ইনসাইড পলিটিক্স

জাপা না তৃণমূল কে হবে প্রধান বিরোধী দল

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কে আসবে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করার পরও বিরোধী দল হয়েছিল জাতীয় পার্টি। বিএনপি মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছিল। যদিও বিএনপি সেই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে। কিন্তু কারচুপির অভিযোগ করলেও বিএনপির ছয়জন সদস্য প্রায় পুরো পাঁচ বছরই সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহিলা কোটাতেও একজন সংসদ সদস্য সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবার বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে আবার কি জাতীয় পার্টি নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে নাকি এবার নির্বাচনের আগে নতুন চমক তৃণমূল বিএনপির বিরোধী দল হবে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে জাতীয় পার্টিকে পিছিয়েছে ফেলে তৃণমূল বিএনপির এবার বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি আঁচ করতে পেরেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত গড়িমসি করছেন। যদিও আজ থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হচ্ছে এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি মানেই নির্বাচনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত৷ নয়। 

জাতীয় পার্টির বিভিন্ন মহল সরকারের কাছ থেকে নির্বাচনে কত আসন পাবে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট আশ্বাস চাইছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনের ওপর কোন রকম প্রভাব বিস্তার সরকার করবে না। নির্বাচনে কে কত আসন পাবে এই সমস্ত বিষয়গুলো ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। যার ফলে জাতীয় পার্টি নিরপেক্ষ নির্বাচনে কতগুলো আসন পাবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারও কোন আশ্বাস দিতে পারে না। 

অন্যদিকে তৃণমূল বিএনপি গঠিত হয়েছে বিএনপির কিছু জনপ্রিয় নেতাদেরকে নিয়ে। তৈমুর আলম খন্দকার, শমসের মবিন চৌধুরী সহ বিভিন্ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এলাকায় তাদের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া বিএনপিতে যারা নির্বাচন করতে চান কিন্তু বিএনপি নির্বাচন না করায় তারা তাদের এলাকায় অবস্থান ক্ষুন্ন করেছিলেন এবং এলাকা নিয়ে শঙ্কিত হয়েছিলেন তাদের নতুন ঠিকানা হয়েছে তৃণমূল বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা তিনশ আসনে প্রার্থী দিবে এবং এ ধরনের নির্বাচনে যদি প্রাক্তন বিএনপির নেতারা প্রার্থী হন তাহলে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোটের একটি বড় অংশ তৃণমূল বিএনপি পাবে। আবার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তৃণমূল বিএনপি জয়ী হবেন।

তৈমুর আলম খন্দকারের আসনের কথাই যদি ধরা যায় সেখানে শামীম ওসমান হবেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। আর তৈমুর আলম খন্দকারকে নিশ্চিত ভাবে প্রকাশ্যে বা গোপনে সহায়তা দেবেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর আইভির যদি সমর্থন পান তাহলে নারায়ণগঞ্জের এই আসনে একটা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। একই অবস্থা হবে তার শমসের মবিন চৌধুরী আসনে। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। এখন যদি শমসের মবিন চৌধুরী নির্বাচনে দাঁড়ান এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে যদি কোন্দোল থাকে তাহলে সেই আসনটিতে কি ফলাফল হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এরকম বহু আসন আছে যেখানে তৃণমূল বিএনপি ভাল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং জাতীয় পার্টির চেয়ে তাদের জনপ্রিয়তা বেশি। কারণ তারা বিএনপি থেকে এসেছেন এবং আওয়ামী বিরোধী ভোট গুলো তাদের পকেটে যাবে। 

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে অংশগ্রহণ করছে। সে হিসেবে জাতীয় পার্টিকে অনেকেই আওয়ামী লীগের বি টিম মনে করে। কেউ কেউ তাদেরকে অনুগত বিরোধী দল মনে করে। এরকম অবস্থায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে কতটা ভালো হবে তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। তা ছাড়া হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির আগের সেই ক্রেজ নষ্ট হয়ে গেছে। এরশাদ ছাড়া জাতীয় পার্টির কোন জাতীয় নেতাও নাই। জি এম কাদের একজন গ্রহণযোগ্য স্বজন ব্যক্তি বটে। কিন্তু তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেননি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা নয়, তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দল হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে কোন রকম কারচুপি হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং এই সুষ্ঠু নির্বাচনে যে জেতে সেই হবেন সংসদ সদস্য। সেই বিবেচনায় জাতীয় পার্টি না তৃণমূল বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হবে তা জানার জন্য আমাদের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন   দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন   তৃণমূল বিএনপি   জাতীয় পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যা বললেন ড. মোশাররফ

প্রকাশ: ১১:৫৯ এএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়ম করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় এই শুভেচ্ছা বিনিয়ম হয়।

বেগম জিয়ার সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের নেত্রীর সঙ্গে আজকে কোনো রাজনৈতিক আলাপ হয়নি।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য গিয়েছিলাম। প্রতি বছরই আমরা ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে একত্রিত হই। কিন্তু এখানে রাজনীতি নিয়ে আলাপ করি না। আমাদের নেত্রীও রাজনীতি আলাপ করেন না। আজকেও তাই হয়েছে।’

দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে যে ঈদ, তা দেশবাসী আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেনি। সবাই কষ্টে আছে। আমরা সবাই কষ্টে আছি। আমাদের নেত্রীও এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে চায়, সেভাবে যাতে অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নতি হয়ে সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে ঈদ পালন করতে পারে, তার জন্য দোয়া করেছেন আমাদের নেত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও সেলিমা রহমান।

বেগম জিয়া   বিএনপি   ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন?

প্রকাশ: ০৫:১২ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঈদুল আজহার সময়টিতে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এবার দেশের বাইরে আছেন, যাদের ঈদও কাটছে বাইরে। যথারীতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশেই ঈদ পালন করছেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে ঈদের নামাজ আদায় করে দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের পর দিন ঢাকায় আসবেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ করছেন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ, তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন নিজ এলাকায় যাবেন। ড. আব্দুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশের বাইরে, সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতে আছেন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করছেন। 

বিএনপি   ঈদ   কোরবানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগের সুযোগ নেই: ফখরুল

প্রকাশ: ০১:২৭ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে এই ঈদুল আজহা একটি কষ্টকর দিন। কারণ, এবার মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কোরবানির পশু কিনতে অনেকেই আর্থিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল সোমবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের তাতীপাড়াস্থ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এর আগে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। কোরবানির মাংস রান্না করতে যে মসলা উপকরণ প্রয়োজন হয় তাও সংগ্রহ করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তাই এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই।

সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে জীবনের অশুভ ইন্দ্রিয়কে বিসর্জন দিয়ে জীবনকে সুন্দর করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল আরও জানান, সারাদেশে যেভাবে দুর্নীতির আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে ত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অশুভ আকাঙ্খা ত্যাগ করতে হবে।


মির্জা ফখরুল   ঈদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে’

প্রকাশ: ১২:৪৮ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (১৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছা (ভিডিও) বার্তায় আহ্বান জানান তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বছর ঘুরে আবার এল ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি গভীর আনুগত্য সর্বোচ্চ ত্যাগের নিদর্শনে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদেরকে কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে। আর জন্য সকলকে সংযম ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্জনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভারসাম্যপূর্ণ, শোষণহীন, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন- তা সফল করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, সততা এবং ত্যাগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অকৃত্রিম ভালোবাসা ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি সৌহার্দ্য। আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্ম চিন্তায় ত্যাগ, আনুগত্য এবং সততা চর্চায় নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাই, ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার।

প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পবিত্র ঈদে তিনি দেশবাসী, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সকলকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।


ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের ইতিহাস: বাংলাদেশের ইতিহাস

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বাংলাদেশের বিকাশ এবং আজকে বাংলাদেশের অবস্থান সবই হলো আওয়ামী লীগের অবদান। কাজেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর বাংলাদেশের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং আগামী ২৩ জুন ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ পালন করতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক এই সংগঠনটি। এই উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক দিন ক্ষণগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলা ইনসাইডার। আজ তুলে ধরা হলো দশম পর্ব।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০৯-১৩ মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে।

সফলভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের সূচনা। পরপর দুই বছরে বাংলাদেশের দুই তরুণের এভারেস্ট জয়।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে একাধিক উড়াল সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান।

ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের অভিযাত্রা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজারের বেশি।

- বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি। ৪২ বছরের অমীমাংসিত মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নতুন সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ।

ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের ফলে দীর্ঘ ৬৮ বছরের মানবিক লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছে ছিটমহলবাসী।

- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। জাতি কলঙ্কমুক্ত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু। ইতোমধ্যে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত। বিডিআর বিদ্রোহের শান্তিপূর্ণ সমাধান। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ।

সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক আইন জারি, সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধন ও জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ১৯৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা পুনর্বহাল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ সংযোজিত।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। আন্দোলনের নামে হিংসাশ্রয়ী ঘটনায় বহুপ্রাণহানি ঘটে। বিএনপি-জামাতের প্ররোচনায় হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও সারাদেশে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ ও সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

বিএনপি-জামাত জোট ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচন বানচালের জন্য একই কায়দায় চেষ্টা চালায়। অসাংবিধানিক ধারা সৃষ্টির এই চেষ্টা ও ব্যর্থ হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জানুয়ারি তৃতীয় মেয়াদের জন্য শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে এই মন্ত্রিসভার দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

২০১৫ সালে খালেদা জিয়া ৯০ দিনব্যাপী অবরোধ চালিয়ে সরকার পতনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তার

অবরোধের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি। আন্দোলন ব্যর্থ হলে খালেদা ঘরে ফিরে যান।


আওয়ামী লীগ   বাংলাদেশ   ইতিহাস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন