্গে জড়িত সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হলেই শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'


Thumbnail 'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনসহ যে সংকটগুলো আছে, সেগুলো নিরসনের জন্য সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে। 

বন্যা পরিস্থিতি, বন্যার্তদের পুনর্বাসন নদীভাঙনসহ বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য এ কে এম এনামুল হক শামীম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বন্যার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন। আমিও এলাকাগুলোতে গিয়েছিলাম। এখন আওয়ামী লীগ এমপি, জনপ্রতিনিধি এবং সকল সহযোগী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বন্যার্তদের পাশে সরকার এবং আওয়ামী লীগ রয়েছে। সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে। দিন দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা যেগুলো আছে, প্রত্যেক জায়গায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেইভাবেই আমরা এলার্ট রয়েছি, প্রস্তুত রয়েছি। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যেনো নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে তারা সর্বোচ্চ নজরদারী দেন। 

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রতি বছরই এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে বন্যা কয়েক দফা হয়, বর্ষা হয়, নদীভাঙন হয়, ঘূর্ণিঝড় হয়, সাইক্লোন হয় এটা আমরা প্রতি বছরই জানি এবং সেই ভাবেই আমরা আগাম প্রস্তুতি রাখি। মূলত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সব সময় এলার্ট থাকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এলার্ট থাকি। 

বন্যা পরিস্থিতি   বন্যা   বন্যার্ত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টানিং পয়েন্ট’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, আজকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। স্বাধীনতা অর্জন করার পর আমার মধ্যে যে ধরনের অনুভূতি ছিল, আজকেও সেই একই অনুভূতি কাজ করছে। পদ্মা সেতুর মতো এতো বড় মেগা প্রজেক্ট যেটি নানা রকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আজকে চূড়ান্ত দৃশ্যমান হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজের অর্থ ব্যয়ে যখন পদ্মা সেতু হলো তখন বার বার সেই একাত্তরের কথাই মনে পড়ছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাঙালি জাতি পারে না এমন কোনো জিনিস বা কাজ নেই। প্রয়োজন শুধু যোগ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্ব ঠিক থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে বাঙালি জাতি সম্ভব করতে পারে। আর সেটা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে প্রমাণিত হয়েছে। আজ ২০২২ সালে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন, আর যিনি মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে পারেন বা মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসেন আসল কৃতিত্ব তখন তারই হয়। পদ্মা সেতু বেলায় সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পদ্মা সেতু নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র, এতো বিরোধীতা, কিন্তু তিনি কখনো হতাশ হননি। 

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, একবার বঙ্গবন্ধুকে এক বিবিসি সাংবাদিক বলেছিল, আপনার দেশ যে স্বাধীন হলো, আপনার দেশে তো কিছু নাই, আপনি কি দিয়ে দেশকে দাঁড় করাবেন। তখন বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলেছিলেন, আমার দেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। বঙ্গবন্ধু তাকে এও বলেছিলেন, মাটি ও মানুষ এই দুটি জিনিস কখনো আমাকে বিচলিত করে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে সে কথাই পুনরাবৃত্তি করেছেন তার বক্তব্যে। শেখ হাসিনা যাদের উপর আস্থা রেখেছিল তারা উনার বরখেলাপ করেননি। সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই শেখ হাসিনার ওপর যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হবে না বলে যারা সমালোচনা করেছিলেন, বিরোধীতা করেছিলেন, আজকে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ তারা নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপারে অবগত নন। তারা দেশের মানুষের সক্ষমতাকে অস্বীকার করেছিলেন। যা তাদের ভুল ছিল। একাত্তরে আমরা বড় কোনো অস্ত্র শস্ত্র ছাড়াই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ােই করে জয়ী হয়েছি। কারণ আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আছে, তার রক্ত আছে।

পদ্মা সেতু   উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন