ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে ‘ওমিক্রনে’ উপসর্গ অতি মৃদু

প্রকাশ: ১০:০১ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে ‘ওমিক্রনে’ উপসর্গ অতি মৃদু

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে ‘উদ্বেগজনক’ ভ্যারিয়েন্ট বলে স্বীকৃতি পাওয়া করোনার নতুন দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। মারাত্মক এই সংস্করণটি যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য বিশ্বের অনেক দেশের মত আমাদের দেশেও নেওয়া হয়েছে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীদের শরীরে তেমন উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার ধরনগুলোর মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে বেশি মিউটেট (রূপান্তর) হয়েছে।

করোনার নতুন এই সংস্করণটি মূলত ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা হতে। রোগীর দেহে নতুন এই সংস্করণটি সবার প্রথম সন্দেহ করেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি।

ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমার কাছে চিকিৎসা নেওয়া বেশকিছু ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীর শরীরে মৃদু উপসর্গ দেখেছি। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াই তারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ নভেম্বর আমার ক্লিনিকের সাতজন রোগীর মধ্যে অপরিচিত উপসর্গ ছিল। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ধরনের থেকে যার পার্থক্য খুবই কম। ওইদিন একজন রোগী আমাকে অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভব করার কথা জানান। তার শরীরে ও মাথায় হালকা ব্যথা অনুভব করছেন বলেও উল্লেখ করেন।’

ডা. কোয়েটজি বলেন, ‘রোগীদের মধ্যে যে উপসর্গ ছিল, তা সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে যেহেতু আমরা বিগত ৮-১০ সপ্তাহ করোনার সংক্রমণ সেভাবে পরীক্ষা করে দেখিনি, তাই তাৎক্ষণিক আমরা তাদের নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাতে ওই রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের পজিটিভ রিপোর্ট আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই দিনে আমরা একই উপসর্গের আরও কিছু রোগী পেয়েছিলাম। তখনি আমরা ভেবেছিলাম, ভিন্ন কোনও কিছু দেখতে যাচ্ছি আমরা। সেদিন আমি নতুন এ ধরনে সংক্রমিত দুই থেকে তিনজন রোগী দেখেছিলাম।’

অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি বলেন, ‘ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ, যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে অর্ধেকই করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে ওমিক্রন খুবই অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। তাদের সতর্ক হওয়া জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সময়ে আমরা অসংখ্য ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত রোগী দেখেছিলাম। তবে নতুন এ ধরনটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্লিনিক্যাল যে চিত্র, তার সঙ্গে তেমন মিল নেই। ওমিক্রন আক্রান্তদের অধিকাংশই অতি মৃদু উপসর্গে ভুগছেন। আক্রান্তদের পেশীতে মৃদু ব্যথা, গলায় খুসখুস ভাব এবং শুকনো কাশি হচ্ছে। অল্প কয়েকজনের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেশি পাওয়া গেছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কমিউনিক্যাবল ডিজিজ (এনআইসিডি) জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে গত ১৪ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা নমুনায় ওমিক্রন ধরনটি শনাক্ত হয়। যাচাই শেষে ২৫ নভেম্বর নতুন ধরন হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বাংলাদেশকে তিস্তার পানির হিস্যা দেওয়া সম্ভব নয়: মমতা

প্রকাশ: ০৯:১১ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশকে তিস্তার নদীর পানির হিস্যা দেওয়া সম্ভব নয় বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী। সোমবার মোদিকে লেখা এক চিঠিতে এ বিষয়টি জানান মমতা। 

চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেছেন, রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দেওয়া সম্ভব নয়। 

মমতা লিখেছেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, ভারত সরকার ১৯৯৬ সালের ইন্দো বাংলাদেশ ফারাক্কা চুক্তি যেটি ২০২৬ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, নবায়ণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি নিশ্চই অবগত আছেন যে, ফারাক্কা দিয়ে যাওয়া পানি কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবন জীবিকা পরিচালনায় এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।’ 

মোদিকে লেখা চিঠিতে মমতা আরও লিখেছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সিকিমে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি, বন উজার হওয়া এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে তিস্তার অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে ভারত সরকার বাংলাদেশে তিস্তা প্রকল্পের জন্য একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় সহযোগীতার কথা প্রস্তাব করেছে। আমি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি, জল শক্তি মন্ত্রণালয় তিস্তার ভারত অংশের সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের সঙ্গে যদি পানিবণ্টন করা হয় তাহলে উত্তর বঙ্গের কয়েক লাভ মানুষ সেচের জন্য ব্যাপক পানি সংকটে ভুগবে। একই সঙ্গে পানের উৎস হিসেবেও তিস্তার পানির উপর উত্তরবঙ্গের মানুষ নির্ভরশীল। এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন সম্ভব নয়।’ 

তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্য সরকারকে অন্তভুক্ত না করে তিস্তার পানি বণ্টন এবং ফারাক্কা চুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা ফলপ্রসু হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বার্থ কোনো ভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’  

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই দিনের নয়াদিল্লি সফরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নসহ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের দিকে তিস্তার পানি সংরক্ষণ ও পরিচালন পদ্ধতি উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল শিগিগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।

২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে। তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিরোধীতার কারণে সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। খসড়া অনুযায়ী, খরার সময় ভারতের ৩৭ দশমিক ৫ আর বাংলাদেশের ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পানি পাওয়ার কথা হয়। 


বাংলাদেশ   তিস্তার পানি চুক্তি   পশ্চিমবঙ্গ   মুখ্যমন্ত্রী   মমতা ব্যানার্জ্জী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রাশিয়ায় ভয়াবহ হামলায় ১৫ পুলিশসহ নিহত ১৯

প্রকাশ: ০২:৫৭ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দাগেস্তানে কয়েকটি জায়গায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এতে ১৫ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন অর্থোডক্স যাজকসহ অন্তত ১৯ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দাগেস্তানের বৃহত্তম শহর মাখাচকালা এবং উপকূলীয় শহর দেরবেন্তে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোরবার (২৩ জুন) সন্ধায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বন্দুকধারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায়।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রে দুটি অর্থোডক্স গির্জা, একটি সিনাগগ এবং একটি পুলিশ পোস্টে বন্দুকধারীদের হামলার পর ১৫ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা, এক অর্থোডক্স পুরোহিতসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ডারবেন্ট এবং মাখাচকালা শহরে সংঘটিত ওই হামলায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

হামলার শিকার ওই সিনাগগ এবং গির্জা উভয়ই ডারবেন্টে অবস্থিত, যা প্রধানত-মুসলিম উত্তর ককেশাস অঞ্চলে প্রাচীন ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকালায় পুলিশ পোস্টে গুলি চালায় বন্দুকধারীরা।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে হামলার ফলে ডারবেন্টের সিনাগগে আগুন লেগে যায়। এছাড়া গির্জা থেকে ধোঁয়া উঠছিল বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি জানিয়েছে, পাঁচ বন্দুকধারী ‘নিহত’ হয়েছে। তবে গভর্নর বলেন, ছয়জন ডাকাতকে হত্যা করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে এ সংখ্যা যাচাই করা যায়নি এবং হামলায় কতজন জঙ্গি জড়িত ছিল তাও পরিষ্কার নয়। এখন পর‌্যন্ত এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। এ সন্ত্রাসী হামলার ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দাগেস্তানের এক কর্মকর্তা ও তার ছেলেদের আটক করা হয়েছে।

ভিডিও বিবৃতিতে মেলিকভ বলেন, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। জঙ্গিদের ‘লুকিয়ে থাকা সব সেল’ উন্মোচন না হওয়া পর্যন্ত হামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে।


রাশিয়া   হামলা   পুলিশ   নিহত  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাটারি কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ১৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০২:২২ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি লিথিয়াম ব্যাটারি নির্মাণকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। পরে ওই কারখানার ভেতরে প্রায় ১৬ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। সোমবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে আগুন অনেকাংশে নিভে গেছে। কারখানাটি রাজধানী সিউলের দক্ষিণে হোয়াসিয়ং অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারিসেল পরিচালনা করে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কিম জিন ইয়ং বলেন, কারখানার একটি গুদামের ভেতরের একটি ব্যাটারি সেলে সিরিজ বিস্ফোরণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এই গুদামে প্রায় ৩৫ হাজার ব্যাটারি ছিল। প্রাথমিকভাবে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু ও ৪ জন গুরুতর দগ্ধ হওয়ার খবর জানানো হলেও, পরে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়,  অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 


দক্ষিণ কোরিয়া   ব্যাটারি কারখানা   আগুন   নিহত  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

তিস্তা নিয়ে শেখ হাসিনাকে মোদির আশ্বাস, ক্ষোভ জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি মমতার

প্রকাশ: ০১:০৫ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

গত রোববার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা-তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্নবায়নের জন্য টেকনিক্যাল স্তরে আলোচনা শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা না-করে কীভাবে মোদি এই আশ্বাস দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন ওই রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল নেতৃত্ব।

রাজ্যের মূল বক্তব্য, গঙ্গা বা তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কোনও সমঝোতার আগে অবশ্যই মমতা ব্যানার্জি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। 

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, তিস্তার পানি নিয়েও রাজ্য সরকার তাদের অবস্থানের কথা জানিয়ে কেন্দ্রকে খুব শিগগিরই চিঠি দিচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে দুই নদীর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কোথায় সমস্যা হবে, তা সবিস্তারে এই চিঠিতে তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার।

গঙ্গা-তিস্তার পানি নিয়ে কী বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা, “বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই বাংলার মধ্যে সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। কিন্তু পানিবণ্টনের প্রশ্নে কোনও সিদ্ধান্তের আগে আমাদের সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা করা উচিত।”

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে তৃণমূলের স্পষ্ট বক্তব্য, এই চুক্তির পুনর্নবায়ন হলে রাজ্যে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, রাজ্য সরকারও এই চুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম শরিক। তাই তাদের বাদ রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েন রবিবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কোনও পরামর্শ না-করেই ফারাক্কা-গঙ্গা চুক্তি পুনর্নবায়নের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র। আমরাও এই চুক্তির অন্যতম অংশীদার।”

ডেরেকের অভিযোগ, “আগের চুক্তি বাবদ আমাদের প্রাপ্য এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। গঙ্গার ড্রেজিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্যা ও ভাঙনের পিছনে এটাই প্রাথমিক কারণ। এটা পশ্চিমবঙ্গকে বিক্রি করে দেওয়ার ছক।”

তিস্তার পানি নিয়ে শনিবার শেখ হাসিনাকে মোদি আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশে তিস্তা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে ভারত। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিস্তা সংরক্ষণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখানো হয়েছে বৈঠকে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সময় নির্দিষ্ট করে দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যাখ্যা, ৩.৪২ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধার জন্য তিস্তা ব্যারেজের পানি ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে সত্তরের দশকে তিস্তা ক্যানালের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ, তিস্তায় পানি কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের যুক্তি, বাংলাদেশের সঙ্গে পানি ভাগাভাগি হলে খরা মৌসুমে তিস্তার খালে পানি কমে যাবে। এতে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় তিন লাখ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কারণ শিলিগুড়ি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় পানি সরবরাহও তিস্তার উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে খরা মৌসুমে তিস্তা থেকে বাড়তি পানি বাংলাদেশকে দেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তিস্তা নিয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনার আগে কেন্দ্র কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল না, সে প্রশ্নও তোলা হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এই প্রেক্ষাপটেই আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার লোকসভায় নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথগ্রহণ পর্ব চলবে। 

তার আগে নিট-নেট কেলেঙ্কারি, প্রো-টেম স্পিকার নির্বাচন থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের দ্বিতীয় দফায় পাশ হওয়া নতুন ফৌজদারি আইন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রকে একযোগে চেপে ধরার পরিকল্পনা করেছিল তৃণমূল-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্য শরিকরা। তবে শনিবার রাতে গঙ্গা-তিস্তা নিয়ে মোদি-হাসিনার বৈঠক তৃণমূলের হাতে আরও একটা বড় অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে এনডিএ সরকারের অন্যতম শরিক নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর ভূমিকা কী হয়, সেদিকেও নজর থাকবে সকলের। কারণ, ২০১৬ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ফারাক্কা ব্যারেজ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। সেই সময়ে তারও যুক্তি ছিল, ফারাক্কা ব্যারেজের কোনও কার্যকারিতাই নেই এবং এর জন্য তাদের রাজ্যকেও প্রতি বছর বন্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এবারের মোদি সরকারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক নীতীশের দল এবং বিহারেও তার নেতৃত্বে এনডিএ সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে বিহারের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে নীতীশ কী অবস্থান নেন, সেটাও দেখার বিষয়।

১৯৯৬ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার আমলে ভারত-বাংলাদেশ দু’দেশের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিপর্ব মসৃণ হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর। ২০২৬ সালে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ১৯৯৬ সালে গঙ্গা-চুক্তির দ্বাদশ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দু’পক্ষের সহমতের ভিত্তিতে এই চুক্তির পুনর্নবায়ন হতে পারে।


পশ্চিমবঙ্গ   মুখ্যমন্ত্রী   মমতা ব্যানার্জি   শেখ হাসিনা   নরেন্দ্র মোদি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ভারতে নতুন সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

প্রকাশ: ১২:৫১ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

চলতি মাসের শুরুতেই টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতে নতুন সরকার গঠন করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। এবার নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার পালা। এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন নতুন সাংসদরা। এ লক্ষ্যেই পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত এটি সংসদের বিশেষ অধিবেশন, যেখানে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে শপথ নিয়েছেন। এই অধিবেশনেই সংসদের দুই কক্ষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার কথা প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু।

সোমবার অধিবেশনের শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতি ভবনে বিজেপি সংসদ সদস্য ভর্তৃহারি মহতাবকে লোকসভার প্রো-টেম স্পিকার হিসেবে শপথ পাঠ করান প্রেসিডেন্ট মুর্মু।

এরপরে বিজেপি সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় সংসদে পৌঁছান এবং অধিবেশন শুরুর আহ্বান জানান।

প্রথমদিনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নীরবতা পালনের পর লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপল কুমার সিং সকল নির্বাচিত সংসদ সদস্যের তালিকা পেশ করেন। এরপর প্রোটেম স্পিকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লোকসভার দলনেতা হিসেবে শপথ পাঠের আহ্বান জানান।

এরপর প্রোটেম স্পিকারকে সাহায্য করার জন্য প্রেসিডেন্টের সুপারিশে সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হয়।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট প্রোটেম স্পিকারের সহকারী হিসেবে কংগ্রেসের সুরেশ, ডিএমকে-র টিআর বালু, বিজেপির রাধামোহন সিং, ফাগন সিং কুলাস্তে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সুপারিশ করেন।

চেয়ারপারসনদের শপথের পর প্রোটেম স্পিকার মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। আগামী দুইদিন ধরে সংসদে কেবল প্রতিটি রাজ্য থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে।

এরপর আগামী ২৬ জুন লোকসভায় অনুষ্ঠিত হবে স্পিকার নির্বাচন। এরপর প্রেসিডেন্ট আগামী ২৭ জুন সংসদের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। প্রেসিডেন্টের সেই বক্তব্যের ধন্যবাদ জ্ঞাপন নিয়ে ২৮ জুন থেকে আলোচনা শুরু হবে।

আগামী ২ বা ৩ জুলাই পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপরে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাবে। আগামী ২২ জুলাই থেকে বাজেট পেশের জন্য ফের অধিবেশন শুরু হতে পারে। 


ভারত   সরকার   সংসদ   প্রথম অধিবেশন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন