ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রামুতে হামলার ৯ বছর, বিচার কি হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:০৯ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১


Thumbnail

কোরআন অবমাননা করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার অভিযোগ তুলে নয় বছর আগে আজকের দিনে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লিতে হামলা করে ১২টি বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দেয়া হয়৷ পাশাপাশি হামলা করা হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরেও৷ এ ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও কোনটিরই এখনও মীমাংসা হয়নি৷ হামলার ঘটনায় বিচারাধীন ১৮ মামলায় মোট আসামি ৯৯৫ জন। তাদের সবাই এখন জামিনে।

হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বৌদ্ধবিহারগুলো গড়ে তোলা হয়েছে নতুন করে। তুলনামূলক স্বাভাবিক হয়েছে সেখানকার পরিবেশও। কিন্তু সেই নিকৃষ্টতার দাগ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বৌদ্ধরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলার সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম নেই পুলিশের অভিযোগপত্রে। তারা বীরদর্পে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। আবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এমন অনেককে মামলার আসামি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, মধ্যরাতে বৌদ্ধপল্লিগুলোতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সে সময় ১২টি শতবর্ষী বৌদ্ধবিহার ধ্বংস করা হয়েছিল। যারা এ কাজ করেছিলেন, তাদের অনেকের নাম পুলিশের অভিযোগপত্রে নেই। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই জড়িত ছিলেন না হামলার সঙ্গে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে আবার রোষানলে পড়বেন সংখ্যালঘুরা। এ কারণে আমরা সাক্ষ্য দেব না, বিচারও চাই না।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে উত্তম কুমার বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পেজ থেকে পবিত্র কোরআন অবমাননার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সন্ধ্যায় দিকে চৌমুহনী স্টেশন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শত শত মানুষ। মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে ধ্বংস করে রামুর ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধদের ৩৪টি বসতবাড়ি। পরের দিন অগ্নিসংযোগ করা হয় উখিয়া ও টেকনাফের আরও ৭টি বৌদ্ধবিহার ও হিন্দু মন্দিরে। এ ঘটনায় ১৯টি পৃথক মামলা করা হয়। একটি মামলা আপসে নিষ্পত্তি হলেও বাকি ১৮টি মামলার কোনোটির বিচার শুরু হয়নি। বর্তমানে মামলাগুলো কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। বিচারাধীন ১৮ মামলায় আসামি ৯৯৫ জন। আসামি সবাই জামিনে আছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহজালাল চৌধুরী প্রমুখ।

কক্সবাজার আদালতের পিপি ফরিদুল আলম বলেন, ১৮ মামলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ব্যক্তি সাক্ষী। একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দেওয়ার পরও কেউ সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসেননি। সবাই নিরাপত্তার অজুহাত দেখাচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিচ্ছি। কিন্তু সাড়া মিলছে না। করোনার মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় আদালতের বিচারকার্য বন্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সাক্ষীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

তবে উত্তম কুমার বড়ুয়ার স্ত্রী রিতা বড়ুয়া জানিয়েছেন, হামলার রাতে লোকজন স্লোগান দিয়ে তাদের বাড়ির দিকে আসছিলেন। তখন তার স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর তার খোজ নেই। উত্তম বড়ুয়ার নামে যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র কোরআন অবমাননার ছবি প্রকাশ হয়েছিল, সেটি ভুয়া আইডি বলে দাবি করেন রিতা বড়ুয়া।

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫২

প্রকাশ: ০১:২৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫২ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে আজ বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার ২৮ পিস ইয়াবা, ৪২৭ গ্রাম ৩৩০ পুরিয়া হেরোইন,  ১০ বোতল ফেন্সিডিল, ৫২ কেজি ২৮০ গ্রাম গাঁজা ও ২ গ্রাম আইস উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৪টি মামলা রুজু হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

কাউন্সিলর রাজীবের ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

প্রকাশ: ০৮:৪৬ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব অপরাধলব্ধ প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করেছেন। তারেকুজ্জামানের নামিরা এন্টারপ্রাইজের ব্যাংক হিসাবে তিনি নিজে কোনো টাকা জমা দিতেন না। পরিচিতদের মাধ্যমে তিনি সেই ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি টাকা জমা করান। ৪ বছরের ব্যবধানে (২০১৫ সালের ১ জুন থেকে ১৫ অক্টোবর ২০১৯) ওই হিসাবে জমা হয় ২১ কোটি টাকার বেশি। অথচ তার নিজের নামে থাকা দুটি ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময় জমা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। আর সেই হিসাবগুলোতে বর্তমানে আছে মাত্র ২ হাজার ৭২৯ টাকা। 

২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটিতে রয়েছে তার ডুপ্লেক্স বাড়ি, যেটির দাম তিন কোটি টাকা। আছে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধের কাছে সাড়ে সাত কাঠার একটি প্লট। রয়েছে তিনটি গাড়ি। অর্থ পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি তারেকুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ৩৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করেন। আদালতের নির্দেশে সেসব হিসাবে থাকা টাকার লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। ৩৩টি হিসাবের মধ্যে তারেকুজ্জামানের নামে পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করে সিআইডি। পরে এই তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সিআইডি একটি করে মামলা দেয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তারেকুজ্জামান কারাগারে আছেন।

নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের খোঁজ জানার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিভিন্ন ব্যাংকসহ নানা দপ্তরে চিঠি পাঠায় সিআইডি। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পাঠানো তথ্য পর্যালোচনা করে সিআইডি বলেছে, তারেকুজ্জামানের নামে দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি নামেরা এন্টারপ্রাইজ এবং অপরটি নামেরা বিল্ডার্স।
নামেরা এন্টারপ্রাইজের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে ৩ বছরের বেশি সময়ে (১৬ মে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর) জমা হয় ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে সেটিতে জমা আছে ৯২ লাখ টাকা। আরেকটি হিসাবে এখন আছে ৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে নামেরা বিল্ডার্সের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে মাত্র ২১ দিনে জমা হয় ১ কোটি ৫০০ টাকা। বর্তমানে সেখানে আছে ৫০ লাখ ৩৮০ টাকা।

আর তারেকুজ্জামানের নিজের নামে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে ২০১৫ সালের ২২ মার্চ থেকে ৩ মাসে জমা হয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন আছে ১ হাজার ২৯৫ টাকা। তাঁর নামে আরেকটি হিসাবে ৪ বছরে জমা হয় ২ হাজার ৩০৪ টাকা। এখন আছে ১ হাজার ৪৩৪ টাকা। ৪টি ব্যাংকের এই ৫টি হিসাবে ২২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি জমা হয়। সিআইডি তদন্তে দেখতে পায়, এসব অর্থের মধ্যে ১৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা অপরাধলব্ধ আয়। বর্তমানে এসব হিসাবে আছে প্রায় দেড় কোটি টাকা, আদালতের নির্দেশে লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে।

সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, তারেকুজ্জামান চাঁদাবাজির টাকা নিজে কখনো তার ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতেন না। বেশির ভাগ সময় তার কর্মচারী বা বন্ধুকে দিয়ে টাকা ব্যাংকে জমা রাখতেন। বেসরকারি একটি ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে নামেরা বিল্ডার্সের নামে ব্যাংক হিসাব খোলেন। ওই নারী কর্মকর্তার কাছে তারেকুজ্জামান এমন সব লোক পাঠাতেন, যারা লেখাপড়া ভালো জানতেন না। ওই নারী কর্মকর্তা তারেকুজ্জামানের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা করতেন। কেবল এই নারী কর্মকর্তা নন, আরেকটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির পরিচিত ব্যক্তিকে দিয়ে তার ব্যাংক হিসাবে অপরাধলব্ধ এক কোটি টাকার বেশি জমা রাখেন তারেকুজ্জামান। এর বাইরে তারেকুজ্জামানের ব্যাংক হিসাবে আরও টাকা জমা রাখেন কর্মচারী রাজন শেখ, মহব্বত আলী, সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ব্যবস্থাপনার কাজ করা সিরাজসহ কয়েকজন।

আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সিআইডি বলেছে, বেসরকারি ব্যাংকের নারী কর্মকর্তা, একটি ফোন কোম্পানির কর্মকর্তাসহ যারাই তারেকুজ্জামানের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি।
অবশ্য তারেকুজ্জামানের আইনজীবী মো. মেজবাহ উদ্দিন দাবি করেন, তারেকুজ্জামান ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। তার অপরাধলব্ধ কোনো আয় নেই। ব্যবসা করে যে টাকা তিনি আয় করেন, সেটি তার ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েছে।

সিআইডির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তারেকুজ্জামান অন্যের জমি দখল করে সম্পদের মালিক হন। যেসব জমির মালিক কম প্রভাবশালী কিংবা বিদেশে রয়েছেন, সেসব জমির তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর তারেকুজ্জামানের হয়ে এসব জমি দখল করেন নুর মোহম্মদ। তিনি এই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। মোহাম্মদপুরের নাজিয়া রহমান নামের এক নারীর তিন কাঠা সম্পত্তি দখল করেন তারেকুজ্জামান। একইভাবে আরও কয়েকজনের জমি দখল করেন তার সহযোগীরা। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ আয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তারেকুজ্জামানের পাঁচ ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে এই মামলার আসামি করা হয়। তারা হলেন শাহ আলম জীবন, কামাল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, রুহুল আমিন ও তামজীদ খান। তাদের মধ্যে তামজীদ খান গ্রেপ্তার হন।

আসামি শাহ আলম তারেকুজ্জামানের হয়ে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন যানবাহনের স্ট্যান্ড, ফুটপাতের দোকানসহ নানা জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করতেন। অন্যরাও তারেকুজ্জামানের নির্দেশে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে টাকা আয় করেন। আর গরুর হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য তিন বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ করেন তিনি। তবে ইজারাদার হিসেবে নাম লেখান আরেক সহযোগীর।
 
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যের সূত্র ধরে সিআইডি আদালতকে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের আয়কর রিটার্ন জমা দেন তারেকুজ্জামান। সেখানে তিনি সম্পদ দেখান ৬০ লাখ ৩৫ হাজারের। অবশ্য এই সম্পদ অর্জনের সপক্ষে বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি রাজীব। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর ৩ বছর (২০১৬-১৭, ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০) আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। তারেকুজ্জামানের নামে বাড়ি ও জমির বাইরেও রয়েছে তিনটি গাড়ি।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদন বলছে, তারেকুজ্জামানের নামে একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। এর বাইরে আরও দুটি গাড়ির মালিক তারেকুজ্জামান। এর মধ্যে একটি দুদক জব্দ করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের তৎকালীন উপপরিদর্শক শামীম আহমেদ বলেন, তারেকুজ্জামানের অপরাধলব্ধ যত আয়, তার তথ্য মিলেছে ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি নানা সংস্থার প্রতিবেদনে। তারেকুজ্জামান নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেভাবে সম্পদের মালিক হন, তা আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে জানানো হয়েছে।

কাউন্সিলর   মোহাম্মদপুর   সিআইডি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বিপুল পরিমাণ ‘অক্সি-মরফোন’ ট্যাবলেটসহ রাজধানীতে আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:২৮ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অক্সি-মরফোন নামে একটি ক্ষতিকারক মাদক উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। 

গত রোববার (২১ নভেম্বর) ও সোমবার (২২ নভেম্বর) অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ এক ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ডিএমপি।

ডিবি জানিয়েছে, মরফোন ট্যাবলেট বিদেশে মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মূলত এটি একটি ব্যথানাশক ওষুধ। মাদক হিসেবে মরফোন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় রয়েছে। ব্যথানাশক ওষুধ বলে ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকটি চক্র এটিকে মাদক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বিভিন্ন কোম্পানিকে এই ট্যাবলেট তৈরির অনুমোদন দিয়ে থাকে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

প্রশ্ন ফাঁসকারী বুয়েট শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকার লেনদেন: ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:২৯ এএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

গত ৬ বছরে বুয়েটের শিক্ষক  অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের ব্যাংক হিসাবে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এ লেনদেন হয়েছে কি না, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দারা।

একজন শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে এত টাকা কোথা থেকে এলোা? সেই অর্থের সন্ধান করতে গিয়ে গোয়েন্দারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে এই শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। এমনকি গ্রেফতারকৃত একজনের স্বীকারোক্তিতেও এসেছে নিখিল রঞ্জন ধরের শিক্ষকের নাম।

ব্যাংকে লেনদেনের বিষয়ে ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার এক আসামির জবানবন্দিতে বুয়েট শিক্ষকের নাম এসেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের টাকা তার ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেব। তবে ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে যে, অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের ব্যাংক হিসাবে ১০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এ লেনদেন হয়েছে কি না, তদন্তে সে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নাম আসায় গতকাল সোমবার (২২ নভেম্বর) তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করেছে বুয়েট।

প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের ১ হাজার ৫১১টি ‘অফিসার ক্যাশ’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০০টি প্রশ্নের প্রিন্ট করা উত্তরপত্র ফেসবুকে পাওয়া গেছে। ওই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিল আহ্‌ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষাটি বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি। এ ঘটনায় আহ্‌ছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মচারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের নাম এসেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নিখিল রঞ্জন ধর বলেন, আমি ১৯৮৬ সাল থেকে বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সেখানে ১০ কোটি টাকা জমেছে। এটা আমার উপার্জনের টাকা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত নই। বলা হচ্ছে, আমি ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে আসতাম। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আহ্‌ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এক কর্মচারীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে ডিবি কর্মকর্তারা জানান, আহ্‌ছানিয়া মিশন ছাপাখানায় সমন্বিত পাঁচ ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ছাপা হয়। প্রশ্নপত্র ছাপার দিন (২ নভেম্বর ২০২১) সকাল থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বুয়েট শিক্ষক নিখিল রঞ্জন ধর ওই ছাপাখানায় ছিলেন। আসার সময় প্রশ্নের দুটি কপি তিনি সঙ্গে নিয়ে বের হন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযান, আইসসহ গ্রেফতার ১২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৩০ এএম, ১৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ১২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে আজ শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ১২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ ১৬ হাজার ৯৫৪ পিস ইয়াবা, ১৯৬ গ্রাম ৩০১ পুরিয়া হেরোইন, ৬৮ কেজি ৬৯০ গ্রাম ১৬০ পুরিয়া গাঁজা, ২০টি নেশা জাতীয় ইনজেকশন ও ১০০ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯২টি মামলা হয়েছে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন