ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের বিভক্তি এবং একলা চলো নীতি

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০২ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ তার রাজনীতির ইতিহাসে সব চেয়ে সময় কাটাচ্ছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় চতুর্থ মেয়াদে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে দলটি। কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের সামনে নেই বললেই চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রুটিন কিছু চ্যালেঞ্জ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো এই মুহূর্তে কোন শক্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য এরকম পরিস্থিতিও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে অতি আত্মবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন মনে করছেন যে, তাদের জন্য ক্ষমতা চিরস্থায়ী। 

অনেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না এরকম একটি চিন্তাভাবনা থেকে অনেকে তাদের দুঃসময়ের বন্ধু বা সাথীদেরকেও অবজ্ঞা অবহেলা করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেন কিছুতেই থামছে না। অনেকেই মনে করছেন যে, সারা দেশে আওয়ামী লীগ দুই তিনভাগে বিভক্ত এবং এই বিভক্তি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সামনের দিনগুলোতে সাংগঠনিক ভাবে দলটি দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে আওয়ামী লীগের জন্য সেটি কোন বড় সমস্যা না। 

সংগঠন শক্তিশালী রাখতে হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য। যারা বিরোধী দল তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি দলের সংগঠন শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। আওয়ামী লীগের সামনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল নেই, যারা আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। যার ফলে আওয়ামী লীগের নেতারা অনেকটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, তারা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পাত্তা দিচ্ছেন না। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও তারা মনে করছেন। 

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সব ক্ষেত্রেই একাকী এবং বন্ধুহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের যে আদর্শিক জোট ছিল ১৪ দল তা এখন থেকেও নেই। এটি রীতিমতো মৃতপ্রায়। আওয়ামী লীগ সুশীল বা বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যে আগে যে একটা সম্পর্ক তৈরি করেছিল সেই সম্পর্কটাও আর অব্যাহত রাখছে না। বরং সুশীলদের সাথে আওয়ামী লীগের একটা সুস্পষ্ট দূরত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যে মিত্র এবং শুভাকাঙ্ক্ষী আছে তাদেরকেও আওয়ামী লীগ খুব একটা আমলে নিচ্ছে বলে মনে করা হয় না। 

ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের একটা সুসম্পর্ক থাকে। সেক্ষেত্রেও কিছু চাটুকার ছাড়া আওয়ামী লীগ কারও সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহ না। আওয়ামী লীগ এখন এমন অবস্থায় গেছে যে, যেখানে তারা মনে করছে কাউকেই তাদের প্রয়োজন নেই। একদিকে দলের বিভক্তি অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একাকী চলো নীতি এর পরিণতি কি—এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ চিন্তাভাবনা করছেন। কারণ এখন বিরোধী দল নেই জন্য সামনের দিনগুলোতে বিরোধী দল থাকবে না—এমন ভাবার যেমন কোন কারণ নেই তেমনি এখন যদি আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যতে বন্ধু খুঁজে পাওয়া তার জন্য দুষ্কর হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা মনে করেন সুসময় থেকে দু:সময়ের দূরত্ব কম না। আজকে আওয়ামী লীগের ভালো সময় যাচ্ছে কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি বিভক্ত এবং কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সংকটে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আবার একই কারণে বিপদে কোন সাথীও পাবে না। আওয়ামী লীগ যেন হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছে একাকী। কিন্তু নামার সময় তার সঙ্গী দরকার। সেই সঙ্গী পাবে কি?

আওয়ামী লীগ   অভ্যন্তরীণ কোন্দল   ১৪ দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

চীন থেকে ফিরেই ভারতের সমালোচনায় মেনন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

চীন থেকেই ফিরে ভারতের সমালোচনায় মুখর হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন। সাম্প্রতিক সময়ে ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি চীন নিয়ে যান। এ সফরের উদ্দেশ্য কি ছিল বা কেনই বা চীন তাদেরকে জামাই আদর দিয়ে নিয়ে গেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানায়নি ইদানিং সুবিধাভোগী নেতারা। তবে চীন থেকে ফিরে আসার পর যেন রাশেদ খান মেননের মগজ ধোলাই হয়েছে তা দিব্যি বোঝা গেল। চীন থেকে ফেরার পরেই তিনি এখন ভারত বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। 

গতকাল ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত অভিন্ন পানি বন্টণ: প্রেক্ষিত পদ্মা ও তিস্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি ও তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র সমালোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে যে তিস্তা মহা পরিকল্পনার জন্য যে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তাকে জুতা মেরে গরু দান বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখন মাওলানা ভাসানীর মতো ফারাক্কা মিছিল করার মতোও গুরুত্ব আরোপ করেন। শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে যে অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে তার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তীব্র হিসেবে ধরা পরে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে রাশেদ খান মেনন গঙ্গা এবং তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে এতো মরিয়া হলেন কেন? 

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন দীর্ঘদিন ধরেই কুড়িগ্রাম অঞ্চলে তিস্তা নদীর চারপাশে জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব দিচ্ছিলো। ১০০ কোটি ডলারের এই প্রস্তাবের মূল বিষয়টি ছিল বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি থেকে এই জলাধারগুলোকে ভরানো হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এই পানিগুলো দিয়ে শুষ্কতা কাটানো হবে। তবে ভারত এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করছিল। এবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের সময় ভারত একটি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র এক বিকল্প প্রস্তাব দেয় এবং সেখানে ভারত অর্থায়ন করার জন্য প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পানি বণ্টনের একটা সমাধান হবে বলে অনেকে মনে করেন। ভারতের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর তারা বাংলাদেশের সঙ্গে পানি চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালা করবে। 

সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর চীন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনেক আগ্রাসী হয়ে গেছে। বিভিন্ন লোভনীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে চীন আসছে। যদিও বাংলাদেশ এখন চীনের সাথে বিনিয়োগের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে। নতুন করে বিনিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশ একটু রক্ষণশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর এ কারণেই চীন এখন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক মিত্রের সন্ধান করছে। যারা বাংলাদেশে ভারত বিরোধীতা উষ্কে দিবে এবং ভারতের সমালোচনার মাধ্যমে চীনকে সামনে আনবে। চীন ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই এখন প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে এবং ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে যেন চীন পন্থীদের প্রভাব বাড়ে সে চেষ্টা করছে। ১৪ দলের নেতাদের চীন সফরের পর এই সংবাদ সম্মেলন তারই ইঙ্গিত বহন করে। 

এখন ৫০ সদস্যের একটি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল চীনে অবস্থান করছেন। এবং তারা ফিরে আসার পর পরই কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে। সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতিতে চীন প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে যেন রাজনীতিবিদরা ভারত বিরোধীতায় নামেন এবং চীনের প্রকল্পের স্বার্থগুলো বাস্তবায়িত হয়। আর এই কারণেই রাশেদ খান মেনন এখন নতুন করে আবার চীন পন্থী হিসেবে নিজেকে যালাই করে নিলেন। চীনে রাজনীতিবিদদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি মগজ ধোলাই করার জন্য- এ প্রশ্নটি এখন সামনে এসেছে। 


ওয়ার্কার্স পার্টি   রাশেদ খান মেনন   চীন   ভারত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

এবার দুর্নীতি ইস্যুতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি মুখোমুখি হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া তারা আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সেক্টরে যে অনিয়ম এবং দুর্নীতিগুলো হয়েছে সেগুলো একাট্টা করে তারা জনসম্মুখে তুলে ধরতে চায়। এই শ্বেতপত্র তৈরি করার জন্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিএনপি পন্থী ব্যক্তিদেরকে কাজে লাগানো হবে বলেও বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার, ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা, সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কথিত দুর্নীতি এবং বেনজীর আহমেদের কথিত দুর্নীতির বিষয়গুলো বিএনপির শ্বেতপত্রে জায়গা পাবে বলে জানা গেছে।  

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে চায়। বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। আর এই লুটপাটে বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী তথ্যাদি হাজির করা হবে এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে। তবে, কবে নাগাদ এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে সেই সম্পর্কে কোন কিছুই বলা হয়নি। 
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যে কমিটিতে বিএনপি পন্থী অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদদের রাখা হবে, ব্যাংকিং সেক্টরের কয়েকজন বিএনপির কর্মকর্তাকেও এটির মধ্যে রাখা হবে বলে জানা গেছে। আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই শ্বেতপত্র তৈরির পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশিত হবে বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগও বিএনপির আমলে হাওয়া ভবন ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগও বিএনপির পাল্টা হিসেবে ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের কাহিনী প্রকাশ করবে। এই সময় সিএনপি কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবনের কেলেঙ্কারি, পদোন্নতি কেলেঙ্কারি, খাম্বা কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন অনিয়মগুলোকে আবার নতুন করে একাট্টা করে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি এই সময়ে বিএনপির কোন কোন নেতার বিদেশে কি কি সম্পদ ছিল সেটিও আওয়ামী লীগ প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী টিম এ নিয়ে কাজ করছে এবং এই তথ্য প্রমাণগুলো ইতোমধ্যেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির আমলের যে দুর্নীতি এবং অনিয়মগুলো হয়েছে সে সম্পর্কে আওয়ামী লীগ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছিল। তবে এখন নতুন করে সেটিকে আবার শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা হবে।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, শ্বেতপত্রে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি এবং যারা প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগী তাদের বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে জানা গেছে। এবং এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম করেছে তাদেরকে নতুন করে বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দুর্নীতিকেই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 


দুর্নীতি   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

প্রকাশ: ১০:৫৯ এএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় পর্যন্ত ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মোট চার ধাপে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৬৯ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৫ জন চতুর্থ বা শেষ ধাপের ভোটে অংশ নেওয়ায় ১৩ জনকে বহিষ্কার করে দলটি। রোববার (২৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি এ তথ্য জানায়।

বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলাসহ কোনও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। গত ১৬ এপ্রিল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকার তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন, বেসামরিক পুলিশ প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে না। অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নেই। তাই উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেবে না বিএনপি।

এদিকে মোট চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী গত মে ২১ মে প্রথম-দ্বিতীয় ধাপের উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়। এই দুই ধাপের নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত ১৩ জন চেয়ারম্যান পদে জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে বলে জানা গেছে।


উপজেলা   পরিষদ   নির্বাচন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের চীন সফর

প্রকাশ: ০৬:৩৩ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে চীন সফরে গেল আওয়ামী লীগের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে প্রতিনিধি দলটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেবে।

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটি।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান জানান, প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ- আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা রয়েছেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অংশ নেবেন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা। পাশাপাশি তারা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।


আওয়ামী লীগ   চীন সফর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেককে চান না শরিকরাও

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করার জন্য অথবা যুগপৎ আন্দোলন করার জন্য বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেছিল। কিন্তু সেই বৈঠক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এই মুহূর্তে কোন শরিকই বিএনপির সঙ্গে যৌথ বা যুগপৎ আন্দোলন করতে চায় না। এর প্রধান কারণ হল ডামি নেতা। শরিকরা বলছে, বিএনপি ডামি নেতা দিয়ে দল চালাচ্ছে, ডামি নেতা দিয়ে আন্দোলন করছে। ডামি নেতার আন্দোলনে তারা আগ্রহী নয় বলেই মন্তব্য করেছে। শরিকদের পক্ষ থেকে অন্তত তিনজন নেতা বলেছেন যে, বিএনপিতে যারা এখন সক্রিয়, যারা দলের জন্য কাজ করছেন, এদের মধ্যে থেকে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।

বিএনপির শরিকদের মধ্য থেকে একজন শীর্ষ নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, যখন যৌথ সভাগুলো হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক হয়, আমরা যে পরামর্শগুলো দেই সেই পরামর্শগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয় না। বিএনপির নেতারা যারা বৈঠকে উপস্থিত থাকেন তারা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘ সূত্রিতার মধ্যে পড়ে এবং একটি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শরিকদেরকে সময় কাটাতে হয়।

উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন যে, এক সপ্তাহ আগে বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই সভায় একটি লিয়াজু কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে কোন জবাব দেননি। এরপর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এটি নিয়ে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু শরিকদের আর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

একইরকম অভিযোগ করেছেন অন্য আরেকটি দলের নেতা। তিনিও বলেছেন, নেতারা ডামি নেতৃত্ব হিসেবে কাজ করেন, তারা আমাদের বক্তব্য শুনেন কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এভাবে যৌথ আন্দোলন হতে পারে না বলেই মনে করছেন বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলন করা রাজনৈতিক দলগুলো।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সাল থেকেই নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন করছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙ্গে দেয় এবং জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক ত্যাগ করে। সে সময় বিএনপির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ছিল যেন জামায়াতের সঙ্গে তারা প্রকাশ্যে সম্পর্ক না করে। তারপর থেকেই বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নাগরিক ঐক্য, গনসংহতি, কল্যাণ পার্টি, জেএসডিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একই ধরনের কর্মসূচী পালন করে আসছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত একই অবস্থা চলতে থাকে।

এরপর শরিকদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিএনপির শীর্ষ একাধিক নেতা গ্রেপ্তার এবং আটক হওয়ার প্রেক্ষিতে তারা শরিকদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করতে পারেনি বলে বলা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে আবার যখন নতুন করে আন্দোলন শুরু করার জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তখন শরিকদের পক্ষ থেকে অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয়, তা একক কর্তৃত্বের সিদ্ধান্ত নেই। শরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয় না ইত্যাদি নানা অভিযোগ বড় হয়ে উঠেছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় যে অভিযোগটি বিএনপির পক্ষে উঠেছে তা হল- ‘রিমোট কন্ট্রোল’-এ দল পরিচালনা করা।

দেশের বাইরে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন শরিকরা। তারা বলছেন যে, রাজনৈতিক আন্দোলন প্রতি মুহূর্তে রং পাল্টায়, প্রতি মুহূর্তে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন বাস্তবতায় বিরোধী দলের আন্দোলন গড়ে তুলতে গেলে সক্রিয় স্থানীয় নেতা দরকার, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। আর এর ফলে বিএনপির জোট এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


তারেক জিয়া   বিএনপি   গণসংহতি   কল্যাণ পার্টি   জেএসডি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন