ইনসাইড বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের ভাবনা?

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ০৩ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপি এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন করছে। যদিও এই আন্দোলনে পশ্চিমা কূটনীতিকদের এখন পর্যন্ত সায় নেই। কিন্তু কূটনীতিকরা মনে করছেন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত এবং আই লক্ষে বিএনপিরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষে কূটনীতিক পাড়ায় এক ধরনের তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে। আগামী নির্বাচন একটি সমঝোতাপুর্ন জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বিভিন্ন মহল থেকে। আর এই চেষ্টার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা যায় কিনা এরকম একটি প্রস্তাব বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে দির্ঘদিন আলোচনা হচ্ছিল বলে বিভিন সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি করার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো আগামী নির্বাচন।

২৪ এপ্রিল নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তার নেতৃত্বেই এই বছরের ডিসেম্বরে অথবা আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদটি অলংকারিক, কিন্তু নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির পদ নানা কারণেই গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠে। এবার নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির পদ আরও গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠতে পারে বলে একাধিক সূত্র মনে করছে। বিশেষ করে যখন বিরোধী দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন করছে  তখন রাষ্ট্রপতির পদটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মহল।

বিভিন সূত্রগুলো বলছে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি চেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিষ্ক্রিয় রাখার একটি প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথা বার্তা চলছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী নিষ্ক্রিয় হয়ে পরবেন, তিনি কোন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিবেন না, এমনকি তার নির্বাচনি এলাকা ছাড়া অন্য কোন নির্বাচনি এলাকায় তিনি সরকারি প্রোটকল ব্যাবহার করতে পারবেন না, নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে হলে সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা ব্যাবহার করা চলবে না। অর্থাৎ এক ধরনের নিষ্ক্রিয়ভাবে তিনি নামমাত্র দায়তে পালন করবেন। আর অন্যদিকে এই সময় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ সামগ্রিক নির্বাচন পরিচালনার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখভাল করবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন নতুন নির্বাচনের ব্যাবস্থাপনা করবে। এরকম একটি প্রস্তাব নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে এবং এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কোন কোন মহল আলোচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের বেগ যদি বৃদ্ধি পায় এবং সরকারকে যদি একটি সমঝোতা প্রস্তাবে যেতে হয় তাহলে এরকম একটি সমঝোতা প্রস্তাব সরকারের জন্য শেষ ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরকম একটি ছাড় দিতে গেলে একজন বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন, যেটি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেই আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন।

তবে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত আনুস্টহানিকভাবে বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী তারা কোন অবস্থাতেই মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটাও বলে হচ্ছে যে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনে কে আসল না আসল এটা তাদের দেখার বিষয় না। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলে হচ্ছে যে, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায় করেই ছাড়বেন।

এরকম একটি অবস্থায় আগামী নির্বাচন যেন অর্থপূর্ণ হয় অংশগ্রহণমূলক হয় সেটি বিবেচনায় রেখেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং তার ব্যাক্তিত্বকে বিবেচনা করা হয়েছে। এ সমস্ত বিবেচনার প্রধান কারণ হল নির্বাচনকলীন সময় চাপ এবং নানারকম মেরুকরণ।

উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালের নির্বাচনে আগে ইয়াজুদ্দিন ব্যাপক ক্ষমতাবান হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি হয়ে তিনি তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হয়েছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিত্বহীন হবার কারণে তিনি বিএনপিকে সে যাত্রায় রক্ষা করতে পারেননি। এখন দেখার বিষয় যে, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে সমঝোতার প্রান্তে পৌছে কিনা।


রাষ্ট্রপতি   নির্বাচনকালীন সরকার   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: তছনছ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য

প্রকাশ: ১০:০৬ এএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। টানা  বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন। আর এর ফলে মৃত্যু হয়েছে অনেক বন্যপ্রাণীর।

রোববার (২৬ মে) থেকে সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও ঝড়ে উপড়ে পড়েছে বহু গাছপালা। একটানা এই বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রাণ গেছে বন্য প্রাণীদের। এছাড়াও বনবিভাগের বেশ কয়েকটি অফিসসহ টহল বোট ভেঙ্গে গেছে।

সোমবার (২৭ মে) বিকেলে বনের খালের চরে বেশ কয়েকটি মৃত হরিণ পাওয়া গেছে। টানা বৃষ্টিতে সুন্দরবনে প্রায় ৬ থেকে ৮ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি। এতে বনের ভেতরে মিঠা পানির পুকুরগুলো তলিয়ে গেছে লোনা পানিতে। পুকুরে লোনা পানি ঢুকে যাওয়ায় বনের প্রাণীদের সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরবনের একমাত্র করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন পর্যটন কেন্দ্রের নানা অবকাঠামো।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, 'ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে পর্যটক চলাচলে তৈরি এখানকার কাঠের সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে তছনছ হয়েছে অসংখ্য গাছপালা। তবে পুরো সুন্দরবনের গাছপালাসহ কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করে এখনই বলা সম্ভব না। 

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনের গাছপালাসহ বন্যপ্রাণীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করে জানানো সম্ভব নয়; তবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে -- এটা নিশ্চিত।’


ঘূর্ণিঝড়   সুন্দরবন   জীববৈচিত্র্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আশরাফ উদ্দিন

প্রকাশ: ০৯:১৪ এএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর মোঃ আশরাফ উদ্দিন খানকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) এ বিষয়ে পৃথক আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উভয়ের আদেশ আগামী ৩০ মে কার্যকর হবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়   সচিব   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আজ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস

প্রকাশ: ০৮:৫০ এএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করান, মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচান।

নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয়ে আসছে। গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তীকালে সব নারীর জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই হলো নিরাপদ মাতৃত্ব।

১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন শুরু হয়। এরপর থেকে নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার কমানো ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৮ মে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে এ বিষয়ে অনুমোদন দিলে পরের বছর থেকে দেশব্যাপী দিবসটি পালন শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত করে।


নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ১০৬ জন

প্রকাশ: ০৮:৪৯ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাতে জানা গেছে, এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০ জন কোটিপতি প্রার্থী। পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ১১। সঙ্গে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন কোটিপতি। সব মিলিয়ে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন ১০৬ জন কোটিপতি।

সোমবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলেছে, প্রার্থীদের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব দেয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে কোটিপতির হিসাব করা হয়েছে। ভূমির মতো স্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ কঠিন হওয়ায়, তা কোটিপতির হিসাবে আনা হয়নি।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৬৬ দশমিক ৫৩ শতাংশই নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষিকাজ। পেশার ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন আইন পেশা (৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ) ও শিক্ষকতা (৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ)।

একইভাবে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদেরও ৬৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ গৃহিণী। গৃহস্থালির কাজকে তারা পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রায় ৩২ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় আসছেন কি না এবং মুনাফা করার উদ্দেশ্যে আসছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তথ্য বলছে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় থাকলে অনেকের আয় ও সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ফলে জনস্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে না।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগামী (২৯ মে) বুধবার দেশের ৯০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে। যদিও দ্বিতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় সব পদে একক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। দুটি উপজেলায় ভোট আগে স্থগিত করা হয়। আর ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে ১৯টি উপজেলায় ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। ২১ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭১ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন ১০৫ জন।

উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আবার সর্বহারা বিরোধী অভিযান শুরু করবে সরকার

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলো স্বাধীনতার পর পর সর্বহারার দখলে চলে যায়। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি সহ বিভিন্ন ধরনের উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে আস্তানা গাড়ে। তাদের সন্ত্রাস এবং সহিংসতায় জনজীবন অস্থির হয়ে ওঠে।

পূর্বাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা এলাকায় পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির ব্যাপক বিস্তৃত ছিল আলোচিত। এসময় সিরাজ সিকদার সহ বিভিন্ন বিপদগামী সর্বহারারা একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছিল। এই ধারা অব্যাহত থাকে পঁচাত্তরের পরবর্তীতে। সেই সময় সর্বহারাদেরকে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলো জিয়াউর রহমান। 

তরিকুল ইসলাম, মসিউর রহমানের মতো সন্ত্রাসী সর্বহারা রাতারাতি বিএনপির রাজনীতিতে দীক্ষিত হন। আর এরপর থেকেই এই অঞ্চলগুলোতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। দিনের বেলা বিএনপির রাজনীতি, রাতের বেলা সর্বহারার নামে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, মানুষ হত্যাই ছিল তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলের চিত্র। এই অবস্থার পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি পূর্ব বাংলার এই তথাকথিত বাম বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। সর্বহারাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। সেই সাঁড়াশি অভিযানে সর্বহারা সন্ত্রাসীদের সমস্ত নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অনেকেই আত্মসমর্পণ করেন। অনেকে জেলে যান। অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এরপর আস্তে আস্তে সর্বহারা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সময় সর্বহারাদের দাপট কমে গেলেও সর্বহারাদের একটি বড় অংশ বিএনপিতে যোগ দেয়। তরিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সর্বহারারা প্রাক্তন সর্বহারা নেতারা বিএনপির হর্তা কর্তা বলে যান। এখন সেই অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে। 

আনার হত্যার পর উন্মোচিত হয়েছে যে পূর্ববাংলায় সর্বহারা পার্টি নামে এই সমস্ত সন্ত্রাসীরা এখন বিএনপিতে নয়, বরং আওয়ামী লীগে ভিড় করেছে। এই সমস্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা যাদের চাঁদাবাজি, মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপকর্মের নেটওয়ার্ক হিসেবে এই অঞ্চলগুলোকে ব্যবহার করে এবং এটি বাংলাদেশে মাদক চোরাচালানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও এই অঞ্চলগুলোতে অস্ত্র চোরাচালান, স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতিবিদরা।দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে এই সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী বিএনপির প্রতি আর আগ্রহী হয়ে উঠছেন না। বিশেষ করে তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পরে এই অঞ্চলে সর্বহারাদের নিয়ে বিএনপির নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন এখানে গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার এবং তার সাথে আরও কিছু ব্যক্তি। এখন আনার হত্যাকাণ্ডের পর এই সর্বহারা নেটওয়ার্কের অনেক তথ্যই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আসছে। তারা কীভাবে সন্ত্রাস এবং চোরাচালান কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়াচ্ছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব সূত্রগুলো বলছে, আনারের হত্যাকাণ্ডের পর আবার নতুন করে সর্বহারা বিরোধী অভিযান শুরু করবে সরকার।



সর্বহারা   চরমপন্থী   আনোয়ারুল আজীম আনার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন