ইনসাইড বাংলাদেশ

পারিবারিক দ্বন্দ্বে ঝুঁকিতে বড় শিল্প পরিবারগুলো

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বড় বড় একাধিক শিল্প পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এই পারিবারিক দ্বন্দ্বে এই সমস্ত শিল্প পরিবারগুলো এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে একে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা করছে এবং এই সমস্ত মামলার কারণে তাদের যেমন ব্যবসায়িক ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, তেমনই ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে প্রচণ্ডভাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় দুটি শিল্প গ্রুপে পারিবারিক গৃহদাহের বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং এই দুটিতেই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বাংলাদেশের যে দুটি শিল্প পরিবারের গৃহদাহ নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার মধ্যে একটি হল ট্রান্সকম গ্রুপ, অন্যটি হল সিকদার গ্রুপ। ট্রান্সকম গ্রুপের দুই বোনের বিরোধ এখন প্রবল আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে শাজরেহ হক মামলার কারণে সিমিন রহমান এবং তার মা আগাম আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছেন। আদালত তাকে দেশে ফেরার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জামিন গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

আর অন্যদিকে শাজরেহ’র হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে তাদের একমাত্র ভাইয়ের লাশ কবর থেকে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন করে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ময়না তদন্তের পর বোঝা যাবে যে, সিমিনের ভাইয়ের মৃত্যুর পিছনে সিমিন রহমান জড়িত কি না বা আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? এই হত্যা মামলা ছাড়াও তাদের তাদের মধ্যে শেয়ার জালিয়াতির মামলা এবং অভিযোগ রয়েছে যে, শাজরেহ’র প্রাপ্য শেয়ার কলাকৌশল এবং ছলচাতুরির মাধ্যমে সিমিন কুক্ষিগত করেছেন। এই মামলার কারণে ট্রান্সকম গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তাও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এখন ট্রান্সকম গ্রুপের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও ট্রান্সকম গ্রুপের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি শিল্প পরিবার সিকদার গ্রুপে দুই ভাইবোনের বিরোধের কারণে দুজনই এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পারভীন সিকদারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে তিনি বিদেশি নাগরিক হয়েও সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং টাকা পয়সা নিয়েছেন। এই সমস্ত টাকা পয়সা যেন তিনি ফেরত দেন সে ব্যাপারে আদেশ চেয়ে মামলা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই মামলা করার পেছনে পারভীন হকের দুই ভাই রন ও রিক হক সিকদারের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রন এবং রিক এই মামলা করে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারেনি। কারণ রন এবং রিক দুজনের বিরুদ্ধেই বিদেশে সীমা অতিরিক্ত ৮১ কোটি টাকা ক্রেডিট কার্ডে খরচের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে।

দুদকের অভিযোগ, রন শিকদার পাঁচ বছরে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাতটি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে সীমার অতিরিক্ত ব্যয় করেছেন ৬০ লাখ ৯২ হাজার ২২৫ ডলার এবং রিক সিকদার ব্যাংকটির ছয়টি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পাঁচ বছরে বিদেশে সীমা অতিরিক্ত ব্যয় করেছেন ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ ডলার। আর এই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রয়াত জয় সিকদারের এই সন্তানদের বিরোধের কারণে সিকদার গ্রুপ এখন একটি বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক এমনিতেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে- রন, রিক এবং পারভীন সিকদারের বিরোধের কারণে ডুবতে বসেছে সিকদার গ্রুপ।

আর এই ধরনের বিরোধ আরও কতগুলো শিল্প পরিবারে দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ এটিকে পরিশোধিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যেমন আকিজ গ্রুপেও বিরোধ শুরু হওয়ার আগেই তারা সমঝোতার মাধ্যমে ভাগ হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বড় বড় শিল্প পরিবারগুলোতেও বিভক্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব   শিল্প পরিবার   ট্রান্সকম গ্রুপ   সিকদার গ্রুপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জামালপুরে ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার


Thumbnail

জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পারপাড়া গ্রামে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছুটা অদূরে ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

 

আজ শনিবার (২৫ মে) সকালে এ লাশ উদ্ধার করে করে পুলিশ।

 

এদিকে ঘটনাস্থলের পাশের গ্রাম পূর্ব কুটামনি এলাকায় বাঁশঝাড়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে ছিলো, পরে পুলিশ অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করে। নিহত শাহাদাত সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ভেড়া পাথালিয়া গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে। সে গতকাল রাতে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি। 

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, ‘নিহত অটোরিক্সা চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের অটোরিক্সাটি উদ্ধার করা হলেও ব্যাটারি চুরি হয়ে গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।’  


অটোরিক্সা   ছিনতাই   ধানক্ষেত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

'ঢাকায় কোনো বস্তি থাকবে না, দিনমজুররাও ফ্ল্যাটে থাকবে'

প্রকাশ: ১১:৫০ এএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকায় কোনো কাঁচা বস্তি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকবে না, সবাইকে সুন্দর পরিবেশে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

শনিবার(২৫ মে) সকালে পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারের স্থানে ১০তলা বঙ্গবাজার পাইকারি মার্কেট, শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যানের আধুনিকায়নসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি। বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দিচ্ছি। যে বস্তিতে যেরকম ভাড়া সেরকম ভাড়াই দেবে। কিন্তু তারা ফ্ল্যাটে থাকবে। শুধু বড়লোকেরাই ফ্ল্যাটে থাকবে সেটা হতে পারে না, আমাদের রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে দিন মজুররাও ফ্ল্যাটে থাকবে। স্বল্প ভাড়া, কেউ যদি প্রতিদিন ভাড়া দিতে চায়, সেই ব্যবস্থা আছে। কেউ যদি সাত দিনের ভাড়া দিতে চায়, সে ব্যবস্থা আছে। কেউ মাসের ভাড়া দিতে চাইলে সে ব্যবস্থাও হবে। আমরা ইতিমধ্যে ৩০০ পরিবার তুলেছি। 

এছাড়াও, পরিবেশ রক্ষার গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের এক টুকরো জমি আছে তারা একটা ফুলের গাছ, একটা ফলের গাছ হলেও লাগান। যাদের গ্রামের বাড়ি আছে সেখানে যেন অনাবাদি জমি না থাকে সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস,  ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহম্মদ ইব্‌রাহিম।


প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেনজীরের আলাদীনের চেরাগ দুদকে বন্দি

প্রকাশ: ১০:৫৭ এএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

আদালতের নির্দেশে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পরিবারের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব সম্পদ চলে গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়ন্ত্রণে। ফলে ক্ষমতায় থাকাকালে আলাদীনের আশ্চর্য চেরাগের স্পর্শে গড়ে তোলা বেনজীরের বিশাল সাম্রাজ্য কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল। দুদক সূত্র বলেছে, পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দ করা সম্পদ তত্ত্বাবধান ও দেখভালের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী তাঁর চাকরির মাধ্যমে এত সম্পদ উপার্জন করতে পারেন না। দোষী সাব্যস্ত হলে বিভিন্ন আইনে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হবে সদ্যঃসাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের। একই সঙ্গে তাঁর সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁর বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সত্যতা মিলেছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, পরবর্তী নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা আপিল বিভাগে বহাল থাকবে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, সাবেক আইজিপির জব্দ ও অবরুদ্ধ হওয়া সম্পদের সামগ্রিক তদারকি করবে দুদক। তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি বেনজীরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নিযুক্ত আছে, তারা একটি কমিটি গঠন করে দেবে। দুদক চাইলে যেসব জেলায় কার্যালয় নেই, সেখানে জেলা প্রশাসনকে দেখভালের দায়িত্ব দিতে পারে। আর অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাবগুলো থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের নিয়ন্ত্রণে।

এই কর্মকর্তা জানান, আদালতের আদেশের পর এসব সম্পদ আর বেনজীর আহমেদের দখলে থাকার সুযোগ নেই। এখন এগুলো দুদকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুদক শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করে রিসিভার নিয়োগ দেবে। তবে কমিশন যে কমিটি গঠন করবে তা আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

রিসিভার কমিটিতে দুদক কর্মকর্তা, কিংবা জেলা প্রশাসন বা যেকোনো নিরপেক্ষ সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সব সম্পত্তিতে আদালতের আদেশের সাইনবোর্ড টাঙানো হবে। পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হবে।

আদালতের আদেশের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা, তিন মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর, তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর ও জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীরের নামে থাকা ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। এসব দলিলে মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৪৬.৩০ বিঘা। যার দলিলমূল্য ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব জমির দাম কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত গুণ বেশি বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া তাঁদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে সাধারণ হিসাব, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ ৩৩টি হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত। তবে এসব ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ অর্থ সংরক্ষিত আছে তা জানা যায়নি। আদেশে বলা হয়েছে, এসব ব্যাংক হিসাব থেকে কোনোভাবেই টাকা উত্তোলন করা যাবে না। দুদকের বিধিমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের অধীনে বেনজীরের হিসাবগুলো অবরুদ্ধ থাকবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নামে-বেনামে যেসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, তা বিক্রি ও হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। অনুসন্ধান বা মামলা নিষ্পত্তির আগে বর্ণিত সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে, স্ত্রী ও মেয়েদের নামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।

পরে এ বিষয়ে আদেশ দেন আদালত। আদেশে বিচারক বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তার আবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আর্জি মঞ্জুরযোগ্য মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। বর্ণিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ) ও অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা না হলে তা হস্তান্তর হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না।

এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমেদের সম্পদ জব্দের আদেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন, দুদক স্বাধীন। সেখানে যদি কেউ অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হন, আমরা তাঁকে প্রটেকশন দিতে যাব কেন? তিনি সাবেক আইজিপি হোন আর সাবেক সেনাপ্রধান হোন।’

গত ৩১ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় ‘সাবেক আইজিপির অপকর্ম-১’। এই পর্বে ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে মূল প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপালগঞ্জে বেনজীরের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে প্রায় ৬০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত চোখধাঁধানো রিসোর্ট। তার পাশে কিনেছেন আরো ৮০০ বিঘা জমি। শুধু তাই নয়, রাজধানী ঢাকার গুলশানে ১৭ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটসহ দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি। হিসাব করে দেখা যায়, ৩৪ বছর সাত মাসের চাকরিজীবনে তিনি বেতন-ভাতা বাবদ আয় করেছেন এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। ফলে তাঁর এই বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

এ ছাড়া গত ২ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় ‘সাবেক আইজিপির অপকর্ম-২’। এই পর্বের মূল শিরোনাম ছিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’। অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির ওপর রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়। এতে বনের জমিই রয়েছে অন্তত ২০ বিঘা। ওই রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিকানা বেনজীরের পরিবারের হাতে।

কালের কণ্ঠ’র এসব প্রতিবেদন দেশে-বিদেশে আলোচনার ঝড় তোলে। পরে গত ৪ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। ২১ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। একই দিন বেনজীরের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন করেন সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

গত ২২ এপ্রিল তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে দুদক। কমিটির সদস্যরা হলেন কমিশনের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক জয়নাল আবেদীন ও নিয়ামুল হাসান গাজী। ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টের এক আদেশে দুই মাসের মধ্যে অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন হলফনামা আকারে জমা দিতে বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধান কমিটির এক সদস্য বলেন, কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তাঁরা অনুসন্ধান শুরু করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্ট নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর ১৪ মে তলব করা হয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে। এদিন পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া রিসোর্ট পরিচালনা এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় ভাওয়াল রিসোর্টকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 

জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) মাসুদ হাসান পাটোয়ারী বলেন, ভাওয়াল রিসোর্টে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কার্যক্রম বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণ হলে যে সাজা হতে পারে

চাকরি করে এত সম্পদ উপার্জন করা অসম্ভব বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫-এর ২ ধারা, অর্থপাচার আইন ২০১২-এর ৪ ধারাসহ বিভিন্ন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর (বেনজীর আহমেদ) বিচার হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন আইন ও ধারায় দীর্ঘ মেয়াদে তাঁর সাজা হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের অনুকূলে তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, বাজেয়াপ্ত সম্পদ দেখভাল করা দুদকের পক্ষে অত্যন্ত জটিল কাজ। এর আগেও বহু মামলায় অনেকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে আছে। এগুলো দেখভালের জন্য দুদকের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অর্থপাচার আইন ২০১২-এর ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি মানি লন্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন চার বৎসর এবং অনধিক ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি তাহার নিজ নামে, বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে, এমন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির দখলে রহিয়াছেন বা মালিকানা অর্জন করিয়াছেন, যাহা অসাধু উপায়ে অর্জিত হইয়াছে এবং তাহার জ্ঞাত আয়ের উৎসর সহিত অসংগতিপূর্ণ বলিয়া মনে করিবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে এবং তিনি উক্তরূপ সম্পত্তি দখল সম্পর্কে আদালতের নিকট বিচারে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর এবং অন্যূন ০৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন; এবং উক্তরূপ সম্পত্তিসমূহ বাজেয়াপ্ত যোগ্য হইবে।’

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অসদাচরণ করিলে অথবা করিতে সচেষ্ট হইলে তিনি অনধিক সাত বৎসর কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, এবং ফৌজদারি অসদাচরণের সহিত সম্পর্কিত আর্থিক সহায় বা সম্পদও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা যাইবে।’



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বঙ্গবাজার মার্কেটসহ ৪ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০:২৮ এএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীতে ১০তলা বিশিষ্ট বঙ্গবাজার পাইকারি মার্কেট নির্মাণসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চারটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শনিবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে তিনি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, ১০ তলা বিশিষ্ট বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণিবিতানে পাঁচটি সাধারণ সিঁড়ি ও ছয়টি অগ্নিপ্রস্থান সিঁড়িসহ পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিপইণবিতানের প্রতিটি ব্লকের জন্য আলাদা বাহির ও প্রবেশদ্বার থাকবে। ভবনে বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক কক্ষ এবং প্রতিটি ব্লকের প্রতি তলায় চারটি করে শৌচাগার থাকবে। এছাড়া ভবনের ভূমিতলে ১৬৯টি গাড়ি ও ১০৯টি মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে।

পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে রায়েরবাজার স্লুইসগেট গেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আট লেনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মণি সরণির নির্মাণকাজেরও এই সময় উদ্বোধন করা হয়। 

৯৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় ১০ কিলোমিটার নর্দমা (ড্রেন), ১০ কিলোমিটার পথচারী হাঁটার পথ (ফুটপাত), ৩টি উড়াল সেতু (ভেহিকেল ওভারপাস), ৩টি পথচারী পারাপার সেতু (ওভারব্রিজ), দুই কিলোমিটার সংরক্ষণকারী দেয়াল (রিটেইনিং ওয়াল), তিনটি মসজিদ, ছয়টি যানবাহন বিরতির স্থান (বাস-বে) ও ছয়টি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হবে। এতে ঢাকা শহরের ভেতরে বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি বহুলাংশে যানজট নিরসন হবে।

নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ধানমন্ডি হ্রদে নজরুল সরোবর নির্মাণ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি। এছাড়া শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু উদ্যানের আধুনিকীকরণ কাজেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই শিশু উদ্যানের আধুনিকায়ন করা হবে।


বঙ্গবাজার   প্রকল্প   উদ্বোধন   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

একই পরিবারের তিন সদস্যই জনপ্রতিনিধি, স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘ক্ষমতাধর পরিবার’

প্রকাশ: ০৯:৪৭ এএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

ছেলে এমপি, বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান ও মা জেলা পরিষদ সদস্য। বগুড়ায় একই পরিবারের তিন জন সদস্যই জনপ্রতিনিধি। আদমদীঘি উপজেলায় একই পরিবারের ৩ সদস্য এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় এ পরিবারের নাম দিয়েছেন ‘ক্ষমতাধর পরিবার’।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আদমদীঘি উপজেলায় বগুড়া- (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী বাঁধনের বাবা সিরাজুল ইসলাম খান রাজু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদ সদস্য বাঁধনের মা মঞ্জু আরা বেগম বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য উপজেলা মহিলা আওয়াামী লীগের সভাপতি।

প্রসঙ্গত, সিরাজুল ইসলাম খান রাজু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাসদে যোগ দেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত এ বি এম শাহজাহানের হাত ধরে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। তিনি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ২০১২ সালে দলটির আদমদীঘি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধী দল বর্জন করায় সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম মহিলা সদস্য পদে নির্বাচিত হন। তার ছেলে খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী বাঁধন এ বছর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


পরিবার   জনপ্রতিনিধি   সংসদ সদস্য  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন