ইনসাইড পলিটিক্স

শেষ হয়ে যাচ্ছে আজমত উল্লার রাজনৈতিক অধ্যায়?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail

আওয়ামী লীগের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের অন্যতম। একজন শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তি, আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি দলের এই দুঃসময়ের সাথী। বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল গাজীপুরে। কিন্তু সেই আজমত উল্লা হোঁচট খেলেন। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে এই হোঁচট তাকে কি রাজনীতি থেকে ছিটকে দিল?—গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর এই প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে। 

আজমত উল্লা হলেন আওয়ামী লীগের সেই সমস্ত পরীক্ষিত নেতাদের একজন যারা তিল তিল করে বেড়ে উঠেছেন, সংগঠনের জন্য জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। উচ্চশিক্ষিত আওয়ামী লীগের এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক গ্রহণ করেছেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি যতটা না জনপ্রিয় তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। একসময় গাজীপুরের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে ছিলেন। গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি গাজীপুর আওয়ামী লীগের অপরিহার্য এবং অবিসংবাদিত নেতায়  হিসেবে বিবেচিত হতেন। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকেই তার রাজনীতিতে বিপর্যয়ের অধ্যায় শুরু হয়। 

একটা সময় মনে করা হতো গাজীপুর হলো দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সংগঠন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রচন্ড দুঃসময়ও গাজীপুরের সংগঠন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে গাজীপুরের ভূমিকা বিরোচিত। আর সেই ভূমিকার পিছনে যাদের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয় তাদের মধ্যে অবশ্যই আজমত উল্লা অন্যতম। প্রয়াত নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং আজমত উল্লা জুটি গাজীপুর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছে, বিস্তৃত করেছে এমন কথা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই বলেন। কিন্তু সেই আজমত উল্লার রাজনীতির করুণ অধ্যায় এখন সমাপ্তির পথে। 

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন আজমত উল্লা। কিন্তু নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতা এম এ মান্নান এর কাছে পরাজিত হন। এটি তাকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করেনি, বিপর্যস্ত করেনি। এই সময় আস্তে আস্তে গাজীপুরের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে জাহাঙ্গীর আলমের। জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাহচর্যে এবং আশীর্বাদে গাজীপুরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে শুরু করেন। গাজীপুরের অন্যান্য নেতাদেরকে ডিঙিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হতে থাকেন। আর এর ফলে তৈরি হয় গাজীপুর আওয়ামী লীগের বিভক্তি। এই বিভক্তির আওয়ামী লীগের জন্য কাল হয়েছে। 

২০১৮ সালের নির্বাচনে আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। জনপ্রিয়তা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে সেই সময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলম ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন। আর আজমত উল্লাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আজমত উল্লার সম্পর্ক কখনোই মধুর ছিল না। বরং দুইজনের বৈধতা নির্বাচনের পর প্রকাশ্য হতে শুরু করে। 

জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমনকি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি সমালোচিত হন। এর ফলে তিনি দল থেকে বহিস্কৃত হন। জাহাঙ্গীরপণ্থিরা মনে করেন যে জাহাঙ্গীর আলমকে ফাঁদে ফেলানোর পিছনে আজমত উল্লার একটা ভূমিকা ছিল। যদিও আজমত নিজে এ ধরনের কুৎসিত রাজনীতি করেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও জাহাঙ্গীর এই বক্তব্য বিভিন্ন ভাবে প্রচার করেন। পরবর্তীতে গাজীপুরে আজমত উল্লা এবং জাহাঙ্গীর আলম বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়নি, আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু  আজমত উল্লার মনোনয়ন পাওয়াকে ব্যক্তিগত যুদ্ধ হিসেবে দেখেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দলের বাধা-বিপত্তি অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রার্থী হন এবং তার মাকে প্রার্থী করেন। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলম তার মা'র প্রার্থীতা বহাল রাখেন এবং নির্বাচনে লড়াই করেন। এই নির্বাচন ছিল আসলে আজমত উল্লা বনাম জাহাঙ্গীর আলমের লড়াই। জাহাঙ্গীর আলম পুরো ব্যাপারটিকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আজমত উল্লার বিরুদ্ধেই তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় সময় ব্যয় করেছেন। এখন নির্বাচনে মূলত জাহাঙ্গীর আলমের বিজয় হলো। আর এর ফলে আজমত উল্লা গাজীপুরের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। একদিকে যেমন জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশেই সিটি করপোরেশন পরিচালিত হবে অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একটা বিরাট কর্মীবাহিনী জাহাঙ্গীরের দিকে ঝুঁকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জীবন সায়াহ্নে এসে আজমত এখন নতুন করে রাজনীতিতে তার কর্মীদের সংগঠিত করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তাছাড়া আদর্শবান এই নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বিপুল বিত্তের কাছে লড়াই করে কতটুকু টিকবেন সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর সে কারণেই অনেকে মনে করছেন একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদের করুণ অধ্যায়ের সমাপ্তি শুরু হলো গাজীপুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

আজমত উল্লা   গাজীপুর   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঢাকাসহ চার মহানগরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত

প্রকাশ: ০১:০৮ এএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না'র নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লিখিত বিলুপ্তকৃত কমিটি সমূহের নতুন কমিটি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। 

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর পূর্ব ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় । শীঘ্রই উক্ত ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলের ভেতর থাকা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দলের ভেতর থাকা বিভিন্ন রকমের অপকর্ম করছে যে সমস্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে টানা ক্ষমতায় থাকা দলটি। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে আনার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে নানারকম চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমে আসছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই সমস্ত ঘটনায় অত্যন্ত বিব্রত। আওয়ামী লীগ মনে করছে, দলের ভেতর থেকে যারা এ ধরনের অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময়। আর এ কারণেই দলের ভেতরে থেকে যারা বিভিন্ন রকমের অনিয়ম করছে, বিভিন্ন কমিটিতে থেকে যারা দলের সুনাম নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৩ জুন দলটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে আওয়ামী লীগের এখন প্রস্তুতি চলছে। ঈদের পর থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য ব্যস্ত থাকবে দলের নেতৃবৃন্দ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে।


সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহর এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের পর বেরিয়ে আসতে থাকে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কিছু চিত্র। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও। ঘটনাটি যে শুধু ঝিনাইদহের এমনটি নয়, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ভেতর এ ধরণের একটি সহিংস গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে। একটি দুর্বৃত্ত চক্র ক্রমশ বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা। আর এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে দলের একাধিক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এখন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন তার চিকিৎসার জন্য। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসার পর এ বিষয়ে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বসবেন বলে জানা গেছে। 

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা যেন তাদের বিভাগে প্রত্যেকটি জেলা, ওয়ার্ডের তালিকা তৈরি করে, যেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা নানা ধরনের অনিয়ম করছেন, অপকর্ম করছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে যাচাই বাছাই করা হবে এবং কার কী ভূমিকা ইত্যাদি নিরীক্ষা করা হবে। এরপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


তবে একাধিক সূত্র বলছে, শুধু মাত্র আওয়ামী লীগের উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না, অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিরা কে কী করছেন সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাই মনে করেন টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের অনেকে এখন দুর্বৃত্ত হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছেন। তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ব্যবসা-টেন্ডার সহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা আদায়েরও চেষ্টা করছেন। এই সমস্ত বিষয়গুলোকে এখনই না থামালে তা দলের জন্যই ক্ষতিকারক হবে এবং দলের সুনাম নষ্ট করবে। ইতোমধ্যে আনার হত্যাকণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের মধ্যেই নানারকম সমালোচনা হচ্ছে। এ ধরনের লোকরা কীভাবে এতদিন বহাল তবিয়তে ছিলেন সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ এখন দলের ভেতর থাকা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ   অপকর্ম   প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী   আনার হত্যাকাণ্ড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে হঠাৎ আলোচনায় সিঁথি

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

শর্মিলা রহমান সিঁথি প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী। তিনি থাকেন লন্ডনে। তার দুই সন্তান সেখানেই লেখাপড়া করেন। তারেক জিয়ার সাথে তার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় ছুটে এসেছেন। এবার ঈদেও তিনি ঢাকায় আসছেন এবং রাজনীতিতে তার মনোযোগ বাড়ছে—এমন গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির মধ্যে। বিএনপিতে এখন নতুন করে সিঁথিকে নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। 

তারেক জিয়াকে নিয়ে যখন বিএনপিতে তীব্র সমালোচনা এবং তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার আগ্রহেই সিঁথিকে সামনে আনা হয়েছে কি না তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গনে। সাম্প্রতিক সময়ে শর্মিলা রহমান সিঁথি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলছেন। গত দুই দিনে তিনি স্থায়ী কমিটির অন্তত পাঁচ জন সদস্যের সাথে কথা বলেছেন। যদিও স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য শর্মিলা রহমান সিঁথির সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন এটি বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং চিকিৎসা বিষয়ে, রাজনৈতিক বিষয়ে নয়। 


তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, রাজনীতিতে শর্মিলা সিঁথির যেমন আগ্রহ বাড়ছে তেমনি বেগম খালেদা জিয়াও তাকে রাজনৈতিক বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত দুটি কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শর্মিলা সিঁথিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শর্মিলা সিঁথি এখন সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং দলের কর্মসূচি কি ধরনের হওয়া উচিত তা নিয়ে বার্তা দিচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সিঁথি ঈদের ছুটিতে ঢাকায় আসছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদুল আজহা পালন করবেন। এসময় তিনি রাজনীতিতে আরও মনোযোগী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসক হলেও বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস এবং অসুস্থতার মধ্যে একবারও আসেননি। এমনকি তারেক জিয়ার পরিণত কন্যা জাইমা রহমানও এসময় দাদির কাছে আসেননি। দাদির খোঁজ খবরও খুব একটা নেননি। এই পুরো সময়ে একমাত্র শর্মিলা সিঁথি নানারকম ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে এমনকি এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকেছেন, সেবা করেছেন। 

 
বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, শাশুড়ির প্রতি সিঁথির এই ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ বেগম জিয়াকে মুগ্ধ করেছে। বিএনপি নেতাদের মধ্যেও সিঁথি নতুন করে সম্মান কুঁড়িয়েছেন। আর একারণেই তার গ্রহণযোগ্যতা এখন তারেক জিয়ার চেয়ে কোন অংশে কম না বলে মনে করছে অনেকে।
 
উল্লেখ্য, শর্মিলা সিঁথি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন নন। তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আর একারণেই শেষ পর্যন্ত যদি সিঁথি বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেন তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে শর্মিলা সিঁথির সঙ্গে তারেক জিয়ার সম্পর্ক ভালো নয়। বিশেষ করে আর্থিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর এই বিরোধের কারণেই সিঁথি এখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছেন। এটি তারেক জিয়ার সঙ্গে তার দেনা পাওনার জন্য একটি মনস্তাত্বিক চাপ বলে অনেকে মনে করছেন। 

শর্মিলা রহমান সিঁথি   বিএনপি   খালেদা জিয়া   তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: নানক

প্রকাশ: ০৪:০৮ পিএম, ১৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেই দুর্নীতি করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির নেতারা এই নজির সৃষ্টি করতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নানক বলেন, হাওয়া ভবনের তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার করেছেন। লন্ডনে বসে রাজপ্রাসাদ থেকে দেশের টাকা লুটপাট করে উপভোগ করছেন।

বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, ফখরুল সাহেবের ভেতরের কথা বের হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের সরকার বিএনপির প্রধান শত্রু। কারণ এই সরকার জনগণের সরকার , এই সরকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সরকার, এ সরকার দেশের উন্নয়নের সরকার। কারণ এই সরকার আপনাদের (বিএনপি) বন্ধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী ওই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে, বিচারের রায় কার্যকর করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের শুধু ঢেকুর দিলে চলবে না। আমরা পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছি। সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জনগণের সমর্থন না পেয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। সেই পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদেরকে মোকাবিলা করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন। এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


দুর্নীতি   জাহাঙ্গীর নানক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজ মোহাম্মদ নাসিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ০৩:২০ পিএম, ১৩ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সাবেক সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-প্রয়াতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ।

১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মো. নাসিম। তার পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় চার নেতার অন্যতম এম. মনসুর আলী ৩ নভেম্বর জেলখানায় ঘাতকদের হাতে নিহত হন। 

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। 

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রও ছিলেন।


রাজনীতিবিদ   নাসিম   মৃত্যুবার্ষিকী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন