ইনসাইড পলিটিক্স

কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে কুমিল্লা-ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

প্রকাশ: ১১:০৫ পিএম, ০৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলে যে কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচন পরবর্তীতেও অব্যাহত রয়েছে। এখনও কোন কোন জায়গায় সহিংসতার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও এই কোন্দল ও বিভক্তি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনাও উচ্চারণ করেছেন বারবার। ইতোমধ্যে দলীয় কোন্দল এবং বিভক্তি মেটাতে বিভাগীয় নেতাদেরকে দায়িত্বও দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, এই বিভক্তি ঠেকাতে সামনের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কিন্তু এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি তার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না। বরং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে সেই বার্তাই দিচ্ছে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন যেন আওয়ামী লীগের কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী। যদিও অন্যান্য দলের প্রার্থীও রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছেন, একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন। ফলে দলীয় কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়ছেন এবং নিজেদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি উপনির্বাচনের মেয়র পদে নির্বাচন করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের মেয়ে ডা. তাহসিন বাহার সূচনা। অন্যদিকে মেয়র পদে নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম। ডা. তাহসিন বাহার সূচনা ও নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম এই দুই মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচন প্রচারণায় একে অন্যের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিভাজন বাড়ছে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগেও। জাতীয় নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে কাজ করেন। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। কেউ দলীয় প্রার্থী কেউ স্বতন্ত্রপ্রার্থীর হয়ে রয়েছেন মাঠে। 

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমান শান্তকে মনোনয়ন দেয় দল। অন্যদিকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হন দলটির সহ-সভাপতি শামীম হক। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র ইকরামুল হক টিটুর বড় ভাই। সঙ্গত কারণেই টিটু বড় ভাইয়ের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে কাজ করেন। তবে ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।

এবার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র ইকরামুল হক টিটুসহ ছয়জন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির একজন ছাড়া বাকি পাঁচজন আওয়ামী লীগের বড় পদধারী নেতা। এমনকি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও আছেন প্রার্থিতায়। ফলে নিজ দলীয় একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভাজন। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে টিটু-শান্তর বিরোধপূর্ণ অবস্থানও সামনে এসেছে। এ রকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলের প্রতীক হয়ে উঠেছে এখন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন।





তৃণমূলের কোন্দল   কুমিল্লা সিটি নির্বাচন   ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলন না সংগঠন: কোন পথে যাবে বিএনপি?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি কী এখন সংগঠন গোছাবে না সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে—এ নিয়ে বিএনপি এখন সিদ্ধান্তহীনতায়। দলের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেও কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। একদিকে সংগঠনের হতশ্রী অবস্থা, নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত, তাদের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে হতাশা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য একটা তাগিদ রয়েছে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিএনপি কী করবে তা নিজেরাই ঠিক করতে পারছে না। 

ঈদের ছুটিতে বিএনপির নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুতেই তারা কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। বিএনপির মধ্যে আন্দোলন এবং সংগঠন কোনটা আগে— এ নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ নিয়ে ৩ ভাগে বিভক্ত। 

বিএনপির বেশিরভাগ নেতাই মনে করছেন যে, সবার আগে সংগঠন গোছানোর দরকার, সর্ব প্রথমে দরকার দলের একটি কাউন্সিল অধিবেশন করা এবং কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে কর্মক্ষম মাঠের নেতাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। সংগঠন গোছানো ছাড়া আন্দোলন করলে আবার তা মুখ থুবড়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিএনপির এই অংশের নেতারা। তারা বলছেন যে, স্থায়ী কমিটির সহ মাঠ পর্যায়ের তৃণমূলের নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে হবে এবং এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একটি নতুন আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব। 

তবে বিএনপির একটি অংশ এই মতের সাথে একমত নন। তারা মনে করছেন যে, দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। জেলে অনেকে পলাতক জীবনযাপন করছেন। এরকম অবস্থায় কাউন্সিল করা অযৌক্তিক হবে এবং সংগঠন যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় রেখে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে হবে। বিএনপির এই অংশের নেতারা মনে করেন যে, জনগণ সরকারের ওপর সন্তুষ্ট নয়, আন্দোলনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। শুধু দরকার কিছু সঠিক দিক নির্দেশনা এবং নেতৃত্ব। 

আর বিএনপির তৃতীয়াংশের নেতারা মনে করছেন, আন্দোলন এবং সংগঠন দুটি পাশাপাশি চলা উচিত। এক দিকে যেমন সংগঠনে শূন্যস্থানগুলো দ্রুত পূরণ করা দরকার, অন্যদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখা দরকার। এই অংশের নেতারা মনে করছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নতুন নির্বাচনের দাবির চেয়ে এখন জরুরি জন গুরুত্ব সম্পন্ন বিষয়গুলোকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া উচিত। যেমন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, অর্থ পাচার, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি এই সমস্ত বিষয়ে আন্দোলন করে জনসম্পৃক্ততা অর্জন করা প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেই তারা মনে করছেন৷ 

তবে বিএনপির মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় যে ইস্যুটি দাঁড়িয়েছে তা হলো, কে বিএনপির হাল ধরবেন। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই বললেই চলে। এমনকি ঈদের দিন তিনি যে সিনিয়র নেতাদের ডেকে ছিলেন সেখানেও তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। 

বিএনপি দ্বিতীয় প্রধান নেতা লন্ডনে পলাতক। তিনি তার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দলকে ব্যবহার করেন। তার টাকা পয়সা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আদায়ই প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির তৃতীয় প্রধান নেতা যিনি মাঠে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ এবং তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে চান না। 

এরকম অবস্থায় বিএনপিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতাই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেটি বিএনপির প্রধান সংকট। আর একারণেই বিএনপির নেতারা মনে করছেন যে, আগে তাদেরকে একজন সঠিক নেতা নির্বাচন করতে হবে। সেই নেতার নেতৃত্বে তারা আন্দোলন করবে। তবে বিএনপির প্রায় সব নেতাই স্বীকার করছেন যে, আন্দোলনের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে নির্বাচনের দাবি বা সরকার পতনের আন্দোলন সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর একারণেই বিএনপি মনে করছে, তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে কঠিন সময়ের জন্য। 

আন্দোলন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি এ দেশের সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা: কাদের

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এ দেশের সাম্প্রদায়িকতার বিশ্বস্ত ঠিকানা, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। তারা বৈশাখের চেতনাবিরোধী, তা আজ দেশে প্রতিষ্ঠিত সত্য।

রোববার সকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন উপলক্ষে বাহাদুর শাহ পার্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির চেতনা ও হৃদয়ে পাকিস্তান। তারা বাঙালির সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তার হোসেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।


ওবায়দুল কাদের   রাজনীতি   সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অসুস্থ নেতাদের ভারে অচল বিএনপি

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই এখন অসুস্থ। সুস্থ নেতা খুঁজে পাওয়াই জন্য বিএনপিতে ভার। ঈদের দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফিরোজায় গিয়েছিলেন অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে দেখা করতে। সেই সাক্ষাতের সময় বেগম খালেদা জিয়া মজা করে নেতাদেরকে বলেছিলেন, আপনারা কেউই তো সুস্থ নন। আমরা তো এক অসুস্থ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়া এই কথাকে অস্বীকার করেননি। এরপর বেগম জিয়া বিভিন্ন নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সুস্থ নেতা কেউই নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন অসুস্থ। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। তার অবস্থা এখন পর্যন্ত শঙ্কা মুক্ত নয়। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই বর্ষীয়ান নেতা এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন। 

বিএনপির আরেক নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তার নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তিনি চলাফেরা খুব একটা করেন না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি ঘর থেকে বেরোন না। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হৃদরোগ ছাড়াও কিডনির সমস্যা এবং নানা রকম শারীরিক জটিলতা আক্রান্ত। কদিন আগে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করিয়ে এনেছেন। 

বিএনপির আরেক নেতা মির্জা আব্বাস একাধিক রোগে আক্রান্ত এবং নানা রকম নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের শরীরও ভালো না। তিনি অসুস্থ এবং নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। লাঠি ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। 

বিএনপির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়েরও নানা রকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তবে তিনি অন্যদের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বলেই দাবি করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তারও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও অন্য পর্যায়ের নেতাদেরও শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। 

বিএনপির একজন নেতা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা জেল জুলুম নির্যাতন, শারীরিক এবং মানসিক নিপীড়নের কারণে বিএনপির নেতারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি দলকে কোন সার্ভিস দিতে পারছেন না। এমনকী কোন রকম অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এরকম অসুস্থ নেতার সংখ্যা বিএনপিতে এখন বেশি। 

বিএনপির অনেকে মনে করছেন যে, ক্রমশ বিএনপি একটি অসুস্থ দলে পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা দলে তরুণ সক্ষম তাদেরকেও সামনের দিকে নিয়ে আসাটাই যৌক্তিক বলে মনে করেন বিএনপির অনেক নেতা। না হলে এই অসুস্থ নেতাদের ভারে বিএনপি নিজেরা অচল হয়ে পড়ছে বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয় যে, অতীতে অবদানের জন্য অসুস্থ নেতারা পদ আকড়ে রাখবেন নাকি সামনের দিনগুলোতে বিএনপিকে বিকশিত করার জন্য তারুণ্যকে সামনে আনা হবে। বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছেনে যে, অসুস্থ নেতারা সব পদ আকড়ে রাখার কারণে বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনও বিকশিত করতে পারছে না।

বিএনপি   অসুস্থ নেতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি-জামায়াতের সিরিজ বৈঠক: একসাথে কাজ করার গুঞ্জন

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের ছুটিতে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সিরিজ বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। ঈদের আগের দিন, ঈদের দিনে, ঈদের পরদিন-এই তিন দিনই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। 

বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বাসভবনে জামায়াতের অন্তত তিন নেতার বৈঠক হয়েছে ঈদের দিন। এছাড়াও বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ড. মঈন খানের সঙ্গেও জামায়াতের নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে যে, বিএনপি এবং জামায়াতের মহানগর পর্যায়ে নেতারাও নিজেদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আর এই সব যোগাযোগের লক্ষ্য হল একটাই তা হল অভিন্ন ভাবে কাজ করা যেন তারা আস্তে আস্তে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের জনমত সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন। আর এই জনমত সৃষ্টি বা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিএনপি এবং জামায়াত অভিন্ন কৌশল নিয়েছে। 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কৌশলগত কারণে বিএনপি-জামায়াত প্রকাশ্য কোন জোট গঠন করবে না। ২০ দলীয় জোটের যে মৃত্যু হয়েছে তা নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নেই বলেই দুটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে তারা অভিন্ন ধরনের কর্মসূচি এবং একই রকম অবস্থান থেকে কর্মসূচি পালন করবে। আগামী দিনগুলোতে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচটি বিষয় অভিন্ন কর্মসূচি পালন করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জনগণের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এমন বিষয় এবং জনগণ সহজে সাড়া দেয়, সেই ধরনের বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসে আগে জনমত সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি এবং জামায়াত। আর এ কারণেই এক দফা আন্দোলন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন নিয়ে এখনই কোন কর্মসূচিতে যাবে না এই দুটি রাজনৈতিক দল। বরং তারা সামনে যে সমস্ত ইস্যুতে অভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে;

১. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করবে ঈদের পর থেকেই। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে মানববন্ধন, ভুখা মিছিলের মতো নতুন ধরনের কর্মসূচি বলে দুই দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। 

২. লোডশেডিং: ইতোমধ্যে গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দাবদহ বাড়ার সাথে সাথে লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং এটি নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত বড় ধরনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

৩. অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাট: অর্থপাচার এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাট নিয়েও বিএনপি এবং জামায়াত নতুন করে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সামনের দিনগুলোতে এ নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারে বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

৪. ভারত বিরোধী কর্মসূচি: ভারতের আগ্রাসন, সীমান্ত হত্যা সহ নানা প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত এবং বিএনপি স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভারত বিরোধী কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৫. দুর্নীতি: দুর্নীতির ব্যাপারেও বিএনপি এবং জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম জনসংযোগ মূলক এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম পালন করবে। চলতি বছর শেষ পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি রাজনৈতিক দল পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে বলে দল দুটির সূত্রে জানা গেছে।


বিএনপি-জামায়াত   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন যারা

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগে নীরবে নিভৃতে পালাবদল ঘটছে। এক সময় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মানে ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ সেলিম, মতিয়া চৌধুরী। এখন তাদের অধ্যায় আস্তে আস্তে যবনিকা ঘটেছে। শারীরিক ভাবে তারা অনেকেই অসুস্থ। অনেকে এখন রাজনীতিতে অপাঙ্ক্তেয় হয়ে গেছেন। বরং একটি নতুন প্রজন্মকে আওয়ামী লীগ সভাপতি সামনে নিয়ে আসছেন। তাদেরকে নীতি নির্ধারক হিসেবে জায়গা করে দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এই পালাবদলটি শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনীতির একটি অংশ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

পুরনোদেরকে অসম্মান না করে নতুনদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার যে কৌশল সেটি রাজনীতিতে একটি শিক্ষণীয়। কিছু দিন আগেও যারা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাদের বদলে এখন আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন বেশ কিছু নেতা। যারা আওয়ামী লীগে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে ১১ জানুয়ারি টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হওয়ার পর যাদেরকে বেশি পাদপ্রদীপে দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন;

১. ড. হাছান মাহমুদ: ড. হাছান মাহমুদের পদোন্নতি ঘটেছে। এর আগে তিনি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। এবার তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসছেন। তিনি আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও বটে। কোন কারণে সাধারণ সম্পাদকের পদ খালি হলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে। আগামী দিনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও ড. হাছান মাহমুদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই অনেকে মনে করছেন। আর এই সমস্ত বিবেচনা থেকেই আওয়ামী লীগে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে সামনে আসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

২. জাহাঙ্গীর কবির নানক: জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন নিজ যোগ্যতায়। মাঠের নেতা হিসেবে তার দীর্ঘদিনের সুনাম ছিল। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। রাজনীতিতে চড়াই উতরাই এর মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়ে গেছেন তার আদর্শের কারণে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন। তার পুরস্কার তিনি পেয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে উন্নীত হন। এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি এখন আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারক হয়ে উঠেছেন। 
৩. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেও কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক কর্মী বান্ধব হওয়ার কারণে তার অবস্থান আস্তে আস্তে দৃঢ় হচ্ছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের অন্যতম বাহাউদ্দিন নাছিম কর্মীদের কাছে আওয়ামী লীগ সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন, বিশ্বস্ত এবং সংগঠনের প্রশ্নে অকুতোভয় এবং একনিষ্ঠ এই নেতা মন্ত্রী না হয়েও আওয়ামী লীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন নীতি নির্ধারক হয়ে উঠছেন নিজ যোগ্যতায়। 

৪. আব্দুর রহমান: আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর কবির নানক এর মতোই তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। কিন্তু তারপরও তিনি ভেঙে পড়েননি। সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। এবার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থার প্রতিদান তিনি ভালো ভাবেই দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের একটি পালা বদল ঘটছে। তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু কিংবা শেখ ফজলুল করিমের জায়গা আস্তে আস্তে এই সমস্ত নেতারা জায়গা করে নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একটা পাইপলাইন তৈরি করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। যেখানে পর্যায়ক্রমে নেতারা অপেক্ষমান অবস্থায় আছেন। নেতৃত্বের শূন্যতা আওয়ামী লীগে যেন না হয় সেজন্য একটি দূরদর্শী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আব্দুর রহমান   জাহাঙ্গীর কবির নানক   ড. হাছান মাহমুদ   আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন