ইনসাইড গ্রাউন্ড

শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন মরিনিও

প্রকাশ: ০৯:১২ এএম, ০৩ জুন, ২০২৩


Thumbnail

ম্যাচ হেরে অভিজ্ঞ কোচ জোসে মরিনিওর মেজাজ হারানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। এরকম আচরণের দায়ে এর আগেও তিনি শাস্তি পেয়েছিলেন। আরও একবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলেন এই রোমা কোচ। ঘটনাটি সর্বশেষ ইউরোপা লিগ ফাইনালের, ম্যাচ শেষে তার বিরুদ্ধে রেফারির উদ্দেশ্যে অপমানজনক ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও ম্যাচে তাদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার কারণে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে। সেই ঘটনার জন্য কড়া শাস্তি পেতে পারেন এই স্পেশাল ওয়ান।

গত ৩১ মে ইউরোপা লিগের ফাইনালে সেভিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় রোমা। ম্যাচটিতে টুর্নামেন্টের রেকর্ড সংখ্যক হলুদ কার্ড দেখানো হয়। যেখানে ৪০টি ফাউলের বিপরীতে ১৩ বার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে রেফারি অ্যান্থনি টেইলরকে। এর মধ্যে রোমার খেলোয়াড়েরাই ৭টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন ।

একদিকে হার, অন্যদিকে কার্ডের সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই বেশ রগচটে ছিলেন মরিনিও। তারই রেশ ধরে ম্যাচ শেষে তিনি পুসকাস অ্যারেনার বাইরে ম্যাচ অফিসিয়ালদের লক্ষ্য করে চিৎকার করেন। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনেও রেফারি টেইলরের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।

৬০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে উয়েফা। সমর্থকদের আচরণের জন্য উভয় ক্লাবের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা গেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন মরিনিও।

ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে গত বুধবার বুদাপেস্টে সেভিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় রোমা। নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ে - ড্র ছিল। ট্রাইবেকে রোমা একাধিক শ্যুট আউট মিস করে। ফলে সেভিয়ার রেকর্ড সপ্তমবারের ইউরোপা লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়।

যার রেশ ম্যাচের পরদিনও রেখে দেন রোমা সমর্থকরা। এদিন বুদাপেস্ট বিমানবন্দরে তাদের হয়রানির শিকার হন রেফারি টেইলর তার পরিবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টেইলর তার পরিবারকে গালিগালাজ করছেন ইতালিয়ান ক্লাবটির সমর্থকরা। একজন সমর্থন টেইলরকে লক্ষ্য করে চেয়ারও ছুড়ে মারলেও, অল্পের জন্য রক্ষা পান ইংলিশ রেফারি। 


মরিনিও   রোমা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

জরিমানা ছাড়া কীভাবে খেললো ইয়ামাল?

প্রকাশ: ০৪:৪৫ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জমজমাট ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতেছে স্পেন। এবারের আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল।

সদ্য সমাপ্ত ইউরোতে ইয়ামাল মাঠে নামলেই যেন তৈরি হয়েছে একের পর এক রেকর্ড। ফাইনালেও ইয়ামালের পা থেকে এসেছে দর্শনীয় অ্যাসিস্ট। তার দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে প্রথম গোলের দেখা পায় নিকো উইলিয়ামস। এরপরই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্পেন।

তবে ফাইনালে ইয়ামালকে খেলানো নিয়ে দুঃসংবাদ শোনা যাচ্ছিল। তবে কোনো চোট বা কার্ডের সমস্যা নয়, তাকে খেলানোর ক্ষেত্রে মূলত দুঃসংবাদ হয়ে উঠেছিল আয়োজক দেশ জার্মানির আইন। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ খেলোয়াড় জার্মানির আইনে নাবালক।

জার্মানির যে শ্রম আইন রয়েছে সেই আইন অনুযায়ী কোনো নাবালক বা শিশুকে দিয়ে রাত আটটার পরে কোনো কাজ করানো যাবে না। তবে অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ ছাড়। তাদের রাত ১১টা অবধি খেলানো বা অনুশীলন করানো যায়।

এদিকে খুব সূক্ষ্মভাবে এই আইনের জরিমানা এড়িয়েছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। এদিন ইয়ামালকে ম্যাচের ৯০ মিনিট খেলাতে গেলে জরিমানা দিতে হতো। তাই ৯০ মিনিটের আগেই বদলি খেলোয়াড় দিয়ে তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়।

তবে খেলা শেষ হওয়ার ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত উয়েফা কর্তৃপক্ষ ইয়ামালের জরিমানা নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দেয়নি। তবে দ্রুতই হয়ত এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেবে ইউরো ও স্পেন দল। অবশ্য পুরো সময় খেললে কত টাকা জরিমানা হতে পারতো স্পেনের?

জানা গেছে, আইন ভাঙলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারতো। তবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য এই পরিমাণ অর্থ দিয়েও দিতে পারতো স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন।

ইংলিশদের আক্ষেপে পুড়িয়ে চতুর্থবারের মতো দখলে নিলো ইউরো শিরোপা। ইউরোর ইতিহাসে যা পারেনি আর কোনো দল! শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ১২ বছর পর। তাই সেক্ষেত্রে জরিমানা হলেও তা বিশেষ সমস্যা হতো না স্পেনের কাছে।


লামিনে ইয়ামাল   স্পেন   ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

এবার দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব

প্রকাশ: ০৪:২৫ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই মহাদেশীয় ফুটবলের দুই আসরের পর্দা নেমেছে। রোববার (১৪ জুলাই) রাতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। এরপর সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।

ইউরোর ১৭তম আসরে ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে স্পেন। সেই সঙ্গে ১২ বছরের শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচলো তারা। অন্যদিকে কোপা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২৩ বছর শিরোপা খরায় ভোগা কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৬তম শিরোপা জিতে নিয়েছে।

এবার দুই মহাদেশীয় ফুটবলের সেরা দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার পালা। কোপা আমেরিকা জয়ী ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দলের লড়াইয়ের নাম ‘ফিনালিসিমা’। যে লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। মহাদেশীয় লড়াই শেষ হওয়ার পর এবার ফিনালিসিমার জন্য অপেক্ষা।

কনমেবল ও উয়েফা এরই মধ্যে এটা আয়োজনের সবুজ সংকেত প্রদান করেছে। তবে কবে আয়োজন করা হবে এই ম্যাচ সেটা নিয়ে নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফিনালিসিমার তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত পর্যন্ত আয়োজিত হবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টের আগে বা পরেই আয়োজিত হবে ফিনালিসিমা। যদিও তারিখের মতো ভেন্যুও ঠিক হয়নি।

ফিনালিসিমার গত আসর আয়োজন করেছিল ওয়েম্বলি। যেখানে কোপা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে। ২০২২ সালের আগে কেবল দুইটি ফিনালিসিমার ম্যাচ হয়েছিল। এর আগে ১৯৮৫ এবং ১৯৯৩ সালে আয়োজিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। প্রথম আসরে খেলেছিল ফ্রান্স ও উরুগুয়ে। দ্বিতীয় আসরে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ডেনমার্ক।


ফিনালিসিমা   মেসি   ইয়ামাল   কোপা আমেরিকা   ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

কোপা আমেরিকা ২০২৪: সেরার পুরস্কার উঠল যাদের হাতে

প্রকাশ: ০৪:১৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

একটা প্রবাদ আছে যে, উপরওয়ালা যখন দেয়, তখন দুই হাত ভরে দেয়। আর এই প্রবাদটিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। একের পর এক ব্যর্থতা আর সমালোচনা যখন গ্রাস করেছিল দলটিকে ঠিক তখনই  এক নতুন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু। আর সেখান থেকেই আজ টানা ৪ আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে দলটি।

সোমবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ে মেতেছে দলটি। আর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৬বার শিরোপা ঘুরে তুলেছে আলবিসেলেস্তেরা।

একুশ শতকে লম্বা সময় ধরে আর্জেটিনাকে বলতে গেলে একাই টেনেছেন মেসি। অথচ আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জেতায় মেসি থাকলেন পার্শ্বচরিত্র হয়ে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে দারুণ অবদান রেখেছেন লাউতারো মার্টিনেজ। ইন্টার মিলানের অধিনায়ক ৬ ম্যাচে ৫ গোল করে জিতে নিয়েছেন এবারের আসরের গোল্ডেন বুট।

আর্জেন্টিনার ফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে দারুণ অবদান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক এমি কোপা আমেরিকায়ও পেলেন সেরা গোলরক্ষকের গোল্ডেন গ্লাভস। আসরে আর্জেন্টিনার খেলা ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই গোল হজম করেননি মার্টিনেজ।

তবে সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল আর্জেন্টিনা ঘরে তুলতে পারেনি। কলম্বিয়াকে ফাইনালে তুলতে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয়া জেমস রদ্রিগেজই নির্বাচিত হয়েছেন এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড়।

আসরে ১টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট করে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন জেমস। মেসির (৭) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫টি বিগ চান্সও তিনিই তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার পথে জেমসের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল না।

তবে ২৩ বছর পর দলকে ফাইনালে তুললেও শেষটা রাঙাতে পারেননি রদ্রিগেজ। লাউতারো মার্টিনেজের একমাত্র গোলে শিরোপা গেছে আর্জেন্টিনার ঘরে।


কোপা আমেরিকা   আর্জেন্টিনা   লাউতারো মার্টিনেজ   এমি মার্টিনেজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

গোল মিসের মহড়া নিয়ে আসা সেই লাউতারোর হাতেই গোল্ডেন বুট

প্রকাশ: ০৩:১১ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এসেছিলেন বদলি হিসেবে। সেই লাউতারো মার্টিনেজই ফাইনালে এনে দিলেন লিড। দুর্দান্ত এক শটে ভাঙলেন ডেডলক। ম্যাচের ১১১ মিনিটে লিড পেল আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল পাঠিয়েছিলেন জিওভানি লো সেলসো। বদলি নামা এই মিডফিল্ডারের পাস খুঁজে নেয় লাউতারো মার্টিনেজকে। সেখান থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে বল জালে পাঠান লাউতারো মার্টিনেজ। আর সেই গোলেই ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬তম বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আলবিসেলেস্তেরা।

এককালে গোল মিসের মহড়া নিয়ে আসা সেই লাউতারো মার্তিনেজের হাতেই এবার উঠেছে কোপা আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট। ২৬ বছর বয়সী আর্জেন্টিনা ফরোয়ার্ড এই পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো জিতলেন, ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিজয়সূচক গোলটি করে — যা প্রতিযোগিতায় তার পঞ্চম গোল।

লাউতারো মার্তিনেজ, যিনি ইন্টার মিলানের হয়ে খেলে থাকেন, আর্জেন্টিনার প্রথম তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন যদিও তিনি শুধুমাত্র একটি ম্যাচে শুরু করেছিলেন। তিনি কানাডার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং চিলির বিপক্ষে ১-০ জয়ে বিজয়সূচক গোলটি করেন। পেরুর বিপক্ষে শুরু করার সুযোগ পেয়ে, তিনি কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বাসের প্রতিদান দেন দুটি গোল করে, যা ২-০ জয় এনে দেয়।

নকআউট পর্যায়ে মার্টিনেজ তার ফর্ম অব্যাহত রাখেন, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে অংশ নেন এবং ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন, যেখানে আর্জেন্টিনা কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। ২০২১ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং কলম্বিয়ার লুইস ডিয়াজ চারটি করে গোল করে গোল্ডেন বুট ভাগাভাগি করেছিলেন।


লাউতারো মার্টিনেজ   সিরি আ   ইতালি   ফুটবল   ইন্টার মিলান   আর্জেন্টিনা   কোপা আমেরিকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

চ্যাম্পিয়ন হয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ‘দ্য ফাইনাল ম্যান’

প্রকাশ: ০২:৩৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সতীর্থদের কাছে তিনি ‘ফিদেও’, ভক্ত সমর্থকদের কাছে ‘দ্য ফাইনাল ম্যান’, আর মাঠে তিনি একজন চ্যাম্পিয়ন। বলছিলাম বার বার ব্যর্থতার পরও ঘুরে দাঁড়ানো এক যোদ্ধার কথা। যিনি পুরো একটা দল ও দেশের আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন প্রায় দুই দশক ধরে।

এরপর টানা ২৮ বছর ধরে যে একটি আন্তর্জাতিক শিরোপার ক্ষুধায় ছিল পুরো দেশ, সেই শিরোপা জেতালেন তিনিই। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তার সেই একমাত্র গোলের জন্যই আর্জেন্টিনার শিরোপা খরা কেটেছিল সেদিন। এরপরের খবর তো সবারই জানা। ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপসহ সবকিছুই জিতেছেন তিনি। সেই সাথে নিজের বিদায়টাও চ্যাম্পিয়ন বেশেই গ্রহণ করলেন তিনি।

‘ফিদেও’ নামে পরিচিত অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেললেন। সোমবার, ১৫ জুলাই তার শেষ ম্যাচে তিনি খেলেছেন ১১৭ মিনিট। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের বাছাইপর্বে তার অভিষেক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ৫,৭৯০ দিনের এই যাত্রা ছিল এক অসাধারণ কাহিনী যেটি উৎসর্গ, ধৈর্য এবং সাফল্যের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে।

কানাডার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ডি মারিয়া তার ছোট মেয়ের সাথে মাঠে নেমেছিলেন, যা তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত মাইলফলকগুলোর একটি স্মৃতিচিহ্ন। ফাইনাল ম্যাচে শুধুমাত্র ডি মারিয়ার একটি যুগের সমাপ্তি নয়, বরং তার অবদানের উদযাপনও বটে।

তার যাত্রার প্রতিফলনে, ডি মারিয়া তার পরিবার, ভক্ত এবং সতীর্থদের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। "এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ যারা আমাকে এত ট্রফি জয়ের সুযোগ দিয়েছে," তিনি বলেছিলেন। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ বিজয়ের পর আর্জেন্টাইন ভক্তদের সাথে তার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে এবং কোপা আমেরিকার পুরো সময়ে তিনি অনুপ্রেরণা এবং নেতৃত্বের অবিচলিত উৎস ছিলেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনি অনেকের মনোভাব প্রতিফলিত করেছেন, ডি মারিয়াকে চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। "আমরা তাকে খেলার সুযোগ দিতে হবে, তারপর আমরা দেখব যদি আমরা তাকে থাকার জন্য রাজি করাতে পারি," স্কালোনি মন্তব্য করেন, রোসারিওর স্থানীয় তারকাকে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ডি মারিয়ার ক্যারিয়ার, প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমের মিশ্রণ, আর্জেন্টাইন ফুটবলের চেতনাকে প্রতিফলিত করে। রোসারিওতে তার বিনম্র শুরু থেকে জাতীয় দলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিগার হওয়া পর্যন্ত, তিনি প্রশংসা এবং সমালোচনা উভয়ই হাসি মুখে গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের উচ্চতা এবং নিম্নতাগুলোতে তার ধৈর্য তার চরিত্রের একটি প্রমাণ যা তিনি অবিচল উৎসর্গের সাথে সহ্য করেছেন।

আসন্ন ফাইনালটি ডি মারিয়ার জাতীয় দলের সাথে ষষ্ঠ, যা তার স্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। মাঠে তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য গর্বের উৎস এবং তার বিদায়ী ম্যাচটি সব ভক্তের জন্য একটি আবেগময় মুহূর্ত হিসেবেই আসে।

দলের অভ্যন্তরীণ বন্ধুত্বের প্রতিফলনে, ডি মারিয়া ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন যা তাদেরকে আরেকটি ফাইনালে জিতিয়েছে। "এটি আমাদের সকলের কৃতিত্ব যে আমরা আবার একটি নতুন ফাইনালে ফিরে এসেছি এবং মানুষকে আনন্দ দিতে পারছি," তিনি ফাইনালের আগে তার সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফের ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন।

অশ্রুসিক্ত এক ভঙ্গিতে, কানাডার বিরুদ্ধে প্রি-ম্যাচ বক্তৃতায় লিওনেল মেসি ডি মারিয়ার প্রশংসা করা উল্লেখ করেন দুই ফুটবল কিংবদন্তির গভীর বন্ধনের প্রতিফলন। "আমি সত্যিই আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় ম্যাচের আগে এমন কিছু বলছে, যা আমাকে গর্বিত করেছে," ডি মারিয়া শেয়ার করেন, পারস্পরিক সম্মান এবং বন্ধুত্বকে তুলে ধরে।

ডি মারিয়া তার শেষ ম্যাচে গোল না পেলেও একটি আবেগ, ধৈর্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাথে তার যাত্রা ছিল খেলাটি এবং তার দেশের প্রতি তার ভালবাসার প্রমাণ, এবং তার বিদায় অবধারিতভাবে তার ক্যারিয়ার অনুসরণকারী সকলের জন্য গর্ব এবং আবেগের একটি মুহূর্ত হবে।


আর্জেন্টিনা   কোপা আমেরিকা   লিও মেসি   লিওনেল স্কালোনি   ডি মারিয়া  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন