ইনসাইড পলিটিক্স

দীপু মনি কেন টার্গেট হলেন?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail দীপু মনি কেন টার্গেট হলেন?

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এখন সারা দেশে তোলপাড় চলছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ভূমি অধিদপ্তরে এক অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি বলেছেন যে, ৬২.৫ একর জমি মৌজা দরের ২০ গুণ ধরে দলিল করা হয়েছে। প্রকৃত মৌজা দরে জমি অধিগ্রহণ করলে তার ব্যয় হবে ১৯৪ কোটি টাকা। উচ্চমূল্য দেখানোয় দর দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ থেকে আমার পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোন সুযোগ নাই। জমি অধিগ্রহণে পরিবারকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অসত্য, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ নিয়ে এখন রাজনীতি অঙ্গনে এখন নানামুখী আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে কেন দীপু মনিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই প্রশ্ন উঠেছে এই কারণে যে, এখন পর্যন্ত চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে সেই প্রতিবেদনেই অসঙ্গতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু বিষয় পাওয়া গিয়েছে। যেমন-

প্রথমত, ভূমির মূল্য নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। কাজেই ভূমির মূল্য কমবেশি ইত্যাদি নির্ধারণ করবে জেলা প্রশাসক। যেমন- ঢাকার গুলশানের কথাই ধরা যাক। সেখানে প্রকৃত ভূমির দাম আর সরকার নির্ধারিত ভূমির দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। এখন সরকার কি যে দামে জমি কেনাবেচা হয় সেই দামে জমি কিনবে নাকি সরকার নির্ধারিত যে মূল্য রয়েছে গুলশানের জন্য সেই দামে কিনবে? কাজেই, প্রথম যে অভিযোগটি করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সেটির মধ্যে এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কাউকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, বলা হয়েছে যে ৬২.৫ একর মৌজা দরের ২০ গুণ দামে দলিল করা হয়। আবার দেখানো হয়েছে যে, প্রকৃত মৌজার দরে অধিগ্রহণের ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা আর উচ্চমূল্য দেখানো হয় এটার ব্যয় হবে ৫৫৩ কোটি টাকার। প্রশ্ন উঠছে যে, ১৯৪ কোটি টাকার ২০ গুণ কি ৫৫৩ কোটি টাকা? তাহলে তো অংকের নতুন হিসেব-নিকেশ করতে হবে। পুরো ঘটনাটার মধ্যে কোথাও নেই যে, দীপু মনি কোথাও জমি কিনেছেন। তার ভাই জমি কিনেছেন বা তার আত্মীয় বা তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জমি কিনেছেন। তাহলে তার ভাই বা রাজনৈতিক সহকর্মীদের জমি কেনার দায় দীপু মনিকে বহন করতে হবে? একটি বিষয়ে অস্পষ্ট রয়েছে, দেখা গেছে যে দীপু মনির ভাই যে জমি কিনেছেন সে জমিগুলো কেনা হয়েছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি নির্ধারণের বহু আগে। কাজেই, তিনি জেনে শুনে এখানে জমি অধিগ্রহণ করেছে এমনটিও ধোপে টেকে না। তার মানে পুরো বিষয়টিতে একটি নাটক সাজানো হয়েছে, যে নাটকে দীপু মনির ইমেজ নষ্ট করা যায়।

দীপু মনি হলেন আওয়ামী লীগের সেই নেতা যিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার পক্ষে এবং মাইনাস ফর্মুলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে ডা. দীপু মনি একজন। আর সেখানেই তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন এবং ২০১৪ সালে তিনি কোন মন্ত্রিত্ব পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। দীপু মনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং মতিয়া চৌধুরীর পরে আওয়ামী লীগে যে সমস্ত নারী নেতারা স্বীকৃত বা ভবিষ্যতে নেতা হিসেবে বেড়ে উঠছেন তাদের মধ্যে দীপু মনি একজন। তাহলে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনীতিতে তার উত্থানের জন্যই কি কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন? কারণ জেলা প্রশাসকের যে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান।

চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি দীর্ঘদিনের এবং দীপু মনির নির্বাচনী এলাকায় একটি প্রবল প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। আর তারাই কি এই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটি নাটক সাজিয়ে দীপু মনির ইমেজ নষ্টের চেষ্টা করলেন? এ প্রশ্নটির উত্তর খতিয়ে দেখা দরকার। তাছাড়া দীপু মনি দুই দফায় প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব করেছেন, তার বিরুদ্ধে কখনোই বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। তার আত্মীয়স্বজন কি করেছেন না করেছেন তার দায় কেন দীপু মনিকে নিতে হবে? তাই দীপু মনিকে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য টার্গেট করা হয়েছে কিনা এটি খতিয়ে দেখা দরকার।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘ছেলে-মেয়ে হাত ধরে হাঁটছে, সিগারেট খাচ্ছে, এটি কোন শিক্ষা?’

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘ছেলে-মেয়ে হাত ধরে হাঁটছে, সিগারেট খাচ্ছে, এটি কোন শিক্ষা?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হাতে সিগারেট দেখেছেন দাবি করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, হাতে কাপ আর সিগারেট। ছেলে-মেয়ে হাত ধরে হাঁটাহাঁটি করছে, আর সিগারেট খাচ্ছে। এটি কোন সংস্কৃতি, কোন শিক্ষা?

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবের ছাঁটাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেছেন ডাক্তার, প্রকৌশলী বানাচ্ছি কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো। দায়িত্ব তো তিনিও এড়াতে পারেন না। তিনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন, কিন্তু তার কোনো পাবলিকেশন-গবেষণা ছিল না। ডক্টরেট ডিগ্রি নেই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ হয়েছিল। সমস্যাটা সেখানে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। তাদের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণীর ছাত্রনেতারা মাস্তান হয়ে যায়।

তিনি বলেন, নড়াইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত, জুতার মালা দিয়ে তাকে ঘোরানো হয়েছে। সাভারে একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কিশোর গ্যাংয়ের কাছে ‘দাদা’ বলে পরিচিত। পরিচালনা কমিটি তার আত্মীয়, আরেকজন শিক্ষক তাকে প্ররোচিত করেছেন, যে শিক্ষক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিক্ষার জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার পরিবেশ দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দলীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সমালোচনার জবাবে ফিরোজ রশীদ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে তো কথা বাড়ানোর দরকার নেই। আধুনিক শিক্ষা বানাবেন, হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরিয়ে ছেড়ে দেবেন, এ দেশে এটা হবে না। এগুলো বাদ দিয়ে আসল শিক্ষায় আসুন।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার মান নয়, নৈতিকতাও কমেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকেও শক্ত হতে হবে। এখন যাদের হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গেছে, তাদের না আছে শিক্ষা, না আছে দীক্ষা। তারা শুধু বুঝে কীভাবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা র‌্যাংকিংয়ে আমরা কোন জায়গায় আছি? কল্পনা করা যায় ৫ হাজারের মধ্যেও নেই। ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায়। যেভাবেই থাকেন না কেন। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের জন্য কোনো সরকারী ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এখানে গবেষণা ও প্রকাশনা নেই।

বেসরকারি শিক্ষায় করারোপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান নিচে নেমে গেছে। সর্বক্ষেত্রে অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এর কারণ জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।

এ সময় মানসম্পন্ন শিক্ষা তৈরি করতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য বলেন এ সংসদ সদস্য।

রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে মানটাই সমস্যা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপের দেখা যায় শিক্ষার মানে ক্রমে অবনমন ঘটছে, র‌্যাংকিয়ে ধস নামছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

একজন ‘অগ্নিকণ্যা’র জন্মদিন

প্রকাশ: ০৭:৩৪ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail

মতিয়া চৌধুরী, একজন অগ্নিকণ্যা। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি ‘অগ্নিকন্যা’য় ভূষিত হন। করতেন ছাত্র ইউনিয়ন, কিন্তু ভালোবাসতেন বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে প্রথম যারা প্রতিবাদ করেছিল, তাঁদের একজন মতিয়া চৌধুরী। ৭৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগে, অথচ এখনো আওয়ামী লীগে তিনি একজন কমিউনিস্ট। দলে তাঁর জনপ্রিয়তা হয়তো নেই, কিন্তু সম্মান আছে আকাশচুম্বী। আওয়ামী লীগে অধিকাংশই যোগ দেয় সুদিনে, এমপি মন্ত্রী হাবার লোভে। মতিয়া চৌধুরী যোগ দিয়েছিলেন চরম দুর্দিনে, যখন আওয়ামী লীগ দিশেহারা, নেতৃত্বহীন। শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার প্রস্তাবে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছিল। ওই সংকটে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে একাই দাঁড়ান তিনি, দলকে বুকে আগলে রাখেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশ্নে ছিলেন অবিচল। আওয়ামী লীগের ভারী ভারী নেতাদের আদর্শহীনতার অন্ধকারে, তিনি এক অসামান্য দ্যুতি হয়ে ওঠেন, পথ দেখান আওয়ামী লীগকে। ওয়ান-ইলেভেনে তাঁর ভূমিকাকে অনেকেই তুলনা করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দিন আহমেদের ভূমিকার সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদীরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমেদের দূরত্ব সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালের ষড়যন্ত্রকারীরা অনেক চেষ্টা করেও মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বাঁধন ছিন্ন করতে পারেনি। বিডিআর বিদ্রোহের পর মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সেনানিবাসে যাওয়া থেকে হাওরের বন্যা, সব ব্যাপারেই শেখ হাসিনার ভরসাস্থল ‘মতিয়া আপা’।

চাঁদেরও কলঙ্ক আছে, কিন্তু মতিয়া চৌধুরীর কোনো কলঙ্ক নেই। ১৩ বছরের মন্ত্রিত্বে কোনোদিন তাঁর বিরুদ্ধে একটা দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। তার দক্ষতা প্রশ্নাতীত, তাঁর পরিশ্রম শিক্ষণীয়, তাঁর সততা অনুকরণীয়, তাঁর দৃঢ়তা অদ্বিতীয়। জীবনে কোনোদিন আপোষ করেননি, সুবিধাবাদীতা তাঁকে স্পর্শ করেনি, বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাস নেই তাঁর। আজ এই ‘অগ্নিকণ্যা’ মতিয়া চৌধুরীর শুভ জন্মদিন।

মতিয়া চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সন্ধ্যায় নির্মল রঞ্জন গুহ’র মরদেহ ঢাকায় আসছে

প্রকাশ: ০৩:২৩ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail সন্ধ্যায় নির্মল রঞ্জন গুহ’র মরদেহ ঢাকায় আসছে

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসছে। এরপর রাতে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাসভবনে রাখা হবে।

শুক্রবার (১ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি থেকে শবযাত্রা শুরু হবে। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হবে। পরে ঢাকার দোহারে তার নিজ গ্রামে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে, সংগঠনের সভাপতির মৃত্যুতে আগামী তিনদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুন) সকালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নির্মল রঞ্জন গুহ। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নির্মল রঞ্জন গুহকে গত ১২ জুন দিনগত রাতে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়লে সেখানে রিং বসানো হয়। তাতেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরবর্তীসময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৬ জুন দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরআগেও তিনি হার্টের সমস্যায় ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

নির্মল রঞ্জন গুহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘বাজেট না বলে পদ্মা অধিবেশন বলতে পারি’

প্রকাশ: ০৯:৩০ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘বাজেট না বলে পদ্মা অধিবেশন বলতে পারি’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, চলতি বাজেট অধিবেশনে বাজেট নিয়ে আলোচনা না হয়ে পদ্মা সেতু, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। এই অধিবেশনকে বাজেট অধিবেশন না বলে পদ্মা অধিবেশন বলতে পারি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের অর্থ বিলে আপত্তি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। 

রুমিন ফারহানা বলেন, এ অধিবেশনে যদি ১০ শতাংশ সময় বাজেট নিয়ে ব্যয় করা হয়, তবে ৯০ শতাংশ সময় ব্যয় করা হয়েছে পদ্মা সেতু, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনায় এবং বিএনপির সমালোচনায়। 

তিনি বলেন, পাকিস্তানি লেখক ড. মালিকা-ই-আবিদা খাত্তাককে ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একখানা কলাম লিখেছিলেন বলে আওয়ামী লীগের সমস্ত মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে নেতারা পদ্মা সেতু নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের আঙ্গিকে গর্ব করতে পারছেন।

দেশের অর্থনীতিতে সমস্যা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি- জানিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্যহীনতা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকা- এ বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আমরা পাইনি।

করোনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে কত শতাংশ মানুষ গিয়েছে সেই হিসাব সরকারের কাছে নেই বলে জানান রুমিন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে জিডিপি অনুপাতে বরাদ্দ কমেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সব সময় কালোটাকা সাদা করতে গিয়ে নানা সমালোচনায় অর্থমন্ত্রীদের পড়তে হয়। এবারের অর্থমন্ত্রী সেই পথে হাঁটেননি। তিনি টাকা পাচারকেই বৈধতা দিয়েছেন। যাতে লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করে ৭ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা যায়। তিনি (অর্থমন্ত্রী) বলতে চাচ্ছেন এইভাবে পাচার করা টাকা বিদেশ থেকে দেশে ফিরবে। পাচারকারীরা তো দেশে ফেরত আনার জন্য পাচার করে না। এ সুযোগের মাধ্যমে পাচারকারীরা নিশ্চিন্ত হবে, উৎসাহিত হবে।


অধিবেশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ড. ইউনুস, হিলারি ও টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি নিক্সন চৌধুরীর

প্রকাশ: ০৬:৩১ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ড. ইউনুস, হিলারি ও টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি নিক্সন চৌধুরীর

পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ ও সেতু নির্মাণ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ড. মোহাম্মদ ইউনূস, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন ও ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরির ওপরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে এসব ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে এসে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাবে না।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ইতোমধ্যেই কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয় নাই। তাহলে কোনো অপরাধ ছাড়া কেন আমাদের এই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বাধা দেয়ার জন্য দেশে বিদেশে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরকে রাষ্ট্রোদ্রহিতার মামলা দিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড. ইউনূস ও এতিমের টাকা মেরে খাওয়া তারেক জিয়া।

তিনি আরও বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি মানবিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

নিক্সন চৌধুরী   ড. ইউনুস   হিলারি   টনি ব্লেয়ার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন