ইনসাইড থট

আঠারো কোটি জনগণের ভোগান্তি নিরসনে শেখ হাসিনাই শেষ ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১১ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া বাড়ানোর দাবীতে বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের রেশ না কাটতেই, সম্প্রতি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন ওনার্স এসোসিয়েশন (অ্যাটাকো) বিদ্যমান বিজ্ঞাপনের মূল্য ৩০ ভাগ দর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ধর্মঘট ডেকেছিল। কিন্তু অ্যাটকো কোন্ কারনে কি যুক্তিতে বিজ্ঞাপনের ৩০ ভাগ দর বাড়ালো? পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তেমন কোন কারন দেখানো হয়নি। বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি, অ্যাটকো সকলেই একই পর্যায়ের। ওনাদের কারও কোন দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে যে সকল পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, ঐ সকল প্ণ্য প্রস্তুতকারক বা বিপননকারী প্রতিষ্ঠান এই ৩০ ভাগ বর্ধিত দরের পুরো খরচটা পণ্যের উপর ধার্য্য করবে। এই বর্ধিত খরচটা সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই যাবে। শেষ ভোগান্তি হবে জনগণের।

একটি স্থানীয় জনভোগান্তির বিবরণ দেই। একই সমস্যায় দেশের অন্যান্য স্থানের জনগণেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কিনা জানিনা। ঢাকার পোস্তগোলা এলাকায় (ঢাকার শ্যামপুর-কদমতলী) বুড়ীগঙ্গা নদীর উপরে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ অবস্থিত। ইদানিং এই সেতু পারাপারে টোল দ্বিগুণ করা হয়েছে। যদিও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে (ঢাকা-মাওয়া সড়ক) ধলেশ্বরী নদীর উপরে অবস্থিত জোড়া সেতু পারাপারে টোল পূর্বের অবস্থায়ই রয়েছে। এছাড়া বাবুবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর উপরে অবস্থিত চীন-বাংলাদশ সেতু-২ পারাপারে কোন টোল আদায় করা হয় না। ইতিমধ্যে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ এ টোল আদায় করা নিয়ে সৃষ্ট মারামারিতে মানুষ খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এক সময় এর টোল আদায় অল্প কয়েক দিন বন্ধ করা হয়ে ছিল। অযৌক্তিক টোল আদায়ের ফলে পোস্তগোলা থেকে মাওয়াগামী যাতায়াতকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা ছোট ছোট পরিবহনের শ্রমিকরা নিজেদের ইচ্ছামত বর্ধিত ভাড়া আদায় করে। ভোগান্তির শিকার হয় জনগণ। শুনেছি ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয় এব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও টোল আদায় বন্ধ করতে পারেন নাই। টোল আদায়কারী অত্যন্ত প্রভাবশালী (!),এ ছাড়া অন্য ব্যাপারও আছে।

সরকারের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিঃ, LPG, SAOCL, ECBL সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। তথ্যমতে বিপিসি গত সাত বছরে ৪৩,১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হলেও বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে বিপিসির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসান ব্যালেন্স করে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। সরকার তো ব্যবসায়ী না, সেবক।

প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতাদের মুখে শুনেছি, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম সাহেব একদা বঙ্গবন্ধুর কাছে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। প্রত্যুত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আপনি ব্যবসায়ী। আপনি মুনাফা করবেন। ক্ষমতা পাইলে ১০ টাকা মূল্যের পণ্য বেশি মুনাফায় ১৫ টাকা বিক্রয় করবেন। আমার জনগণের কষ্ট হবে। আমি চাই ব্যবসায়ীরা সহনীয় মুনাফায় পণ্য বিক্রয় করবেন। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। সুতরাং নির্বাচন করার প্রয়োজন নেই। ব্যবসা করুন’।

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিজেল চালিত বাস-ট্রাক-লঞ্চ মালিক সমিতি ভাড়া বাড়ানোর দাবী জানিয়ে ধর্মঘট ডেকেছিল। ওনারা কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি না করার দাবি জানান নাই। জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় সরকার দ্রুত সময়ে দাবী মেনে নিল। যদিও ডিজেলের ২৩% মূল্যবৃদ্ধিতে বাস ও লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি করলেন যথাক্রমে ২৭% ও ৩৫%। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সকল ধরনের পরিবহন মালিকরা আরও বেশি লাভবান হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেশীরভাগ বাস CNG  চালিত। ডিজেল চালিত যানবাহনের পাশাপাশি CNG চালিত বাসগুলোতেও বর্ধিতহারে ভাড়া দিতে হবে। জনগণেরই ভোগান্তি বাড়লো। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আপাতদৃষ্টিতে সরকারের যে পরিমাণ লোকসান হতো, তারচেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা যাবে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী মহোদয় CNG চালিত বাসে বর্ধিত হারে ভাড়া আদায়ে শাস্তি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের হুঁশিয়ারি বাস্তবায়নে বাসের ভিতরতো পুলিশ বসানো সম্ভব নয়। কে শোনে কার কথা।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে কৃষিসেচ কাজে ১৩ লক্ষ ৭২ হাজার ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে সেচ কাজ ছাড়াও চাষাবাদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে, কৃষিপণ্য পরিবহনেও ডিজেল চালিত যানবাহন ব্যবহার করা হয় বিধায় কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরনে মূল্যবৃদ্ধি হবে। ফলে বাজারে শাক-সবজি, মাছ-মাংসের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, জনগণের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছু লোকের লাভ হলেও এতে জনগণের ক্ষতি হলো, আর পরোক্ষভাবে সরকারেরই বড় ক্ষতি হলো। এর খেসারত দিতে হবে সরকরীদলকে।

বিভিন্ন সময় নানা গোষ্ঠী ধর্মঘট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সরকারকে চাপে ফেলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে, দাবী আদায় করছে। সরকার দাবী না মানলে ভোগান্তি হয়  জনগণের। দাবী মানলেও ভোগান্তি জনগণের। জনগণ বলির পাঁঠা। এ যেন তামাশা। কথা নেই, বার্তা নেই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা নেই, যুক্তিতর্ক নেই। হঠাৎ করে ‘ধর্মঘট’ ঘোষণা করে দেয়। সরকারও বেকায়দায় পরে দাবী মানতে বাধ্য হয়। কিন্তু একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত বর্তমান সরকার। সারাদেশে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক দলটির কমিটি রয়েছে, নেতাকর্মী রয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে পেশাজীবী, শ্রমজীবী সকল ক্ষেত্রেই এই দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। দলের উপরের পর্যায়ের নেতাদের বিষয়ে জানিনা, তবে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাদের জনগণের মুখোমুখি হতে হয়, জবাবদিহি করতে হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে চাওয়ার আগে পাওয়া যায়। অথচ সেই সরকারের কাছে দাবি আদায়ের নামে ধর্মঘট ডেকে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির পিছনে উদ্দেশ্য কি? ডিজেল চালিত বাস-ট্রাক-লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন। কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ভোগান্তি হবে, এই যুক্তি দিয়ে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য সরকারকে কেউ পরামর্শ দেন নাই। দাবী আদায়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আপনারা কারা? আপনারা সকলেই জনগণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা। আপনারা আওয়ামীলীগের পদবীধারী নেতারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, একইসাথে আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং উভয় গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর কোন সমস্যা থাকলে বিভিন্ন দাবি আদায়ে সাংগঠনিকভাবে নিজদলের পরিচালিত সরকারের সাথে দাবী-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা যেত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর আলোচনা করতে পারতেন। ধর্মঘট ডেকে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় আপনারা কার ক্ষতি করছেন, তা কী ভেবেছেন? ভোগান্তির সৃষ্টি করে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন, কার স্বার্থে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছেন? জনগণই মূল শক্তি। জনগণের ভোগান্তি নিরসনে কথা বলবে কে? ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করার পূর্বে জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় রেখে জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন ছিল। গোষ্ঠীর স্বার্থ আদায়ের জন্য ধর্মঘট ডেকে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দাবী মানতে বাধ্যকারী গোষ্ঠী বিশেষের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার আগে জনগণের একমাত্র আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করা জরুরি ছিল। কারণ তিনিই জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলবেন। তিনিই ১৮ কোটি মানুষের একমাত্র জনদরদী নেতা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

দূর-নিরীক্ষণ স্বাস্থ্য সেবা


Thumbnail

আজ থেকে চার বছর আগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মোকাবেলায় প্রায় সব দেশেই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা একটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছিল যার জের আজও চলছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের মাত্রা এতোই তীব্র যে, কে কখন আক্রান্ত হয়েছে বা কে নীরব আক্রান্তের ঝুঁকির মধ্যে আছে তা তাৎক্ষণিক যাচাই করাও কঠিন ছিল। পরীক্ষার সীমিত ব্যবস্থাদি বা সুযোগের সীমাবদ্ধতার প্রধান কারণ সবগুলো দেশ প্রায় একই সাথে আক্রান্ত হয়েছে ও পরীক্ষার কীট ও যন্ত্রপাতি সব দেশে সমান্তরাল রীতিতে বিতরণ নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যে এই সঙ্কট আরও জটিল কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সময়োচিত পদক্ষেপ নেয়ার ফলে বাংলাদেশ পরিস্থিতিকে আয়ত্তাধীন রাখতে সক্ষম হয়েছে।  

কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের সাধারণ স্বাস্থ্য ও হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়মগুলো সঠিকভাবে বজায় রাখা। কোভিড ও নন-কোভিডের পার্থক্য নিরূপণ প্রথম শর্ত না কি মানুষের স্বাস্থ্য জটিলতার আপাত নিরসণ কাম্য – এই নিয়ে সরব তর্ক চলেছে দেশ জুড়ে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসক সমাজকে সংখ্যানুপাতে বেশী মানুষের সেবা দিতে হয় ও তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকিও কোন অংশে কম নয়। শুধু চিকিৎসকই নয়, স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য জনশক্তির সংখ্যা সামর্থ্যও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত একটি বিপুল জনগোষ্ঠী ও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারের সদস্যগণও আক্রান্ত হয়েছেন। অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী মারাও গেছেন যা বাংলাদেশের জন্যে অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের এ-ও বিবেচনায় রাখতে হবে পরিবারের কোন সদস্য আক্রান্ত হলে বা দুর্ভাগ্যবশত মারা গেলে সমগ্র পরিবারেই তার প্রভাব পড়ে ফলে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মীদের পারিবারিক দুর্গতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। 

ফলে আমরা চিকিৎসা কেন্দ্রে তখন রোগী কম দেখে বা চিকিৎসকদের একটি নিয়মের মধ্যে সেবা দিতে দেখে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে যে হইচই করেছি তা বাস্তবসম্মত ছিল না। যেমন ধরুন, করোনা পরিস্থিতির আগে আমাদের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর যে উপচে পড়া ভিড়ের চিত্র আমরা দেখেছি শেষের দিকে তা ছিল না। এর অন্যতম প্রধান কারণ আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে ও বেশিরভাগ মানুষ উপসর্গ অনুযায়ী বাড়ি বসে চিকিৎসা নিয়েছে ও যথাসম্ভব ভালো থেকেছে। সামান্য উপসর্গে মানুষের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার যে সাধারণ প্রবণতা তা অনেক কমে এসেছে ও তাতে চিকিৎসকদের উপর চাপও কমেছে। আমার বন্ধু চিকিৎসকদের অনেকেই বলেছেন তখন শান্তিতে অন্তত মনোযোগ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছি, আগে এতো ভিড়ের চাপে রোগী সামলানো কঠিন ছিল। সবচেয়ে বড়ো কথা, চিকিৎসকগণ সানন্দে এগিয়ে এসেছেন যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই ফোনের মাধ্যমে তাঁদের পরামর্শ সেবা পেয়ে ভালো থাকেন। বাংলাদেশের অনেক চিকিৎসক বিনামূল্যে এই সেবা দিয়েছেন এমন কি মোবাইল ফোনের ভিডিওতেও রোগীর সাথে কথা বলে, লক্ষণের সামগ্রিক বিবরণ শুনে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন ও ফলো-আপ করছেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাবার পরামর্শও দিয়েছেন।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আমাদের বুঝতে হবে চিকিৎসা কেন্দ্রে বেশী মানুষের উপস্থিতি চিকিৎসার মান মোটেও নিশ্চিত করে না বা ব্যবস্থাপনার সাফল্য নির্দেশ করে না। অসুস্থ বা রোগপ্রায় মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়ে ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে পেরে যুগপৎ জনসাধারণ ও চিকিৎসক সমাজ  কতখানি নিশ্চিত বোধ করছেন সেখানেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করে। ফলে আমাদের সেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন নিশ্চিত করতে হবে যেখানে দেশের সব মানুষ সেবার আওতায় আসবে। আমার বিশ্বাস গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে দূর-নিরীক্ষণ পরামর্শ সেবা তা নিশ্চিত করতে পারে যা মোবাইল ফোন, ভিডিও কথোপকথন ওই ইন্টারনেটের অন্যান্য সুবিধা দিয়ে নিশ্চিত করা যায়।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরামর্শ সেবার বহির্বিভাগের চাপ কমাতে আরও বিনিয়োগ না বাড়িয়েও আমরা খুব সহজে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ করতে পারি কারণ সরকারের উদ্যোগে এখন প্রায় সব গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়েছে। একটি গ্রামের প্রশিক্ষিত ও সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মী ইন্টারনেট পরিষেবায় শারীরিক লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ তৈরি করিয়ে দিতে পারে (শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে সেসব চিকিৎসক যেন সরকার স্বীকৃত নিবন্ধনপ্রাপ্ত হয় নতুবা এই সেবায় এক শ্রেণীর ফড়িয়া চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণাও করতে পারে)। একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থেকে চিকিৎসকের তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সারা দেশে প্রাথমিক পরামর্শ সেবা ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। আর এই সেবার বাস্তবায়ন, তত্ত্বাবধান ও মনিটরিং-এর দায়িত্ব দেয়া যাবে নানা স্তরে- কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে। 

ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় এরকম একটি দূর-নিরীক্ষা চিকিৎসা পরামর্শ সেবা ২০০৯ সাল থেকে চালু আছে খুলনা ও বাগেরহাটের গ্রামাঞ্চলে। ‘আমাদের গ্রাম’ পরিচালিত এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে দেশে বিদেশে একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। পরামর্শের জন্যে আগত সকল রোগীর বিস্তারিত তথ্য একটি নির্ধারিত ইন্টারনেটভিত্তিক সফটওয়্যারে সংরক্ষিত থাকে। এরকম ক্ষেত্রে কেবল চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপে সন্দেহভাজন বা সম্ভাব্য রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের এরকম আরও অনেক অভিজ্ঞতা দেশের নানা স্থানে ছড়িয়ে আছে যেগুলো পর্যবেক্ষণ করে ও আধুনিক ভাবনার সাথে মিলিয়ে আমরা একটি নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। এখানে একটি বিষয় হয়তো সামনে আসবে সে হলো চিকিৎসার নৈতিক শর্ত যা হলো রোগীকে উপস্থিত স্পর্শ করে পরীক্ষা করা যাকে আমরা ‘ইন্টারমেডিয়ারী’ বলি তা কেমন করে নিশ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে প্রযুক্তির হাতে তাপমাত্রা নিরীক্ষণ বা নাড়ী নিরীক্ষণ-সহ অনেক চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা অনেক আগেই আমরা ছেড়ে দিয়েছি। সে ক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত স্বাস্থ্য কর্মী শর্ত অনুযায়ী যেটুকু নিরীক্ষা করা সঙ্গত তার একটি প্রাথমিক নীতিমালা/গাইডলাইন নিশ্চয়ই আমরা তৈরি করে নিতে পারি।

দেশের বেশিরভাগ মানুষের জন্যে একটি উপযুক্ত দূর-নিরীক্ষণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রক্রিয়া গঠন ও তা মানসম্মত উপায়ে সমুন্নত রাখা এখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। সদাশয় সরকার ও আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিকল্পনার সাথে যুক্ত সকলে মিলে এই ভাবনার বাস্তব ও নীতিসঙ্গত উপায় তৈরি করে নেয়া এখন জরুরি। আশা করি সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি ভেবে দেখবেন।    


--রেজা সেলিম

পরিচালক, আমাদের গ্রাম গবেষণা প্রকল্প



দূর-নিরীক্ষণ   স্বাস্থ্য সেবা   রেজা সেলিম   মতামত   মাটির টানে  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের আম্পায়ারিং


Thumbnail

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মত টুর্নামেন্টটি চলছে আমেরিকায়। এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি ২০টি দল খেলছে এ টুর্নামেন্টে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দুটি খেলেছে। একটিতে জয়। আরেকটিতে হার। জয়টি নিয়ে যতটা না আলোচনা, হারটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা তার চেয়ে ঢের বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের খেলাটির আম্পায়ারিং নিয়ে তুমুল সমালোচনা। আম্পায়ার কেন মাহমুদউল্লাহকে আউট দিল। ভুল আউট টি না দিলে বাংলাদেশ চার রান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। চার রান পেলে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে যেত। আম্পায়ার কেন কয়েকটি ওয়াইডও দেয়নি যা ওয়াইড ছিল। এসবের মধ্যে আরেকটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখলাম ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাঝে দলিলসহ জমি-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে। অন্যান্য ক্রিকেট ম্যাচের মত এ অনুষ্ঠানটিও টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। সেখানেও ছিল বিতর্কিত আম্পায়ারিং ।

জমি-ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানটিতে গণভবন থেকে সরাসরি অনলাইন কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একপ্রান্তে গণভবন। আরেক প্রান্তে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প। ম্যাচটিতে আম্পায়ার ছিলেন স্থানীয় টিএনও। আশ্রয়ণ প্রকল্পের খেলোয়াড় (বক্তা) টিএনও ঠিক করে রেখেছিলেন কি না জানিনা। তবে এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণত আগে থেকে বক্তা ঠিক করে রাখেন।

ক্রিকেট খেলার কিছু মহান ঐতিহ্য রয়েছে। এমনই একটি ঐতিহ্য হল একজন খেলোয়াড়ের আবেদন করার পদ্ধতি। প্রায়ই খেলোয়াড়দের "হাউজাট" বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। কখনও কখনও যতটা জোরে পারেন, ডাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এর মানে কি? হাউজাট (Howzat) শব্দটি হাউ ইজ দ্যাট (How's that) এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যা একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে কি না তা একজন আম্পায়ারকে জিজ্ঞাসা করার একটি উপায় হিসাবে বিবেচিত হয়। আপিল ছাড়া একজন আম্পায়ার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যাটসম্যানকে আউট দিতে পারে না। ক্রিকেটের আপীল সংক্রান্ত প্রবিধান ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদে এমনটা উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ফিল্ডিং দলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আম্পায়ারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেজন্য বোলার, কিপার এবং ফিল্ডিং দলের অন্যান্য সদস্যরা 'হাউজাট' বলে চিৎকার করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগণের কথা শুনতে পছন্দ করেন। সেদিন তিনি খুব মনযোগের সাথে শুনছিলেন মহিষামুড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিধবা বৃদ্ধা শাহেরুন এর কথা। বৃদ্ধা খুবই আবেগের সাথে নিজের দুঃখ দুর্দশার কথা বলছিলেন। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধার মর্মস্পর্শী বক্তব্য হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করছিলেন। বক্তব্য শেষে বৃদ্ধা মোনাজাত ধরলেন। এরই মধ্যে আম্পায়ার আউট দিয়ে দিলেন। বৃদ্ধা তো আর 'হাউজাট' জানেন না। তিনি আপীল করেন। ডান হাতের মাইক্রোফোন বা হাতে নিয়ে আপীলের জানান দেন। আম্পায়ার নাছোড়বান্দা। তিনি বৃদ্ধার কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে আবার আউট দিলেন।

এ ঘটনায় অনলাইনে সরাসরি যুক্ত থাকা প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলে ওঠেন ‘এটা কী, একজন মানুষ মোনাজাত করছেন, আর হাত থেকে সেটা (মাইক্রোফোন) কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। হোয়াট ইজ দিস। এটা কী?’ প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, 'এই এই এটা কী করো, এটা কেমন কথা হলো। মোনাজাত করছে আর তার হাত থেকে মাইক্রোফোনটি কেড়ে নিল। হোয়াট ইজ দিস?' এ সময় প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা ক্রিকেটীয় পরিভাষায় বললে দাঁড়ায়, হাউজাট বা হাউ ইজ দ্যাট। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট খেলা দেখেন। সময় পেলে দেশের ক্রিকেট সরাসরি দেখেন। এমনকি মাঝে মাঝে তাঁকে স্টেডিয়ামে যেয়েও খেলা দেখতে দেখা যায়। তিনি ক্রিকেটীয় পরিভাষার 'হাউ ইজ দ্যাট' বোঝেন। কিন্তু তিনি সেদিন দাপ্তরিক পরিভাষায় 'হোয়াট ইজ দিস’ বলেন। বারবার আপিল করাতে আম্পায়ার আউটটি বাতিল করেন। বৃদ্ধা শাহেরুন মাইক্রোফোন ফিরে পেয়ে মোনাজাত সম্পন্ন করে তার ইনিংস শেষ করেন।

ক্রিকেটের সৌন্দর্য আম্পায়ারিং এ। আম্পায়ারিং ভাল না হলে খেলাটি তার সৌন্দর্য হারায়। খেলায় ছন্দপতন হয়। জয় পরাজয় নির্ধারণে স্বাভাবিকতা থাকে না। তেমনি আম্পায়ারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের লাইভ অনুষ্ঠানটি দৃষ্টিকটু লেগেছে। এসব আম্পায়ারদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন 'আম্পায়ারিং' এর উপর আরো বেশি বেশি প্রশিক্ষণ। 

লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

আশ্রয়ণ প্রকল্প   বিতর্ক   আম্পায়ারিং  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

১১ জুন আমাদের দেশ গড়ার শিক্ষা দেয়


Thumbnail

আজ ১১ জুন। এদিন দীর্ঘ ১১ মাস জেল খাটার পর দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জেল থেকে মুক্তি পান। এই মুক্তিটি অনেক অর্থ বহন করে। এই ১১ মাসে তাকে মূলত যে মানসিক কষ্ট দেয়া হয়েছে তা চিন্তার বাইরে। সেসময় তাকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে ফেলার সমস্ত রকমের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন তিনি কোন অন্যায় করেননি এবং করেন না। জনগণের মঙ্গলের জন্যই তিনি কাজ করেছেন এবং কাজ করে চলেছেন।

আমরা যখন জেলাখানায় তাকে দেখতে যেতাম সেসময় তিনি আমাদের মুখ কালো দেখলেই বলতেন, ‘আপনাদের মুখ কালো কেন?’ এরকমভাবেই তিনি আমাদের উজ্জীবিত করতেন। আমি অবাক হয়ে তখন ভাবতাম, তিনি জেলে থাকার কারণে আমাদের মন খারাপ আর উল্টো তিনি আমাদের সৎ সাহস দিচ্ছেন যে তিনি সৎ পথে আছেন তার কিছুই হবে না এবং তিনি কারামুক্ত হবেন। এজন্য কারামুক্তি দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জেলে থাকতেই তার দার্শনিক চিন্তাকে কিভাবে বাস্তবে রূপান্তরিত করবেন সেই সব বিষয়গুলো ঠিক করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর কারামুক্তির পরই নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনে কাদের মনোনয়ন দিবেন সেটির চিন্তাও তিনি সেসময় করে রেখেছিলেন। তাছাড়া ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ গুলোর মতো জনবান্ধব কর্মসূচির  চিন্তা তিনি জেলে থাকতেই ঠিক করে রেখেছিলেন।

২০০৮ সালের ১১ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত যদি চিন্তা করি তাহলে একটি জিনিস খুবই পরিষ্কার হয়ে যায়। তাহলো আজকের বাংলাদেশের অপর নাম শেখ হাসিনা। এটি তিনি রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন। একারণেই ১১ জুন বারবার মনে করা দরকার। এবং এটি মনে করে আমাদের নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতিটি কাজে অত্যন্ত আন্তরিক এবং সততার সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে হবে। না হয় আমরা আমাদের বিবেকের কাছে অপরাধী হবো। অপরাধী হবো বঙ্গবন্ধুর কাছে এবং  বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে। কেননা আমরা দাবি করি, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করি এবং আমাদের চলার পথে পাথেয় হচ্ছেন শেখ হাসিনা। এই যদি বলি তাহলে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শনকে এড়িয়ে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে চলি তাহলে আমরা আমাদের বিবেকের কাছে দায়ী।

জিল্লুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, আতাউর রহমান খান কায়সার, সৈয়দ আশরাফ, হাছান মাহমুদ থেকে শুরু করে অনেকেই সেসময় দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য চেষ্টা করে গেছেন। আর অনেকেই ভেবেছিল, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনাকে অন্ধকার টানেলের ভেতরে ফেলে দিতে সক্ষম হয়েছে যেখান থেকে তিনি আর বেরোতে পারবেন না। তারা যে সংস্কারবাদী হয়েছিল সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা হয়তো ভেবেছিল কোন দিন শেখ হাসিনা আর আলোর মুখ দেখবে না।

সেই সকল ভেতরের ষড়যন্ত্র, বাইরের ষড়যন্ত্র, ভবিষ্যতের দেশ গড়ার যে পরিকল্পনা সমস্ত কিছুই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা একা সামলেছেন। আমি বিশ্বাস করি ১১ জুন আমাদের শিক্ষা দেয় দেশ গড়ার যদি মানসিকতা থাকে এবং মনের দৃঢ়তা থাকে তাহলে কোন বাধায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। দেশ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। অর্থাৎ মানুষের মৌলিক যে চাহিদা তার প্রত্যেকটির ব্যবস্থা করেছেন। এটিই হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বড় প্রাপ্তি। যদিও তিনি বলেন, এগুলো জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি উৎসর্গ করেন। সেজন্য আমি বলবো, আজকের বাংলাদেশের অপর নাম শেখ হাসিনা।


কারামুক্তি দিবস   শেখ হাসিনা   এক এগারো   ওয়ান ইলাভেন   দেশ গড়ার শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

চুপচাপ গভর্নর, অন্যরাও কি বিব্রত হননি?

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ০৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকেও একটি কথাও বলেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এমন নয় যে সেই সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক নিয়ে কোনো প্রসঙ্গ ছিল না। কিন্তু গভর্নর কোনো কথা বলেননি কারণ অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকনোমিক রিপোর্টাস ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি জানিয়ে দেন সাংবাদিকরা গভর্নরের বক্তব্য বয়কট করবেন। ওসমানি মিলনায়তনের সংবাদ সম্মেলনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। সে জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা কেউ তাঁর বক্তব্য শুনব না। তিনি যেন কোনো বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বক্তব্য দিলে আমরা তা বয়কট করব।’ 

মাঠের রিপোর্টার হিসেবে অনেকদিন বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি, সেখানে কোনো দিনই এমন ঘটনা ঘটেনি। আরো অদ্ভুত যে অর্থমন্ত্রী গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সূচনায় হাসিমুখে থাকলেও একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নে মেজাজ হারিয়েছেন। এমনকি এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের “ম্যাচিউরিটি” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর শেষেতো বলেই ফেললেন যে সাংবাদিকরা বাজেট বইটি পর্যন্ত পুরোটা ভালো করে পড়ে আসেননি। কিন্তু ইআরএফ নেতা যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বর্জনের কথা বললেন, সে সম্পর্কে একটা শব্দও বলেননি সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং কর্মজীবনের শুরুতেই অর্থনীতির শিক্ষক অর্থমন্ত্রী আবুল হাান মাহমুদ আলী। দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পুরো সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেননি গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অন্যরা। সংবাদ সম্মেলনের বেশির ভাগ সময় গভর্নরকে গালে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়।’

এবারের বাজেটের আগে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের সুদহার, ডলারের দাম এবং রিজার্ভের ক্ষয়। সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নই হয়তো ছিল, যার জবাব আমরা শুনতে পারতাম গভর্নরের কাছ থেকে। কিন্তু জাতি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যম কর্মীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করলেও রিজার্ভ সংকটসহ কোনো খবরই কিন্তু অপ্রকাশিত থাকছে না। বরং সেই সুযোগে এমন গুজব ভিত্তিক খবরও প্রচার হয়েছে যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আবারো অর্থ চুরি হয়েছে। সেই গুজবের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল তাও কিন্তু গণমাধ্যমগুলো জাতীয় দায়িত্ব হিসেবেই প্রচার করেছে। গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনেও কিন্তু আইআরএফ-এর সভাপতি স্পষ্টভাবে বলেছেন সকল মন্ত্রীসহ অন্যান্যদের বক্তব্য প্রচার করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো বক্তব্য দিলে তারা তা বয়কট করবেন।

সুধীসমাজে আলোচনা আছে বর্তমান সরকারের আর্থিক নীতি নির্ধারকদের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুর রউফ তালুকদার। ২০২২ সালের ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন রউফ তালুকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেয়া এই দক্ষ আমলা দীর্ঘ অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করলেও একজন আমলা হিসেবে তার পরিচিতি সংরক্ষণবাদী হিসেবেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেবার পর মতিঝিলের সুরম্য অট্টালিকায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসায় অবাক হইনি। কিন্তু মাঠের রিপোর্টারদের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের এমন সম্পর্কহানি কাম্য নয়। একথা ঠিক যে রাজনীতিক মন্ত্রীদের মত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হরহামেশাই গণমাধ্যম্যের মুখোমুখি হবে তা হয়তো আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপত্র নিয়োগ এবং প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য নিয়েই সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট ছিল, আর এটাও ঠিক যে খুব যে অবাধভাবে যাতায়াত করা যেতো তাও কিন্তু নয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর তা নিয়ে যখন ইআরএফের নেতারা যখন গভর্নরের সাথে দেন-দরবার করতে গেলেন তখন কিন্তু তারা প্রত্যাশিত সম্মান পাননি। তখন থেকেই গভর্নরকে বয়কটের বিষয় চলে আসছে। সর্বশেষ বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটলো তাতো শুধু একজন আমলা নন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত সরকারের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সরকারের জন্যই বিব্রতকর হলো ঘটনাটি। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো সংবাদ সম্মেলনের পরও ওসমানি মিলনায়তনে উপস্থিত মন্ত্রিসভার কেউই কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বললেন না। বা জানতে চাইলেন না, কি পর্যায়ে এসে ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরাম এমন অবস্থান নিল?

গভর্নরের সাথে সাংবাদিকদের যে অস্বস্তিকর অবস্থা চলে আসছে কিছুদিন থেকে তা নিরসনেরও কিন্তু কোনো উদ্যোগ রাজনীতিক এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও নেননি। যিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং তার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে অর্থ-বাণিজ্যের মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মধ্যে যে সংকটের সৃষ্টি সেব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল ইআরএফের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একটি আলোচনা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইআরএফ নেতৃবৃন্দ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের বিষয়টি তথ্য প্রতিমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানালেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষই তাদের বিষয়টি নিয়ে বা সৃষ্ট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সর্বশেষ একটি বিব্রতকর ঘটনা ঘটলো গত শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা আশা করতেই পারি যে অর্থ মন্ত্রণালয়, দ্বিতীয়ত তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ইআরএফের নেতাদের সাথে কথা বলতে পারে। আর একটি উদ্যোগ নিতে পারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হওয়া দরকার বলেই, বিষয়টি নিয়ে লিখলাম। আশা করি সংশ্লিষ্টরা খোলা মনে বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন। 

লেখক: প্রণব সাহা
সম্পাদক, ডিবিসি নিউজ


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

প্রতিকূল পরিবেশে বাজেটে নেই আশার দিক নির্দেশনা


Thumbnail

জাতীয় বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যায়ের হিসাব নয়, বরং বর্তমান প্রেক্ষিতে বাজেট দেশের জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনের হাতিয়ার।  সরকারের ভিশন ও লক্ষ্য অর্জনে বাজেট শুধু দিক নির্দেশনার মধ্যেই সীমিত নয় বরং সরকার দেশের প্রবৃত্তি অর্জনে, সম্পদ আহরণে বা অন্যবিধ সমস্যা সমাধানে কি কি উদ্যোগ নিচ্ছেন বা নিবেন এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা কিভাবে পূরণ করছেন বা করবেন তার দিক নির্দেশনা থাকবে। 

এবারে বাজেট পেশের পর পরই বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা হচ্ছে যার অর্থ সরকারি কর্মচারীরা যে বাজেট তৈরী করেছেন তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বা আস্থা অর্জনে সফলকাম এখনও  হয়নি। বরং সৎপথে যারা অর্থ উপার্জন করবে তাদের উপর ট্যাক্স ধার্য হয়েছে শতকরা ৩০% ভাগ এবং যারা অসৎ উপায়ে বা ঘুষ-চুরি করে উপার্জন করবে তাদের ট্যাক্স হচ্ছে ১৫% বা অর্ধেক।  জনগণ মনে করে এর মাধ্যমে দুর্নীতি আরো বাড়বে, টাকা পাচার ও আরো বাড়বে।  

বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশে বাজেট তৈরী করা মোটেই সহজ নয়। দেশে বড় বড় সমস্যা রয়েছে। যেমন: 

  1. মুদ্রাস্ফীতি কমানো, 
  2. অধিকতর কর্ম সংস্থান বৃদ্ধি, 
  3. রাজস্ব বৃদ্ধি, 
  4. ব্যাংক ঋণ কমানো যাতে crowding-out effect না দেখা দেয়, অর্থাৎ সরকার ব্যাংক থেকে সব ঋণ নিয়ে নিলে ব্যবসায়ীরা কোনও ঋণ পাবে না এবং তারাই তো বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান বাড়ায় তা পারবে না, 
  5. প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বা বাড়ানো, 
  6. বিনিয়োগ বাড়ানো, 
  7. ব্যাংক ব্যবস্থায় আস্থা ফিরানো, 
  8. মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ইত্যাদি।

এবারের বাজেটে এগুলো আলোচনায় এসেছে,  তবে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নেই যারফলে জনমনে এত নিরাশা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনেকগুলো বাজেট দিয়েছেন এবং তার বাজেটগুলোতে লক্ষ্য, দিক নির্দেশনা এবং বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তাতে নতুন নতুন ইনোভেশন বা চমক ছিল। যেমন: জেন্ডার বাজেটটিং, জেলা বাজেট, শিশুদের বাজেট, Public-Private Partnership, decentralization of budget ইত্যাদি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা চান, অর্থাৎ জনগণকে এসব চেলেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা তা তার বাজেটে ছিল। তিনি একাধিক গোষ্ঠীর সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট প্রস্তুত করতেন। এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় তা লক্ষিত হয়নি। এই প্রতিকূল পরিবেশেও কোনও চমক নেই বা আশার দিক নির্দেশনা নেই। 

গেল দেড় বছর ধরে দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে পারছে না আর আগামী ছয় মাসে তা ৯.৭% থেকে ৬.৫% নেমে আসবে তা জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না। তাছাড়া রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন দরকার তা এই বাজেটে অনুপস্থিত। প্রচলিত নিয়মে যারা আয়কর দেয় তাদের উপর আরো অধিকতর করের বোঝা আরোপিত হবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগণ এই বাজেটে করের আওতামুক্ত থাকবে এটা দেশের জন্য মঙ্গলকর নয়।

করের পরিধি এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন, যারাই জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) আছে তাকেই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা এবং বর্তমান TIN নম্বর কোম্পানিরগুলোর জন্য বরাদ্দ করা। এ নিয়ম চালু হলে ট্যাক্স বেইস কয়েকগুণ বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে বৈ কি। তাহলে সরকারকে অধিকতর ঋণের বোঝা বহন করতে হবে না। বর্তমান নিয়মে আয়ের শতকরা ২৩% ভাগই ঋণের সুদ বাবদ ব্যয়িত হবে যা দেশের জন্য সুখকর নয়।


জাতীয় বাজেট   প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন