ইনসাইড আর্টিকেল

ধীরেনন্দ্রনাথ দত্তের ১৩৬তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০৯ এএম, ০২ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, প্রথম সারির ভাষা সংগ্রামী শহীদ ধীরেনন্দ্রনাথ দত্তের ১৩৬তম জন্মদিন আজ।  তবে তার পরিচিতি মূলত একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে। এই মহান ব্যক্তিত্বের আজ জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের এইদিনে  তৎকালীন ত্রিপুরা, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই কর্মবীর। তার বাবা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন কসবা ও নবীনগর মুন্সেফ আদালতের সেরেস্তাদার। তিনি পড়াশোনা করেছেন কুমিল্লা এবং কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।

একজীবনে দুটি স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন ধীরেনন্দ্রনাথ দত্ত। এগুলো হচ্ছে- ব্রিটিশশাসন-বিরোধী সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির সঙ্গে বাংলাকে মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। সে থেকেই পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত। অধিবেশনের শুরুতে আলোচনার সূত্রপাত করে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছিলেন, বাংলা একটি প্রাদেশিক ভাষা হলেও সমগ্র পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ লোকের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাঙালি। এরই ধারাবাহিকতায় রক্তঝরা সংগ্রামের পর বাংলা হয় রাষ্ট্রভাষা। 

মানুষ, মানুষের অধিকার আর মাতৃভূমির প্রতি নিবেদিত এই ব্যক্তিকে এই আদর্শ ও বিশ্বাসের জন্য মূল্যও দিতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্ররা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য পতাকা উত্তোলন করে। এরপর তিনি নিজ হাতে কুমিল্লার বাড়িতেও তুলেছিলেন পতাকা। এর কয়েকদিন পর তার রক্তে সিঞ্চিত হয় দেশের মাটি। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ ছোট ছেলে দিলীপকুমার দত্তসহ তাকে তুলে নিয়ে যায় পাক বাহিনীর সদস্যরা। তাদেরকে ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। যদিও হত্যার সঠিক দিনটি জানা যায়নি। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাংলা ভাষার বিপদ সঙ্কেত ইংরেজি মাধ্যম!

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail বাংলা ভাষার বিপদ সঙ্কেত ইংরেজি মাধ্যম!

দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলণ হওয়ার কথা থাকলেও- কথা কেবল কথাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বাংলা ভাষার সর্বস্তরে ব্যবহারের বিভিন্ন রকম বুলি কেবলমাত্র আমরা এই মাসেই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি এলেই শুনে থাকি। প্রকৃতপক্ষে বাঙালির ভাষা চেতনার মাস ফ্রেব্রুয়ারি চলে গেলেই এসব আওড়ানো বুলি সময়ের বিবর্তণে বৃহদ্রন্ত্রের গহ্বরে হারিয়ে যায় এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সেই কথাও আমরা ভুলে যাই। ফলে বাংলা ভাষার জন্য একটি বিপদ সঙ্কেত বিরাজ করে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোসহ সকল ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের জয়জয়কার আমরা দেখে থাকি। কিন্তু বাংলা ভাষার জন্য বলীদান দেওয়ার যে ইতিহাস, তা বিশ্বের আর কোনো দেশের ইতিহাসে নেই। তথাপিও সর্বক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলা ভাষার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাংলা ভাষার জন্য বিপদ সঙ্কেত ইংরেজি মাধ্যম।

এই ফেব্রুয়ারি মাসেই সর্বক্ষেত্রে বাংলাকে প্রকৃত অর্থেই প্রচলিত করার উদ্দেশ্যে জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিজীবি, প্রথিতযশা নেতা, আমলা, ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী- সকলের বাচনে নানামুখী অঙ্গীকার আমরা প্রত্যক্ষ রূপেই শ্রবণ করি। এসব ভাষাগত শৌর্য-বীর্যের বাংলা শব্দভাণ্ডারের কথামালা কেবল এ মাসেই- এই ফেব্রুয়ারিতেই। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষণ এখন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। যেসব পণ্ডিত ব্যক্তিরাই এ মাসে ফাঁকা বুলি আওরে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, তারাই আবার নিজের কৃতিত্ব প্রকাশের জন্য আপন সন্তানকে ভর্তি করছেন ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে। আবার বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনের সামনে নিজের স্ট্যাটাস প্রকাশের জন্য বলছেন, ‘আমার ছেলেকে তো অক্সফোর্ডে ভর্তি করেছি। সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলা ভাষা প্রচলণ উদ্যোগ নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে নামফলকের উপরে ৬০ ভাগ বাংলা ও নিচে ৪০ ভাগ অন্য যে কোনো ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিল। এ ধরনের বাংলা ভাষার প্রচলণ কাসুন্দি আর কতদিন পর্যালোচনার বিষয় হবে- এটাই আজ দেশবাসীর প্রশ্ন।

এটি সর্বজনবিদিত যে, ভাষাভিত্তিক জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে হাজার বছরের বহু আগে। ইংরেজি, ফরাসি বা জার্মান ভাষার মতো বাংলা ভাষার ইতিহাস প্রায় দশম শতক থেকেই ঐতিহ্যমণ্ডিত। মূলত মানব সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদান সৃষ্টির পটভূমিতে রয়েছে অবস্তুগত জ্ঞান-বিজ্ঞানেরই ধ্যানধারণা। অবস্তুগত সংস্কৃতির প্রধান উপকরণ হিসেবে ভাষা মানুষের মনোজগতের ভাব-কল্পনা, সাহিত্য-শিল্পকলা ইত্যাদির অপার্থিব ঐতিহ্যের ধারক-বাহকরূপে চিহ্নিত।

যেহেতু অন্য প্রাণীর কোনো ভাষা নেই, তাই তাদের সংস্কৃতিও নেই। একমাত্র ভাষার কারণে মানুষ সংস্কৃতিমান হতে পেরেছে, সাহিত্য সংস্কৃতির অনুসারী হতে পেরেছে। বিজ্ঞজনের মতানুসারে, এ উপমহাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা বাংলা এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় আসীন করার লক্ষ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এ উপমহাদেশে দ্বিতীয় নবজাগৃতির সূচনা করেছিল।

বাঙালি জাতির মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বিশাল আত্মত্যাগের মহিমা শুধু বাঙালি জাতির, তাই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গ্রহণ করে সমগ্র বিশ্ব আজ গৌরবদীপ্ত হয়েছে। খ্যাতিমান ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতানুসারে- ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে এর প্রকাশকালকে যদি চিহ্নিত করা হয়, তাহলে এ ভাষার সমৃদ্ধির ইতিহাস প্রায় চৌদ্দ শ বছরের। বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ, বিকাশ ও প্রসারে এ ভাষার অবদান শুধু ঐতিহ্যমণ্ডিত নয়, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে জাতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ ভাষার অবদান এক অসাধারণ চেতনায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে দীর্ঘ সংগ্রামের পথপরিক্রমায় প্রাণশক্তিতে পরিপুষ্ট হয়ে মাতৃভাষা বাংলা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের শক্ত ভিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একুশের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক নীতিগুলো তথা জাতিসত্তার সংবিধানসম্মত প্রধান চার স্তম্ভ- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে জাতি তাদের সামগ্রিক আর্থসামাজিক- সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মাতৃভাষা বাংলাকে প্রায়োগিক অর্থে যথাযথ মূল্যায়ন না করে এবং সর্বত্র এর বিকাশমানতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি অথবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে আমাদের তৎপরতা কোনোভাবেই জাতির সামষ্টিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না। মাতৃভাষার মাধ্যমে সব স্তরে এবং সব জনপদে শিক্ষাকে যদি কার্যকরভাবে জনপ্রিয় করা না যায়, তাহলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং এর প্রাসঙ্গিক উন্নয়ন নিয়ামকগুলোর তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বাংলা ভাষা বিপদগ্রস্ত, বাংলা ভাষার জন্য বিপদ সঙ্কেত ইংরেজি মাধ্যম- এ রকম একটা কথা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব শোনা যাচ্ছে। তবে ইংরেজি ভাষা বা অন্য ভাষাকে আমরা শিক্ষার আওতায় আনবো না, ঠিক তেমনটি নয়। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু বাংলাদেশ হিসেবে, প্রাধান্যতার দিক বিবেচনা থেকে বাংলা ভাষার ব্যবহার এদেশের সকল ক্ষেত্রে হওয়া অত্যাবশ্যকীয়। আমার সন্তান ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, কিন্তু বাংলা তার শেকড়, সেই শেকড়কেই সে ভুলে গেছে। ভুলে গেছে গর্বিত বাঙালির ভাষা অর্জনের ইতিহাস, তবে এই বলীদানের মূল্য কি?

বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য পুরোধা ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনিও বাংলা ভাষার বিপদ নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এটি একটি অত্যন্ত পুরোনো উদাহরণ। বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘বাঙালি ভদ্রলোক সন্তানরা পরস্পর কথা বলে ইংরেজিতে, চিঠিপত্র লেখে ইংরেজিতে এবং হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন লোকে দুর্গাপূজার আমন্ত্রণপত্রও ইংরেজিতে লিখবে।

ঔপনিবেশিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি সে সমাজে প্রতাপশালী ছিল। দেশীয় অভিজাতরা সে প্রতাপ কার্যত মেনে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ইংরেজির প্রভাব-প্রতিপত্তি আজকের দিনে বঙ্কিমের সময়ের চেয়ে সম্ভবত কম নয়। এখন ঔপনিবেশিক শাসন না থাকলেও উপনিবেশিত মন আছে। বাইরের টানের চেয়ে মনের টান সাধারণত শক্তিশালী হয়। তবে ভাষা প্রশ্নে সে যুগের সঙ্গে আমাদের- এ কালের পার্থক্যও আছে। বঙ্কিমচন্দ্ররা বাংলায় বিচার-সালিস করতে পারতেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারতেন না। কিন্তু তাঁরা মনে করতেন, বাংলায় এ কাজগুলো করা যায় এবং করা দরকার। আজকাল বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক মহলগুলো বিপরীত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাঁরা মনে করছেন, বাংলায় এ কাজগুলো কোনোমতে করা হয়তো যায়, কিন্তু করাটা ভালোও নয়, লাভজনকও নয়। এই যে ধারনাটা মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে ওপরের শ্রেণিগুলোতে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, যাচ্ছে, তা-ই আসলে বাংলা ভাষার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ সঙ্কেত।

কিন্তু বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের যে বড় অংশটা বাংলা ভাষার সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তাঁরা এ কথাটা বলেন না। তাঁরা প্রধানত ভাষা-মিশ্রণের কথা বলেন, ‘উচ্চারণ-বিকৃতির কথা বলেন এবং বিশেষভাবে বলেন, ‘প্রমিত-বিচ্যুতির কথা। তাঁরা এসব ‘দুরবস্থাকেই বাংলা ভাষার বিপদ বলে সাব্যস্ত করেছেন। ফরাসি ভাষার অধ্যাপক ও ভাষাতাত্ত্বিক শিশির ভট্টাচার্য্য ২০১৭ সালের দিকে ‘বাংলা ভাষা: প্রকৃত সমস্যা ও পেশাদারি সমাধান- বইয়ে বাংলা ভাষার বিপদ সঙ্কেতের এই ব্যাপারটার পর্যালোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, ভাষা-মিশ্রণ এবং ভাষার বিবর্তন যে কোনো ভাষার খুব স্বাভাবিক নিয়তি। যদি বিশেষ শ্রেণি-পেশার স্বেচ্ছাকৃত-আরোপিত বিকৃতি সমস্যার কারণ হয়ও, তা খুবই গৌণ, মুখ্য নয়। প্রশ্ন হলো, এ ধরনের একটা গৌণ ব্যাপারকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজ বড় বিপদ হিসেবে দেখছে কেন?

প্রকৃতপক্ষে ভাষার বিবর্তন এখানে মুখ্য বিষয় নয়। বাচনভঙ্গি এবং উচ্চারণগত দিক থেকে অন্যান্য ভাষার বিবর্তন হলেও বাংলা ভাষার বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ভাষার বিবর্তনটা খুবই অপ্রাসঙ্গিক। কেননা এখানে ভাষার ব্যবহারটা প্রাসঙ্কিক বিষয়। অঞ্চলভেদে ভাষার বিবর্তন দেখা গেলেও বাংলাকে মূলত মায়ের মুখের ভাষা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু মা যদি সন্তানকে জন্মের পর থেকে মাম্মি, পাপা, ডেডিতে অভ্যস্থ করে তুলে বিলেতি কায়দায় বড় করে তুলতে চায়, তাহলে বাংলা ভাষা অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে এবং তাই হচ্ছে। যে কারণেই বাংলা ভাষার বিপদ সঙ্কেত ইংরেজি মাধ্যম।   

বিন্দু থেকে বৃত্ত। যদি বিন্দুটাই না থাকে তবে বৃত্তটা হবে কিভাবে? ভাষার বিপদ আসলে মানুষেরই বিপদ। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বঞ্চনা। দ্বিতীয় ভাষা রপ্ত করে কাজ চালানোর জন্য শ্রম দিতে হয়। বিপুল সময় ব্যয় করতে হয়। যে শ্রেণির পক্ষে তা করা সম্ভব, তা তারা করছে। করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পক্ষে তো এ পরিমাণ সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। ফলে বাংলাদেশের ভাষানীতি বিদ্যমান শ্রেণিগত অসাম্যকে রীতিমতো জোরালো করেছে। এটা গণতন্ত্রবিরোধী এবং রাষ্ট্রের সুষম উন্নয়নের অন্তরায়ও বটে। বাংলাদেশে বাংলা ভাষা প্রচলনের পক্ষে যাঁরা সাফাই গান এবং তৎপরতা চালান, তাঁরা রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামগ্রিক দিক থেকে ভাষাকে দেখেন না। যদি দেখতেন তবে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং বিচরণ আমরা প্রত্যক্ষ করতাম। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখতে হলে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। বাংলা ভাষার বিপদ সঙ্কেত মুছে দিতে হলে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করাসহ তা পর্যবেক্ষণের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা উচিত বলেই মনে করছেন বিজ্ঞজনরা।


বাংলা ভাষা   ইংরেজি মাধ্যম   বিপদ সঙ্কেত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আগুনঝড়া ফেব্রুয়ারি শুরু, প্রতিরোধ ও জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আজ ১লা ফ্রেব্রুয়ারি, শুরু হলো ভাষার মাস। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী ঢাকার রাজপথ ছিল উত্তাল। ঢাকার রাজপথে সেদিন যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের অমলিন স্মৃতি স্মরণের মাস এই ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতির কাছে এই মাস ভাষার মাস, এই মাস দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার মাস, এই মাস মায়ের মুখের ভাষা ছিনিয়ে আনার মাস। যে কারণেই বাঙালি জাতি নানা আয়োজনে পুরো ফ্রেব্রুয়ারি মাসজুড়েই ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানায় মহান ভাষা শহীদদের প্রতি।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’- আজ থেকে শুরু হলো রক্তে রাঙানো সেই ভাষা আন্দোলনের মাস। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির সেই আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তারই পথ ধরে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। 

ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে যেমন শোকের মাস, অন্যদিকে তেমনি গৌরবোজ্জ্বল মাস। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালি একমাত্র জাতি, যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে বাংলা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। ভাষার জন্য বাংলার দামাল সন্তানদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। এর মধ্যদিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এখন বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে নানা কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আবার হয়ে উঠবে জমজমাট।

অন্যদিকে মহান একুশের এ মাসের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ মাসব্যাপী বইমেলাও শুরু হচ্ছে আজ।

আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শৌর্য-বীর্য যেন ধপ করে জ্বলে উঠে এ মাসেই। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফাগুনের আগুনঝড়া দিনগুলোতে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায়। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসীর কাছে অবাক বিস্ময় হয়ে ওঠে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সঙ্গে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আম্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন।

১৯৫২ সালে যে আগুন রাজধানী ঢাকার বুকে জ্বলে উঠেছিল, তা ক্রমান্বয়ে শহর থেকে গ্রাম, সে আগুন যেন ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে, গ্রামে-গঞ্জে সবখানে। প্রাণে প্রাণে ধ্বনিত হতে থাকে, যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে- সবখানে- সবখানে। বাঙালির বুকের ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন যেন সহস্র- লক্ষ-কোটি বাঙালির মধ্যে প্রবাহিত হতে থাকে বিদ্যুৎগতির মতো, যেন ত্বরিৎ প্রবাহ শুরু হয় বাঙালির শিরা-উপশিরা আর ধমনীতে। যার প্রবাহ এসে শেষ হয় ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম নতুন এক বাংলাদেশ।

বায়ান্নর আগুনঝরা সে দিনগুলো বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে, থাকবে এবং অমলিন হয়ে রবে সেই ভাষা শহীদদের স্মৃতি। কি এক তেজোদ্দীপ্ত  প্রেরণা, ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিল বাঙালি ছাত্র-জনতা! প্রতি বছরের মতো আবারও এসেছে ভাষার মাস। ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি এই দেশের মানুষের চেতনায় এক অনির্বাণ বাতিঘর। এই আলোর স্পর্শে অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার এবং প্রবল দেশাত্মবোধের অন্যরকম এক আবেগ ও উদ্দীপনায় জেগে ওঠেছিল সর্বস্তরের মানুষ।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:

পাকিস্তানের জন্মের সাত মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন তার জীবনের প্রথম ও শেষবারের মত পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন- তিনি হয়তো ভাবেন নি যে, সেখানে তার উচ্চারিত কিছু কথা এক সময় তারই প্রতিষ্ঠিত নুতন দেশটির ভাঙন ডেকে আনতে ভুমিকা রাখবে। জিন্নাহ তখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি এবং মুসলিম লীগেরও সভাপতি ছিলেন।

নয় দিনের পূর্ববঙ্গ সফরে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি সভায় বক্তব্য দেন। ঢাকায় প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে- যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হিসেবে পরিচিত। এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু - অন্য কোন ভাষা নয়।

ইংরেজিতে দেয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “আমি খুব স্পষ্ট করেই আপনাদের বলছি যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, এবং অন্য কোন ভাষা নয়। কেউ যদি আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে সে আসলে পাকিস্তানের শত্রু।”

কয়েকদিন পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রদের সামনে আরো একটি ভাষণ দেন। সেখানেও একই কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রদেশগুলো নিজেদের সরকারি কাজে যে কোন ভাষা ব্যবহার করতে পারে- তবে রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে একটিই এবং তা হবে উর্দু। ইংরেজিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উর্দু এণ্ড উর্দু সেল বি স্টেট ল্যাংগুয়েজ অব পাকিস্তান।’ 

এই কথাটি বলার সাথে সাথেই কার্জন হলের কয়েকজন ছাত্র 'না' 'না' বলে চিৎকার করে সে সময় প্রতিবাদ করেছিলেন। ফলে এ সময় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকার পর তিনি আবারও বক্তব্য শুরু করেছিলেন।

জিন্নাহ ঢাকায় এসব কথা বলেছিলেন বিশেষ এক প্রেক্ষাপটে। তার ঢাকা সফরের আগেই পূর্ববঙ্গে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেখা যায়, নতুন দেশের ডাকটিকিট, মুদ্রা, মানি-অর্ডার বা টাকা পাঠানোর ফর্ম, ট্রেনের টিকেট, পোস্টকার্ড- এগুলোতে শুধু উর্দু ও ইংরেজি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশও করেছিলেন।

পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত উর্দুভাষী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাঙালি কর্মকর্তাদের প্রতি বিরূপ আচরণের অভিযোগ ওঠে। একই রকম মনোভাবের শিকার হন পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি কর্মকর্তারাও। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও সরকারি চাকরিতেও ছিল অবাঙালিদের প্রাধান্য। পরে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তান থেকে নৌবাহিনীতে লোক নিয়োগের ভর্তি পরীক্ষাও হচ্ছে উর্দু ও ইংরেজিতে। সে সময় এ নিয়ে আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদিত পত্রিকা ‘দৈনিক ইত্তেহাদ’-এ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছিল।

জিন্নাহ যেদিন কার্জন হলে ভাষণ দেন- সেদিনই বিকেলে তার সাথে দেখা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি দল । এ সময় ভাষা নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক প্রায় ঝগড়াঝাটির স্তরে পৌঁছে যায়। এ সময় জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপিও দেয় ছাত্রদের দলটি। তাতে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয় এবং কানাডা, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডের মত একাধিক রাষ্ট্রভাষা আছে এমন কিছু দেশের উদাহরণ দেয়া হয়। এই ছাত্র নেতারা অনেকেই ছিলেন জিন্নাহর দল মুসলিম লীগের। কিন্তু ভাষার প্রশ্নে পূর্ব বঙ্গের প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশ কেন্দ্রীয় নেতাদের চাইতে ভিন্ন ভূমিকা নিয়েছিল।


ভাষা আন্দোলন   পটভূমি   ফেব্রুয়ারি   ভাষা   ভাষার মাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

চমেক হাসপাতালে সেবা, শয্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

৬৬ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ছয় দশকে ধীরে ধীরে শয্যা বাড়লে ও জনবল কাঠামো রয়ে গেছে ৫ দশকের আগের মতো। সেই পাঁচশো শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সেখানেও রয়েছে ঘাটতি। ৫শ’ শয্যার জন্য চমেকের অনুমোদিত ২ হাজার ৩৪৭ পদের বিপরীতে শূন্যপদ রয়েছে ৩২৮টি। চিকিৎসক, নার্সের ঘাটতি ছাড়াও হাসপাতালে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অভাব। তবে লোকবলের ঘাটতি থাকলেও গত দুই বছরে বেড়েছে সেবার পরিমাণ। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে হাসপাতালের লোকবল বাড়াতে একের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রতিবারই আড়ালে রয়ে যাচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদের শূন্যতার বিষয়টি। 

চমেক সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর অর্থাৎ ২০২১ ও ২০২২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হার বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। বড় অপারেশনের হার বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ছোট অপারেশনের হার বেড়েছে ২৩২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বর্হিবিভাগে রোগীর হার বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগী বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কিন্তু সে অনুপাতে হাসপাতালে লোকবল রয়েছে ২ হাজার ১৯ জন। অর্থাৎ ২ হাজার ১৯ জন লোকবল দিয়ে চলছে ২ হাজার ২০০ শয্যার চমেক হাসপাতাল। যেখানে এ শয্যার বিপরীতে লোকবলের প্রয়োজন ছিল আরও চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তারমধ্যেও পাঁচশো শয্যার বিপরীতে থাকা লোকবলেও ঘাটতি রয়েছে।  

চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৬০টি আর লোকবল রয়েছে ৩৩০ জন। পদ খালি রয়েছে ৩০টি যা ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দন্ত চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৪টি। লোকবল আছে ২০টি। এখনো চার জন দন্ত চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে। যা শতকরায় ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। নার্সের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ২৫৩টি। আর হাসপাতালে নার্স রয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। আরও ৫২ জন নার্সের ঘাটতি রয়েছে হাসপাতালটিতে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ রয়েছে ৪৪টি কিন্তু লোকবল রয়েছে ৩৩টিতে। আরও ২৫ শতাংশ বা ১১টি পদ খালি রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত ৫৬৫টি পদের মধ্যে ১৮৫টি শূন্য রয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক ও অন্যান্য পদের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৪৮টি। কিন্তু শূন্যপদ রয়েছে ১৯৩টি। তারমধ্যে অফিস সহায়কের পদ খালি রয়েছে ১১৭টি ও ক্লিনারের ২২টি। অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামের সরকারি এ হাসপাতালের পদ খালি রয়েছে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। 

এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০২১ সালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার ৯১২ জন। প্রতিমাসে ১৭ হাজার ৪৯৩ জন। ২০২২ সালে সে হার ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ১২২ জন। আর প্রতি মাসে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৫৯৪ জন। ২০২১ সালে বড় অপারেশন করা হয়েছে ১৫ হাজার ৪২৫টি। প্রতি মাসে অপারেশন হয় ১ হাজার ২৮৫টি। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে বড় অপারেশনের হার ৭৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৪৯২টি। যা প্রতি মাসে গড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৯১টিতে। একইভাবে ২০২১ সালে চমেকে ছোট অপারেশন হয় ১৯ হাজার ১৪৪টি। প্রতি মাসে ছোট অপারেশন হয় ১ হাজার ৫৯৫টি। এর পরের বছর ২০২২ সালে ছোট অপারেশনের হার বেড়েছে ২৩২ দশমিক ৯৬ শতাংশ যা সংখ্যায় ৬৩ হাজার ৭৪২টি। প্রতি মাসে ছোট অপারেশনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩১২ জনে। গত দুই বছরে ভর্তি রোগীর পাশাপাশি বর্হিবিভাগেও বেড়েছে রোগীর হার। ২০২১ সালে বর্হিবিভাগে রোগী ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৯৮৯ জন। প্রতিমাসে ৫০ হাজার ৭৪৯ জন রোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয়। পরের বছর ৩৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ রোগীর হার বেড়ে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৮ জন। প্রতি মাসে যা ছিল ৭০ হাজার ৫৩০ জনে। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগেও রোগী বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২১ সালে জরুরি বিভাগে রোগী ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২২ জন। যা প্রতি মাসে ১৯ হাজার ৯৯৩ জন রোগী। ২০২২ সালে সে সংখ্যা প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৪৮২ জন করে বছরে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৮ জন। 

অন্যদিকে, গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৬৮৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রতিদিন ২ হাজার ৩৫১ জন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রতিদিন ৮১৬ জন করে। তারমধ্যে প্রতিদিন বড় অপারেশন করা হয়েছে ৭৬ জন রোগীর এবং ছোট অপারেশন করা হয়েছে ১৭৭ জনের। 

জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম হাসান  বলেন, ‘পাঁচশো শয্যার জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়াটা কঠিন হয়ে যায় আমাদের জন্য। তারপরেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আরও চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দিতে হলে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করতে হবে। আমরা একটি নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ করছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে বেশি। এরপরে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। এখন যে কম  আছে সেটা আমাদের পাঁচশো শয্যার জনবলের হিসেবে। এখন আমাদের হাসপাতাল ২২শ’ শয্যার অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি। বিষয়গুলো আমরা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এর বাইরে আমরা চাইছি যে আমাদের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির যেসকল কর্মচারীরা আছেন তারা যদি প্রশিক্ষিত হয় তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। আমরা আরও উন্নত সেবা দিতে পারবো রোগীদের।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৫৭ সালে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম শহরের কেবি ফজলুল কাদের রোড অর্থাৎ বর্তমান ঠিকানায় এটি স্থানান্তরিত হয়। যেখানে শুরুতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ছিল মাত্র ১২০। পরবর্তীতে হাসপাতালটিকে ১৯৬৯ সালে ৫০০ শয্যায়, ১৯৯৬ সালে ৭৫০ শয্যায়, ২০০১ সালে ১ হাজার ১০ শয্যায়, ২০১৩ সালে ১ হাজার ৩১৩ শয্যায় এবং ২০২২ সালের জুনে ২ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।


চট্টগ্রাম মেডিকেল   জনবল   সেবা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

গরুর বদলে মই টানছে মানুষ


Thumbnail

জমি চাষের সঙ্গে গরু ও মহিষের সম্পর্ক আদিকাল থেকেই। সাধারণত কৃষিজমিতে গরু দিয়ে টানা লাঙলে জমি চাষ ও মই দিয়ে চাষের জমি সমান করে ফসল ফলানো হয়।  

কিন্তু, বোরো খেতে গরুর বদলে মই টানছে মানুষ। এমনই চিত্র দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে। 

কথা হয় বোরো খেতে গরুর বদলে মই টানতে থাকা কৃষক আজিবর রহমানের (৬০) সাথে। তিনি বলেন, এক সময় এ এলাকার কৃষকদের ঘরে ঘরে গরু, জোয়াল এবং লাঙলসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ছিল। সাধারণত কৃষি জমিতে গরু দিয়ে টানা লাঙলে জমি চাষ ও মই দিয়ে চাষের জমি সমান করে ফসল লাগানো হয়ে থাকে। কিন্তু, আধুনিক যুগে চাষের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। কৃষকদের জমি চাষের সাথে গরু ও মহিষের সম্পর্ক সেই আদিকাল থেকেই ছিল। বর্তমানে হালের বলদ না থাকায় ছেলেকে নিয়ে খেতে মই টানছি। এছাড়া ১ বিঘা জমিতে গরু দিয়ে মই টানতে প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয় আর লাঙলের এক দিনের মুজরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২'শত টাকা খরচ হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইরি ধান জমিতে চাষ আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এলাকায় হালের বলদ অমিল হওয়ায় নিজেদের খেতের মই টানতে হচ্ছে। এক সময় হাল চাষের জন্য প্রত্যেক কৃষকের ঘরে গরু, লাঙল ও মই থাকত। সময়ের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়া এখন গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে গেছে। এখন ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযুক্তির পাশাপাশি জমি দ্রুত তৈরিতে গরু টানা লাঙল ও মইয়ের পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে গরুর টানা লাঙল, মই এখন নাগেশ্বরীতে তেমন একটা চোঁখে পড়ে না। হালের বলদ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আধুনিক যন্ত্র দিয়ে দ্রুত জমি চাষ হওয়ায় এখন গরুর লাঙল, জোয়াল ও মই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গরুর বদলে বিকল্প হিসেবে মানুষ মই টেনে জমি সমান করে নিচ্ছে। 

ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম (৪৫) জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গরুর লাঙলে চাষ অনেকটা কমে গেছে। যে কারণে কৃষকদের বিকল্প পথে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে গরুর টানা লাঙল, মই এখন তেমন একটা চোখে না পড়লেও ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা জমির উঁচু-নিচু অংশ বা চাকার দাগ সমান করতে গরুর পরিবর্তে মই টানছে মানুষ। মইয়ে হালকা কিছু ওজন দিয়ে তা দু'জন কিংবা একজন টেনে জমির প্রয়োজনীয় অংশ দ্রুত সমান করা যায়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

গড়তে হবে মেয়েশিশু সংবেদনশীল সমাজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

প্রতিদিনই মেয়ে শিশুর প্রতি নির্যাতনের ধরণ পাল্টাচ্ছে। এখন যে সকল মেয়ে শিশুরা সহিংসতার স্বীকার হচ্ছে, হয় তাদের বাবা প্রবাসী, না হয় বাবার সঙ্গে বিরোধে মেয়েকে হয়রানি। আবার এমনও দেখা যাচ্ছে স্কুল কিংবা কলেজের নিরাপত্তা প্রহরীর অল্লীল কথা-বার্তার স্বীকার হচ্ছে। বাদ পরছে না শিক্ষকের যৌন হয়রানির হাত থেকে। আর ভার্চুয়াল জগতে হয়রানির অন্ত নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি হ্যাক করা, পাসওয়ার্ড চুরি করে অ্যাকাউন্টের দখল নেওয়া (আইডি হ্যাক)। পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের জের ধরে বা অন্য কোনোভাবে প্রাপ্ত ছবি, ভিডিও বা তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কোনো সুবিধা আদায় বা টাকা দাবি করা। অল্লীল শব্দ, লেখা, ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে হয়রানি। 

ফলে নারী শিশুরা সর্বত্রই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভাবতেও অবাক লাগে বাড়ির সদস্য বা আত্মীয় অথবা প্রতিবেশীর দ্বারা মেয়ে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের সাথে শারীরিক বিষয়ে কথা বলা, অশ্লীল ছবি দেখানো কিংবা তাদের শরীরে অথবা আপত্তিকর জায়গায় স্পর্শ করে তাদের মানসিক জগতটাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। ইদানীং একটা বিষয় ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। ১০ থেকে ১২ বছরের কিশোরীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে। ফলে বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পারায় কিশোরীদের মৃত্যুও হচ্ছে। এছাড়াও অবহেলার কারণে নারী শিশুর বেঁড়ে উঠার পর বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে। তাদের মানসিক ভাবনা ও আচার-আচরণগুলো বাবা-মায়ের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। ফলে কারো সাথে কথা বলা বা বন্ধুত্ব তৈরি করা কোনভাবেই সেই শিশুটির পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। বড় হয়েও শিশুদের মতো আচরণ করতে থাকে। পরিবার ও সমাজের অজান্তে তারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়েই যাচ্ছে। আর এই অবলা নারী শিশুদের শিকার করে এক শ্রেণীর পৈশাচিক শ্রেণীর নর মানুষ সমাজটাকে কলুষিত করে যাচ্ছে। আর যাই হোক না কেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু নারী শিশু। দিনের পর দিন সমাজটাকে নারীর বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে তারা। 

এই ধরনের বর্বরোচিত কর্মকা-গুলো বন্ধ করতে হবে মূল থেকে। দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। দরকার হলে এই বর্বরগুলোকে বর্বর মূলক শাস্তি দিতে হবে। শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বন্ধে অভিভাবক, পরিবার, সমাজ সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি পরিবারে সুশিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি। সর্বোপরি নারী সত্তাকে স্বীকৃতি দিয়ে সব ক্ষেত্রে তাদের মতামতের বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের যথাযথ অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে শিশুদের জীবনের মান উন্নয়ন, নারী শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বেশী-বেশী করে বাস্তবায়ন করা দরকার। সরকার জাতীয় শিশু নীতি ও নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করেছে। গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ, নির্যাতন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলেও এখনো প্রত্যাশিত হারে কমেনি। তাই নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্যাতন ও নিপীড়ন মুক্ত সমাজব্যবস্থা। সেই সঙ্গে শিশুর প্রতি আপনজনসহ সবাইকে মানবিক আচরণ করতে হবে পাশাপাশি শিশুর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নারী শিশুরা নিরাপদ থাকুক। সব স্তরে একটি কার্যকর শিশু সু-রক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মা-বাবা, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, সমাজকর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। নারী শিশু সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। শিশুদের অধস্তন করে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। শিশুদের সম্মান করার বিষয়টি বড়দের শেখা উচিত ॥


মেয়েশিশু   নারী নিরাপত্তা   যৌন হয়রানি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন