ইনসাইড থট

কোভিড -১৯, জনসংখ্যার (পশুদের মত) অনাক্রম্যতা ক্ষমতা (হার্ড ইমুনিটি) এবং বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫৯ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১


Thumbnail

ধরুন এখন থেকে পাঁচ বছর পরে, পিতামাতারা চলমান নাক এবং জ্বরসহ তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ক্লিনিকে আসলেন। তখন হয়তো চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে এটা ভাববেন না তাদের উপসর্গ গুলো COVID-19 এর জন্য হয়েছে। যদিও সম্ভাবনা রয়েছে COVID-19, যার কারণে কি না আজ অবধি ২০ লাখ মানুয মারা গিয়েছেন,  সেই ভাইরাসের কারণেই লক্ষণগুলো হতে পারে। বিজ্ঞানীরা ভাবছেন ভবিষ্যতে COVID-19-এর এমন এক দৃশ্য হতে পারে। ভাইরাসটি প্রায় আমাদের চারপাশে আটকে থাকবে, তবে সময়ের সাথে লোকেরা এর থেকে কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলবে, হয় প্রাকৃতিক পূর্ববর্তী সংক্রমণের বা টিকা দেয়ার মাধ্যমে এবং তারা গুরুতর লক্ষণ দ্বারা আক্রান্ত হবেন না। সাধারণত নবজাতক শিশুদের এই COVID-19 ভাইরাসের অনাক্রম্যতা থাকবে না, তবে তারা ৬ বছর বয়সের আগে ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। অতএব, ভাইরাসটি হয়তো শৈশবকালের শত্রু হয়ে উঠবে এবং শিশুরা সাধারণত হালকা সংক্রমণ বা একেবারেই কোন লক্ষণ ছারাই ভালো হয়ে বাঁচবে। আমি আশা করি অদূর ভবিষ্যতে আমাদের বাচ্চাদের জন্য ভ্যাকসিন থাকবে এবং আমরা আরও সংক্রমণ হ্রাস করতে পারবো। 

ইতিমধ্যে  বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান চারটি করোনভাইরাসগুলি কীভাবে আচরণ করছে এবং ঐ ভাইরাস গুলো এখন মৌসুমী স্থানীয় রোগে পরিনত হয়ার কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা এই চিএটি ভবিষ্যতে সম্ভব বলে বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে তিনটি ভাইরাস কয়েকশ বছর ধরে মানব জনগোষ্ঠীতে প্রচলিত আছে; তাদের মধ্যে দুটি প্রায় ১৫% শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য দায়ী। প্রাথমিক ভাবে আক্রান্ত হওয়ার কারনে এই করোনা ভাইরাস গুলির বিরুদ্ধে শরীরে অনাক্রম্যতা তৈরি হয় যাতে পরবর্তী জীবনে পুনরায় আক্রান্ত হলে সংক্রমণগুলি হালকা হয়। সময়ের সাথে যখন অনাক্রম্যতা বিবর্ণ হয়, তখন ঘন ঘন পুনরায় করোনাভাইরাস বিকশিত হবার এবং সংক্রমণের কারনে জনসংখ্যাও প্রতিরোধ ক্ষমতা আপডেট করতে পারে, আর তাই এই রোগের মহামারি হয় না। যেসব দেশ COVID-19 ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু করেছে তারা শীঘ্রই গুরুতর অসুস্থতা হ্রাস পাবে বলে আশা করছে। তবে কার্যকর ভ্যাকসিনগুলি কিভাবে অথবা মোটেই সংক্রমণ হ্রাস করতে পারে কিনা তা দেখতে আরও বেশি সময় লাগবে। ইস্রায়েলের লক্ষ লক্ষ লোকের টিকা দেওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায় যে ভ্যাকসিনগুলি শুধু রোগের লক্ষণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যু হ্রাস করেনা, সাথে সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। যার ফলে ভ্যাকসিন ভাইরাসটির অন্য কোনও ব্যক্তির মাঝে ছাড়তে বাধা দিতে পারে।

হার্ড ইমুনিটি: হার্ড ইমুনিটি হলো মহামারীটির দীর্ঘকালীন, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেষ দৃশ্য, তবে এর প্রয়োজনীয়তাগুলি বেশ সুনির্দিষ্ট। প্রারম্ভিক রোগ-যোদ্ধারা, যেমন এডওয়ার্ড জেনার, লুই পাস্তুর এবং উইলিয়াম ফারের সন্দেহ ছিল যে পর্যাপ্ত লোককে টিকা দেওয়া হলে এটি কোনও রোগ নির্মূল করতে পারে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে, মানুষের চেয়ে বেশী পশুচর্চায় আগ্রহী পশুচিকিত্সকরা এই ধারণা পোষণ করেছিল এবং "পশু প্রতিরোধ ক্ষমতা" শব্দটি তৈরি করেছিল। হার্ড ইমুনিটি  হ`ল সংক্রামক রোগ থেকে একধরণের পরোক্ষ সুরক্ষার, যা কিছু রোগের সাথে তৈরি হতে পারে যখন কোনও জনসংখ্যার পর্যাপ্ত শতাংশ ভ্যাকসিন বা পূর্ববর্তী সংক্রমণের মাধ্যমেই সংক্রমণে প্রতিরোধক হয়ে উঠে, যার ফলে প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকা ব্যক্তিদের সেই রোগের সংক্রমণের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
 
 শুধু টিকা নয়, পর্যাপ্ত লোকের পূর্ববর্তী প্রাকৃতিক সংক্রমণের মাধ্যমেও হার্ড ইমুনিটি অর্জন করা যায়। কাতারে, ১০টি শ্রম-শ্রেনী সম্প্রদায়ের মধ্যে টিকা ছাড়াই হার্ড ইমুনিটির দোরগোড়ায় পৌঁছেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কাতারের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই অভিবাসী শ্রমিক। প্রায় সমস্ত পুরুষ এবং দক্ষিণ এশীয়। তারা ছাত্রাবাস-স্টাইলের আবাসনগুলিতে বাস করে। তারা ক্যাফেটেরিয়া-স্টাইলের সেটিংয়ে একসাথে সবাই মিলে খায়। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়তার অর্থে, যেমনটি হতে পারে এই জনগুসটি টিক তেমন ভাবে একসাথে কাজ এবং বাস করে। গত জুলাইয়ে, গবেষকরা এই শ্রমিক জনসংখ্যার একটি অ্যান্টিবডিগুলির (এটি অতীতের সংক্রমণের লক্ষণ) জন্য জরিপ শুরু করেছিলেন। তারা দেখতে পেলেন যে এই নৈপুণ্য এবং ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ, যারা অধিকাংশ তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক, তারা COVID-19 আক্রান্ত হয়ে এতিমধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়েছিল। অন্য কথায় তারা হার্ড ইমুনিটিতে পৌঁছেছে।কাতারের কর্মকর্তারা অন্যদেশের সাথে তাদের দেশের সীমান্ত পুনরায় খুলে দিয়েছে এর পরেও দেশে COVID-19এ আক্রান্তের সংখ্যা কম রয়েছে। কাতার তার নিজস্ব নাগরিকদের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। 

আসুন হার্ড ইমুনিটি সম্পর্কে কথা বলি। ভেবে দেখুন ভাইরাসটি এমন একটি দেশে অবতরণ করেছে যেখানে সেই জনগোষ্ঠীর কারো কখনই এই রোগ ছিল না এবং সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এবং স্বীকার করি যে এটি স্পষ্ট যে একজন সংক্রামিত ব্যক্তি এটিকে গড়ে অন্য চারজনের কাছে সংক্রমণ করবে। এই পরিস্তিতিতে, এই রোগের প্রাদুর্ভাবের বৃদ্ধি সমতল করার জন্য, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যেখানে ক্ষতিগ্রস্থরা চারজনের মধ্যে মাএ একজনকেই সংক্রামিত করতে পারে। এটি এমন পরিস্থিতিতে হবে যেখানে পূর্ববর্তী প্রাকৃতিক সংক্রমণ বা টিকা দেওয়ার মাধ্যমে চারটির মধ্যে তিনটিই অনাক্রম্য ছিল। তখন এই  সংক্রামিত ব্যক্তি অন্য ৪ জনের সামনে হাঁচি দিতে পারেন তবে কেবল একজনই সংক্রামিত হবেন কারণ এই ব্যক্তিগুলির মধ্যে তিনটি অনাক্রম্য ছিল। চারটির মধ্যে তিনটি, তিন-চতুর্থাংশ, মানে হার্ড ইমুনিটি পৌঁছাতে ৭৫ শতাংশ প্রান্তিকের প্রয়োজন।

বিভিন্ন ভাইরাসগুলির সংক্রমণ ক্ষমতা বিভিন্ন রয়েছে, তাই প্রত্যেকেরই এটির ঝাঁক প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, হামের ক্ষেত্রে, যেখানে একটি হামের রোগি ১৮টি সেই রোগে সংবেদনশীল মানুষকে সংক্রামিত করতে পারে, অতএব, হার্ড ইমুনিটিতে পৌঁছাতে ৯৪% প্রান্তিক প্রয়োজন হয়। একটি পোলিও-আক্রান্ত ব্যক্তি সাত জনের মধ্যে সংক্রমণ করতে পারে, সুতরাং এর প্রান্তিকতা ৮৫ শতাংশ। এই শতাংশগুলি হার্ড ইমুনিটিতে পৌঁছাতে কি পরিমান জনগুশটির ভ্যাকসিন দেয়ার বা সংক্রামিত হয়ার প্রয়োজন তার লক্ষ্য হিসাবে কাজ করে। এগুলি অর্জন করুন তাহলে আপনার সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত লোকেরা সুরক্ষিত থাকবে আর জীবাণু বহনকারী কোনও বহিরাগত লোক আপনার দেশে একটি টেকসই প্রাদুর্ভাব ঘটাতে সক্ষম হবে না।

COVID-19 ভ্যাকসিন এবং হার্ড ইমুনিটি: একটি ভ্যাকসিনের লক্ষ্য রোগের কোনও লক্ষণ বা গুরুতর লক্ষণগুলির বিরুদ্ধে সুরক্ষা অর্জন, গুরুতর রোগের বিকাশ এবং মৃত্যু হ্রাস করা, সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া। সমস্ত উপলব্ধ COVID-19 ভ্যাকসিন গুলো বিশেষত সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠী এবং প্রয়োজনীয় কর্মীদের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ, নিবিড় যত্নের এবং মৃত্যু হ্রাস করার প্রয়োজনে বিকাশ করা হয়েছে। তবে এটি বিশ্বাস করা হয়েছিল ভাইরাসটির প্রতিলিপিগুলি ধ্বংস করে এবং থামিয়ে রাখলে ভাইরাল লোডগুলি হ্রাস পাবে। কম ভাইরাল লোডের কারনে অন্য ব্যক্তির সাথে, সংক্রমণ এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে। ইস্রায়েল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে,  যে দেশে কয়েক মিলিয়ন লোককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা গেছে যে দুই ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া লোকদের মধ্যে সকল বয়সের ক্ষেত্রে লক্ষণ সহ রোগীর ৯৪% এবং গুরুতর অসুস্থতা সহ রোগীর ৯২% হ্রাস হয়েছে। ইস্রায়েলের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ভ্যাকসিনগুলি সংক্রমণের সংক্রমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। এটি টিকা বিহিন  লোকের তুলনায় ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ক্ষেত্রে ৮৯.৪% শতাংশের একটি হ্রাস পেয়েছে। এটি একটি দারুন সুখবর। আমরা অন্যান্য দেশের অনুরূপ ডেটার জন্য অপেক্ষা করছি।

যদি ভ্যাকসিনগুলি সংক্রমণ হ্রাস করতে সক্ষম হয় এবং যদি তারা ভাইরাসের নতুন রূপগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর থাকে - তবে এমন অঞ্চলগুলিতে ভাইরাসগুলি নির্মূল করা সম্ভব হতে পারে যেখানে পর্যাপ্ত লোককদের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং যাতে তারা হার্ড ইমুনিটি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। কারন হার্ড ইমুনিটি অর্জনতা টিকা বিহিন জনগনকে ভাইরাস থেকে  সুরক্ষা দিতে অবদান রাখবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে আলেকজান্দ্রা হোগান এবং তার সহকর্মীদের দ্বারা নির্মিত একটি মডেল অনুসারে সংক্রমণ হ্রাস করতে সক্ষম ৯০% কার্যকর একটি ভ্যাকসিন অস্থায়ী হার্ড ইমুনিটি  অর্জনের জন্য জনসংখ্যার কমপক্ষে 55% লোকের কাছে পৌঁছাতে হব এবং যতক্ষণ অন্যান্য সামাজিক ব্যবস্থা যেমন ঘরে বসেকাজ করা, স্কুল এবং কলেজ বন্ধ করা, মুখোশ পরা, ভিড় এড়ানো এবং সাবান দিতে হাত ধোওয়া উপায় বহাল রয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে উপরের সামাজিক ব্যবস্থা যদি বন্ধ করা হয় তবে তবে হার্ড ইমুনিটি অর্জনের ৬৭% জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া দরকার হবে। তবে যদি কোনও নতুন রূপের কারণে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়, বা কোনও ভ্যাকসিন যদি সংক্রমণের বিরুদ্ধে  90% এর চেয়ে কম কার্যকর হয়, তবে ভাইরাস সংক্রমণ এবং সংবহন বন্ধ করতে হলে ভ্যাকসিন কভারেজ আরো অনেক বেশি এবং কম সময়ের মধ্যে হওয়া দরকার।

ভবিষ্যত ও বাংলাদেশ: ছয় মাস আগে ভারত COVID-19 নিয়ে খুবই সঙ্কটে ছিল। গুরুতর অসুস্থ COVID-19 রোগীদের হাসপাতালে থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চিকিত্সকরা আর অন্যান্য যত্ন দাতারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। আর বস্তি গুলোতে, লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুয যেখানে বাস করে সেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছিল। আজকে দেশটিতে অন্যরকম অবস্তা। প্রতিদিনের নতুন COVID-19 রোগীর সংখ্যা কমছে। সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণের শিখর প্রতিদিনের ৯০,০০০ এরও বেশি থেকে নেমে এসে ফেব্রুয়ারিতে একদিনে ১০,০০০ এ এসেছে। ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী দিল্লিতে শূন্য ভাইরাসের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মুখোশগুলির ব্যাপক ব্যবহার, হাত ধোওয়া বা সামাজিক দূরত্ব বজায় না করেই এগুলি ঘটেছে আর এখন অর্থনীতি আবারও চালু হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ আবার শুরু হয়েছে এবং মানুষ মূলত তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা করছে। এই পুনরুদ্ধার সম্ভবত টিকা দেওয়ার কারণে নয়। আগস্টের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন লোককে জীবাণুমুক্ত করার লক্ষ্যে ভারত তার টিকা কর্মসূচি শুরু করেছে, তবে টিকা দেওয়ার শতকরা শতাংশ অনুযায়ী এটি এখনও বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে ভারতের COVID-19 আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাসের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণের রয়েছে। যেমন দেশের অল্প বয়সী জনগোষ্ঠী বা শহরাঞ্চলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা। 

যদিও পরীক্ষার ইতিবাচকতা হার (যার অর্থ নেওয়া হয়েছে যে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষার মধ্যে কত লোক ইতিবাচক পরীক্ষা করছে) এখনও এই জানুয়ারিতে প্রায় ৬% এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৫% এরও ওপরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জাতীয় অ্যান্টিবডিগুলির সিরিওলজিকাল পরীক্ষার জরিপগুলি আমাদের বলে যে অনেক অঞ্চলে অনেক লোক ইতিমধ্যে COVID-19 দ্বারা সংক্রামিত আর  তা বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইসিএমআর দ্বারা চালিত সর্বশেষ নিক্ষেপ জরিপে দেখা গেছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রায় ২২% অ্যান্টিবডি পজিটিভিটি হার ছিল (ধারনা করা হচ্ছে ২৫০-৩০০ মিলিয়ন লোক ইতিমধ্যেই সংক্রামিত) - গত আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের তুলনায় তিনগুণ বেশি, যখন আগের জরিপে ৬-৭% হার পাওয়া গিয়েছিল। জনবহুল শহরগুলিতে এই হার আরও বেশি। আগস্ট-সেপ্টেম্বর জরিপে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল মুম্বাই বস্তিতে অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা এর আগে সংক্রামিত হতে পারে। জানুয়ারিতে দিল্লি সরকার পরিচালিত একটি সেরো-সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিল্লির অর্ধেকেরও বেশি লোক কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে।
 
বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি এর থেকে অনেক আলাদা? দিনে ৪০০০০এরও বেশি সংক্রামিত লোক নেমে এসে আজকাল দিনে  ৪০০সংক্রামিত - সংক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরীক্ষা করা পরীক্ষায় সংক্রামিত ইতিবাচক শেষ কয়েক সপ্তাহের প্রায় ২.৬%। কোনও উপলভ্য তথ্য ছাড়াই, যদি আমরা ভারতবর্ষের মতো বিবেচনা করি তবে আমরা ধরে নিতে পারি বাংলাদেশে সমস্ত লোকের ২০% বা তারও বেশী জনসংখ্যা  (বাংলাদেশের জনবহুল জনপদে ভারতের মত ৫০% এর বেশি) ইতিমধ্যেই সংক্রামিত হয়েছে। সেই  হিসাবে মোট সংখ্যায় প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ সংক্রামিত হয়েছে (এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ ছিল খুবই কম, অনেকে জানতই না যে তারা এমনকি সংক্রামিত হয়েছিল এবং তাই কখনও পরীক্ষার জন্য আসেননি)। এবং তাই বলা যেতে পারে ইতিমধ্যেই ৩৩ মলিয়ন (৩ কোটি ৩০ লক্ষ) লোকের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সব চেয়ে সুখর হলো ৩৩ মিলিয়ন রোগীর মধ্যে ৮৩৯৫ লোক মৃত্যু বরন করেছেন। সেই বিবেচনায় সংক্রমণের প্রাণঘাতী মাত্র .0002% হবে। বাংলাদেশ টিকা শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় কর্মশালা লোক সহ ৪০ বছরের বেশি বয়সী ২৮ লক্ষ লোককে ভ্যাকসিন দিয়েছে।প্রশ্নটি হতে পারে যে বাংলাদেশ কি ইতিমধ্যে একটি হার্ড ইমুনিটি পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি অবাক হবো না। 

যদি কেউ পল্লী অঞ্চলের মানুষের সাথে কথা বলেন তবে শুনবেন তারা বলবেন যে এখানে " পল্লী অঞ্চলে কোনও করোনা নেই" - সব কিছু সাভাবিক সেখানে। উচ্চ গতিশীলতা এবং উচ্চ ঘনত্বের কারণে, উপচে পড়া ভিড়ের শহরগুলি হটস্পট হিসাবে রয়ে গেছে। আমি একটি পরিবারের মহিলার একটি করুণ গল্প শুনছিলাম। স্বামী, স্ত্রী এবং দুই সন্তান, বাংলাদেশের ঢাকায় থাকা একটি ছোট্ট পরিবার। অনেক কষ্ট সহ্য করেও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত পরামর্শ অনুসরণ করেছেন পুরো গত বছর। স্বামী বাড়ির বাইরে যাননি বললেই চলে, জনাকীর্ণ স্থানগুলি এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং পুরো ২০২০ সালের দিকে মুখোশ ব্যবহার করেছিলেন। তারপরে এই সেদিন জানুয়ারিতে স্বামীর বাবা গ্রামের বাড়ী থেকে একটি বাস ব্যবহার করে ঢাকায়  আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং আসেন। গ্রামে কোনও করোনা নেই, এই বিশ্বাসে তারা সবাই একসাথে ছিল। কয়েকদিন পর বাবার COVID-19র লক্ষণগুলি শুরু হয়, তার স্বামী বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করান এবং কিছুদিন পরে বাবা মারা যান। হাসপাতালে তার বাবার যত্ন নিতে ব্যস্ত থাকাকালীন স্বামী তার নিজের লক্ষণগুলির খেয়াল করেননি বা কোনও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেননি। শ্বাস নিতে অসুবিধা শুরু করায় তাকেও ভর্তি করা হয়েছিল। তার অবস্তার দ্রুত অবনতির কারনে তাকে ডাক্তার বায়ুচলাচলের যন্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হন।দুঃখজনক ভাবে সেও মারা যান। বাবা কী ঢাকায় যাওয়ার পথে সংক্রামিত হয়েছিল, আমরা জানি না? এইসব কিছু বিবেচনা করে তবুও, আমি বলতে পারি, বাংলাদেশ আজ সিভিড -১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উন্নত অবস্থানে রয়েছে।
 
বাংলাদেশ ৪০ বছরেরও বেশি লোককে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ মিলিয়ন টিকার ব্যবস্থা করেছে এবংআরও ভ্যাকসিনের অর্ডার করেছে। ইতিমধ্যে চুক্তি করা টিকা যা দিয়ে ২৫ মিলিয়ন লোককে সম্পুর্ণ ভাবে (দুটি করে ইনজেকসান) আচ্ছাদিত করতে পারবে। ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ সত্ত্বেও আরও বেশি ভ্যাকসিন পাওয়ার  যথাসাধ্য চেষ্টা এবং সময় মত তা পাওয়ার সম্ভাবনা চিন্তা করে, বাংলাদেশ সরকার এই মুহুর্তে ৪০ বছরের নিচে জনগণকে ভ্যাকসিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশী গুরুতর যত্নের রোগী, উচ্চ সংখ্যক মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি হ্রাস করার জন্য প্রথমে সমস্ত প্রয়োজনীয় কর্মশক্তির লোকজন, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী বা পূর্ব-বিদ্যমান অন্য রোগ থাকার  লোকদের পাশাপাশি বাড়ির যত্নের সুবিধার লোকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের মারাত্মক মৃত্যুর পাশাপাশি গুরুতর যত্নের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মৃত্যুর হার অত্যন্ত কম, গুরুতর যত্নের প্রয়োজনও খুব কম। একই সঙ্গে, কোন লক্ষণ নেই সংক্রামিত লোকগুলোর বেশিরভাগই তরুণ, যারা বাংলাদেশ জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এবং যারা বেশী সাহসী আর সংক্ষিপ্ত সময়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। সংক্রমণের এই অসম ঝুঁকি সম্পুর্ণ এই তরুনরা (তাদের মধ্যে স্কুল বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএও রয়েছে), পুরো পৃথিবীর মত আমিও মনে করি ভাইরাসটির সুপার ট্রান্সমিটার, অজান্তেই ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।  যদি কোনও জনস্বাস্থ্য দল ভারী ট্রান্সমিটারগুলি বন্ধ করে ফেলতে পারে তবে তারা কোনও ভ্যাকসিনের কম ডোজ কভারেজসহ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি একটি বিশাল সুবিধা — বিশেষত যখন একটি মহামারী নির্মূল হওয়ার শেষের দিকে এবং ভ্যাকসিন কম ব্যয়বহুল হয়ে যায়। সুতরাং, আমি মনে করি বাংলাদেশ সরকারের উর্ধ্বতন ১৮ বছরের তরুনদের টিকা দেয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।এটি বাংলাদেশের নেতাদের সিদ্ধান্তেই উপর নির্ভর করে কারণ তারা স্থানীয় পরিস্থিতি আমার চেয়ে অনেক ভাল জানেন। এবং আমি তাদের বিশ্বাস করি, যেমন তারা এর আগে ঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই ক্ষেএে ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। 

তবে ভাইরাস নির্মূল করতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ এই নয় যে মৃত্যু, অসুস্থতা বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এখনও অবধি দেখানো স্কেলগুলিতে অবিরত থাকবে। এটি ভবিষ্যত সংক্রমণ বা টিকা দেওয়ার মাধ্যমে যে ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয় এবং কীভাবে ভাইরাসটি বিকশিত হয় তার উপর নির্ভর করবে। ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং চারটি মানব করোনা ভাইরাস যা সাধারণ সর্দি রোগ, এখন এটি মৌসুমী স্থানীয় রোগ। তবে বার্ষিক ভ্যাকসিনগুলির সংমিশ্রণ এবং অনাক্রম্যতা অর্জনের কারণে, সমাজগুলি লকডাউন, মুখোশ এবং সামাজিক দূরত্বের প্রয়োজন ছাড়াই ঐ রোগের নিয়ে আসা তাদের অসুস্থতাগুলি এবং মৃত্যু সহ্য করে। মৌসুমী ফ্লু কোনওভাবেই থামাবে না জীবনকে। এটি মানুষকে বিমানে উড়তে, রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া, তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করা, বা স্কুলে যেতে এবং কাজ করা থেকে বিরত রাখে না।

ভ্যাকসিনগুলি "COVID শূন্য" পরিবেশ উত্পাদন করবে না। তবে তারা এখন গতিতে রয়েছে - অবশেষে, এবং এমনকি এই গ্রীষ্মে- এর গতি আরো কমে  আসবে যা দেখতে অনেকটা স্বাভাবিকতার মতো লাগবে বলে মনে করি।  ভবিষ্যতে কোন চরম বা বিরল ব্যতিক্রমগুলি এটিকে পরিবর্তন করবে না, আমরা যতই তা বলি না কেন।


একজন বিজ্ঞানী এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এটি টুইটারে রেখেছিলেন: “ঝুঁকি মূল্যায়ন? একেবারে সম্ভব! ঝুঁকি প্রশমন? একেবারে সম্ভব! ঝুকি ব্যবস্থাপনা? একেবারে সম্ভব! ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ? একেবারে সম্ভব! ঝুঁকি নিরসন? একেবারে অসম্ভব। "

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

একজন উপাচার্যের কৈফিয়ত

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০৪ মে, ২০২৪


Thumbnail

আজকাল গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি প্রভৃতি নিয়ে প্রায়শঃ খবর প্রকাশিত হতে দেখছি। আমিও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। কোন কোন গণমাধ্যমের খবরে আমার নামটিও রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে এই লেখা। লেখাটির শিরোনাম কি দেব বুঝতে পারছি না। অগত্যা ‘একজন উপাচার্যের কৈফিয়ত’ এই নাম দিয়েই লেখাটি শুরু করলাম।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার পর পরই ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার দায়িত্ব পালনের প্রথম দিকে প্রায় এক/দেড় বছর ছিল করোনাকাল। সে সময় আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনই দু’বার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। করোনাকালে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যয় এই বিশ্ববিদ্যলয়েও কম-বেশী সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও উপাচার্যের অফিস চলতো প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মত। এসময়ে আমাদের প্রধান চেষ্টা ছিল অনলাইন এবং পরবর্তীতে অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত মোডে কি করে ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখা যায়। আমার একটি তৃপ্তির অনুভূতি যে, তখন থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষনা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যহত রয়েছে; নানারকম প্রতিকুলতা সত্বেও ক্লাস-পরীক্ষা একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি কিম্বা তেমন কোন অস্থিরতাও তৈরী হয়নি।

গত এক/দেড় বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। এখানে বিশেষ করে কিছু সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা কম-বেশী সব আমলে উপাচার্যের প্রীতিভাজন হয়ে প্রশাসনকে কব্জায় নিয়ে নিজেদের মত করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে চান। এমনটি না হলে সাধারনতঃ কোন উপাচার্যই তাঁদের মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হন না। জন্মকাল থেকে ১৩ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত এক/দু’জন উপাচার্য কেবল মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন। যাহোক এই শিক্ষকগণের কেউ কেউ সুবিধা করতে না পেরে অন্তত এক-দু’জন শিক্ষক আমাকে এমনও বলেছেন যে, পূর্বে কম-বেশী সকল উপাচার্য তাদের নিয়ে চলেছেন, অথছ আমার সময়ে তিনি/তারা একটু ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পাচ্ছেন না। এরপর থেকে দিনে দিনে শুরু হয়েছে অনলাইন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার আর অপপ্রাচারের প্লাবন। একটি একটি করে তা’ পাঠকের জন্য তুলে ধরতে চাই।

প্রায় দেড় বছর পূর্বে হঠাৎ করে একদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভ্যানে মাইক লাগিয়ে আমার কণ্ঠ-সাদৃশ্য বাক্যাংশের একটি অডিও বাজিয়ে কে বা কারা প্রচার করতে থাকে যে, উপাচার্য হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্য করছি। মূলত : ঘটনাটি ছিল এমন যে, ওই সময়ে শিক্ষক শুন্য একটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল। সেখানে মাত্র তিনটি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল এবং নিয়োগ পরীক্ষায় দু’জন প্রার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন। আমরা প্রার্থী স্বল্পতার জন্য ওই পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃবিজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত নেই। এর কয়েকদিন পর আমি আমার এক ছাত্রকে (যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বটে) অনুরোধ করি যে, তোমরা ঢাকায় থাকো, আমাদের শিক্ষক দরকার। তুমি আমাদের একটু সাহায্য করো- তোমার বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনদের বলো তারা যেন এখানে দরখস্তকরে। উত্তরে সে জানায় যে, স্যার ওখানে কেউ যেতে চায় না। তাছাড়া একটা দরখস্ত করতে গেলে ৫/৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়-তাই কেউ দরখস্ত করতেও উৎসাহি হয় না। আমি তখন জবাবে বলি-ওরা তোমাদেরই বন্ধুবান্ধব, প্রয়োজনে টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা করে তাদের দরখস্তকরতে একটু উদ্বুদ্ধ করো। এই কথোপকথনের ‘টাকা-পয়সা দিয়ে’ এই বাক্যাংশটুকু নিয়ে কিভাবে তারা একটি অডিও বানিয়ে প্রচার আরম্ভ করে যে, উপাচার্য নিয়োগ বানিজ্য করছেন। শুনেছি এভাবে তারা একাধিক অডিও [যা’ শুধুমাত্র একজন অর্থাৎ আমার কন্ঠ সাদৃশ্য এবং তা’ মিথ্যা, বানোয়াট, খÐিত, এক পক্ষীয় (অন্য প্রান্তে কে কি বলছেন তার কোন হদিস নেই) এবং হয়তোবা সুপার এডিটেড] বানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে উপাচার্যকে কিভাবে হেনস্থা করে তাদের অপ-ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করানো যায় সে চেষ্টাই তারা অনবরত করে যাচ্ছে।

আমি আমার কণ্ঠ সদৃশ্য আরও একটি অডিও’র বক্তব্য শুনেছি। এটিও ছিল এক পক্ষীয় এবং খÐিত। আমার আলাপন সেখানে পূর্ণাঙ্গ নেই। অপর প্রান্তে কে কথা বলছেন তারও কোন অস্তিত্ব নেই। অডিও’র বিষয়টি হলো-আমি কোন একজনকে বলছি যে, ‘আপনার নির্দিষ্ট প্রার্থীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিবেন’ ....................আমি দেখবো। সাধারণত: কোন নিয়োগের আগে অনেকেই অনুরোধ করেন যাতে তার প্রার্থীকে যেন একটা চাকুরী দেয়া হয়। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিগণ অথবা কোন রাজনীতিক/সামাজিক ব্যক্তিত্ব ১টি পদের জন্য কখনও কখনও ৩/৪ জন প্রার্থীর রোল নম্বর পাঠিয়েও এ ধরনের অনুরোধ করেন। ধরা যাক, এদের মধ্যে একজনেরই চাকুরিটি হয়েছে। অধিকাংশ সময়ে সে ফিরে গিয়ে তার জন্য অনুরোধকারীকে সুখবরটি জানায় কি-না তা’ আমার জানা নেই। কিšদ প্রায়শ এমনটি ঘটে যে, বাকী যাদের চাকারী হয় না তারা গিয়ে তাদের স্ব-স্ব নেতা বা অনুরোধককারীকে এই বলে বিষিয়ে তোলে যে, উপাচার্য আপনার অনুরোধের কোন দামই দিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে মন খারাপ করে জনপ্রতিনিধিগণ বা রাজনৈতিক/সামাজিক নেতৃবৃন্দ টেলিফোন করে আমাকে হয়তো বলে থাকেন-আপনি আমার একটা অনুরোধ রাখলেন না। এমতপরিস্থিতিতে আমাকে জবাব দিতে হয় যে, এরপর তাহলে আপনার সুনির্দিষ্ট প্রার্থীকে আমার সাথে দেখা করতে বলবেন ............. আমি দেখবো। এই ‘দেখা করতে বলা’ কি নিয়োগ বানিজ্যের সাথে যায়? এভাবে একটি গোষ্ঠী কেবলই মিথ্যাচার করে উপাচার্য হিসেবে আমাকে নাজেহাল করার অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে আমি নতি স্বীকার করে তাদের হাতের পুতুল হয়ে কাজ করি। মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার করে চেঁচে থাকার ইচ্ছে বা অভিপ্রায় আমার নেই।

আমার বিরুদ্ধে না-কি অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজে আমি অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে ৬ থেকে ৮ কোটি টাকার বিল বানিয়ে অর্থ-আত্মসাৎ করেছি বা করার চেষ্টা করেছি। রুচিহীন এবং উদ্ভট এসব অভিযোগের জবাব দিতেও আমি ইতস্তবোধ করছি। উল্লেখ্য নির্মাণ কাজের বাস্তব অগ্রগতি পরিমাপ করে ৩/৪ মাস অন্তর পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর বিল ঠিকাদারের প্রদান করা হয়। এই কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে সাইট ইঞ্ছিনিয়ার-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার-নির্বাহী বা তত্ত¡াবধায়ক ইঞ্জিনিয়ার-প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক প্রমুখ কর্তৃক পরীক্ষিত ও নীরিক্ষিত কাজের পরিমাপ এবং প্রস্তাবিত বিল ঠিক থাকলে তা’ চলে যায় ট্রেজারার মহোদয়ের কাছে। তখন তাঁর নেতৃত্বে গঠিত ভিজিলেন্স টিম সরেজমিনে সাইট পরিদর্শন করে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে তা’ উপাচার্যের নিকট অনুমোদনের জন্য উপাস্থাপন করা হয়। বর্নিত ক্ষেত্রে আমার নিকট ফেবরিকেটেড ওই বিল অনুমোদনের জন্য কোন ফাইলই উপস্থাপিত হয়নি। বরং ৪/৫ মাস পূর্বে আমার দপ্তরে একটি বেনামী চিঠি আসে যে, নির্মান কাজ বেশী দেখিয়ে আট কোটি টাকার একটি বিল প্র¯দত করে তা’ প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এই চিঠির সাথে ফটোকপিকৃত কিছু ডকুমেন্ট ছিল যা’ দেখে অভিযোগের সত্যতা থাকতে পরে বলে আমার কাছে মনে হয়েছিল। আমি তাৎক্ষনিকভাবে এই চিঠির ভিত্তিতে একজন সিন্ডিকেট সদস্যকে আহবায়ক এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের রিপোর্ট প্রদান করেছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তা’ উপস্থাপিত হবে এবং সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে উপচার্য হিসেবে আমি কি দূর্নীতি করেছি আশাকরি পাঠকবর্গ তা’ উপলব্ধি করতে পারছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে দু’একটি অনলাইন পত্রিকায় নিউজ করানো হচ্ছে যে, প্রকল্প সাইটে মাটির নিচে পাইলিং এর জন্য যে রড ঢোকানো হয়েছে সেখানেও না-কি উপাচার্য হিসেবে আমি দূর্নীতি বা অনিয়ম করেছি। যেকোন নির্মাণে পাইলিংয়ের জন্য মাটির নিচে রড কতটুকু ঢুকাতে হবে তা’ নির্ভর করে সয়েল টেস্ট রিপোর্টের উপর। আমি উপাচার্য হিসেবে যোগদানের বহু পূর্বেপ্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সয়েল টেস্ট করে প্রকল্প দলিল প্রনীত ও অনুমোদিত হয়েছিল।

আমার সময়ে এসে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর যখন পাইলিং আরম্ভ হয় তখন সংবাদকর্মীদের মাধ্যামে আমি জানতে পারি যে, প্রকল্প দলিল অনুযায়ী মাটির নিচে যে পর্যন্ত রড ঢোকানোর কথা (ধরা যাক ৫০’) তার চেয়ে কম গভীরতায় রড ঢুকিয়ে পাইলিং এর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আমি সাথে সাথে প্রধান প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখতে বলি এবং ভিজিলেন্স টীম পাঠিয়ে তাদের ব্যবস্থা নিতে বলি। ভিজিলেন্স টীমের সদস্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসের কর্মকর্তাগণ আমাকে এসে রিপোর্ট করেন যে, সয়েল টেস্টিং এর ভিত্তিতে যেভাবে পাইলিং এর রড প্রকল্প অনুযায়ী মাটির নিচে ঢোকানোর কথা বাস্তবে তা’ ঢোকানো যাচ্ছে না। রড ঢুকছে তার কম (কম-বেশী ৪০’)। এ পর্যায়ে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় সয়েল টেস্ট ও তা’ ভেটিং করিয়ে টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী সেই গভীরতায় রড ঢুকিয়ে পাইলিং এর কাজ করা হয়েছে। এই বিষয়টি প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, আই এম ই ডি, ইউ জি সি-র প্রতিনিধিগণ থাকেন) সভায় অবহিত করা হয়েছে। এখানে উপাচার্য কিভাবে রড কম গভীরতায় ঢুকিয়ে দূর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন সে বিবেচনার ভার পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম।

আমি প্রায়শঃ শুনি যে, আমার বিরুদ্ধে না-কি আরও একটি অভিযোগ যে, আমি অবৈধভাবে কর্মকর্তাদের উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদান করেছি। বিষয়টি আমি নিচেয় ব্যাখ্যা করছি। তার আগে বলে রাখা দরকার যে, এটি ডেপুটি এবং এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার জন্য একটি আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়। এটি প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক নিয়মের কোন ব্যত্বয় ঘটলে ইউ জি সি অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বছরে একাধিকবার অডিট করেন তারা আপত্তি উত্থাপন করতে পারেন। কিন্তু উপাচার্যের দূর্নীতির উপাদান এখানে কি থাকতে পারে তা’ আমার বোধগম্য নয়।

ঘটনাটি ছিল এমন যে, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি এবং এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পরে একধাপ উচ্চতর স্কেলে বেতন উন্নীত করে তা’ প্রদান করা হতো। ২০১৫ সালের বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর এই সুযোগ রহিত করা হয়। আমি ২০২০ সালের শেষ দিকে করোনাকালে যখন এখানে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করি তার কয়েকদিনের মধ্যে ওই পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এসে আমার সাথে দেখা করে দাবী জানায় যে, এই স্কেল উন্নীতকরণ ঘটবে উপ-রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে। কিšদ পূর্বের প্রশাসন ২০১৯ সালে বেছে বেছে তাদের অনুগত কর্মকর্তাদের এই সুযোগ প্রদান করেছেÑ কাজেই অবশিষ্টদেরও এটি দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ২০২২ সালের দিকে তারা একটি বড় আন্দোলন গড়ে তোলে এবং প্রায় ২ মাস ধরে কর্মবিরতি পালন করে। এক পর্যায়ে গিয়ে এবিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দেখতে পায় এই সুবিধাটি ২০১৫ সালের পে-স্কেলের সময় রহিত করা হলেও ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীর নগর, মওলানা ভাষানী বিশ্ববিদ্যালয় বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তখনও চালু রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুবিধা পূর্বে অলরেডি কর্মকর্তাদের একটি অংশকে দেয়া হয়েছে এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনও এই সুবিধা প্রদান বহাল রয়েছে। এই বিবেচনায় কর্মকর্তাদের আর একটি অংশ যাতে বঞ্চিত না হয় (অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনকার পরিস্থিতি) সেসব বিবেচনায় নিয়ে কমিটি বঞ্চিতদের জন্য স্কেল উন্নীত করণের সুপারিশ করে। এই সুপারিশ ফিন্যান্স কমিটি এবং সিন্ডিকেটে এই শর্তে অনুমোদন দেয়া হয় যে, এব্যাপারে ভবিষ্যতে কখনও যদি অডিট আপত্তি উত্থাপি হয় তাহলে এই উন্নীতকরণ বাতিল হবে এবং কর্মকর্তাদের দেয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি সে সময় এভাবে ফয়সালা করা হয়েছে। এখানে উপাচার্য হিসেবে আমার দূর্নীতির জায়গাটি কোথায় তা’ আমার বোধগম্য নয়। আমি মনে করি এটি বড়জোর একটি অডিট আপত্তি/অনাপত্তির বিষয়। ব্যক্তি বা সামস্টিক দূর্নীতির সংগার সাথে এটি যায়-কি?

উপাচার্য হিসেবে আমার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ সম্পর্কে দু’একটি অনলাইন পত্রিকা এবং নষ্ট-ভ্রষ্ট ওই গোষ্ঠীর প্রচার-প্রপাগাÐা থেকে জেনেছি যে, আমি আমার ঢাকার বাসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় সিকিউরিটি নিয়োগ দিয়েছি। এটি সর্বৈব মিথ্যা রটনা। ঢাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রেস্ট হাউজ রয়েছে। সেখানে মাত্র ২ জন কর্মী (একজন কুক, একজন সাধারণ) কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫/২০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা (কখনও কখনও তাদের পরিবার-বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য) ঢাকায় গিয়ে রেস্ট হাউজে অবস্থান করেন। উল্লেখ্য এসময়ে বেশ কয়েকমাস ধরে রেস্ট হাউজ ভবনের সংস্কার কাজ চলছিল। রেস্ট হাউজে ইবি পরিবারের সদস্যগণ দিনে-রাতে (কোন ধরাবাধা সময় নেই) যাতায়াত করেন। তাদের জন্য বার বার গেট খোলা এবং লাগানোর মত কোন জনবলই সেখানে ছিল না। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী স্থায়ী জনবল নিয়োগেরও তেমন কোন সুযোগ ছিল না। সেসময় এস্টেট অফিস থেকে আমাকে জানানো হয় যে, ঢাকা রেস্ট হাউজে কিছু সিকিউরিটি ডেপুট (নিয়োগ নয়) করা দরকার। ইবি ক্যাম্পাসের কয়েকজন আনসার দিয়ে সেটা করা যায় কি-না সে ব্যাপারে এস্টেট অফিস আমাকে অবহিত করে যে, আনসার ডেপুট করা অনেক খরচের ব্যাপার এবং বারো জনের নিচেয় আনসার কর্তৃপক্ষ জনবল দিবে না। বিকল্প হিসেবে স্বল্প সংখ্যক (৫/৬ জন) জনবল বরং সিকিউরিটি সংস্থা থেকে ডেপুট করা যায়। সে অনুযায়ী যথাযথ বিধি বিধান প্রতিপালন করে ফিন্যান্স কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে ঢাকা রেস্ট হাউজের জন্য ছয়জন সিকিউরিটির সেবা হায়ার করা হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে প্রায়শ আমাকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ইউ জি সি, ধর্ম মন্ত্রনালয় (ইসলামী ফাউন্ডেশন), এ ইউ বি-র সভা এবং গুচ্ছের সভাসমূহে যোগাযোগসহ প্রভৃতি কারণে ঢাকায় যেতে হয়। সেকারণে শিফট অনুযায়ী সিকিউরিটি সদস্য যারা রেস্ট হাউজে ডিউটি করে তাদের একজন রেস্ট হাউজে এবং একজনকে উপাচার্যের বাসায় ডিউটি বন্টন করা হয়েছে মাত্র। উপাচার্যের বাসার জন্য কোন সিকিউরিটি সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। উপাচার্যের বাসার জন্য সিকিউরিটি নিয়োগ দেয়া হয়েছে এটাও একটি মিথ্যা প্রচারণা।

প্রকৃতপক্ষ আমি জানিনা উপাচার্য হিসেবে আমার বিরুদ্ধে আর কি কি অভিযোগ রয়েছে? অভিযোগগুলো কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে? অভিযোগগুলো কারা করেছে তা’ও আমার জানা নেই। যাহোক একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রচার প্রপাগান্ডার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ইউ জি সি-কে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করিয়েছে। কমিটির সদস্যবৃন্দ আমাকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে লিখিত মতামত/বক্তব্য দিতে বলেছিলেন। আমি তাঁদের নিকট লিখিত ভাবে (ডকুমেন্টসহ) আমার বক্তব্য প্রেরণ করেছি।

আশাকরি পাঠকবৃন্দ বিষয়সমূহ অবহিত হয়ে একজন উপাচার্যকে কিভাবে কেবল রসালো, মিথ্যা, বানোয়াট এবং বস্তনিষ্ঠহীন অভিযোগ তুলে তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তা’ উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। উপাচার্য এবং ব্যক্তি মানুষ হিসেবে আমি শুধু এতটুকুই বলবোÑআমি কোন দূর্নীতি করে উপাচার্যের এই চেয়ারকে কলুসিত করিনি; আমি স্বার্থান্বেষী নষ্ট-ভ্রষ্ট কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করবো না।

ধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম

উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।



বিশ্ববিদ্যালয়   উপাচার্য   কৈফিয়ত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

মিল্টন সমাদ্দার গ্রেপ্তার ও তাৎক্ষণিক ভাবনা


Thumbnail

মিল্টন সমাদ্দার গ্রেপ্তার হয়েছে। দেশজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে, মিল্টন যতটুকু ভাল কাজ করেছে, তাই বা কজন করে। আবার অনেকে বলছে, মিল্টন অনেক ভয়ঙ্কর কিছু কাজ করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আবার কেউবা বলছে, মিডিয়ার লোকজন সত্য বলছে না। যা বলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব দেখে শুনে আমরা আম জনতা দিকবিদিকহীন। দিশা খুঁজে পাই না। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা, তা নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছি। সত্য মিথ্যা খোঁজার দায়িত্ব আম জনতার না। সেসব খুঁজবে আইনের লোকজন। মিল্টন সমাদ্দার এখন আইনের লোকের হাতে। তাতেই আম জনতার স্বস্তি। এবার নিশ্চয় জনতা জানতে পারবে কে সত্যি আর কে মিথ্যা। মিল্টন নাকি মিডিয়ার লোকজন?

আইনের লোকজন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যেন জনতাকে জানিয়ে দেয়, মিল্টন যা করছে, তা ঠিক করছে, নাকি বেঠিক করছে। যা করছে, তা কি মানবতার পক্ষে নাকি মানবতা বিরোধী।  আসলেই কি কিডনি বা অন্য অঙ্গ বিক্রি করছে। নাকি সব ভাওতাবাজি। নাকি আয়নাবাজি। মিডিয়া যা  লিখছে, তা কি সব ঠিক। নাকি বাড়াবাড়ি। এসব জানার অধিকার জনতার রয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ে জনতা তা জানতে পারবে। নাকি সাগর রুনিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, সে প্রশ্নের মত এসব প্রশ্নও আকাশে  মিলিয়ে যাবে। নাকি বৈশাখের আগুন ঝরা তেতাল্লিশ উর্ধ লসিয়াসে উদ্বায়ু হয়ে যাবে। মিল্টন যদি কোন অন্যায় করে থাকে, তার যেন বিচার হয়, শাস্তি হয়। মিডিয়া যদি অসত্য তথ্য দিয়ে বাড়াবাড়ি করে থাকে, তারও যেন শাস্তি হয়। মিল্টনের গ্রেফতারের মাধ্যমে এ সব কঠিন প্রশ্নের যেন সহজ উত্তর বেরিয়ে  আসে, এ প্রত্যাশা আমাদের সবার।

পরিশেষে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে মিনতি, তারা যেন আশ্রমে আশ্রিতদের আপাতত দেখভাল করেন। তাদের তিনবেলা যেন আহার জোটে। ওষুধ পথ্যের যেন ঘাটতি না হয়। মিলটনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যেয়ে আশ্রিতরা যেন অন্ন, বস্ত্র বা চিকিৎসাহীনতায় কষ্ট না পায়। সবার মনে রাখা প্রয়োজন, আশ্রিতরা তো কোন অন্যায় করেনি। সমাজ সেবা

অধিদপ্তর মিল্টনের অবর্তমানে আশ্রিতদের কদরের কোন কমতি করবে না, সে প্রত্যাশা সকল আম জনতার।

পাদটীকা: আজকের অনলাইন পত্রিকাসমূহের একটি খবর। দেশের গণমাধ্যমে ভুয়া খবরের সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ। ২০২৩ সালে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে মোট ৪৪টি ঘটনায় ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার হতে দেখা গেছে। তাই সাধু সাবধান।

 

লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট।


মিল্টন সমাদ্দার   গ্রেপ্তার   আইন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

আওয়ামী লীগে খুনি মোশতাকদের বাম্পার ফলন


Thumbnail

প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুরু হচ্ছে আগামী ৮ মে। নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ সভাপতি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের পরিবারের সদস্য বা নিকটতম আত্মীয় স্বজনেরা প্রার্থী হতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। কোন প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে পারবেন না। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনা দলের সাধারণ সম্পাদক বারবার নেতাকর্মীদের এবং মন্ত্রী-এমপিদের বলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আওয়ামী লীগ সভাপতি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বারবার বলার পরেও কেউ তা কর্ণপাত করলেন না। অথচ যারা এই নির্দেশনা মানলেন না তাদের অবস্থা এমন যে, যেন তারা শেখ হাসিনার জন্য জীবনও দিতে প্রস্তুত।

খুনি মোশতাকের কথা আমাদের নিশ্চিয় মনে আছে। বঙ্গবন্ধু তাকে অনেক ভালোবাসতেন, বিশ্বস্ত মনে করতেন। খুনি মোশতাকেরও এমন অবস্থা যেন তিনি যে কোন মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছেন। এমনও হয়েছিল যে, খুনি মোশতাকের মা মারা যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার কান্না থামিয়েছেন। কিন্তু সেই মোশতাকই বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছেন। ঠিক একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আজকে আওয়ামী লীগে। দার্শনিক শেখ হাসিনা আপনাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, এমপি বানিয়েছেন, তার অনুকম্পায় আপনি রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়েছেন কিন্তু আপনার স্বার্থের জন্য আপনি তারই (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা অমান্য করলেন। আপনি উপজেলায় আপনার মত করে প্রার্থী দিলেন। সুতরাং আপনি খুনি মোশতাকের চেয়ে কম কিসে? জেলায় জেলায় আজ খুনি মোশতাক জন্ম নিয়েছে। এমনকি উপজেলা গুলোতে একই অবস্থা। ফলে এটা স্পষ্ট যে, খুনি মোশতাকের বাম্পার ফলন হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) আওয়ামী লীগ তার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি যে কোন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত চিন্তা ভাবনা করে নেন এবং দর্শন ভিত্তিতে নেন। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবে আমরা আন্দাজ করতে পারব না যে, তিনি কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে আমরা অনুমান করতে পারি যে, দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীদের ব্যাপারে নিশ্চিয় তিনি বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিবেন।

দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীদের ব্যাপারে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে সেটি হল ‘ফর গিভেন বাট নট ফরগটেন’(forgiven but not forgotten) অর্থাৎ তিনি ক্ষমা করে দেন কিন্তু সেটা ভুলে যান না। সুতরাং যারা এখন নতুন করে খুনি মোশতাক হয়েছেন এবং যাদের বাম্পার ফলন হয়েছে তাদের এটা মনে রাখতে হবে। আগামীকাল আওয়ামী লীগ তার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত নিবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হল দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ঠিক মতই জানেন কিভাবে এই সকল খুনি মোশতাকদের কিভাবে ধরতে হবে। খুনি মোশতাক খুব ভাগ্যবান যে তিনি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

কিছুদিন আগে বাংলা ইনসাইডারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে কেউই রাজনীতিতে ভালো করতে পারেননি।’ উনার এই বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই ভালো লেগেছে। তিনি চিরন্তন একটি সত্য তুলে ধরেছেন। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীদের এই বিষয়টি মনে রাখা উচিত।

আমি মনে করি, দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারী এই নতুন খুনি মোশতাকরা বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে স্থান করে নিয়েছে। কেউ নিজে থেকে বা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করলেও তিনি আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নয়, খুনি মোশতাকের আদর্শে দীক্ষিত হয়েছেন। যেমন জার্মানিতে এখনও হিটলারের সমর্থক কিছু লোক পাওয়া যায়। ঠিক তেমনি ভাবে এখন আওয়ামী লীগের ভেতর এখনও খুনি মোশতাক এর দোসররা রয়ে গেছেন। এই সমস্ত খুনি মোশতাকদের যদি এখনই প্রতিহত না করা যায় তাহলে আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে তাদের জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা সেই কঠিন সময় আসার আগেই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেন এই খুনি মোশতাকদের বাম্পার ফলন যে ভাবেই হোক ধ্বংস করে দিবেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশই দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ


Thumbnail

দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করা হয়। আজ এ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ নিয়ে লিখেছেন দেশবরেণ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

বাংলাদেশের জন্য আজকের দিনটি অনন্য, অসাধারণ। আজকের দিনটিকে আমি মনে করি, প্রান্তিক মানুষের বিজয়ের দিন। জনগণের ক্ষমতায়নের দিন। আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

এপ্রিল মাস বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ এপ্রিল জাতির পিতার নির্দেশে এবং তার নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করে মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান জাতীয় চার নেতা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধামুক্ত সাম্যের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর সেজন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার জায়গা হলো অসাম্প্রদায়িক, সাম্য এবং বঞ্চনামুক্ত বাংলাদেশ। আর এ এপ্রিল মাসেই প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল। এপ্রিল মাস বাংলাদেশের জন্য আরেকটি চেতনার পতাকা বহন করে চলেছে। তা হলো, এই এপ্রিলেই দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল গিমাডাঙ্গায় কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এবং সারা বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবার অনন্য মডেল হিসেবে পরিচিত এবং স্বীকৃত কমিউনিটি ক্লিনিক তার অভিযাত্রা শুরু করেছিল। আমি এ কারণেই মনে করি যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভিযাত্রা বা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভিযাত্রা যেমন এপ্রিল মাসে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং জনগণের ক্ষমতায়নের পূর্ণতার বৃত্ত পূরণ এ এপ্রিল মাসেই হয়েছিল। এ কারণেই আমি আজকের দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ মনে করি। দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল দর্শন হলো জনগণের ক্ষমতায়ন। আর এ দর্শনটি তিনি আত্মস্থ করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন চেয়েছিলেন জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে। জনগণের সাম্যতা এবং ন্যায্যতার জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। আর সে কারণে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তিনি একটি শান্তি, প্রগতিশীল এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিনির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু রূপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতা চেয়েছিলেন স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। আর এ কারণেই তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতিমালা-সংক্রান্ত অংশে স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জাতির পিতার এ স্বপ্নযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ওইদিন শুধু জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছিল বাঙালির স্বপ্ন, বাঙালির অগ্রযাত্রা এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের অন্ধকার যাত্রা শুরু হয়েছিল ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই। আর এ অন্ধকার যাত্রাকে থামাতে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং বাংলাদেশে একটি সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

২০২৩ সালের ১৭ মে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি অর্জন আসে। জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় ‘কমিউনিটি ক্লিনিক: দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’। এটি বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।

কমিউনিটি ক্লিনিক যেমন শেখ হাসিনার একটি উদ্যোগ বা ইনিশিয়েটিভ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তেমনি আজকের যে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দরিদ্রমুক্ত, স্বনির্ভর, উন্নয়নের রোলমডেল বাংলাদেশ, সেটিও দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ। আজকে বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ কল্পনাও করা যায় না। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের এ অভিযাত্রা কেউ স্বপ্নেও ভাবেননি। দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নগুলোকে হৃদয়ে ধারণ করেননি, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি একজন দক্ষ নির্মাতা বটে। আর এ কারণে তিনি বাংলাদেশকে এমন এক উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তার অধিকারগুলো পাচ্ছে, জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটছে। জনগণের ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রাপ্তির এক অসাধারণ মডেল হলো বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। এই কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে অনেক নীরব বিপ্লব বাংলাদেশে ঘটেছে, আমি সেদিকে সামান্য একটু আলোকপাত করতে চাই।

প্রথমত কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই প্রজাতন্ত্রের মালিক যে জনগণ তা স্বীকৃত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল এমন একটি মডেল, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণ জমি দিচ্ছে আর সরকার ভবন নির্মাণ করছে। জনগণ দেখছে যে, তারা সেবা পাচ্ছে কি না। জনগণের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিউনিটি গ্রুপগুলো জনগণের ক্ষমতায়নের ছোট ছোট বাতিঘর। দ্বিতীয়ত এ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তৃতীয়ত এ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দর্শন তৈরি করা হয়েছে। রোগ প্রতিরোধই যে একটি সুস্থ জাতি গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত, সেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আর এ কারণেই গত বছর ১৭ মে জাতিসংঘে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলটি ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত হয়েছে। শুধু কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলটি ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ নয়, বাংলাদেশের বদলে যাওয়া, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের অভাবনীয় এ উন্নতির মূল উদ্যোক্তা দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকের যে বাংলাদেশ তা হলো ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’। আমরা যদি বাংলাদেশর উন্নয়ন কাঠামো লক্ষ্য করি, তাহলে সবচেয়ে যেটি বিস্ময়কর ব্যাপার তা হলো, বাংলাদেশে সমন্বিত উন্নয়ন বাস্তবতা চলছে। একদিকে যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের কথা বলছি, দেখছি; তেমনি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি বেড়েছে। বাংলাদেশ একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। কল্যাণকামী রাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত হলো, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিকে যেমন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আবাস্থলের নিশ্চয়তাও দেওয়া হচ্ছে।

সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে একটি সুবিন্যস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা করছেন। যে উন্নয়ন পরিকল্পনাই কেউই বাদ যাবেন না। আর বাদ না যাওয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা হলেন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি এমন একটি উন্নয়ন মডেল বাংলাদেশে তৈরি করেছেন, যে উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে সব মানুষ উন্নয়নের সুবিধা পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে। আমি মনে করি, কমিউনিটি ক্লিনিক শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশ তৈরি করতে চান তার একটি প্রতিরূপ। সারা বাংলাদেশে সাম্য, ন্যায্যতা এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীরব বিপ্লব চলছে। আর সেই নীরব বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। আমরা জানি যে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবেন। স্মার্ট বাংলাদেশ মানে কী? স্মার্ট বাংলাদেশ মানে হলো এমন একটি আধুনিক, প্রগতিশীল এবং উন্নত বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার পাবে। সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। যেটি বাংলাদেশের সব মানুষকে সুখী এবং সমৃদ্ধ করবে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে যদি প্রতিটি গ্রামকে যদি স্মার্ট গ্রাম করতে পারি, আধুনিক করতে পারি, সুখী করতে পারি এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে যদি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে সারা বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে বিনির্মিত হবে।

কাজেই কমিউনিটি ক্লিনিক যেমন বাংলাদেশকে স্মার্ট করতে পারে তেমনি ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের চাবি। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশকে আরও উন্নত করা এবং স্বপ্নের সোনার বাংলার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে বলেই আমার বিশ্বাস। আর সে কারণেই কমিউনিটি ক্লিনিক দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি মনে করি, ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ আমরা যদি হৃদয়ে ধারণ করি, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কী চান, তিনি কী ভাবেন, মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি কী কী কাজ করতে চান, সেটি যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি এবং তার নীতি এবং চিন্তার প্রতি আমরা যদি সৎ থাকি, আদর্শবাদ থাকি, তাহলে বাংলাদেশের বদলে যাওয়া রূপ আরও বিস্তৃত হবে, বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটি রোলমডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হবে। আর এ কারণেই কমিউনিটি ক্লিনিক দিবসকে আমরা ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।


দ্য শেখ হাসিনা   ইনিশিয়েটিভ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বিসিএস পরীক্ষার জন্য ছোট বেলা থেকেই প্রস্তুতি প্রয়োজন


Thumbnail

১৯৯৮ সাল। বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরী করি। স্থানীয় চাইনিজ রেস্তোরাতে একটি সেমিনার হবে। ঢাকা থেকে ওষুধ কোম্পানির এক কর্মকর্তা এসেছেন। তিনি একই মেডিকেলে আমার এক বছরের সিনিয়র। বেশ খাতিরের বড় ভাই। তিনি তাঁর ব্যাগ থেকে একটি যন্ত্র বের করলেন। যন্ত্রটি অন করার পর দেখি সেটি একটি কম্পিউটার। কোন তার ছাড়া কম্পিউটার।  জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কি জিনিস এটা, নাম কি ? বললেন, ল্যাপটপ। জীবনে এই প্রথম আমার ল্যাপটপ দেখা। তবে নাম শুনেছি এর তিন বছর আগে, ১৯৯৫ সালে। যখন নাম শুনেছি, তখন বুঝিনি জিনিসটা কি ?

১৯৯৫ সালে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেই, ১৭তম বিসিএস। জীবনে একবারই এই পরীক্ষা দেই। উত্তীর্ণ হই। সাড়ে আট বছর চাকুরী করেছি, ছেড়েও দিয়েছি । সে অন্য প্রসঙ্গ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন ছিল, ল্যাপটপ কি ? অপশন ছিল- ছোট কুকুর, পর্বতারোহন সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র ও ছোট কম্পিউটার। উত্তর কি দিয়েছিলাম তা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে যে, আমি উত্তরের জায়গায় ছোট কম্পিউটারে টিক দেইনি। জীবনে যে জিনিসের নামই শুনিনি তাতে টিক দেই কেমনে ? সেকালের কোন গাইড বইতে এ ধরণের কোন প্রশ্ন বা তার উত্তর নেই বলে শুনেছি। পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৯৯ ভাগ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। গাইড পড়ে এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। তবে যারা আধুনিক প্রযুক্তি বা অনাগত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধ্যান ধারণা রাখে তারা সঠিক উত্তর দিয়েছিল।

ঘটনাটি মাথায় এলো সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে। সেখানে দেখলাম হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী হুড়োহুড়ি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঢুকছে। শুনলাম তারা আসন্ন বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিবে। ভিডিওটি আবার দেখার জন্য গুগলে অনুসন্ধান করলাম- 'ঢাবি লাইব্রেরিতে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের ভিড়'। সেখানে দেখি শত শত খবর। প্রতি বছর নাকি এমনটি হয়। লাইব্রেরিতে ঢুকতে হুড়োহুড়ি। পরীক্ষার আগে নাকি সেখানে এমন যুদ্ধ চলে। বিসিএস কি দু এক মাস বা দু এক বছরের প্রস্তুতির ব্যাপার ? একবার পরীক্ষা দিয়ে আমার কাছে তা মনে হয়নি। আমার মতে, এর জন্য সমগ্র শিক্ষা জীবন ধরে প্রস্তুতি প্রয়োজন। এটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। আমার সাথে অনেকেই একমত নাও হতে পারেন।

ছোট কাল থেকে নিয়মিত অধ্যাবসায়ের পাশাপাশি নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া প্রয়োজন। জগৎ সংসার, দেশ বিদেশ, বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ভূগোল, খেলাধুলা বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা দরকার। কোন একটি দেশি বা বিশ্ব ইভেন্ট চলছে। সেটি চলাকালে দৈনন্দিন খোঁজ খবর রাখার পাশাপাশি ওই ইভেন্টের অতীত জেনে নিলেন। কবে থেকে ইভেন্টটি চলছে, কোথায় সেটি শুরু হয়েছিল, সেটি জেনে নিলেন। নিয়মিত সংবাদপত্র পড়লে বা টিভি সংবাদ দেখলে সেগুলি আপনা আপনি জেনে যাবেন।

তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য একটু প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। আমি নিয়েছি এক সপ্তাহের। তাও ইন্টার্নি চলাকালে ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে। আপনি এর জন্য সর্বোচ্চ এক মাস বরাদ্ধ রাখতে পারেন। বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস অংশে কিছু সাল মনের মধ্যে গেঁথে নেয়ার জন্য গাইড বইটি একটু চোখ বুলাতে পারেন। যে সব বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো একটু দেখতে পারেন। অংকের ফর্মুলা গুলো একটু ঝালাই করে নিতে পারেন। সমসাময়িক বিশ্ব বিষয়ে অনেকের দুর্বলতা থাকে। সংবাদপত্রের এ অংশটুকু প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। এ অধ্যায়টিও দেখে নিতে পারেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে যদি এর চেয়েও বেশি সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার দুর্বলতা অনেক। বিসিএস পরীক্ষার জন্য ছোট বেলা থেকে আপনার প্রস্তুতি নেই। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন