ইয়ুথ থট

অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক সমস্যা ও সমাধানের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:১৬ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০


Thumbnail

করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে। শিক্ষকরা অধিকাংশই ইদানীং অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে ZOOMএর মাধ্যমে। তাই সারা দেশ জুড়েই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার বহুলাংশেই বেড়ে গেছে;, বিশেষ করে দিনের প্রথমাংশে। শহরে যারা থাকেন তাদের একটা বড় অংশ ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করে থাকেন। আর গ্রাম বা মফঃস্বল শহরে যারা আছেন সে সব শিক্ষার্থীরা মোবাইল ডাটা কিনে অনলাইন ক্লাসে যোগ দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল ডাটা ব্যাবহারকারীরা তাদের মোবাইল ডাটায়  কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেটের স্পীড পাচ্ছে না। ফলে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা দান এবং শিক্ষা গ্রহন দুটোই।    

 

আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলে মোবাইল অপারেটরদের যে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আছে তার অধিকাংশই টু-জি সাপোর্ট করে মাত্র, কোথাও কোথাও থ্রি-জি ফ্যাসিলিটি আছে। অধিকাংশ গ্রাম ও মফঃস্বল শহরে এমনকি নগরীর সব এলাকায় ফোর-জি সাপোর্ট করার মত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধা মোবাইল অপারেটরগন ঠিকমত তৈরি করতে পারেন নি। কিন্তু মোবাইল অপারেটরগন অনৈতিকভাবে ফোর-জি’র জন্য টাকা নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছে, হিসাব ছাড়া। ফলে অনলাইনে ক্লাস করা ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষকদের লেকচার ফলো করতে পারছে না। শুধু মাত্র মোবাইল ডাটার এমন কারচুপির কারণে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে লেখা পড়ার এমন ডিজিটাল পদ্ধতি টি অর্থহীন হয়ে পড়ছে। কিন্তু মোবাইলের ডাটা কেনার খরচ, শিক্ষালয়ের বেতন, ইত্যাদি কিন্তু ঠিকই দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।        

 

মোবাইল টেলিফোন অপারেটরগন যখন দেশে টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে শুরু করেন তখন তারা এনালগ প্রযুক্তি বা ওয়ান-জি (জেনারেশন)  ব্যবহার করতেন, এর পরে এলো ডিজিটাল টু-জি, থেকে থ্রি-জি আর ফোর-জি। সাধারণ একজন মানুষের কাছে থ্রি-জি ও ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তি রহস্যময় দুটি শব্দ। তারা জানেন না যে, এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ করে থ্রি-জি আর ফোর-জি’র কী কী সুবিধা গ্রাহক পেতে পারেন।         

 

তবে একটা সত্য হচ্ছে, টেলিফোনের নতুন প্রজন্মের গতি অবশ্যই তার আগের প্রজন্মের গতি অপেক্ষা দ্রুত গতির হতে হবে। কোন মোবাইল অপারেটর যদি ওয়াইম্যাক্স ফোর-জি চালু করে তাহলে তা অবশ্যই তাদের সিডিএমএ থ্রি-জির চাইতে বেশি গতি সম্পন্ন হবে। কিন্তু, গ্রামীণ ফোনের থ্রি-জি এইচএসপিএ সংযোগ বাংলালিংক বা রবির ফোর-জি এলটিই এর চাইতে দ্রুত গতির হতে পারে। অর্থাৎ আপনার মোবাইল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি যদি তার তরঙ্গ পরিবর্তন করে তাহলে সে আগের চেয়ে গতিশীল হবে। তবে এটা পুরোটাই নির্ভর করবে, সেই অপারেটর কিভাবে তার নেটওয়ার্ক বসাচ্ছে, টাওয়ারগুলোতে বেস-ষ্টেশন আপগ্রেড করছে এবং কতটুকু সেবা তারা আসলেই দিতে চায়। এর সাথে তাদের বিনিয়োগের খরচের বিষয়টিও জড়িত। তবে ৩ জি, ৪ জি তে ভিডিও কল বা ডাটা আদান প্রদানে কোন সমস্যা হবার কথা না।  তবে থ্রি-জির সাথে ফোর-জি’র পার্থক্য হলো মাত্র কয়েকটা ফিচারে র। তবে থ্রি-জি না এসে যদি টু-জি নেটওয়ার্ক হয় তা হলে ভিডিও কল বা ডাটা ট্রান্সফার হবে না।    

 

সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস করায় অনুপ্রাণিত করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা ZOOMএর ব্যবহার করবেন তারা সবাই স্পীডের জন্য মোবাইল অপারেটরদের লাইসেন্স বিহীন ZOOMএর ব্যবহার করার অভিযোগ আনবে। বলবে মোবাইলে অনেক ডাটা স্টোর করা আছে তাঁর জন্যেও স্লো হচ্ছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এর প্রতিকার কী নেই? আছে সবাই যদি তাদের ক্লাস শুরুর পরে স্পীড সমস্যায় পড়েন তাহলে OOKLA বা এধরণের ফ্রি সফটওয়্যার দিয়ে স্পীড টেস্ট করে তার স্ক্রিন সর্ট নিয়ে বিটিআরসি’র  পরিচালক বরাবর পাঠিয়ে দিলে কারা ফাঁকি দিচ্ছেন তা ধরা পড়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা সে ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও লাভবান হবে, জনগণ তথা সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে পরোক্ষভাবে।

 

গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, সকালে যখন সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে ক্লাস শুরু করে তখন মোবাইলে ইন্টারনেট স্পীড থাকে খুব কম। আবার ZOOMএর মাধ্যমে এটা করা হয় বলে সেখানেও এমন চাপ পড়ে যা, তা তারা সামাল দিতে পারে না। আমাদের দেশে অধিকাংশ ZOOM ব্যবহারকারী লাইসেন্স ছাড়া এটা ব্যবহার করেন। তাই ZOOM কর্তৃপক্ষ ভিডিও কলে বা ডাটা আদানপ্রদানে লাইসেন্স-ওয়ালা ZOOM ব্যবহারকারীদের প্রাধান্য দেন। ফলে লাইসেন্স ছাড়া যারা ZOOM ব্যবহার করেন, তারা পড়েন সমস্যায়। আর এই সমস্যায় বলির পাঠা হয়ে দাঁড়ায় অন লাইনে ক্লাস করা ছাত্র ছাত্রীরা। আসলে শিক্ষার্থীরা মোবাইলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জালিয়াতির শিকার! এটা কে দেখবেন, শুধুই বিটিআরসি নাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারেরাও এর জন্য দায়ী!    

 

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেলো যে, করোনা আঘাত বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ যা থেকে নিজেদেরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার একটি মহান শিক্ষা আমরা  গ্রহন করতে পারি। শিক্ষার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ যে কোন বাধাই নয়, বরং তা আমাদেরকে শিক্ষা ধারায় একটি নব দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

 



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

ব্রিটিশ তরুণ দৌড়ে পাড়ি দিলেন আফ্রিকা মহাদেশ

প্রকাশ: ০৭:০৯ পিএম, ০১ জুন, ২০২৪


Thumbnail

কঙ্গোর গহিন অরণ্য। দুর্ভেদ্য পত্রপল্লব চিরে এগিয়ে চলেছে একটি মোটরসাইকেল। আরোহীর আসনে টগবগে এক তরুণ। তাঁকে অপহরণ করেছে একদল দস্যু। মোটরসাইকেলে বসা ওই তরুণের একটাই ভাবনা--যাত্রা বাঁচব তো? যে স্বপ্ন নিয়ে পথে নেমেছিলাম, তা পূরণ হবে তো?

ওই তরুণে নাম রাসেল কুক। ২৭ বছরের একজন ব্রিটিশ। মুক্তিপণের বিনিময়ে কঙ্গোর ওই দস্যুদের কবল থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। শুধু তা- নয়, আফ্রিকার শ্বাপদসংকুল জঙ্গল, দিগন্তজোড়া মরুভূমি আর পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে এক অসাধ্য সাধন করেছেন। যিনি দৌড়ে পাড়ি দিয়েছেন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ।

কুকের আফ্রিকা পাড়ির এই স্বপ্নযাত্রার শুরু গত বছরের ২২ এপ্রিল। আফ্রিকার সর্বদক্ষিণের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। আর এই বছরের এপ্রিল পৌঁছান একেবারে উত্তরের দেশ তিউনিসিয়া। এতে তাঁর সময় লেগেছে ৩৫২ দিন। মোটমাট ১৬টি দেশে পা রেখেছেন কুক। দৌড়ে পাড়ি দিয়েছেন ১৬ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ।

দৌড়ে ১৬ হাজার কিলোমিটার! শুনলে যে কেউই আঁতকে উঠবে। তবে কুকের কথা আলাদা। তিনি একজন দৌড়বিদ। আগেও এমন কাণ্ড করেছেন। একবার তো তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দৌড়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আফ্রিকা জয় করে সেই খেতাবের মান রেখেছেন কুক। কুক বলছিলেন, ‘শেষের কয়েকটা মাস আসলেই খুব ধকল গেছে। সাহারা মরুভূমি, বালুঝড়-সবকিছুকে যেন কঠিন করে তুলেছিল। তবে আমি তো হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই। মন কষে নিয়েছিলাম-যেভাবেই হোক সফল আমাকে হতেই হবে।

কুকের জীবনটা আর দশজন মানুষের মতো সহজ ছিল না। কিশোর বয়সেই পেটের দায়ে কাজে নামতে হয়েছিল। একপর্যায়ে ডুবে গিয়েছিলেন হতাশায়, সেখান থেকে বিপথে। সপ্তাহান্তের অবকাশে বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠতেন নেশা আর জুয়ায়। এভাবেই চলছিল। যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন শহরের নৈশক্লাবের একটি ঘটনা বদলে দেয় তাঁর জীবন।

সেদিন রাত আনুমানিক তিনটা। নৈশক্লাবে বসে কুকের মনে হলো, এভাবে জীবন কাটানোর কোনো মানে হয় না। নতুনভাবে সবকিছু সাজাতে হবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। সে রাতেই ১২ মাইল দৌড়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর এক বন্ধুর পরামর্শে পরপর কয়েকটি ম্যারাথনে অংশ নেন। কুকের জবানিতে, ‘বহুদিন পরে সেই প্রথম নিজের ওপর ভরসা ফিরে পেলাম।

কুকের জীবনে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। ভ্রমণের জন্য টাকাকড়ি জমাতে শুরু করলেন। গেলেন আফ্রিকায়। সেখানে ইতালির এক সাইক্লিস্টের সঙ্গে দেখা। তিনি সাইকেলে করে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া প্রেরণাই কুককে দৌড়ে আফ্রিকা পেরোনোর সাহস জুগিয়েছে।

শুরুতেই বাধা। কুকের ইচ্ছে ছিল তিউনিসিয়া থেকে দৌড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন। কিন্তু আলজেরিয়ার ভিসা পাওয়া গেল না। অগত্যা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উল্টো পথে যাত্রা শুরু করতে হলো। পরিকল্পনা ছিল টানা দৌড়ে বড়দিন নাগাদ তিউনিসিয়া পৌঁছাবেন। সে হিসাবে সময় লাগবে ২৪০ দিন। তবে নানা অঘটনে সে হিসাবও বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

২২ এপ্রিল যাত্রা শুরুর পর মাত্র ৫০ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়া পেরিয়ে যান কুক। কিন্তু অ্যাঙ্গোলায় ডাকাতের কবলে পড়লেন। ২৪ জুন বন্দুক ঠেকিয়ে কুক তাঁর দলের সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা, পাসপোর্ট, ক্যামেরা-দরকারি সবকিছু ছিনিয়ে নিল তারা। তারপরও থেমে যাননি তাঁরা। কয়েক দিনের বিরতি নিয়ে সবকিছু জোগাড়যন্ত্র করে আবার দৌড় শুরু করেন।

এরপর ঘটল সেই দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা। কঙ্গোয় অপহরণের শিকার হলেন কুক। তাঁর আফ্রিকা-যাত্রায় ওই ঘটনাটাই নাকি সবচেয়ে ভয় ধরানো ছিল। কুকের ভাষায়, ‘অপহরণকারীরা  মোটরসাইকেলে করে আমাকে যখন জঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছিল, ভাবছিলাম, হয়তো মারা যাব। এক মিনিটের জন্য হলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম-দৌড়ের এখানেই ইতি টানব। পরেই ভাবলাম-নাহ, এভাবে স্বপ্নটাকে মাঠে মারা যেতে দেব না।

আফ্রিকা জয়ের পথে কুকের শেষ বাধাটা এল মৌরিতানিয়ায়। যাত্রার সেটা ২৭৮তম দিন। পরের দেশটাই আলজেরিয়া। এবারও দেশটি তাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাল। কিন্তু এই ভিসা না পেলে তো এখানেই তাঁর যাত্রার ইতি টানতে হবে। শেষমেশ মনের দুঃখের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুলে ধরলেন তিনি।

তাতেই কাজ হলো। কোটি ১০ লাখ মানুষের নজরে এল সেই পোস্ট। তাঁদের মধ্যে এক্সের মালিক ইলন মাস্ক, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য টিম লাউটন আলেকজান্ডার স্টাফোর্ডও ছিলেন। এবার ভিসা দিতে রাজি হলো আলজেরিয়া।

আবার দৌড় শুরু করলেন কুক। সামনে সুবিশাল সাহারা মরুভূমি। পেরোলেই স্বপ্নপূরণ। মাস পেরিয়ে সপ্তাহ এল, সপ্তাহ পেরিয়ে দিন। অবশেষে এল সেই অন্তিম ক্ষণ। এপ্রিল বিকেলে সূর্য যখন পাটে নামছে, তিউনিসিয়ার একেবারে উত্তরে রাস অ্যাঞ্জেলায় পৌঁছালেন কুক। সেখানে তখন শত মানুষের ভিড়। সবার মুখে একটাই নাম-কুক। তাঁর আফ্রিকা পাড়ির স্বপ্নজয়ের সাক্ষী হলেন উপস্থিত সবাই।

দৌড়ে আফ্রিকা পাড়ি দেওয়ার পেছনে কুকের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল-অসহায় মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আফ্রিকা-যাত্রার পুরোটা সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারী বেড়েছে হু হু করে। সেখান থেকে তিনি জোগাড় করেছেন লাখ ৬৫ হাজার ডলারের বেশি তহবিল। দুর্দশাপীড়িত তরুণদের সহায়তায় এই অর্থ খরচ করবেন তিনি। কিছুটা ব্যয় করা হবে আলজেরিয়ার শরণার্থীশিবিরে শিক্ষা সাংস্কৃতিক প্রকল্পের কাজে।

আফ্রিকা জয়ের অভিজ্ঞতা আগামী দিনের জন্যও সঞ্চয় করে রাখতে চান কুক। এখন তো তিনি তরুণ। একদিন তাঁর জীবনের সাঁঝের বেলা আসবে। কুক বললেন, ‘যখন বয়স হবে, আমি রকিং চেয়ারে বসে থাকব। পাশে নাতি-নাতনিরা দৌড়াদৌড়ি করবে। তখন এই দিনগুলোর গল্প আমার সঙ্গে থাকবে। মন্দ হবে না কিন্তু।


ব্রিটিশ তরুণ   আফ্রিকা মহাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

৩৫শতাংশ তরুণ দেশের নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী: সিপিডির জরিপ

প্রকাশ: ০১:২২ পিএম, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ দেশের নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী। আর নীতি পরিবর্তন হলেই কেবল ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ তরুণ দেশের নেতৃত্বে অংশ নিতে চান।

বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে ‘তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এ তথ্য। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজন শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে যুব সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

জরিপের জন্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর- এই দুই মাসে পাঁচ হাজার ৭৫ জনের মতামত নেওয়া হয়। এরমধ্যে ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ চাকরিজীবী ও ২৮ শতাংশ বেকার। এছাড়া ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ, ২১ দশমিক নারী ও শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী। এই পাঁচ হাজার জনের মধ্যে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের বাস শহরে আর ৪০ দশমিক ৮ শতাংশের বসবাস গ্রামে।

 জরিপের ফলাফলে জানানো হয়, ৬৭ শতাংশ তরুণ কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেননি। ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ও রাজনীতি সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারেন। ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ খবরের কাগজের মাধ্যমে ও রাজনৈতিক আলাপ সম্পর্কে জানতে পারেন। একইভাবে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৭ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ খবর সম্পর্কে জানতে আগ্রহী নন।

জরিপে উল্লেখ করা হয়, ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ তরুণ এখন পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি। যাদের মধ্যে ১৮-২৫ বয়সীর সংখ্যা ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ২৫-২৯ বয়সীর সংখ্যা ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৩০-৩৫ বয়সীর সংখ্যা ২৫ শতাংশ। ৪৬ শতাংশ তরুণ কোনো স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতিতে আগ্রহী নন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার হয়েছেন। ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ তাদের মতামত প্রকাশের জন্য নিগ্রহের স্বীকার।

অপরদিকে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ, যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা মত প্রকাশের জন্য নিগ্রহের স্বীকার হয়েছেন। ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ মনে করেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের মতামত নেওয়া হয় না।

৫৬ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ মনে করেন দুর্নীতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ মনে করেন মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে।

এছাড়া ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ বিদেশে পুরোপুরিভাবে চলে যেতে চান। তবে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ দেশেই থাকতে চান। ৩৫ শতাংশ তরুণ দেশের নেতৃত্বে অংশ নিতে চান। আর নীতি পরিবর্তন হলে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ তরুণ দেশের নেতৃত্বে অংশ নিতে চান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দ্রুততার সঙ্গে আমাদের সমাজে যুবদের সংখ্যা ও অনুপাত বেড়ে চলেছে। এই যুব সমাজের আশা আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমরা কতটা সফল। এই জিজ্ঞাসা বার বার আসছে। সামনে নির্বাচন। সেখানে আমরা যুব সমাজের অংশগ্রহণ দেখতে চাই।

 


তরুণ   সিপিডি   জরিপ   দায়িত্ব   নেতৃত্ব   দৃষ্টিভঙ্গি  


মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

নদী দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পদযাত্রায় রাকিব


Thumbnail

দেশের নদী দখলদারদের উচ্ছেদ ও  নদীর প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করে তালিকা প্রনয়ণের দাবিতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন রাকিব হাসান (২৪)।  রাকিব হাসান কক্সবাজারের  মহেশখালীর শাপলাপুরের ষাইটমারা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। "দুরত্ব ও সীমাবদ্ধতাকে পরাজিত কর" শিরোনামে গত ২০ এপ্রিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা জিরোপয়েন্ট থেকে তিনি এ যাত্রা শুরু করেন। শেষ করবেন টেকনাফ জিরো পয়েন্টে গিয়ে। আগামী ১০ মে তিনি পর্যন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছবেন। ১১ মে  ভোর ৬ টায়  টেকনাফের উদ্দেশ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়ক পথে যাত্রা করবেন। ১২ মে অর্থাৎ ২৪ তম দিনে তিনি টেকনাফ গিয়ে যাত্রা বিরতি শেষ করবেন।

এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়  উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া সীমান্তবর্তী আজিজ নগরে  অবস্থান করছেন। পায়ে হেটে এখন পর্যন্ত সে পথ অতিক্রম করেন ৮৪৫  কিলোমিটার। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত হাঁটেন তিনি। রাতে যেখানে হাঁটা বন্ধ হয়ে যেত, ওই এলাকায় পরিচিত কারও বাসায় পরিচিত না থাকলে হোটেলে, মসজিদে, পেট্রোল পাম্প এর রেস্ট হাউজে রাতযাপন করেন। দূরত্ব ভীতির কারনে কেউ সঙ্গী না হওয়ায় একাকী সে পদযাত্রা শুরু করে বলে জানায় তিনি। রাকিব আরও জানান, এটাই তার প্রথম দীর্ঘ একাকী পদযাত্রা। দুরত্ব ও দিনের হিসেব করে তিনি ২৪ দিনে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন বলে আশা করেন। এবং তিনি একাই ১০০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ  দূরত্ব অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


রাকিব জানান, তিনি একাকী পদযাত্রায় বিচলিত নন। বরং তিনি দেশের নদীর দখল ও নদীর বিলীন হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচলিত। তিনি আরও জানান,, নদী আমাদের দেশের রক্তনালীর মত। দেশে প্রবাহমান সমস্ত নদী এখন শুকিয়ে গেছে। আগামি দশকের মধ্যে অনেক নদী হয়তো মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে। যদি এই সময়ে  সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নদী রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে দেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে। এতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর বিপর্যয় নেমে আসবে। যা তাকে উদ্ধিগ্ন করেছে। তাই তিনি সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েই পদযাত্রার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ঐক্যবদ্ধ  হয়ে  নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ও চেষ্টা করছেন তিনি। 

পদযাত্রার সীমাবদ্ধতার প্রশ্নে রাকিব জানান, প্রথম কয়েকদিন হাটার পর পা ব্যথা ও ফুলে গেলেও এখন তা সুস্থ হয়ে গেছে। এবং তিনি মনোবলের উপর জোর দিচ্ছেন। এতে করে তিনি তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


বাঁচতে হলে মহাশয়, রক্ষা করুন জলাশয়। বাঁচলে নদী বাঁচবে দেশ,আলোর হবে পরিবেশ। দখল দূষণ বন্ধ করি/নদীর মতন জীবন গড়ি। এ স্লোগানকে সামনে রেখে নদী রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান সচেনতন মহলের প্রতি।

বাংলাদেচ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার)  কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, নদী, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে  রাকিবের একক আন্দোলন ও প্রতিবাদ অনন্য  দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যে বার্তা দিচ্ছেন এতে নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে  নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবেন।তার এই  কাজে সবার সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে নদী রক্ষায়  দেশবাসীকে সচেতন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, নদী,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে তাঁর এ পদ যাত্রা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২৪ বছরের এ যুবক   একজন শিক্ষার্থী। তাঁর দেশপ্রেম, অদম্য সাহস ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

সোলো এক্সপিডিশনে ইয়ালা পিক'র চূড়ায় বাংলাদেশের তানভীর

প্রকাশ: ১২:৫২ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৩


Thumbnail

(পর্ব-১)

স্বপ্নের নেপাল। হিমালয়ের কন্যা সে। সাদা সুউচ্চ পর্বত একে তুষারের শুভ্রতা দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখে গভীর আর মৌন সৌন্দর্যে। আর তাই যারা পাহাড় ভালোবাসেন, উচ্চতাকে ভালোবাসেন তাদের কাছে হিমালয় হলো স্বর্গ

এক একটা পাহাড় জয় করা যেনো পাহাড়প্রেমীদের কাছেও স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নপূরণ করতে বাংলাদেশের থেকে যাত্রা করেন মোহাম্মদ তানভীর আলম। ছুয়ে আসেন ইয়ালা পিকের শিখর। ল্যাংটাং রিজিয়নের ইয়ালা পাহাড়ের উচ্চতা ৫৫২০ মিটার বা প্রায় ১৯ হাজার ফুট। সেই গল্প ও নেপাল পৌছানোর পর তার দিনলিপি নিয়ে লিখেছেন আমাদের কাছে।  তার গল্প আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো দুইটি ভিন্ন পর্বে। আজকের পর্বে থাকছে সেই গল্পের একাংশ।

৩০.১০.২২, দিন ১

সকাল ৬ টায় বাসা থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার মাধ্যমে অভিযানের যাত্রা শুরু। কোন গাইড ছাড়া নিজের প্রচেষ্টায় নেপালের লাংটাং রিজিওনে ৫,৫০০ মিটার উচ্চতার ট্রেকিং চূড়া ইয়ালা পিক সামিট এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

১২:৩০: ত্রিভূবন এয়ারপোর্ট, কাঠমান্ডু থেকে বের হয়ে হোটেল এর উদ্দেশ্যে ট্যাক্সি নিলাম। হোটেল ফ্লোরিড আজকের অস্থায়ী ঠিকানা। হাতে সময় না থাকায় ঢাকা থেকেই হোটেল বুকিং করে এসেছিলাম।যদিও রূম পছন্দ হয়নি কিন্তু ওদের নীচতলায় যে রেষ্টুরেন্ট তার জন্য হোটেল এর পিছনে খোলা উঠানে বসার ব্যবস্থাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ওদের রিসেপশনে ছোট্ট একটা লাইব্রেরী বা বইয়ের সংগ্রহ আছে। হোটেল এর লোকেশনটা অবশ্য অনেক ভালো, কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্র থামেলের জেড স্ট্রীটে এটির অবস্থান। এবং হোটেল মালিক মিঃ দিপক খুবই আন্তরিক। বাজেট হোটেল হিসেবে হোটেলটি ভালো।

সন্ধ্যায় কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করে ও স্লিপিং ব্যাগ ভাড়া নিয়ে রূমে ফিরে ব্যাকপ্যাক গোছানো শুরু করলাম। কালকে সকালে বাস ধরতে হবে।

৩১.১০.২২, ২য় দিন
গন্তব্য সায়াব্রুবেসি