ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আর এস এস কী ফ্যাসিবাদী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:১২ পিএম, ০৮ জুন, ২০১৮


Thumbnail

সম্প্রতি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেস ধারণায় বিশ্বাসী প্রণব মুখার্জী আর এস এসের সদর দপ্তর নাগপুরে বক্তব্য দেয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই চলছে আর এস এস বিতর্ক।

মূলত: আর এস এস হলো রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী, এর প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগাওয়ার। বর্তমানে এই দলের প্রধান সঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

আর এস এস হলো হিন্দু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী বা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। দলটি আরো মনে করে যে, দেশের বৃহত্তম হিন্দু গোষ্ঠীই ভারতের মূল শক্তি এবং সকলকেই এই মতবাদের আওতায় আনার জন্য দলটি কাজ করে যাচ্ছে। নিজেদের জাতি ছাড়া অন্য কোন জাতিকে প্রাধান্য দিতে এরা নারাজ।

শুরুতেই সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে এরা কাজ করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কার্যক্রমে ও এরা অংশগ্রহণ করে থাকে। সমগ্র ভারতে ৪০ হাজারের ও বেশি শাখা রয়েছে আর এস এসের। শুধু তাই নয়, ভারতের বাইরে ও ৩৫ টি দেশে এই সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

তবে এ ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করছেন না অনেকেই। ধর্মনিরেপক্ষ বুদ্ধিজীবীরা আর এস এস কে ফ্যাসিবাদ হিসেবেই সমর্থন করে থাকে। তাহলে আর এস এস কী সত্যিই ফ্যাসিবাদি সংগঠন?

অধ্যাপক জ্যোতির্ময় শর্মা বলেন, ‘আরএসএস-এর জাতীয়তাবাদকে বুঝতে গেলে সরকারী জাতীয়তাবাদের বিচার বিশ্লেষণ প্রয়োজন’।

তবে আর এস এস হিন্দু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং ক্ষমতা দখলের পর তাঁরা তাদের এই বিশ্বাসকে সাফল্যে রূপ দিতে চায়।


বাংলা ইনসাইডার/জেড আই 



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সোনালী ব্যাংককে ৯৬ লাখ রুপি জরিমানা করলো ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ: ১০:১৪ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

লেনদেনের বিধি ও নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংককে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকেও একই অভিযোগে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। 

২০২২ সালের ৩১ মার্চ থেকে চলমান একটি পর্যবেক্ষণের ফল হিসেবে এই জরিমানা করেছে আরবিআই। পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অসংগতিপূর্ণ আচরণ ধরা পড়ে। এ কারণে ব্যাংক দু’টিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। 

সরকারের ভর্তুকির বিপরীতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণের অনুমোদন দিয়েছিল মুম্বাইভিত্তিক সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। এ ছাড়া অননুমোদিত ই–লেনদেনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল ব্যাংকটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরবিআই জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বিধি প্রতিপালনে ব্যর্থতার কারণে। গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন বা চুক্তি সংক্রান্ত কোনো ব্যত্যয়ের বিষয় নয়। আর এই জরিমানা ছাড়া ব্যাংক দুটির বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরবিআই আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের গ্রাহক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা অনুসরণ না করায় এবং আরও কিছু নির্দেশনা মেনে না চলায় সোনালী ব্যাংকে ৯৪ লাখ ৪ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। 

আরবিআই বলছে, এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বিধি প্রতিপালনে ব্যর্থতার কারণে। গ্রাহকের সঙ্গে লেনদেন বা চুক্তি সংক্রান্ত কোনো ব্যত্যয়ের বিষয় নয়। আর এই জরিমানা ছাড়া ব্যাংক দুটির বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।


সোনালী ব্যাংক   ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সুইজারল্যান্ডে সম্মেলন নিয়ে ইউক্রেনের সেনা ও সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন?

প্রকাশ: ০৯:১৩ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে ‍যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এ নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বেশ উচ্চাশা পোষণ করছেন। ভালো কিছুর প্রত্যাশা তাঁর। তবে ইউক্রেনের সম্মুখসারির সেনা ও কিয়েভের যুদ্ধক্লান্ত বাসিন্দাদের মতে, সম্মেলন থেকে বড় কোনো অর্জনের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এ সময়ে এসে সুইজারল্যান্ডের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে প্রায় ৯০টি দেশ ও বৈশ্বিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এমন এক সময়ে তাঁরা বসছেন, যখন ইউক্রেনের দোনেৎস্কে রুশ বাহিনীর সঙ্গে জোরালো লড়াই চলছে।

ওই অঞ্চলে যুদ্ধরত একটি ট্যাংক ব্রিগেডের ডেপুটি কমান্ডার সের্গেই। সম্মেলনের ভবিষ্যত নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন ৩৬ বছর বয়সী এ যোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভবত একটি বিলাসী সম্মেলন হতে যাচ্ছে।’ তাঁর মতে, ভালো অস্ত্র পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই এ সম্মেলন দোনেৎস্কের পরিস্থিতির আদৌ উন্নতি করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

২৩ বছর বয়সী দিনাইলো পেশায় ড্রোন পরিচালক। তিনি বলেন, এ জমায়েত ‘যুগান্তকারী’ কোনো পরিবর্তন আনবে না। এটা বরং প্রতীকী একটি আয়োজন হবে।

সীমিত সম্পদ থাকার পরও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দেশটির পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে গ্রামের পর গ্রামে রুশ বাহিনীর সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলক বেসামরিক স্থানান্তর ঘোষণায় বাধ্য করেছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ায় আটক ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়টি সম্মেলনে অগ্রাধিকার পাবে।

এই ইস্যুটা ৪০ বছরের লিদিয়া রাইবাসের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নিজের ভাই এখন যুদ্ধবন্দী। তাই সুইজারল্যান্ডের আলোচনার দিকে তাঁর মনোযোগ থাকবে। লিদিয়া বলেন, ‘আমার ভাই বন্দী। তাই এ ইস্যুটা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’

২২ বছরের আলেকজান্দ্রা পেশায় তথ্য নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ। সুইজারল্যান্ডের সম্মেলন নিয়ে তাঁর মনোভাব অনেকটাই স্পষ্ট। বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নৃশংস সামরিক উপায়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। এ সম্মেলন মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে। তবে শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে ফয়সালা হবে।’

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির শান্তি ফর্মুলার ভিত্তিতেই সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করছে। ইউক্রেনের স্বীকৃত ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার, মস্কোর তরফে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে রুশ কর্মকর্তাদের বিচার চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।


সুইজারল্যান্ড   সম্মেলন   ইউক্রেন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে কেন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করল বিজেপি?

প্রকাশ: ০৮:৪৭ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে (ইউএপিএ) মামলার অনুমতি দিয়েছেন দিল্লির গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনা। শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ত্রাস দমন আইনের (ইউএপিএ) ৪৫ ধারায় তাঁর বিচারের অনুমতি দেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, অরুন্ধতী ও শওকতের বিরুদ্ধে ‘জনসমক্ষে উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেছিলেন সুশীল পণ্ডিত নামের একজন সমাজকর্মী। 

বলা হয়, ‘আজাদি: দ্য ওনলি ওয়ে’ শীর্ষক সেই আলোচনা সভায় অরুন্ধতী প্ররোচনামূলক কিছু কথাবার্তা বলেছিলেন। অরুন্ধতী নাকি তাঁর ভাষণে বলেছিলেন কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না। ভারতের সেনাবাহিনী জোর করে তা দখল করেছে। সেই বছরের অক্টোবরে অরুন্ধতী ও শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করা হয়েছিল।

এক যুগ পুরোনো সেই মামলা খুঁচিয়ে তোলা হয় গত বছরের অক্টোবরে। দিল্লির উপরাজ্যপাল ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় সম্প্রীতি হানি ও জাতীয় সংহতির পরিপন্থী আচরণের অভিযোগে মামলার অনুমতি দেন। এরপর গতকাল শুক্রবার দিল্লির রাজনিবাস (উপরাজ্যপালের বাসভবন) থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, অরুন্ধতী ও শওকতের বিরুদ্ধে উপরাজ্যপাল এবার ইউএপিএ আইনে মামলা করার অনুমতি দিয়েছেন। অর্থাৎ এবার মামলা হবে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে।

উপরাজ্যপালের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সিপিএম দলের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) বলা হয়, ‘এই সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। ১৪ বছর আগের এক অভিযোগ খুঁচিয়ে বের করে ইউএপিএর মতো কালা-কানুনে মামলা করার অনুমতি দেওয়ার পেছনের কারণ একটাই। সেটা স্বৈরতন্ত্রেরই পরিচায়ক।’

সিপিএম বলেছে, ‘সেই অনুমতি এমন সময় দেওয়া হলো, যখন আদালতে ছুটি চলছে। আইনজীবীরাও ছুটিতে। এই সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়।’

উপরাজ্যপালের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেসও। দলের নেতা বি কে হরিপ্রসাদ আজ শনিবার সকালে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে বলেন, ‘মানুষের কণ্ঠস্বর চাপা দেওয়ার স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা অব্যাহত। বিশেষ করে সেই স্বর যদি কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও আন্দোলনকর্মীদের হয়। নিজেদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা থেকে জনগণের চোখ সরাতে বিজেপি প্রতিদিন মনগড়া সংকট সৃষ্টি করে চলেছে। বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এ ধরনের আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।’

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র গতকাল শুক্রবার রাতে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে বলেছেন, ‘বিজেপি যদি ভেবে থাকে, ইউএপিএতে মামলা করার মধ্য দিয়ে তারা সেই আগের মতোই চলবে, তা হলে তারা ভুল করবে। তারা কিছুতেই সেই পুরোনো কায়দায় ফিরতে পারবে না। কেননা, এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধেই দেশের মানুষ এবার ভোট দিয়েছে।’

বিরোধীদের এই প্রতিবাদের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। তাদের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা আজ শনিবার ‘এক্স’ হ্যান্ডলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, ‘তারা এত চিৎকার-চেঁচামেচি কেন করছে? তারা এখন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য কাঁদছে! ওরা কি কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে না? আফজল থেকে ইয়াকুব, কংগ্রেসের কাছে দেশের আগে জরুরি তার ভোটব্যাংক নীতি।’

রাজনৈতিক মহলের তাই ধারণা, যে ঢঙে এতকাল নরেন্দ্র মোদির সরকার চলছিল, যেভাবে বিরুদ্ধ স্বর দমিয়ে আসছিল, নির্বিচার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রুজু করছিল, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও তারা হয়তো সেই পথ থেকে সরবে না। এ সিদ্ধান্ত সম্ভবত সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

প্রকাশ: ০৭:৪৮ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকেই শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। 

গেল কয়েক বছরে মিয়ানমারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে দেশটির জাতিগত বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ। তবে সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের একটি শক্তিশালী জোট। বলা হচ্ছে, বিরোধ মেটাতে চীনের আহ্বানের পরই তাঁরা এমন সমঝোতায় পৌঁছায়।

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমানা রয়েছে। তাই দেশটিতে কোনো কিছু ঘটলে তার রেশও এসে পড়ে বাংলাদেশে। মিয়ানমারের সঙ্গে চীনেরও সীমানা রয়েছে। আবার মিয়ানমারে চীনের ব্যবসা রয়েছে।

এ ছাড়া চীনের রোড অ্যান্ড বেল্ট ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ রুট হচ্ছে মিয়ানমার। সব মিলিয়ে মিয়ানমার অশান্ত থাকলে আখেরে চীনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই গেল শুক্রবার মিয়ানমারের প্রায় ২৫০ মাইল উত্তর-পূর্বে চীনের প্রাদেশিক রাজধানী কুনমিংয়ে সমঝোতা হয় সেনাবাহিনী ও মিয়ানমারের ৩টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে।

চীনের সীমানাঘেঁষা শান রাজ্যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেখানে চীনের স্বার্থ এবং বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যদিও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়া সশস্ত্র একটি গ্রুপ জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তারা শুক্র ও শনিবার শান রাজ্যের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

গেল মাসেও একবার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল লড়াইরত গ্রুপগুলো। তবে সেটি টেকেনি। এই যুদ্ধবিরতিও টিকবে না বলে বিশ্বাস কিছু পর্যবেক্ষকের।

এদিকে উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যসহ সীমান্ত এলাকায় তথাকথিত ‘পিগ বুচারিং’ নিয়ে চীনের উদ্বেগ বাড়ছে। এই রাজ্যে চীনের অপরাধী সংগঠনগুলো অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালায়।

তারা চীনা কর্মীদের টার্গেট করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া বা লাওসে দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয়। এমনকি বিশ্বের অন্য দেশের মানুষকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ লুটে নেয়। তাই শান রাজ্যের এসব কার্যক্রম বন্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র গ্রুপদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে চীন।

সশস্ত্র গ্রুপগুলোর জন্য শান রাজ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাজ্যটি চীনের লাগোয়া হওয়ায় অস্ত্র, মেডিকেল কেয়ার ও অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে পারে সশস্ত্র গ্রুপগুলো।

চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাণিজ্যিক এই পয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ এখনো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে। তবে প্রতিরোধ বাহিনী সেনাবাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে।

এই রাজ্য ঘিরে চীনের আগ্রহের বড় একটি কারণ হচ্ছে এখানে শত শত কোটি ডলারের পাইপলাইন বসাচ্ছে বেইজিং। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছানোর জন্য শানের বিকল্প নেই।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট মালাক্কা প্রণালির অভিগম্যতার জন্য চীন মিয়ানমারের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে চীনের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের স্বার্থ রক্ষায় কারও না কারও ওপর ভরসা করতেই হবে চীনকে।


চীন   মিয়ানমার   যুদ্ধবিরতি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

হাজীদের পদধ্বনিতে মুখর আরাফার ময়দান

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম রোকন পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ জিলহজ হাজিরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন। ফলে সৌদি আরবের মক্কার অদূরে আরাফার প্রান্তরে সমবেত হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তাদের পদধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে আরাফার ময়দান। শনিবার (১৫ জুন) আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোর হতেই আরাফা অভিমুখে ছুটতে শুরু করেছেন হাজিরা। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে তারা সমবেত হতে শুরু করেছেন।

আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে হাজিদের আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ করা হয়েছে। হজের তিনটি ফরজের মধ্যে এটি অন্যতম। ৮ জিলহজ জোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন।

আরাফার ময়দান পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরে অবস্থিত। এ ময়দানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, সারাবিশ্বের ২০ লাখের বেশি হজযাত্রী শুক্রবার মিনায় রাত কাটিয়েছেন। এরপর তারা সকালে আরাফার ময়দানে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ অনুসারে শনিবার আরাফার ময়দানে সমাবেত হবেন তারা।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, হাজিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ৩৪ হাজারে বেশি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টি এবং প্রশাসনিক কর্মীরা কাজ করছেন। এছাড়া হাজিদের জন্য ১৮৯টি হাসাপাতালকে ডেডিকেটেড করা হয়েছে। এমনকি অসুস্থ হাজিদের প্রয়োজনে সেবা দেওয়ার জন্য ৭৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ও সাতটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ জুন থেকে এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৮০ জন হজযাত্রীর হার্টে অস্ত্রোপচার এবং ৪৭০ জনেরও বেশি লোকের ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি হজযাত্রী বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়েছেন।


হজ্জ   হাজী   আরাফার ময়দান   হজ-২০২৪  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন