ইনসাইড পলিটিক্স

কোন পথে হাটছে বিএনপি, নির্বাচন না আন্দোলন?


Thumbnail

সম্প্রতি তৃণমূল পর্যায়ের আড়াই হাজার নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছে বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বিএনপি এই মতবিনিময় করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র। সূত্রগুলো বলছে, গত ১০ দিনে মাঠপর্যায়ের প্রায় আড়াই হাজার সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিকে ঢাকায় এনে এ মতবিনিময় করেছে বিএনপি। আড়াই হাজার জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি এ মতবিনিময় কর্মসূচিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরকার বিরোধী একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় করেন। তিনি বিএনপির তৃণমূলের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ১০দিনের এ কর্মসূচি শেষ হয়। 

তবে দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, কার্যত এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের আরও সক্রিয় করতে। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলের বিএনপির ওপর একটি চাপ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ)  সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বারিধারার ভারতীয় হাইকমিশনারের বাস ভবনে যান বিএনপির পাঁচ নেতা। ওই দিন ভারতীয় হাইকমিশনারের নৈশভোজের আমন্ত্রণে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এই নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। সেখানে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গেও বিএনপির নীতিনির্ধারক এসব নেতাদের কথা হয়েছে। 

দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সরকার বিরোধী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হলেও তা কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, প্রতিটি মতবিনিময়ের আগে দলের শীর্ষ নেতারা সামনের আন্দোলনের কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে চেয়ারম্যানদের মতামত জানতে চেয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ চেয়ারম্যানই সুনির্দিষ্ট করে মতামত বা পরামর্শ দিতে পারেননি। বেশির ভাগের বক্তব্যে দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও তৃণমূলের নেতারা মূলত নির্বাচনমুখী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি যে বৃহত্তর আন্দোলন গড়তে চাইছে, তাতে সাধারণ মানুষসহ সব পক্ষের ব্যাপক অংশগ্রহণ আশা করছে দলটি। সম্প্রতি ইউনিয়ন থেকে থানা, জেলা ও মহানগরে পর্যায়ক্রমে যে পদযাত্রার কর্মসূচিগুলো করা হয়, এর উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে কাছে টানা। তবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের যথেষ্ট মতের অমিল রয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এবং ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের হেন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে।  

দলটির নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা কারণে যাদেরকে বহিষ্কার করেছিল, তাদের ক্ষমা করে দিয়ে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে। যাতে দলের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা না দেয়। ক্ষমতায় থাকার পর তারা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অথচ কাজটা প্রথমে করার দরকার ছিল বিএনপির। এখন বিএনপির হাইকমান্ডের উচিত হবে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে নানা সময় যাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের ফিরিয়ে নেওয়া। এতে দলের শক্তিও বাড়বে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।   

তবে ভারতীয় হাই কমিশনের সাথে নির্বাচন বিষয়ে কি কথা হলো?- তা খোলাসা করে বলতে পারেনি দায়িত্বশীল সূত্রটি। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রটি বলছে, নৈশভোজে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের সাথে ভারতীয় হাই কমিশনের কি কথা হলো, তারাই বলতে পারবেন। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে একটি চাপ রয়েছে। তবে কি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে?- এমন প্রশ্নে সূত্রটি বলছে, এটা দলের নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিবেন। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত একমাত্র তারাই দিতে পারেন।    

এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়- এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের একটি চাপ রয়েছে। আর এই চাপটি যেমন সরকার দলের ওপর রয়েছে, তেমনই সরকার বিরোধী ও অন্যান্য দলগুলোর ওপরও রয়েছে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারে বিরুদ্ধে বিএনপি যে ধরনের অভিযোগ করে আসছে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি যে দাবিগুলো জানিয়েছে- সেগুলোর একটি সমঝোতা নির্বাচনের আগে অবশ্যই হবে। একদিকে বিএনপি আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের মাঠও গুছাচ্ছে। তৃণমূলের নেতাদের মতামত অবশ্যই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অজানা নয়। এখন দেখার বিষয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে কি করে বিএনপি।

বিএনপি   আমির খসরু   মির্জা ফখরুল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবার কর্ণেল অলিকে বিশ্বাসঘাতক মনে করছে বিএনপি

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির মধ্যে নানারকম অবিশ্বাস এবং সন্দেহ প্রবল আকার ধারণ করেছে। বিএনপি নেতারা এখন নিজেদের সংগঠনের অন্য নেতাকেই বিশ্বাস করছেন না। এক নেতা আরেক নেতাকে অবিশ্বাস করছেন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন সময় বিএনপির জন্য বন্ধু হিসেবে এসে অনেকে বিএনপিকে ধোঁকা দিয়েছে এবং এই ধোঁকার তালিকা অনেক দীর্ঘ। বিএনপির মধ্যে থেকে অনেকে বিএনপির বন্ধু সেজেছেন, শুভাকাঙ্ক্ষী হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে এমন অভিযোগও বিএনপি নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে হরহামেশাই করা হয়।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, যেমন ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ছিল একটি ধোঁকা। সে সময় ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসে বিএনপিকে ধোঁকা দিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন যে, তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীও ছিলেন সরকারের এজেন্ট এবং বিএনপিকে বিভক্ত করার মিশন নিয়ে তিনি এসেছিলেন।

এখনও বিএনপি যাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করছে সেই সমস্ত দলের অনেক নেতাকেই বিএনপি নেতারা সন্দেহ করে অবিশ্বাস করে। তবে এই অবিশ্বাসের তালিকায় এখন সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে যে নামটি সামনে এসেছে সেটি হল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ। কর্ণেল অলি আহমেদ এক সময় বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুধু বেগম খালেদা জিয়া নয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের তিনি বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের ডাকেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

কিন্তু সেই কর্ণেল অলি আহমেদের এখনকার ভূমিকা নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘোরতর সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে, বিএনপি ভাঙার জন্য নতুন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সরকার মাঠে নামিয়েছে কর্নেল অলি আহমেদকে।

এই ধরনের ভাবনার সূত্রপাত হয়েছে আজ একটি বক্তব্য থেকে। কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে কর্নেল অলি আহমেদ বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিস্মিত। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, এক সময় প্রয়াত ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যেভাবে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে বিতর্কিত করছিলেন এখন কর্নেল অলি আহমেদ সেই কাজ শুরু করেছেন।

কর্ণেল অলি আহমেদ ওই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং তার যে অসুস্থতা তার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আর এজন্য যদি সরকার কোন আলাপ-আলোচনা করতে চায় সেই আলাপ-আলোচনায় যেতে প্রস্তুত বলে দাবি করেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। এই বক্তব্যটি বিএনপির মধ্যে বিস্ফোরণ সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, কর্ণেল অলি আহমেদ বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি বা আলোচনায় যাবার কে? তিনি তো বিএনপির কোনো নেতা নন।

বিভিন্ন বিএনপি নেতা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপির মধ্যে একটি স্পর্শকাতর অনুভূতি রয়েছে এবং সেই অনুভূতিকে ব্যবহার করে দলের নেতা কর্মীদের বিভ্রান্ত করা এবং দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই কর্নেল অলি আহমেদ এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কারণ বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির একটি বিষয় সংলাপ দরকার।

বিএনপির অনেক নেতাই বিশ্বাস করেন যে, ২০১৮ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সংলাপে যাওয়া হয়েছিল, সেই সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। এমনকি এবারের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা করা যেত বলেও বিএনপির অনেকেই মনে করেন।

কিন্তু লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া সম্পূর্ণ এই মতের বিরুদ্ধে। তিনি বেগম জিয়ার বিষয়ে কোন রকম সংলাপ বা আলোচনার পক্ষপাত নন। শুধু তাই নয়, তার মামা শামীম ইস্কান্দার যে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এটিও তারেক জিয়ার পছন্দের বিষয় নয় বলেই জানা গেছে। আর এ কারণে মামা ভাগ্নের মধ্যে এখন কথোপকথনও বন্ধ।

এরকম বাস্তবতায় কর্ণেল অলি আহমেদ যখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংলাপের কথা বলেছেন, তা বিএনপির অবস্থানের মৌলিক বিরোধী। এখন বিএনপি কর্ণেল অলি আহমেদকে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলেই বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।


কর্ণেল অলি   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১০:৪৬ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদের সুপারিশে পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত এবং গঠনতন্ত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কমিটির বাকি সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। 

প্রেসিডিয়াম সদস্য

রফিকুল হক হাফিজ (সাবেক উপ-মন্ত্রী), অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন (সাবেক সংসদ সদস্য), ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (সাবেক সংসদ সদস্য), জাফর ইকবাল সিদ্দিকী (সাবেক সংসদ সদস্য), কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, ডা. কে আর ইসলাম, নিগার সুলতানা রাণী, আবুল কাশেম সরকার (সাবেক সংসদ সদস্য), ইয়াহিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ সদস্য), শফিকুল ইসলাম শফিক (নরসিংদী), শংকর পাল (হবিগঞ্জ), আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, হাজী মো. ফারুক (ঢাকা), আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাস (খুলনা), নুরুল ইসলাম নুরু (টাঙ্গাইল), তুহিনুর রহমান (নুরু হাজী) ঢাকা।

উপদেষ্টা

এম. এ. গোফরান (লক্ষ্মীপুর), এম. এ. কুদ্দুস খান (ঝালকাঠী), ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হোসেন (গোপালঞ্জ), মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক (ঢাকা), ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ (জামালপুর) সাবেক সংসদ সদস্য, মো. মোক্তার হোসেন (খুলনা) সাবেক সংসদ সদস্য, হাজী নাসির সরকার (ঢাকা), আব্দুল আজিজ খাঁন (গুলশান), মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল (খুলনা), মো. শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু (ঢাকা), মিজানুর রহমান দুলাল (পটুয়াখালী), শাহ্ আলম তালুকদার (বরিশাল), এড. মো. আব্দুল কাইয়ুম (ময়মনসিংহ), শাহ্ জামাল রানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।

যুগ্ম-মহাসচিব

ফকরুল আহসান শাহজাদা (বরিশাল), পীরজাদা জুবায়ের আহমেদ (বাহ্মণবাড়িয়া), শেখ মাসুক রহমান (ঢাকা), সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম তরুণ (খুলনা), সুজন দে (চট্টগ্রাম), এস এম হাসেম (ঢাকা)।

সাংগঠনিক সম্পাদক

শাহানাজ পারভীন (ঢাকা), মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), এড. এস. এম. মাসুদুর রহমান (খুলনা), এড. মো. আবু সালেহ চৌধুরী (সিলেট), অধ্যাপিকা বিলকিস সরকার পুতুল (নরসিংদী), ফজলে ইলাহী সোহাগ (নোয়াখালী), জাফর ইকবাল নিরব (পিরোজপুর), শামসুল আলম (কক্সবাজার)।

যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক

কাওসার আহমেদ (ঢাকা), মো. মোসলেম আলী (মেহেরপুর), আবুল বাশার (মানিকগঞ্জ), নাফিজ মাহবুব (ময়মনসিংহ), সিরাজুল আরেফিন মাসুম, এম এম আমিনুল হক সেলিম।

সম্পাদকমণ্ডলী কোষাধ্যক্ষ

ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (রংপুর), প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক : খোরশেদ আলম খুশু (চাঁদপুর), দপ্তর সম্পাদক : আবুল হাসান আহমেদ জুয়েল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক : এড. এমদাদ (নড়াইল), সমবায় বিষয়ক সম্পাদক : পারভেজ আলম মীর (বরিশাল), সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক : নাজমুল খাঁন (লালমনিরহাট), তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদ : সাহিন আরা সুলতানা রিমা (চাপাইনবাবগঞ্জ), আইন বিষয়ক সম্পাদক : এড. সাজ্জাদ হোসেন সেনা (কুষ্টিয়া), যুব বিষয়ক সম্পাদক : মো. জহির উদ্দিন (ঢাকা), শিল্প বিষয়ক সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা : সুলতানা আহমেদ লিপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক : সায়িকা হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক : শরিয়ত আলী তালুকদার (সুনামগঞ্জ), প্রাদেশিক বিষয়ক সম্পাদক : আব্দুস সাত্তার।

যুগ্ম-সম্পাদকমণ্ডলী

যুগ্ম-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আসাদ খান, যুগ্ম-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক : মেহবুব হাসান, যুগ্ম-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক : চিশ্তী খায়রুল আবরার শিশির, যুগ্ম-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মুকুল, যুগ্ম-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক : মো. তৌহিদুর রহমান খান, যুগ্ম-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক : হাজী মাসুম পারভেজ, যুগ্ম-এনজিও বিষয়ক সম্পাদক : এম আবু জাফর কামাল, যুগ্ম-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক : শরীফুল ইসলাম শরীফ, যুগ্ম-সাহিত্য ও কৃষ্ঠি বিষয়ক সম্পাদক : আফতাব গনি, যুগ্ম-প্রাদেশিক সম্পাদক : মনিরুল ইসলাম রবিন।

সদস্যবৃন্দ

রিয়াজ খান, মকবুল হোসেন মুকুল, এস এম মুর্তজ আলম বুলবুল, নাসির নেওয়াজ, আবু নাসের সিদ্দিকী, কাদের মুন্সি, আব্দুল হালিম ও আহমদ আলী (সিলেট)।


রওশন এরশাদ   জাতীয় পার্টি   কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফখরুলকে পছন্দ কূটনৈতিকদের

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে এখন নেতৃত্বের টানাপোড়েন চলছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অভিপ্রায় জানিয়েছেন। এ নিয়ে দলের ভিতর চলছে নানা রকম অস্বস্তি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেষ পর্যন্ত সরে গেলে দলের মহাসচিব হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে দলের ভিতর চলছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা এবং হতাশা। কারণ, এই মুহূর্তে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিকল্প নেই।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একদিকে যেমন তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার অনুগত এবং আস্থাভাজন, অন্যদিকে তিনি সারা দেশের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা করে চলেছেন। তিনি ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কেউ মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলে দলের ভিতর এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে বলেও অনেকে মনে করছেন।

তবে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, কূটনৈতিকরাও মনে করছেন, এই সময় বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিকল্প নেই। তারা মনে করছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুধু মহাসচিব নয়, তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, তাকে ঘিরে এখন বিএনপির রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে এবং তিনি একদিকে যেমন দায়িত্বশীল আচরণ করেন, অন্যদিকে কূটনৈতিকদের মনের ভাষা বোঝেন এবং তাদের কথাবার্তা গুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেন। যদিও কূটনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ে বেশি পদচারণা করেন ড. মঈন খান। কিন্তু মঈন খানের চেয়ে এই মুহূর্তে কূটনৈতিকদের পছন্দ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এখন বিএনপিতে সংকট নিরসনের জন্য একটি ফর্মুলা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়াকে দলের মূল নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত। তার বদলে এমন একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত যিনি দলের সার্বক্ষণিক কাজ করেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কূটনৈতিকরা ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, যদি এমন একজন নেতা বিএনপির দায়িত্ব নেন যার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায় এবং যিনি সংবেদনশীল ও কূটনৈতিকদের চাওয়া চাহিদাগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে তাহলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হওয়া সম্ভব। এর ফলে কূটনৈতিকরা কি চাচ্ছেন না চাচ্ছেন সেই বার্তাগুলো সহজেই বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কাছে সঞ্চালিত করা যায়।

কিন্তু এখন বিষয়টি অন্যরকম হচ্ছে। তাদের মতে, বিএনপির নেতারা যখন কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকে আসছেন তখন তারা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না। সব সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন। এটির ফলে বিএনপির প্রতি কূটনৈতিকদের আস্থা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কূটনৈতিকরা মনে করেন , বিএনপিতে বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা যোগ্য এবং দায়িত্বশীল, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার অভিজ্ঞ। তবে যেহেতু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন এবং অঘোষিতভাবে তিনিই বিএনপির নেতা সে কারণেই এই মুহূর্তে তাকে ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা উচিত।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়াকে সময় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার যে শারীরিক অবস্থা এবং পারিবারিক বাস্তবতা, তাতে ডিসেম্বরের পরে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে তিনি বিএনপির নতুন একজন মহাসচিব খুঁজে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

তবে কূটনৈতিক মহল বলছে যে, শেষ পর্যন্ত যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব না থাকেন, এই পদে যাকেই নেওয়া হোক না কেন বিএনপি নতুন করে সংকটে পড়বে।


ফখরুল আসলাম আলমগীর   কূটনৈতিক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাইমলাইটে ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবার লাইমলাইটে। টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক হয়ে রেকর্ড করা ওবায়দুল কাদের এবার তৃণমূলের হৃদয় জয় করেছেন। তৃণমূলের কাছে আকস্মিকভাবে তিনি একজন পছন্দের ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। এর প্রধান কারণ অবশ্য শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে ‘মাই ম্যান’দের উত্থান ঠেকাতে আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দলীয় পরিচয়ে এবার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীক ব্যবহার করছে না। দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু তারপরেও মন্ত্রী-এমপিরা এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তার নিজের পছন্দের লোকজনকে উপজেলায় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছেন। নিজের পছন্দের প্রার্থী ঘোষণা করেই কেউ কেউ ক্ষান্ত হচ্ছেন না। অনেকে তার স্ত্রী, পুত্র, ভাই, ভাতিজা, শ্যালকদেরকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে প্রার্থী করে এলাকায় নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন।

আর এর বিরুদ্ধে এবার সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, উপজেলা নির্বাচনে আর স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। নিজেদের স্বজনদেরকে যারা প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, তাদের প্রার্থী থেকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা করে তুলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে অতীতে তৃণমূলের অনেক অভিযোগ ছিল, সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন কমিটি সম্পন্ন না হওয়া, কমিটিতে অযোগ্য লোকজন এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাব- ইত্যাদি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদকের এক ধরনের দূরত্বের কথা শোনা যাচ্ছিল। বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের সভাপতিকে পাওয়া যায় কিন্তু সাধারণ সম্পাদক তাদের কথা শোনেন না। এরকম পরিস্থিতি যখন চলছিল, তখন হঠাৎই যেন জ্বলে উঠলেন ওবায়দুল কাদের। স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান, তৃণমূলে তার প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা বলছেন যে, ওবায়দুল কাদের যদি এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত যারা স্বজনদেরকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে তিনি আরও জনপ্রিয়তা পাবেন এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অমরত্ব লাভ করবেন।

ওবায়দুল কাদের অবশ্য আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশ প্রতিপালন করেই এ ধরনের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি যা বলেন, সেটা করাই তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। আর এ কারণেই তিনি এখন ‘মাই ম্যান’দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

গত কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের স্বজনদের উপদ্রব অনেক ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মেয়েকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে জিতিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে যে, এমপিরা তাদের সন্তান এবং নিকট আত্মীয়দেরকে বিভিন্ন কমিটিতে বসাচ্ছেন এবং এই কমিটিগুলো শেষ পর্যন্ত পারিবারিক কমিটিতে পরিণত হচ্ছে। মূলত এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্যই এটি করা হচ্ছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ এদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবশেষে সোচ্চার হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এই সোচ্চার হওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতির ভূমিকাই প্রধান। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সততা এবং নিষ্ঠার পরিচয় দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি ইতোমধ্যে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, কারা আত্মীয় স্বজনদেরকে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করার জন্য। আর এই তালিকা অনুযায়ী যদি শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে স্বজনদের প্রার্থীতা কিছুটা কমে, তাহলেও সেটা হবে তৃণমূলের একটা বড় বিজয়। এর ফলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি যেমন বাড়বে, তেমনই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বঞ্চিত, পরীক্ষিত এবং দুঃসময়ের কাণ্ডারীরা উজ্জীবিত হবেন। আর এর প্রশংসা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি একা পাবেন না, সাধারণ সম্পাদকও পাবেন।


ওবায়দুল কাদের   রাজনীতি   সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ভারতে সব দলেরই অপছন্দ বিএনপি

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ভারতের নির্বাচন শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। প্রথম দফার নির্বাচন হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ। এই নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতা পরিবর্তন হবে, নাকি টানা তৃতীয় বারের মতো নরেন্দ্র মোদি আবার ক্ষমতায় আসবেন তা বুঝা যাবে ৪ জুন। ঐ দিন ভোট গণনা শুরু হবে। তবে ভারতে বিজেপি বা ইন্ডিয়া জোট যারাই ক্ষমতায় আসুন না কেনো, দুই জোটই বিএনপিকে অপছন্দ করে এবং বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব রক্ষা করার নীতি নিয়ে চলে। দুটি জোটের কূটনৈতিক নীতি এবং ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনার যে কৌশলপত্র তাতে বাংলাদেশের ব্যাপারে অভিন্ন মতামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিজেপি এবং ইন্ডিয়া জোট প্রায় অভিন্ন মনোভাব পোষণ করেছেন। দুটি দলের নির্বাচনী যে অঙ্গীকার এবং কূটনৈতিক পরিকল্পনা তা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ইন্ডিয়া জোটের প্রধান শরীক হলো কংগ্রেস। কংগ্রেস তার নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে এবং বাংলাদেশে যেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনীতি বিকশিত হয়, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের যে বীজ বপিত হয়েছিল সেই সম্পর্ক যেন আরও এগিয়ে যায়, সেই ব্যাপারে অঙ্গীকার করা হয়েছে। ভারতীয় কংগ্রেস তার নির্বাচন কূটনৈতিক পরিকল্পনায় যে সমস্ত বিষয়গুলো রেখেছেন তাতে বাংলাদেশে যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লালন না হয়, ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদীরা যাতে ক্ষমতাবান না হয়ে উঠে সে ব্যাপারে সতর্ক দেয়া হয়েছে।

একই রকম অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গিকারে। বিজেপি সবসময় মনে করে যে, বাংলাদেশের ভূখন্ড যেন ভারতের বিছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত না হয়। বাংলাদেশে যেন ধর্মান্ধ, মৌলবাদি, সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া না দিয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশে যাতে সংখ্যালঘু নিপিড়ন না হয়।

ভারতের বিজেপি সমর্থিত থিংক ট্যাংক গুলো সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপিড়ন বন্ধ করার জন্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে রাখার জন্য আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকে তাহলে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে বলে মনে করে বিজেপি এবং কংগ্রেস দু’টি রাজনৈতিক দল। এ দুটির বাইরেও যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভারতের কূটনীতি এবং পররাষ্ট্র নীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে সে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও কংগ্রেস এবং বিজেপির মতোই। কংগ্রেসের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের লড়াই করা তৃণমূল বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আর একারণেই ভারতের নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক না কেন, এটি বিএনপির জন্য কোন আশার বাণী আনবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বক্তব্যটি স্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশ করে বিএনপির কোন নেতাই ভারতের নির্বাচন নিয়ে এখন কোন মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, ‘ভারতের মনোভাব যাই হোক না কেন, আমাদেরকে ক্ষমতায় আসতে হবে জনগণের সমর্থন নিয়েই। আমরা যদি জনগণের তাহলে ভারত কি ভাবলো না ভাবলো, ভারত কাকে চাই বা না চাই সেটি কোন বিষয় নয়’।


বিজেপি   বিএনপি   কংগ্রেস   ভারত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন