ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

‘ভিডিও প্রকাশ করে দায় স্বীকারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের’

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail ‘ভিডিও প্রকাশ করে দায় স্বীকারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের’

নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের নানা মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করেছে র‌্যাব। এসব ভিডিওতে এই জঙ্গি সংগঠনের আমিরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, রণকৌশলগত চলাচল, চলতি পথে অস্ত্র বহন এবং টহলকালীন ও ব্লক করার সময় অবস্থান কেমন হবে, তা দেখানো হয়েছে। এছাড়া শত্রুর ক্যাম্পে হানা দেওয়ার সময় কীভাবে ৩৬০ ডিগ্রির কৌণিক দূরত্বে সদস্যরা অবস্থান নেবেন, সেই মহড়াও রয়েছে ভিডিওতে।

র‌্যাব জানিয়েছে, বড় ধরনের হামলার পর অস্ত্রসহ এসব ভিডিও প্রকাশ করে দায় স্বীকারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। বিশেষ করে কাশিমপুর কারাগারে একযোগে জঙ্গি হামলা চালিয়ে উগ্রপন্থিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার ছক কষেছিলেন তারা। এরমধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছিল মূল লক্ষ্য। যে কারণে ছোট ছোট এই ভিডিওগুলো তিন-চার মাস আগে থেকে তৈরি করা। 

র‌্যাব জানায়, জামাতুল আনসারের সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমানকে এই ভিডিও করার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য জানায় জামাতুল আনসারের সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান। 

    

মাত্র ৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। ভিডিওটিতে স্পষ্ট  ফুটে উঠেছে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং নানা মুহূর্তের প্রস্তুতির চিত্র। সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিসহ সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনটি- যা অনেকটা ফিল্মি কায়দায়। অর্থাৎ চলচ্চিত্র কিংবা যুদ্ধের কোনো ডকুমেন্টারিতেই এমন দৃশ্য দেখা যায়।     

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে র‌্যাব। ভিডিওতে সামরিক পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরে একে-২২ রাইফেল ও শর্টগান নিয়ে প্রশিক্ষণের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে তাতে যে ২২-২৩ জনকে দেখা গেছে, তাদের প্রায় সবার পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে বলেও জানায় র‌্যাব। এদের মধ্যে রয়েছেন, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ, কথিত সামরিক কমান্ডার শিব্বির আহমেদ ওরফে হামিদ কারছে এবং দাওয়াতি শাখার প্রধান আবদুল্লাহ মায়মুন।


র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীর ও তার সহযোগী আবুল বাশার মৃধা ওরফে আলমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মাসুকুর রহমানের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সেই ফোনেই পাওয়া যায় পার্বত্য অঞ্চলে সংগঠনটির সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণের একটি ভিডিও।

র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভিডিওতে জঙ্গিদের কয়েকটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প দেখানো হয়েছে। সেগুলো হলো- জর্দান ক্যাম্প, ডা. আহমেদ ক্যাম্প, রেতলাঙ ক্যাম্প, রামজুদান পাহাড়ের পাশে রামজুদান ক্যাম্প। বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এসব ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওর শুরুতেই জামাতুল আনসারের আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদকে দেখা গেছে। ঠিক তার পেছনেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক প্রশিক্ষককেও দেখা গেছে।

ভিডিওচিত্রে পাহাড়ে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের জঙ্গি রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব। তবে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রনবীরের ছবি দেখা যায়নি। গত সোমবার কক্সবাজারে রনবীরের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া তার সহযোগী আবুল বাশার মৃধা ওরফে আলমকে ভিডিওতে দেখা গেছে। আবুল বাশার এই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বোমা তৈরির বড় কারিগর বলে জানায় র‌্যাব।


ভিডিওতে আরও দেখা যায়, জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র, ওয়াকিটকি, কারও মাথায় কাফনের কাপড়। সব তরুণের চোখ-মুখ হাস্যোজ্জ্বল। নিজেরা রান্না করছেন, আড্ডা দিচ্ছেন ও খাওয়া-দাওয়া করছেন। পাহাড়ে তৈরি বাঙ্কারে কেউ কেউ পাহারা বসিয়েছেন। বিশাল কড়াইয়ে বনের ভেতরে কথিত হিজরতের উদ্দেশে ঘরছাড়া তরুণরা মাংস রান্না করছেন। কোনো তরুণের কাঁধে ভারী অস্ত্র। তারা কাঠের তৈরি ক্যাম্প পাহারা দিচ্ছেন। কারও গায়ে কমব্যাট ড্রেস। এ সময় রাতের আঁধারে একজনকে গাইতে শোনা যায়, ‘মাথায় কাফন বেঁধে জঙ্গি মিশন দুনিয়াতে ছড়িয়ে দাও’।

বিভিন্ন ক্যাম্পে সামরিক কার্যক্রম বা প্রশিক্ষণের সার্বিক দায়িত্বে থাকা দুই সদস্যকে ভিডিওতে দেখা গেছে জানিয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ভিডিওতে সাব্বির ওরফে কারসে এবং দিদার ওরফে চাম্পাইকে দেখা গেছে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সামরিক কার্যক্রম বা প্রশিক্ষণ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। দুটি ভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় এ দুজনকে। আর পুরো সামরিক কার্যক্রম দেখভাল করতেন গ্রেফতার হওয়া সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান। ভিডিওতে সালেহ ও আল-আমিন নামের আরও দুজনকে দেখা গেছে। গ্রেফতার হওয়া সালেহ কদিন আগে বান্দরবানে শারক্বীয়ার দুই সদস্যের কবরের সন্ধান দিয়েছিলেন।


এই ভিডিও করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কমান্ডার মঈন বলেন, প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে আছেন ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাদের আরও উদ্বুদ্ধ করা। সংগঠনটির সামরিক শাখায় যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তাদের করণীয় কী হবে, সে বিষয়টি সামনে রেখেও ভিডিওটি করা হয়েছে। সমতলে অবস্থানকারী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভিডিও দেখিয়ে উদ্বুদ্ধ করাও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া আটজন তরুণের মধ্যে চারজন ও কেএনএফ সদস্যসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার বর্তমান আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ। উগ্রবাদী এ সংগঠনে ছয়জন শূরা সদস্য রয়েছেন। তারা দাওয়াতি, সামরিক, অর্থ, মিডিয়া ও উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।

এর মধ্যে শূরা সদস্য আবদুল্লাহ মাইমুন দাওয়াতি শাখার প্রধান, রনবীর সামরিক শাখার প্রধান, মারুফ আহমেদ সামরিক শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ড, মোশারফ হোসেন রাকিব অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান, শামীন মাহফুজ প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক এবং ভোলার শায়েখ আলেম বিভাগের প্রধান হিসেবে সংগঠনটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের ৫৫ জন সদস্যকে কেএনএফ প্রধান নাথান বম, সামরিক কমান্ডার কথিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ভাংচুং লিয়ান বম, মিডিয়া শাখার প্রধান কথিত লে. কর্নেল লালজং মুই মাওয়াইয়া, কথিত লে. কর্নেল লাল মুন ঠিয়াল চির চির ময়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  


ভিডিও প্রকাশ   পরিকল্পনা   জঙ্গি   র‌্যাব   আটক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

দেশ ছেড়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশ: ০৮:৩৭ পিএম, ১৮ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সস্ত্রীক দেশ ছেড়েছেন। গত সপ্তাহে তারা আমেরিকায় গেছেন। সেখানে তাদের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদীন পড়াশোনা করেন। আগামী ২১ জুন তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। 

এর আগে গত সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান আছাদুজ্জামান মিয়া।

সম্প্রতি আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের খবর প্রকাশ পায়। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এরই মধ্যে তিনি দেশ ছাড়লেন।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার জহুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদের তথ্য প্রকাশের খবর তার নজরে আসেনি। যদি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে দুদক ব্যবস্থা নেবে।

সংস্থাটির আরেক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ছুটির পর তারা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেবেন। আস্থা নিয়ে পুলিশের উচ্চ পদে আসীনদের এমন কর্মকাণ্ডে, বাহিনীটিতে শুদ্ধি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সাবেক ডিএমপি কমিশনার   আছাদুজ্জামান মিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

তুরস্কের নাগরিক বেনজীর?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির কথা নতুন নয়। সরকারি চাকরি করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকার পরও তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ভুয়া ঠিকানায়, ভুয়া পরিচয় এবং ভুয়া পেশা দিয়ে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং সেই পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এখন তার বেসরকারি পাসপোর্টের আসল রহস্য উদঘাটন করা গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে ২০২১ সালে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। 

তুরস্ক ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্বের দরজা খুলে দিয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বা বিনিয়োগ করে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি বিধান রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিল এবং এর ফলে তুরস্কের বাইরে থেকে সম্পদ এসেছিল ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর এই নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ গ্রহণ করেছেন সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। তিনি এখন তুরস্কের নাগরিক এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তিনি তুরস্কের নাগরিকত্বের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন এবং এই পাসপোর্ট গ্রহণের জন্যই তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বেনজীর তার স্ত্রী এবং কন্যার নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ কিনেছেন এবং সেখানে বেনজীরের বিনিয়োগ শত কোটির বেশি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও তুরস্কে তার অন্তত তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট, একটি বাংলো এবং দুটি দোকান রয়েছে বলেও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। 

সূত্রগুলো বলছে যে, ২০২১ সালের প্রথম দিকে বেনজীর, তার স্ত্রী জিসান আহমেদ এবং এক কন্যা তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বেনজীর আহমেদ জানতেন যে, তিনি যে কোন সময় সরকারের নজরে আসতে পারেন। তার ব্যাপক এবং সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টি একদিন না একদিন সামনে আসবেই। এ কারণেই তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এই দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করলে তিনি ইউরোপের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত এবং ইউরোপের নাগরিক হলে বিভিন্ন ইউরোপের দেশগুলোতে তিনি বিনা ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সমস্ত দেশে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও করতে পারবেন। তুরস্কের পাসপোর্টে একশোরও বেশি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। 

দ্বিতীয়ত, তুরস্ক যে প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল, সেই বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বেনজীর আহমেদ সেখানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনিয়োগের কারণে সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসও করার সুযোগ লাভ করেছেন। 

তৃতীয়ত, যেহেতু তিনি একটি বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করেছেন তাই তার সম্পদ নিয়ে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। তিনি সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো তুরস্কের নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সবসময় খোলা। তুরস্কের নাগরিকত্বের জন্য তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও দায় মুক্তির সুযোগ পাবেন এবং সেখানে তার বিনিয়োগ নিয়ে কোন ঝামেলা হবে। এখন দেখার বিষয় বিভিন্ন দেশে যে বেনজীর আহমেদ নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন সেই সম্পর্দ গুলো উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নেয় এবং বিদেশি পাসপোর্ট ধারী সর্বোচ্চ পদে থাকা এই দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনতে সরকার কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

বেনজীর আহমেদ   তুরস্ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বেনজীর এখন কোথায়?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীরের আলাউদ্দিনের চেরাগ থেকে একের পর এক সম্পদের পাহাড় বেরিয়ে আসছে। নানা রকম সম্পদের ফিরিস্তি প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তার বেশ কিছু সম্পদ সরকার জব্দও করেছে। এই সম্পদগুলো এখন সরকারের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এত দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠতে পারেন তা নিয়ে চলছে নানা রকম আলাপ আলোচনা চর্চা। কিন্তু যাকে নিয়ে আলাপ আলোচনা তিনি কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর নেই। 

বেনজীর আহমেদকে গত ৬ জুন দমন কমিশন তলব করেছিল। তিনি সেই তলবে হাজির হননি। তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে তিনি ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। তাকে সেই সময় মঞ্জুর করা হয়েছে। ৯ জুন তার স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে তলব করা হয়েছিল। সেখানেও তারা উপস্থিত হননি। তাদেরকেও নতুন করে সময় দেওয়া হচ্ছে। বাংলা ইনসাইডার নিশ্চিত হয়েছে যে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন না। 

বেনজীর আহমেদ এখন কোথায় আছেন? কীভাবে আছেন? বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বেনজীর আহমেদের পরিবার এখন দুটি দেশে অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের কনিষ্ঠতম কন্যা এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন এবং তার পিতাকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো প্রকাশিত হবার পর তিনি কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন বটে। কিন্তু এখন তিনি স্বাভাবিক রয়েছেন। তার পরিচয় গোপন রেখেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। লন্ডনে বেনজীর আহমেদ তাকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন, সেখানেই বেনজীরের কনিষ্ঠ কন্যা অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের পরিবারের বাকি সদস্যরা এখন দুবাইতে অবস্থান করছেন- এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের কেনা অ্যাপার্টমেন্ট হাউসে পরিবারের সকল সদস্যরাই অবস্থান করেন। বেনজীর আহমেদের বড় মেয়ের জামাতা দুবাইতে ব্যবসা করেন। সেই ব্যবসার বিনিয়োগ এবং উৎস কিছুই বেনজীর করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদ যখন পুলিশ প্রধান ছিলেন তখন তিনি রাজকীয় কায়দায় তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।বিয়ে দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার জামাইকে দুবাই পাঠিয়ে দেন এবং দুবাইয়ে হোটেল, আবাসন সহ অন্তত তিনটি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে বেনজীরের জামাতার। আর বেনজীর আহমেদ যখন বুঝতে পারেন যে, সরকার তাকে যে কোন সময়ে বেকায়দায় ফেলতে পারে এবং যে কোন সময়ে তার দুর্নীতির কীর্তি কাহিনি ফাঁস হয়ে যেতে পারে, ঠিক সেই সময় তিনি তার স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে দুবাই চলে যান। 

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে গেছেন। তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধান নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে যাননি। যদিও মালয়েশিয়ায় তার সেকেন্ড হোম রয়েছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গেছেন এবং এখন তিনি দুবাইতেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি কোন বাঙালির সঙ্গে দেখা করছেন না। বাংলাদেশের কয়েকজন তার ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় যোগাযোগ রক্ষা করছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের চেষ্টার খবর পাওয়া গিয়েছিলো। কিন্তু সকলেই এখন বেনজীর আহমেদকে এড়িয়ে চলছে। ফলে বেনজীর সেদিকেও যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না।

দুবাইয়ের স্থানীয় লোকজন বলছেন যে, বেনজীর আহমেদ যে পরিমাণ সম্পদ দুবাইতে জমা করেছেন তা নিয়ে সারা জীবন তিনি চলতে পারবেন। কাজেই দেশে তার সম্পদ কতটুকু বাজেয়াপ্ত হলো সেটি নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বাংলাদেশে তার যে সম্পদ জব্দ হয়েছে তার চেয়ে অত্যন্ত ১০ গুণ সম্পদ তিনি দুবাইতে করেছেন। আর এ কারণেই তিনি এখন দুবাইতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, যতক্ষণ না তিনি ওই দেশে কোন অন্যায় না করছেন।

বেনজীর আহমেদ   দুদক   দুবাই  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

জব্দের আগেই টাকা সরিয়ে ফেলেছেন বেনজীর

প্রকাশ: ০২:৫৪ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

জব্দের আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত ২৩ মে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। তবে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা ছিল, তা জানা যায়নি।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো জমি, ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করেছেন কিনা, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তিনি দেশে আছেন কিনা, তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা । একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার নিয়ে বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৩টি অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী, মেয়াদি, এসএনডি আমানত হিসাব। কিছু ঋণ হিসাবও আছে। অ্যাকাউন্ট জব্দ কার্যকরের আগেই আমানত হিসাব থেকে নগদ টাকা উত্তোলন কিংবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট জব্দ হতে পারে– বিষয়টি তিনি আগেই জেনে গিয়েছিলেন, নাকি ধারণা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তকারী একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, গত সপ্তাহে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই কেউ বুঝতে পারেন তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, তখনই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলেন। অবশ্য টাকা তুললেও নগদে রেখেছেন, নাকি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন– তা বের করা সম্ভব।

বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। দুদকের অনুরোধে বিএফআইইউ বিভিন্ন ব্যাংকে তথ্য তলব করে চিঠি দেয়। বিএফআইইউ এসব তথ্য পাঠায় দুদকে। এর পর দুদকের তথ্যের ভিত্তিতে আদালত গত ২৩ মে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৩টি হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। একই দিন তাদের ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি জব্দেরও আদেশ দেয়া হয়।

দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গত ২৬ মে রবিবার ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা এরই মধ্যে সব অফিসে পাঠিয়েছে দুদক। দুদক জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাবের অর্থ যাতে হস্তান্তর বা রূপান্তর না হয়, সে জন্য আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি যাতে হস্তান্তর না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর আদালতের জব্দের আদেশ পাঠানো হয়েছে। 

দুদকে বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আগে কাছাকাছি সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হলে এ ক্ষেত্রে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ওই টাকা কোথাও বিনিয়োগ করা হলে সেটি অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে ধরা হবে। এবং এটি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত মোট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর উত্তোলনকৃত অর্থ কোনো খাতে বিনিয়োগ করা না হলে তাকে মানি লন্ডারিং অপরাধের আওতায় আনা হবে।

দুদক আরও জনায়, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার পর সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনোভাবেই ওই সব হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এ পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নিলে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বেনজীর আহমেদ   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বেনজীরের রত্নভান্ডার: দেশের সামান্যই, বিদেশেই বেশি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদ, সাবেক পুলিশ প্রধান। দেশে তার বিপুল সম্পদের হিসাব নিয়ে যখন মানুষের ভিরমি খাওয়ার অবস্থা, তখন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, দেশে তার সম্পদ সামান্যই। এটি হল শুধুমাত্র পিনাট বা বাদাম। বেনজীরের আসল সম্পদ বিভিন্ন দেশে। 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে কালের কন্ঠ এবং অন্যান্য সংবাদপত্রগুলোতে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান করে তার এবং পরিবারের যে সম্পত্তি পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯ টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩০ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩ টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি বিও হিসাব। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন দেশে যে সম্পত্তির হদিস পেয়েছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সম্পদ আছে বিদেশে। বেনজীর আহমেদের সম্পদ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায় থাকতে পারে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন ধারণা করছে। 

বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদদের বড় অংশ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। এখানে তিনি গত ১০ বছর ধরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বেনজীর আহমেদের এক মেয়ের স্বামী দুবাইতে ব্যবসা করেন বলেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেখানেই তিনি বসবাস করেন। আর বেনজীর আহমেদের দুবাইতে সম্পত্তির মধ্যে বাড়ি, দোকান, রেস্তোরাঁ সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বেনজীর আহমেদের পরিবারের নামে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াতে বিপুল সম্পদ আছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেনজীর আহমেদের স্ত্রীর সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া সম্পদ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। 

অন্য একটি সূত্র বলছে, যুক্তরাজ্যেও বেনজীর আহমেদের সম্পদ রয়েছে এবং সেখানে তার মেয়ে লেখাপড়া করে। আরেকটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের পরিবারের অস্ট্রেলিয়াতেও বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত এদের ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, বেনজীর আহমেদের এই তথ্যের বিস্তারিত হিসাব তারা সংগ্রহ করছে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকেও কাজ করা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বেনজীর আহমেদের পরিবারের সম্পত্তি কত তা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন কোন কোন মহল। 

অনেকেই মনে করছেন, বেনজীর আহমেদের সব সম্পদ তার নিজের নামে নয়, অন্যান্য বেনামেও তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাকা বানিয়েছেন। সেই সম্পদ গুলোর হিসাব পাওয়া সত্যি সত্যি দুরূহ হবে।

বেনজীর আহমেদ   দুদক   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন