ইনসাইড টক

‘যদি নতুন কেউ আসে তাহলে ভেবে দেখবো’

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

দুই পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সোবা। ‘আয়না’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘খেলাঘর’ কিংবা ‘প্রিয়তমেষু’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যেমন দেশীয় দর্শকদের মনে শক্ত ভিত গড়েছেন, তেমনি ‘ষড়রিপু’র মতো সিনেমা দিয়ে কলকাতার দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আবার ছোট পর্দায় অভিনয় করেও নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন সোহানা সাবা।

গত মাসে জন্মদিন ছিল এই অভিনেত্রীর। জন্মদিনের একদিন আগে উড়াল দেন মালদ্বীপ। কারণ, তিনি এই বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন সারাবছর। নেটওয়ার্কবিহীন কেটেছে মালদ্বীপের এক সপ্তাহের দিন-রাত। দেশে ফিরেও কেটেছে ব্যস্ত সময়। সদ্য দেশে ফিরে জন্মদিনের আনন্দঘন মুহূর্ত ও সমসাময়িক প্রসঙ্গে বাংলা ইনসাইডার এর বিনোদন প্রতিবেদক আসিফ আলম এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

বিদেশের মাটিতে জন্মদিন কেমন কেটেছে?

সোহানা সাবা: এবারই প্রথম ঘটা করে জন্মদিন পালন করেছি দেশের বাইরে। বিদেশের মাটিতে চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। জন্মদিনের ১ ঘণ্টা আগে সেখানে পোঁছাই। রুমে প্রবেশ করেই সারপ্রাইজ হই। পুরো রুম সাজিয়ে রাখা ছিল। তা দেখে ইমোশনাল হয়ে যাই। দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল। যা বলে বোঝানো যাবে না। আমার বন্ধুরা আমাকে সারপ্রাইজ দিতে এমন আয়োজন করেছেন। এক সপ্তাহের প্রতিটি দিনের প্রতি মুহূর্তে তারা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক সপ্তাহজুড়ে জন্মদিন পালন করেছি। 

মালদ্বীপ স্বপ্নের মতো একটি জায়গা। সেই স্বপ্নের জায়গায় আমার বিশেষ দিন কেটেছে পছন্দের বন্ধুদের সাথে। ৩৬৫ দিনের মধ্যে আমার জন্মদিন সবচেয়ে প্রিয় দিন। আমি সবসময় চেয়েছি এই দিনটি বিশেষভাবে কাটাতে। কাউকে সারপ্রাইজ দিতে আমার ভালো লাগে না। তবে, সারপ্রাইজ হতে অসম্ভব ভালো লাগে। এই কয়দিনের প্রতিটি সেকেন্ড আমার জন্মদিনের সেরা উপহার ছিল। দেশে ফেরার পর এখনও জন্মদিনের উপহার পাচ্ছি। ভালোবেসে কেউ আমাকে উইশ করলেও আমি তাতে অনেক খুশি হই। আমার সাত বছরের ছেলে একটা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ভিডিওটি ওর শিক্ষক বানাতে সহযোগিতা করেছে। সবকিছুই আমার কাছে বিশেষ ছিল।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খামারবাড়ি নিয়ে অনেক পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, কাজের অগ্রগতি? 

সোহানা সাবা: যখনই এ প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শুরু করি দেশে তখন হঠাৎ করে করোনার হানা। শুরু করেও বন্ধ করে দিতে হয়। আমাদের এক ধরনের বেঁচে থাকার যুদ্ধ করতে হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। নতুন করে আবার কাজ শুরু করব। বর্তমানে প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরই দুটি প্রজেক্টের কাজ শুরু করার ইচ্ছে আছে। এরই মধ্যে আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেয়েছে।

‘বলি’ ওয়েব সিরিজ নিয়ে জানতে চাই-

সোহানা সাবা: সম্প্রতি কুয়াকাটায় ওয়েব সিরিজটির শুটিং শেষ করেছি। খুব শিগগিরই ডাবিং শেষ করব। এটি পরিচালনা করছেন শঙ্খ দাস গুপ্ত।। এ ওয়েব সিরিজে আমার চরিত্রের নাম আনারকলি। ব্যতিক্রম একটি গল্প। আশা করি, ‘বলি’ মুক্তি পেলে দর্শকরা পছন্দ করবেন।

অনেক দিন ধরেই একা আছেন। একাকীত্ব ছুঁয়ে যায় না, নতুন জীবন নিয়ে কি ভাবছেন? 

সোহানা সাবা: আমি অতিরিক্ত ছোটবেলায় বিয়ে করেছি। সেই সংসারের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না বলেই একা জীবন বেছে নিয়েছি। নতুন করে সংসারের ব্যাপারে এখনই ভাবছি না। যখন ভাবনায় আসবে তখন বুঝে শুনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেব। আর ভুল করতে চাই না। এখন ভুল করার মতো বয়স বা সময় নেই। এটি এখন আমার জীবনের বড় সিদ্ধান্ত। সিঙ্গেল জীবন উপভোগ করছি। সারাজীবন এভাবেই উপভোগ করতে চাই। চলার পথে যদি নতুন কেউ আসে, মনে হয় যদি তাকে বিশ্বাস করে বাকি জীবনটা কাটানো যাবে, তাহলেই ভেবে দেখব। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই ভাবনাটা নেই। এখন জীবনটাকে উপভোগ করতে চাই।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রশাসনের ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“মূলত বিএনপির আন্দোলনটাকে ধারাবাহিকভাবে এস্কেলেট (ধাপে ধাপে বৃদ্ধি) করতে হবে। টাইম বার্সেস ফারেনহাইট (সময় বনাম উত্তাপ বা চাঙ্গা), আমরা যদি গ্রাফে এটি দেখাই। তাহলে আমাদের সময় আছে মাত্র ১১ মাস। আবার নির্বাচনের আগে আছে ১০ মাস। তাহলে আমাদের গড়ে এদিকে ১০ মাস, ওদিকে ১০ মাস। বিএনপি যেভাবে এগুচ্ছিলো, অর্থাৎ ১০ই ডিসেম্বরের যে মহা সমাবেশ, সেখানে এসে বিএনপিকে আনেকটা নাজেহাল করলো প্রশাসন। তখন বিএনপি বনাম প্রশাসন হয়ে গেলো। ১০ই ডিসেম্বর প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ প্রটেকশন। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে এখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব। প্রশাসনের ইচ্ছেমাফিক একটি রাজনৈতিক দল কখনও চলতে পারে না। প্রশাসন একটি রাজনৈতিক দলের ইচ্ছমাফিক চলবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, ঘোড়ায় গাড়ি টানবে, গাড়িকে ঘোড়া টানবে না। আমরা বলবো, পল্টনে করবো, প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ দ্য সিকিউরিটি, কমফোর্ট। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে পল্টনে করতে দেব না। এতে কি হলো? ঘোড়া গাড়ি টানলো না, গাড়ি ঘোড়া টানলো।”- বলছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন।                

একের পর বিএনপি সভা-সমাবেশসহ যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছে, আজকে ‘পদযাত্রা’  করেছে, এর আগে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি, ঢাকায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিএনপির আন্দোলন- এছাড়াও বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্র গঠনে রূপরেখা ২৭ দফা ঘোষণা এবং বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা, পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং প্রাপ্তির কথা। পাঠকদের জন্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন। আজ প্রকাশ হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ একটি খুব কঠিন পলিটিক্স করলো। প্রশাসনের সাথে আমাদের একটি বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করার একটি ট্রেপ (ফাঁদ) করলো। এই ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি, প্রশাসনের ফাঁদে। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে প্রশাসন বনাম বিএনপি হয়ে যাক, আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি না। এই জায়গাটায় খুব চাণক্য পলিটিক্স করেছে আওয়ামী লীগ। আমরা পল্টনে মিটিং করবো, তারা জনগণের ভোগান্তি হবে বিবেচনায় পল্টনে মিটিং করতে দিবে না। এটা আদৌ কোনো সত্য কথা নয়। যেখানেই মিটিং করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। চীন-মৈত্রীর মাঠেই করুক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই করুক, যেখানেই করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। আওয়ামী লীগ একটি খোরা যুক্তি খাড়া করলো, তারা পল্টনে সমাবেশ করতে দেবে না। আমরা পল্টন যদি দখল করতাম সমাবেশের জন্য, ৩/৪ ঘণ্টা সমাবেশে থাকতাম। তারা স্রেফ বলতে পারতো ৩ ঘণ্টার জন্য আপনারা পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করবেন, ৩ ঘন্টার এক মিনিট বেশিও আপনার পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন না। হয়ে যেত এবং তারা আমাদেরকে ৩ ঘণ্টার জন্য সিকিউরিটি দিতো। 

তিনি বলেন, কিন্তু তারা বললো, পল্টনে করা যাবে না। প্রশাসনের এই বিমাতাসুলভ আচরণ আওয়ামী লীগ এটা করালো চালাকি করে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে যে আওয়ামী লীগ অফিস, ওটাতো চিরতরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে যখন তাদের সমাবেশ হয়, তখন সেটাও তো বন্ধ হয়েই যায়। কিংবা শেরে বাংলা নগরে, চীন-মৈত্রীর মাঠে সমাবেশ করলে, সেটাও কিন্তু বন্ধ হয়েই যায়। আমরা তো শুধু তিন ঘন্টার জন্য চেয়েছিলাম। সারা বাংলাদেশে ৯টি সমাবেশ করে ১০ম সমাবেশে যে মমেন্টামটা  আমাদের গ্রো করেছিলো, যে গতিটা হয়েছিলো, প্রশাসনের সঙ্গে বৈরী ভাব করে সেটাকে তারা বাধাগ্রস্থ করলো। যেহেতু আমরা আস্তে আস্তে, আন্দোলনটা ধাপে ধাপে ওপরে উঠতেছিল, তারা আমাদের গতিটাকে প্রজেক্টাইলের মতো, অর্থাৎ একটা ঢিল ছুড়লে, এটা আকাশে উঠে আবার পড়তে থাকে, এটা পড়তে থাকলো নিচের দিকে। সে জায়গাটাতে আমাদেরকে খানিকটা পিছিয়ে দিয়েছে। তাহলে এখন আমাদের আন্দোলনে গতিপ্রকৃতি কি হবে? 

আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আন্দোলনটাকে তুঙ্গে ওঠানো, আমাদের দলের যে পরিকল্পনাটা ছিল, ২০২২ সালের আমাদের দলীয় সালতামামিতে, আমরা সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা, এটা আমরা সফল হয়েছি। কারণ ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সমাবেশকে তারা প্রশাসন দ্বারা খানিকটা ব্যর্থ করতে পারলেও, মূলত আমরা ৯টি সমাবেশে প্রমাণ করেছি, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের মধ্যে আমাদের একটি অবস্থান আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি এবং আওয়াজ দিতে পেরেছি, যেটা ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৪ থেকে শুরু করে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে শুরু করে বর্তমান, এই ১৪ বছরে সেরা আন্দোলন আমরা ২০২২-এ দেখিয়েছি। এতে এই জিনসিটাই প্রতয়ীমান হয়, বিএনপির যে ভোট ব্যাংক, সাপোর্ট ব্যাংক, জোট ব্যাংক, যেটি আমাদের রয়েছে, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটি একটি কার্যকর।আমাদের সক্ষমতা আছে আন্দোলন করার, ২০২২ সালের সালতামামিতে এটা আমরা দেখতে পেয়েছি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

সিন্ডিকেট শব্দটি চোরাকারবারিদের সাথে যায়, শিল্পচর্চার সাথে না: মিম (ভিডিও)

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

নাদিয়া মিম, ২০১৪ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করে মিডিয়াতে পথ চলা শুরু করেন। তখন থেকেই নিয়োমিত মডেলিং-অভিনয় করে যাচ্ছেন।অল্প সময়েই দর্শকদের মাঝে জায়গা করে নেন তিনি। বর্তমানে ছোট পর্দাড় কাজ ও ওটিটির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। সমসাময়িক নানা কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হলো এই অভিনেত্রীর। 



বাংলা ইনসাইডার:  'মুসা' নাটকের শুটিং করছেন, নাটকটিতে আপনার চরিত্র নিয়ে জানতে চাই।

মিম:  সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ভাইয়ের 'মুসা' নাটকে আমি তিথি চরিত্রে অভিনয় করছি। আর এ চরিত্রটি রহস্যে ঘেরা। ফাইনালে আসলে অনেক কিছুই হবে। আর আমার চরিত্রটি এখনো রহস্যে ঘেরাই আছে। এখনি সব কিছু আসলে বলে দিলে সত্য ফাঁস হয়ে যাবে। তাই আর কিছু এখনি বলতে চাই না। 

বাংলা ইনসাইডার:  চলচ্চিত্র নিয়ে পরিক্লপনা কি? 

মিম: আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে আমার তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। আসলে কাজ তো করি গল্পের জন্য। তাছাড়া অনেক কিছু টিমের উপর, গল্পের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সো ব্যাটে-বলে মিলে গেলে চলচ্চিত্রে কাজ করবো।



বাংলা ইনসাইডার:  শোবিজের অনেকই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? 

মিম: সাইবার বুলিংয়ের শিকার আসলে সবাই হচ্ছে। আমি বলবো আমরা যারা সেলিব্রেটি তারা তেমন একটা গায়ে লাগাই না। দিনশেষে পাবলিক ফিগার বলে একটা কথা আছেই। আর জনগণের তাদের মন্তব্যের অধিকার আছে । তবে হ্যাঁ যারা পজেটিভিলি ভক্ত হয়ে লিখে তাদেরটাই গ্রহণযোগ্য। আর যারা নিচু মনমানসিকতার, যাদের পরিবার শিক্ষা দেয়নি তাদের মন্তব্য নিয়ে আসলে কথা বলতেই চাই না। 

বাংলা ইনসাইডার: নাটকের সিন্ডিকেটের কথা প্রায়ই শোনা যায়। বিষয়টি নিয়ে আপনি কিভাবে দেখছেন? 

মিম : আসলে যার যার সাথে মিলে তারা একসাথে কাজ করবে তারা এক সাথে করবে এইটাই স্বাভাবিক। যেমন এই সিরিয়ালে আমারা যার কাজ করছি এটি নিয়ে তিন নাম্বার সিরিয়ালের কাজ করছি। এই সিরিয়ালে যারা আছে তাদের ৮০ ভাগ আর্টিস্ট ফের এক সাথেই কাজ করছি। আসলে আমি সিন্ডিকেট কি সেটা বুঝিনা। আর সিন্ডিকেট শব্দটি চোরাকারবারিদের সাথে যায়, শিল্পচার্চার সাথে যায় না।



বাংলা ইনসাইডার: পাঠকদের জন্য কিছু বলুন... 

মিম: পাঠকদের জন্য এক্টুকুই চাওয়ার আছে যে আপনাদের জন্য আমি আজকে মিম। আপনারা অবশ্যই কাজের রিভিউ দিবেন তবে পজেটিভ ভাবে। আমি সব সময় আমার দর্শকদের আমি ভালোবাসি , শ্রদ্ধা করি। সো সব সময় আমার সাথে ছিলেন , আশাকরি সামনেও থাকবেন। আর মুসা নাটকটি অবশ্যই দেখবেন কারণ এতে নতুন কিছু পাবেন আপনারা। 




মিম   মুসা   সিন্ডিকেট   নাটক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বায়ু দূষণে প্রথম হয়েছি, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়’

প্রকাশ: ০৪:০৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“ঢাকা তো প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় অবস্থানেই থাকে। বায়ু দূষণে আমরা প্রথম হয়েছি, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর ফলে আমরা তো শেষ হয়ে যাচ্ছিই, পরবর্তী প্রজন্ম, বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধরা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হিসেবে এটি ঠিক আছে। এর ফলে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি একটা বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, আমাদের অর্থ ব্যয় বাড়ছে। রাস্তায় বের হলে যে পরিমাণ কাপড়-চোপড় ধুতে হয়, ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করতে হয়, টেবিলের ওপর আজকে পরিষ্কার করলে, কালকেই দেখবেন আবার ধুলো জমে আছে। এর ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেশি শ্রম দিতে হয়। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ব্যয় বৃদ্ধি হয়। এটি আমরা গবেষণা করে দেখেছি, গড়ে মাসিক ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে যায় এই সময়ে, যখন বায়ু দূষণ বেড়ে যায়।“ - বলছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।

বর্তমান সময়ে রাজধানী ঢাকা বায়ু দূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং বিগত কয়েকদিন থেকেই বায়ু দূষণে শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা। বায়ু দূষণে রাজধানী ঢাকার সমসাময়িক অবস্থান, এর কারণ এবং প্রতিকার- এসব বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। পাঠকদের জন্য প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন।

প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি হয়। গড় আয়ু কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগও বেড়ে যায়। ফলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও আর্থিক ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়াও আমাদের স্থাপনাগুলো নষ্ট হচ্ছে। পথচারী পারাপারের জন্য যে ফুটওভার ব্রিজগুলো রয়েছে, সেখানে ধুলা পড়ে জং ধরে যায়। যেখানে ধূলা পড়ে থাকে, ওরাতো ঠিকমতো পরিষ্কার করে না। এর ফরে বিল্ডিং থেকে শুরু করে সমস্ত স্থাপনার আয়ুষ্কাল কমে যায়। এটাও একটা বিরাট অর্থনৈতিক প্রভাব।    

বায়ু দূষণের কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, প্রথমত ভ্রান্ত রিপোর্ট, যেটা পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, দ্বিতীয়ত আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম, তৃতীয়ত সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার বিভিন্ন কার্যক্রম। এই যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সমীক্ষা, এটি হয়েছে আজ থেকে সাত-আট বছর আগে। সে সময়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বায়ু দূষণের এক নম্বর কারণ হচ্ছে ইটভাটা, দুই নম্বর হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং তিন নম্বর হচ্ছে যানবাহনের দূষণ। ওই সমীক্ষা দিয়েই অনেকে চালিয়ে দিতে চান, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বর্তমানে গত পাঁচ বছরে ঢাকা শহরে যে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা হলো এক, দুই নম্বর হলো ইটভাটা, কারণ অনেকগুলো ইটভাটা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে অথবা তারা উন্নত প্রযুক্তিতে গিয়েছে। ঢাকা শহরের আশে-পাশে এখন আর তেমন ইটভাটা নেই। তার মানে হচ্ছে, ইটভাটা দুই নম্বরে চলে এসেছে, এখন আর এক নম্বরে নাই।

তিনি বলেন, এখন এক নম্বরে চলে এসেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। গত পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশন, ওয়াসার অনেকগুলো প্রকল্প হয়েছে। ওরা পুরো শহর কেটেকুটে তছনছ করে রাখছে। এখনও তাই চলছে। দুই নম্বরে চলে এসেছে যানবাহন, আমাদের যানবাহন, বিশেষ করে কাভার্ড ভ্যান প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। শুধু যে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ছে তা নয়, কাভার্ড ভ্যানও প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। এখন ঢাকা শহরে দিন রাতে সব সময় যানবাহন চলছে। এসব যানবাহনগুলো ডিজেল চালিত। এসব ডিজেলের ধুয়ার কারণেও বায়ু দূষণ বাড়ছে। এখন শোনা যাচ্ছে আরও নিম্নমানের ডিজেল ব্যবহারের জন্য আমদানি করা হবে। এছাড়াও যানবাহনগুলো পুরাতন হচ্ছে। এরপর আমরা দেখছি ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশন, মাসের পর মাস রাস্তা কেটে রাখে, সেখানে প্রচুর ধুলা উৎপাদন হয়। এর পর হচ্ছে কন্সট্রাকশন, নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন। সিটি করপোরেশন-ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবা সংস্থাসমূহ প্রচুর খোড়াখুড়ি করে। এছাড়াও শীতকালে আমরা বিভিন্ন জিনিস পুরাই, যেমন খর-কুটো, লতা-পাতা- এগুলো থেকেও বায়ু দূষণ হচ্ছে। তবে সারা বাংলাদেশের বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটা এক নম্বর কারণ। 

বায়ু দূষণ থেকে প্রতিকারে জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে? -এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, আমরা প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি। আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো যারা চালাচ্ছেন, তারা যদি বিদেশে এ কাজগুলো করতেন, তাহলে পরিবেশ বাদ দিয়ে কাজ করতে পারতেন না। অথচ এখানে কিন্তু তারা কিছু করছেন না। মূল বিষয় হচ্ছে লাভ, কত লাভ উঠিয়ে নেয়া যাবে? যত আমি লাভ উঠিয়ে নিতে পারবো, ততো কর্তৃপক্ষ আমার ওপর খুশি হবে। এদের প্রত্যেকের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। বলা আছে, এ ধরনের প্রকল্প করতে হলে তাদের পরিবেশ রক্ষায় কি কি ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই ব্যবস্থাগুলো তারা নিচ্ছেন না। প্রকল্প পরিচালকও নিচ্ছেন না, আবার যারা মনিটর করবেন, পরিবেশ অদিদপ্তর, তারাও মনিটর করছেন না। আইন আছে কিন্তু আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনেরও কঠোর প্রয়োগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনকে যেটুকু কাজ তারা করবেন, সেটুকু আগে করতে হবে। তা না করে পুরো এলাকা কেটে ৬ মাস ফেলে রাখবে। অথচ যদি সেগমেন্ট ওয়াইজ কাজ করা হয়, একটা একটা করে রাস্তা করেন, তাহলে আর পুরো এলাকাটা দূষিত হয় না। অংশবিশেষ এলাকা দূষিত হবে। কর্তা ব্যক্তিরা, তারা সবাই এ বিষয়গুলো জানেন, বুঝেন কিন্তু কেন করেন না? এদেরকে এটা করতে বাধ্য করতে হবে। আমাদের যেমন আইনের প্রয়োগ নেই এবং আমাদের নাগরিকরাও অনেক দুর্বল। আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। যানবাহনের ক্ষেত্রে উন্নতমানের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা যেমন বৃদ্ধি করা দরকার, সেভাবে  আইনও প্রয়োগ করা দরকার।

তিনি বলেন, মূল কথা হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের যে আইনসিদ্ধ বিষয় রয়েছে সংগত কারণে সেগুলো পালন করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ করা। পাশাপাশি জনগনকে সচেতন করা এবং যারা এসব প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা দরকার। 


বায়ু দূষণ   বাংলাদেশ   ঢাকা   পরিবেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি হিসেবে ‘বাকশাল’ ঘোষণা করেছিলেন’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বঙ্গবন্ধু সারাজীবনই সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতিই তিনি শুধু করেছেন। তাঁর নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, তিনিও সংসদীয় গণতন্ত্রই করার পক্ষে ছিলেন এবং এই রাজনীতিই করেছেন। বঙ্গবন্ধু সরকার যখন প্রতিষ্ঠিত হলো একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এবং স্বাধীনতার স্বাদ যখন বাঙালি পেলো। তখন দেখা গেলো কিছু অতি বামপন্থী বা বামপন্থী বা অতি ডানপন্থী, তারা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য- এসব সৃষ্টি করলো, বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্ম হলো। তাদের কিছুটা হচ্ছে বিপ্লবের অর্থাৎ রোমান্টিক বিপ্লবের কথা বলে এবং কিছু অতি মৌলবাদীতাও ছিল অনেকের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু আসলে সবাইকে মিলে- রাজনীতিবিদ, সকল শ্রেণির মানুষ, জনগন- সবাইকে নিয়ে কাজ করার নেতা ছিলেন। তিনি সবাইকে ভালোবাসতেন। এমনকি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও তিনি শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন, তাদের প্রতি তাঁর মমতা সব সময়ই ছিল।- বলছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জেষ্ঠ্য সচিব এবং সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) বর্তমান চেয়ারপার্সন আবদুস সামাদ ফারুক।  

আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, তখন এই যে একটা স্বাধীন, নবীন রাষ্ট্রের পুনর্গঠন দরকার, উন্নয়ন দরকার, সংস্কার দরকার। সেইজন্য সকল দল,মতের লোকদের নিয়ে একটি প্লাটফর্মে কাজ করার জন্য তিনি (বঙ্গবন্ধু) মূলত দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বা ‘বাকশাল’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এটা একটি নতুন ধারনা। 

২৫ জানয়ারি ঐতিহাসিক ‘বাকশাল’ দিবস, ‘বাকশাল’ কেন করা হয়েছিল? ‘বাকশাল’র মূল উদ্দেশ্য কি ছিল? ‘বাকশাল’ আসলে কি? এবং এর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার- এসব বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জেষ্ঠ্য সচিব এবং সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) বর্তমান চেয়ারপার্সন আবদুস সামাদ ফারুক এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য সাবেক জেষ্ঠ্য সচিব আবদুস সামাদ ফারুক- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন।

আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, এটার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। বাঙালির ভেতরে সব সময়ই লক্ষ্য করা গেছে, একটা গোষ্ঠী থাকে, যারা সব সময়ই ষড়যন্ত্র, অপপপ্রচার এগুলো চালায় এবং এটা আমরা ঐতিহাসিকভাবেই দেখি। এজন্য তাঁর (বঙ্গবন্ধু) বিরুদ্ধেও অপপ্রচার হয়েছে, ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু তাঁর (বঙ্গবন্ধু) উদ্দেশ্যটা মহৎ ছিল। সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে একটি রাজনৈতিক সংস্কার করা, সরকার পরিচালনা করা, সেখানে সরকারি কর্মচারীরাও- সেনাবাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল- সবাইকে নিয়েই একটি জাতীয় ঐকমত গড়ে তোলা। আরেকটা ছিল আমরা লক্ষ্য করি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক জায়গায়ই কিন্তু একদলীয় সরকার আছে। যেমন রাশিয়া একদলীয় সরকার, চীন একদলীয় সরকার, ভিয়েতনাম একদলীয় সরকার- তারা এক দলেই সরকার পরিচালনা করে। সেখানেও যে উন্নয়ন হচ্ছে না, তা নয়। যথেষ্ঠ উন্নয়ন হচ্ছে, সেখানে সামাজিক উন্নয়নের অগ্রগতিও সাধিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেটা পরীক্ষামূলকভাবে অনেকটা করেছিলেন, তাতে আমাদের দেশের অগ্রগতি সাধিত হবে।  

অনেকেই বলে থাকেন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য বঙ্গবন্ধু পারিবারিকভাবে তাঁর বিভিন্ন লোকজনদেরকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন- এমন কথা প্রসঙ্গে আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, ক্ষমতা তো উনার হাতেই ছিল, ক্ষমতার কুক্ষিগত কি করবে? পরবর্তী ইলেকশন বা ৭৩ এর নির্বাচন বা এর পরেও যদি নির্বাচন হতো, নির্বাচনে তিনিই (বঙ্গবন্ধু) বিজয়ী হতেন। আর ওখানে যে প্লাটফর্ম ছিল, সকল দলকে এক জায়গায় নিয়ে আসলে ক্ষমতা কিভাবে একজনের হাতে থাকে? ক্ষমতা তো সেক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণ হয়ে যায়। যেকোনো পার্টির প্লাটফর্ম থাকে, সেখানে তো একজনের সিদ্ধান্তে হবে না। পার্টিতে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকে।

বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তণের জন্য জাতীয় সংসদে সংবিধানের যে চতুর্থ সংশোধনী আনা হয়েছিল, সেখানে ২৯৪ ভোটে পাশ হয় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী, কয়েকজন ছাড়া আর কেউ সেখানে বিরোধীতা করেনি। কিন্তু পরে কেন অনেকে বিরোধীতা শুরু করলেন?- এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, মুক্তিযুদ্ধেও কিছু দল-মত তারা বিপক্ষে ছিল। আবার কেউ কেউ আছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, কিন্তু সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজ উদ্দিনের সরকার যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, সেই সরকারে সাথে না করে, তারা অন্যভাবে কাজ করেছে। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছে, মিথ্যা অপপ্রচার করেছে। এগুলো আসলে হচ্ছে অপপ্রচার। মানে নিজেরা নেতৃত্বে না আসার ব্যর্থতাকে মেনে নিতে না পেরে, একটি সফল নেতৃত্বকে ভুলুণ্ঠিত করা বা একে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। তারা যেহেতু নেতৃত্বে আসতে পারেনি, যুদ্ধ বা স্বাধীনতা আনতে পারেনি, তাই তারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এটার বিরোধীতা করেছে। এই প্রেক্ষিতেই তারা অপপ্রচার চালিয়েছে।

বাকশাল আসলে কি ছিল? মূলত কি করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু?- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি ছিল একটি সকল মত, সকল পথের মানুষকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা, এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কার, শাসনতান্ত্রিক সংস্কার এবং মূল কথা হচ্ছে, মানুষের অধিকার-উন্নয়ন এবং মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করা। এই যে হানাহানি-নৈরাজ্য, আগুন দেওয়া পাটগুদামে- এগুলোকে বন্ধ করে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। এর মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লবের ঘোষনা দিয়েছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা, মানুষের উন্নয়নটা শান্তি-সমৃদ্ধিতে আনয়ন করা।

বঙ্গবন্ধু   দ্বিতীয় বিপ্লব   বাকশাল   আবদুস সামাদ ফারুক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

চিকিৎসকদের ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ এর ক্ষেত্রে জনবল একটি বড় চ্যালেঞ্জ’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সাবেক মহাসচিব এবং ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, নিজ কর্মস্থলে চিকিৎসকদের রোগী দেখতে পারার সুযোগ সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। শুধু চিকিৎসকদের নয়, রোগীদের জন্যও একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ কাজ শেষে চিকিৎসকরা যখন নিজ কর্মস্থলেই রোগী দেখবেন তখন হাসপাতালের সেবা বেড়ে যাবে। সরকারি অনেক হাসপাতাল আছে যেখানে ৪০০-৫০০জন চিকিৎসক আছেন অথচ সবাই প্র্যাকটিস করার সুযোগ পান না। কিন্তু এখন ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ চালু হলে সবাই প্র্যাকটিস এর সুযোগ পাবেন। এতে করে হাসপাতালগুলোর সেবা যেমন বাড়বে তেমনি রোগীরাও বেশি সেবা পাবে।

মার্চ মাস থেকে নিজ কর্মস্থলে রোগী দেখতে পারবেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের এই ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, নিজ কর্মস্থলে চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস শুরু হলে রোগীরা আর্থিক ভাবেও লাভবান হবে। কারণ বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে রোগীদের বেশি ফি দিতে হয়। বিশেষ করে অপারেশন করা সহ অন্যান্য টেস্ট করতে রোগীদের অনেক টাকা গুনতে হয়। কিন্তু এখন তারা সরকারি হাসপাতালে কম টাকায় ভালো চিকিৎসকদের সেবা গ্রহণ করতে পারবে। ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ গ্রাম থেকে শুরু করে, উপজেলা, জেলা এবং মহানগর শহরগুলোতে বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে রোগীরা বেশি সেবা নিতে পারবে। 

তিনি বলেন, এই পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এই ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ এ শুধু চিকিৎসকরাই জড়িত নন। এর সাথে চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ বা কর্মচারী, ফার্মাসিস্ট এবং টেকনোলজিস্ট তারাও জড়িত আছেন। এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জও আছে। বিশেষ করে জনবল সংকট সহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ম্যানেজমেন্ট কিংবা লজিস্টিকস সাপ্লাই এই সমস্ত কিছু বাড়াতে হবে। এগুলো বাড়াতে হলে একটু সময়ও নাগবে। সরকার যদি এই পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি বিপ্লব ঘটবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন