ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

অবশেষে জিম্মি মুক্তিতে সমঝোতা করতে রাজি হলো ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৪:২৪ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশ করে নির্বিচারে সামরিক-বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করে তারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।

এতদিন জিম্মিদের উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের চাপ উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে। হামলা বন্ধের জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ বা আহ্বান এক্ষেত্রে কোন কাজে আসেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করার আগ পর্যন্ত কোন যুদ্ধবিরতি দিবেনা ইসরায়েল।’

তবে এবার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি যেতে সম্মত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল কান। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তারা।

চ্যানেল কানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।  মূলত হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতেই ইসরায়েল এই সমঝোতায় আসতে আগ্রহী।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাস যদি তার হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি দেয়, তাহলে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দেবে। এখন অপেক্ষা কেবল হামাসের জবাবের। হামাস যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, সেক্ষেত্রে সহজেই একটি সমঝোতা হতে পারে।’

জিম্মিদের মুক্ত করতে হামাসের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারটি ইসরায়েল যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে দাবি করেছে কান।

একই দিনে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিরবি জানিয়েছিলেন, ‘জিম্মিদের মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ‘দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমরা আশা করছি এটি হবে তবে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।’

ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যমতে, জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন।


হামাস   সমঝোতা   ইসরায়েল   যুদ্ধবিরতি   ফিলিস্তিন   গাজা উপত্যকা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পরমাণু শক্তিতে চীনের চেয়ে ১৫ বছর পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬:৫৫ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

উচ্চ প্রযুক্তির পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে চীনের চেয়ে ১৫ বছর পিছিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা ইনস্টিটিউট ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এ তথ্য দাবি করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে ২৭টি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণাধীন রয়েছে, যেগুলোর গড় নির্মাণকাল প্রায় সাত বছর। অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি অনেক দ্রুত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চীনের আরও আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুত নির্মাণ, উল্লেখযোগ্য অর্থনীতি এবং শেখার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ প্রক্রিয়া চীনকে এই খাতে ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবনী সুবিধা দেবে।’ 

জো বাইডেনের প্রশাসনের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চালু হওয়া এ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর আর কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়নি দেশটিতে, বাজেটের অভাবে। 

মূলত চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে দেওয়া ঋণই দেশটির এই খাতকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকটাই। চীনের ব্যাংকগুলো যেখানে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়, সেখানে পশ্চিমা দেশগুলোতে এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কয়েক গুণ বেশি। 

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন শিদাও উপসাগরের উপকূলে বিশ্বের প্রথম চতুর্থ প্রজন্মের ‘গ্যাস কুলড’ পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করে। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই চুল্লিতে ২ হাজার ২০০টি এমন ধরনের নতুন উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে; যা আগে কখনোই ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া, এই চুল্লির ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য উপকরণ এসেছে চীন থেকেই। বাইরে থেকে আমদানি করা হয়নি বললেই চলে।

পরমাণু শক্তি   চীন   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০৪:০৩ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। দুই মন্ত্রীবেনি গাঞ্জ এবং গাদি আইসেনকট এক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

সোমবার আলজাজিরায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক-নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইসরায়েলি নেতা এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। 

এর আগে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার দুই সদস্য বেনি গান্টজ এবং গাদি আইজেনকোট পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার পর নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটের শরিকরা নতুন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।

গান্টজ এবং আইজেনকোট জাতীয় ঐক্য পার্টির সদস্য। এ দলটি নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে ১২টি আসন দখল করে আছে। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নীতি অনুসরণ করার অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া তারা যতদ্রুত সম্ভব আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

এ দুই সদস্যের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহু নিজের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে হামাসকে নিঃশেষ ও জিম্মিদের ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর অনুযায়ী, বেনি গান্টজ পদত্যাগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো বিপদে পড়ছেন না নেতানিয়াহু। কেননা গান্টজের দল নেতানিয়াহুর জোট সরকারের শরিক নয়। 

গাজা যুদ্ধের অবসান এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্র এবং জিম্মি পরিবার এই চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জন্য এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলার পর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন নেতানিয়াহু। তিন সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় অন্যতম সদস্য ছিলেন বেনি গান্টজ। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাজ ছিল গাজা যুদ্ধের তদারকি করা।

যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী   বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু   বেনি গান্টজ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ঈদ বার্তায় গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির ওপর জোর বাইডেনের

প্রকাশ: ০৩:৪৭ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মুসলিমদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। এক বাণীতে তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছেন।

বাইডেন বলেন, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ থেকে বেসামরিক মানুষদের রক্ষার এটাই সর্বোত্তম সময়।

গাজা প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ‘হাজারো শিশুসহ বহু নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছেন। পরিবারগুলো ঘর হারাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন দেখছেন, কীভাবে আশপাশের মানুষ ধ্বংস হচ্ছে। তাদের যন্ত্রণা সীমাহীন।’

বাইডেন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, গাজায় ভয়াবহতা বন্ধ করা ও যুদ্ধ থামাতে এটাই সবচেয়ে ভালো কৌশল।’

এ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিতে ও বাস্তবায়ন করতে হামাস ও ইসরায়েল—দুই পক্ষকেই চাপ দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটিতে পাস হওয়া প্রস্তাবটিতে প্রাথমিকভাবে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমার, চীনের উইঘুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিপীড়নের মুখে থাকা মুসলমানদের অধিকারের পক্ষে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার কথা বিবৃতিতে তুলে ধরেন জো বাইডেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা সুদানে ভয়ংকর সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করছি।’


ঈদ বার্তা   জো বাইডেন   গাজা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

‘পারমাণবিক অস্ত্র ন্যাটোর চূড়ান্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টি’

প্রকাশ: ০৩:৩০ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

রাশিয়া চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা পারমাণবিক বোমা মোতায়েন প্রস্তুত রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। সোমবার (১৭ জুন) এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে এই কথা জানিয়েছেন সামরিক জোটটির প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ।

এর আগে গত সপ্তাহে স্টলটেনবার্গ বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ন্যাটোর চূড়ান্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং বিশ্বে শান্তি রক্ষার একটি উপায়।

জেনস স্টলটেনবার্গ জানান, ন্যাটোর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এর সদস্যদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, কতগুলো পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হবে এবং কতগুলো সংরক্ষণ করা হবে, সে সম্পর্কে আমি বিস্তারিত আলাপে যাব না। তবে আমাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমরা ঠিক এটাই করছি।

ন্যাটো প্রধান বলেন, স্বচ্ছতা সরাসরি বার্তা বিনিময়ে সাহায্য করে। আর হ্যা, আমরা অবশ্যই একটি পারমাণবিক জোট।

তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর লক্ষ্য অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন একটি বিশ্ব। কিন্তু যতদিন পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে আমরা তত দিন একটি পারমাণবিক জোট হিসেবে থাকব। কারণ রাশিয়া, চীন উত্তর কোরিয়ার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে আর ন্যাটোর কাছে না থাকলে, বিশ্ব আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বহুবার সতর্ক করে বলেছেন, চরম পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেনকে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে পশ্চিমারা বিশ্বকে পারমাণবিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে পারমাণবিক বোমা মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বিষয়ে খুব কম কথাই বলে ন্যাটো।


পারমাণবিক   অস্ত্র   ন্যাটো  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জোরপূর্বক সাগরে ঠেলে দিচ্ছে গ্রিসের কোস্টগার্ড

প্রকাশ: ০২:২৩ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

গ্রিসের কোস্টগার্ডের কারণে গত তিন বছরে ভূমধ্যসাগরে বহু অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে জোরপূর্বক সাগরে ছুড়ে ফেলায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।

বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই ৯ জনসহ ৪০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে জোরপূর্বক গ্রিক জলসীমা থেকে বের করে দেওয়া, গ্রিস নিয়ন্ত্রিত দ্বীপে পৌঁছানোর পরও জোরপূর্বক সাগরে ঠেলে দেওয়ার জেরে।

তবে গ্রিসের কোস্টগার্ড অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিবিসির পক্ষ থেকে গ্রিসের কোস্টগার্ডের ‘বেআইনি’ কার্যক্রমের ১৫টি ঘটনা যাচাই করেছে। ২০২০ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের মে মাসের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে। ৪৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে এসব ঘটনায়। মূলত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও তুরস্কের কোস্টগার্ডের কাছ থেকে এসব তথ্য পেয়েছে বিবিসি।

প্রাপ্ত তথ্যগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা বেশ কঠিন ছিল। কেননা, প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে চারটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয় বিবিসি। এ অনুসন্ধান নিয়ে ‘ডেড কাম: কিলিং ইন দ্য মেড?’ শিরোনামে তথ্যচিত্র বানিয়েছে বিবিসি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গ্রিসের কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁদের সাগরে ছুড়ে ফেলেছিলেন। চারটি ঘটনায় গ্রিসের দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ার পরও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি ঘটনায়, ইঞ্জিনবিহীন ডিঙিতে চাপিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাগরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের এক ব্যক্তি জানান, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি গ্রিসের সামোস দ্বীপের উপকূলে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘পাঁচজন পুলিশ এসে আমাদের পাকরাও করে। দুজন কালো পোশাকে আর বাকি তিনজন বেসামরিক পোশাকে ছিলেন। মুখে মাস্ক পরায় শুধু চোখ দেখা যাচ্ছিল তাঁদের।

ক্যামেরুনের ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। তাঁদের একজনের বাড়ি ক্যামেরুনে, অন্যজনের আইভরি কোস্টে। পরে তাঁদের কোস্টগার্ডের নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি জানান, আইভরি কোস্টের ওই ব্যক্তিকে সাগরে ছুড়ে ফেলেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

তাঁর হাত শুধু পানির ওপরে ছিল। পুরো শরীর পানির নিচে। তিনি বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। এভাবেই ঘটনার বর্ণনা করেন প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর দুই সঙ্গী মারা যান। আর তাঁকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই তুরস্কের দিকে ঠেলে দেয় গ্রিসের কোস্টগার্ড।


কোস্টগার্ড   ভূমধ্যসাগর   জোরপূর্বক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন