ইনসাইড পলিটিক্স

নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন কৌশলে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বারবারই মার খাচ্ছে বিএনপি। আগামী নির্বাচনের এখনো দুই বছর বাকি। সেই নির্বাচনের কৌশলের ছক এখনি আওয়ামী লীগ কষতে শুরু করেছে। আর সেই কৌশলের কাছে বিএনপি আবারও মার খাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারনা করছেন। আওয়ামী লীগের দ্বায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের ব্যাপারে এবার ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চেয়েছিল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সেজন্য আওয়ামী লীগ অনেকগুলো ছাড় দিয়েছিল। যেমন, অন্তবর্তীকালীন সরকারে বিএনপিকে অন্তর্ভূক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে গণভবনে চায়ের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি যায় নি। বরং আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে তারা পরাজিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ১৫১ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হলেও ওই সরকার পাঁচ বছর হেসে খেলে সময় পার করেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভিন্ন কৌশল নেয়। সেই সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপিকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানায় এবং একটি সংলাপ হয়। সরকারের কৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা কোন দাবি অর্জন ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এবার বিএনপি বলেছে যে তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনেই যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি কি করবে সেটি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের কৌশলের উপর। আগামী সপ্তাহে আওয়ামী লীগ সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। রাষ্ট্রপতি বিদেশে থাকার জন্যই এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে বলে সরকারের দ্বায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন। তিনি একটি সার্চ কমিটি গঠনের আহ্বান জানাবেন। সার্চ কমিটি গঠনের আগেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোন আলোচনা করবেন কিনা তা নিয়েও বিভিন্ন রকমের কথা আছে, তবে সে সম্পর্কে কোন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় নি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি আলোচনা করুন বা না করুন সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন হবে এবং সেই নির্বাচন কমিশনটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলেই সরকারের দ্বায়িত্বশীল সূত্রগুলো আশ্বস্ত করেছেন।

এরকম পরিস্থিতে যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় তাহলে প্রথমেই বিএনপি একটি হোঁচট খাবে। তাছাড়া বিএনপি যে হুমকি দিচ্ছে যে তারা নির্বাচন বর্জন করবে, তারা নির্বাচন বর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি নির্বাচনের পথে কোন বাঁধা হবে না বলেও আওয়ামী লীগের দ্বায়িত্বশীল মহল মনে করছে। কারণ ইতিমধ্যে রেজা কিবরিয়া ও নুরের নেতৃত্বে গন অধিকার পরিষদ গঠিত হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদ ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে তারা ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মধ্যেও ভাঙনের সুর শোন যাচ্ছে। নির্বাচন এলে বিএনপির মধ্যে একটি বড় অংশ নির্বাচনের পক্ষে যাবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিএনপির মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একটি ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া এখনও বিএনপির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাই বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন নিয়ে কি ভূমিকা রাখবেন সেটিও দেখার বিষয়। আর সরকার শেষ পর্যন্ত বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম বা তারেক জিয়া নয়, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি আপোষ রফা করতে পারে বলেও অনেকে ধারনা করছেন। আর সেই আপোষ রফা হলে বিএনপির একটি বড় অংশই নির্বাচনে যাবে। সেসময়ে বেগম জিয়া আর তারেক জিয়ার মধ্যে মতবিরোধ বিএনপিকে ভাঙনের মুখেও নিয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও নির্বাচনের আগে আগে ইসলামপন্থী কিছু দল শক্তিশালী হবে এবং তারা জোটও করবে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর এই সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগকে একঘরে করার বদলে বিএনপিকেই একঘরে করা হবে শেষ পর্যন্ত। বিএনপি একাই নির্বাচন যদি বর্জন করে তাহলে সেটি নির্বাচনের উপর কোন বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে এরকম একটি চাপের মুখে বিএনপিকে হয়তো শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনের দিকেই আসতে হবে। এখনও দু’বছর বাকি আছে। আওয়ামী লীগের কৌশলগুলো কি হবে সেটিও অনুমান করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখনও হয়নি বলেই অনেকে মনে করেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এটা কি দুর্ঘটনা ছিলো নাকি পূর্বপরিকল্পিত?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী রামপুরা পলাশবাগ এলাকায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে একজন কলেজ ছাত্র নিহত হয়। এই ঘটনায় ১৪/১৫ টি বাসে আগুনও দেয়া হয়েছে। এটা কি দুর্ঘটনা ছিলো নাকি পূর্বপরিকল্পিত?

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০.৫৭ মিনিটে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসআ) ফেসবুক পেইজের মাধমে উক্ত স্থান থেকে সরাসরি লাইভ করা হয়। রাত ১১ টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। আর সেখান থেকেই সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়ানোর ১০ মিনিটের মধ্যেই ১৫ টি বাসে আগুন দেয়াও শেষ। উক্ত ঘটনা থেকে তো কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রথমত, ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেইজ লাইভে গেলো কিভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো?

দ্বিতীয়ত, বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেলো? আর বাকি ১০ মিনিটেই বা ১০ টি গাড়ীতে আগুন কিভাবে দেয়া হলো?

তৃতীয়ত, এতো জনবল রাত ১১ টার পর অইখানে এলো কিভাবে? নাকি তারা আগেই প্রস্তুত ছিলো? সেনাবাহিনী,পুলিশ বা ফায়ার বিগ্রেডও এত তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারে না ,যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। আর কম বয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌছে গেছে?

এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে। যারাই দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়ীতে কি ছাত্র ছাড়া যাত্রী থাকে না? বিষয়টি মোটেও কোন দুর্ঘটনা নয়। এটা বিএনপি জামাতের অতীত অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি। পরিকল্পনা সফল হওয়ার ১২ মিনিট পরই ব্রেকিং নিউজ আকারে খবর টি প্রকাশ করে জামায়াত পরিচালিত বাঁশেরকেল্লা। বিএনপি-জামাতের রক্তের রাজনীতি জনগণের কাছে পরিস্কার।

ভেবে দেখুন। বিবেক জাগ্রত করুন।


বাস ভাড়া   বিআরটিএ   শিক্ষার্থী   বিএনপি   জামায়াত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০২:০৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সরকার ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতাগুলো অর্জিত হয়েছিল, সেই মুক্ত সমাজ, কথা বলার স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, সেগুলো এই আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। ভিন্ন মোড়কে তারা এখানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। 

আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন সরকার খালেদা জিয়াকে (বিদেশে) যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। এই আইনের মধ্যেই বলা আছে, ইচ্ছা করলে সরকার তাঁকে যেতে দিতে পারে। বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। এই অবৈধ সরকার তাঁকে (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে মহিলা দলের আয়োজনে মৌন মিছিল করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পুলিশ নেতা-কর্মীদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। সমাবেশ শেষেও তারা মিছিল করার চেষ্টা করেন। তাও আটকে দেয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মৌন মিছিলকেও সরকার ভয় পায়।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না থাকা ও যানজটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মহিলা দলকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে।

মহিলা দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকার সড়কে যান চলাচল সীমিত ছিল। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

মির্জা ফখরুল   বিএনপি   খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের দুটি সংগঠনের বিবৃতি

প্রকাশ: ০১:২৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রেস ব্রিফিং-এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য সঠিক চিকিৎসার বিষয়ে যথাযথ আলোকপাত করার  আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারন, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে। ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স হতে রক্তক্ষরন বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বারবার রক্তক্ষরন বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারনে বারবার রক্তক্ষরন এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরেও বারবার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ট্রান্সজগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিপস) করা যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই এসোসিয়েশন ও এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে,  টিপস-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগ জনিত কারনে অজ্ঞান হওয়ার প্রবনতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিপস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং শিরা পথে ডাই ব্যবহারে কিডনীর জটিলতা বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিপস করার সময়েও হার্ট ডিজিজ বা কিডনী ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার শারিরীক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদার অসুস্থতার রাজনীতি কি বুমেরাংয়ের পথে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের পারদটা উর্ধ্বমুখী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সব জায়গায় খালেদার অসুস্থতা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। লিভার সিরোসিস রোগের সঙ্গে অনেকেই অপরিচিত হওয়ায় এ নিয়ে অন্তহীন গুজবও ছড়াচ্ছে একাধিক কুচক্রী মহল। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় বাতাসেরও আগে ছড়িয়ে যাচ্ছে এসব গুজব। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দেয় ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি যে অসুস্থ রাজনীতিটা এতদিন করে আসছিল তা এখন বুমেরাং হয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি৷ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন। বিপরীতে গত সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বাংলাদেশেই সম্ভব’ বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। বিবৃতিতে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দেশের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম। বর্তমানে লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম, তা করোনার সময়ে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা এসময়ে দেশের প্রায় সব জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীই দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিএমএর ডাক্তারদের এ বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে অনেকেই রুষ্ট হয়েছেন বিএনপির ওপর। তারা বলছেন, শেষমেশ খালেদার অসুস্থতাকেও রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে ছেড়েছে বিএনপির নেতারা। তার ব্যক্তিগত ডাক্তাররা যে বক্তব্য দিয়েছেন এগুলো সব বিএনপির শেখানো বলেও মনে করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনৈতিক জল ঘোলাই যেন বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন একাধিক জনস্বাস্থ্যবিদ।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ডাক্তারদের করা সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, যে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বিবৃতি দিল বা প্রেস ব্রিফ করছে তারা সবাই বিএনপির দলীয় চিকিৎসক। এখানে এভারকেয়ার হাসপাতালের কোন চিকিৎসক না, কিংবা এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ডের কোন লিখিত সিদ্ধান্ত তারা পড়ে শোনায়নি। বিএনপির চিকিৎসকেরা খালেদার চিকিৎসা নিয়ে যে পদ্ধতির কথা বলেছে তা বিজ্ঞান সম্মত না। তারা অনেক ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন একই সুরে কথা বলে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলছেন যে, ম্যাডাম অত্যন্ত গুরুতরভাবে অসুস্থ৷ যে কথা আমি বলেছিলাম প্রথম দিনে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে৷ এই কথাটাই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট কথা৷ তবে মির্জা ফখরুল এ কথা খালেদা জিয়ার দণ্ডিত ও জেলে যাওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন। ফলে অনেকেই এ প্রশ্ন তুলছেন যে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা একজন মানুষ এতদিন কিভাবে বেঁচে থাকে? মির্জা ফখরুলের কথা যদি সত্য হয়, তবে এটা অলৌকিক একটা ঘটনা বলেও মনে করছেন অনেকে। এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আর অসুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষতো বটেই এমনকি বিএনপির ভিতরে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নানা কূটতর্কে জড়াচ্ছে। স্লো পয়জনিং এর মতো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বিষয়কে সামনে এনে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীদের আন্দোলনের কথা বললেও বিদেশ থেকে ডাক্তার আনছেন না। যেখানে খালেদা জিয়ার জীবন-মরণের প্রশ্ন সেখানে আন্দোলন, চাপ প্রয়োগ, তর্ক-বিতর্ক না করে সবার আগে বিদেশ থেকে ডাক্তার আনা জরুরি। কিন্তু তারা তা করছে না। বিপরীতে দোষারোপের রাজনীতিটা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা কিংবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বিধান মতে দণ্ড মওকুফ করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিললে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া যাবে। কিন্তু যতদিন তা হচ্ছে না ততদিন বিদেশ থেকে ডাক্তার না এনে তর্ক, বাদানুবাদ করলে, মানুষ ঠিকই আসল বিষয়টা ধরতে পারে। এটা এখন পরিষ্কার তারা চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহী না, এটা নিয়ে রাজনীতি করতে যাচ্ছে এবং তারা আন্দোলন করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বলছে। চিকিৎসার চেয়ে ওইদিকে বেশি ব্যস্ত তারা। তারা আইনের ৪০১ ধারার কথা বলছে কিন্তু আদালতে যাচ্ছে না। সুতরাং চিকিৎসা, আইন-আদালত সব ব্যাপারে বিএনপি একটি ধুম্রজালের সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


খালেদ জিয়া   বিএনপি   স্বাচিপ   সিসিইউ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতাদের বাঁধা দিলেন তারেক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি নেতারা চেয়েছিলেন আন্দোলন না করে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর। কিন্তু বিএনপির এই উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে তৃতীয় দফায় এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। তিনি সে সময় বলেন যে, তার সঙ্গে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কথা হয়েছে এবং সেজন্য তিনি নতুন করে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে একটি আবেদন করেছেন। এ আবেদনের জন্য যেন বিএনপি নেতারা চেষ্টা করে।

শামীম এস্কান্দার এটাও বলেছিলেন যে এ নিয়ে কোনো রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রার্থনা করা এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টা বুঝালে তিনি সহানুভূতিশীল হবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ ব্যাপারে শামীম এস্কান্দার সাথে সহমত পোষণ করেন। এর পরপরই তিনি আরো কয়েকজন নেতাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনার বিষয়টি জানেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এরপর তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোন করেন এবং টেলিফোন করে তাকে রীতিমত ধমক দিয়ে বলেন যে এ ধরনের উদ্যোগ কেন নেয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে সেটি বিএনপি'র জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজনীতির মাঠ গরম করার জন্য পরামর্শ দেন তারেক জিয়া।

বর্তমানে বিএনপি যে ৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে সে কর্মসূচি তারেক জিয়ারই প্রেসক্রিপশনে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক জিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এর ফলাফল খারাপ হবে। যদি শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়াটাই প্রধান বিষয় হয় তাহলে সরকারের সাথে দেন-দরবার করে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি আদায় করে এটা করতে হবে। কিন্তু তারেক জিয়া এটি চান নাই। তারেক জিয়া এক ঢিলে তিন পাখি মারার পরিকল্পনা থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিটি যেহেতু একটি স্পর্শকাতর মানবিক দাবি সেজন্য সাধারণ মানুষের সহানুভূতি সহজে আদায় করা যেতে পারে এই ধারণা থেকে তারেক জিয়া এ ধরনের আন্দোলন উৎসাহী।

দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি স্থবিরতা কিছুটা হলেও কাটবে। বিএনপি আন্দোলনের ইস্যুতে নিজেদেরকে সংগঠিত করতে পারবে, বিশেষ করে কর্মীরা আগের চেয়ে একটু চাঙ্গা হবে।

তৃতীয়ত, শেষ পর্যন্ত যদি বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয় সেক্ষেত্রে গরম মাঠেই তারা নতুন করে আন্দোলন করতে পারবেন। কিন্তু তারেক জিয়া কখনো অনুধাবন করেনি যে এটিকে রাজনীতিকরণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা চিকিৎসার বিলম্বিত হতে পারে। আর এটি তারেক জিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন বলেই অনেকে মনে করেন।

বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন যে তারেক জিয়া ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হতে চান। ভারমুক্ত হওয়ার জন্য তিনি তার মাকে বলিদান করতেও কার্পণ্য করবেন না। তারেক জিয়া ভালোমতোই জানেন যে খালেদা জিয়ার জামিন কোনো আন্দোলন বা আইনি প্রক্রিয়া হয়নি, খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী অনুকম্পায়। ঠিক একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যদি অনুমতি পেতে হয় সেটি আন্দোলন করে, আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব না। এটি পেতে হবে সরকারের সাথে দেন-দরবার এবং সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু সেই সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন আন্দোলন খেলে আসলে তারেক জিয়া কি অর্জন করতে চাইছেন এটি বিএনপি'র অনেকের কাছে প্রশ্ন। তারেক জিয়ার বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি বরং তারা আন্দোলনের পথে এগিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পথ কে আরো বাধাগ্রস্ত করলেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন