ইনসাইড পলিটিক্স

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে কি দায় এড়ানো যাবে?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৩ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

দ্রব্যমূল্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবন দিশেহারা। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ উদ্যোগ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্যের হঠাৎ হঠাৎ করে মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তরমুজ নিয়ে যে তেলেসমাতি কারবার চলছে তাও সাধারণ মানুষকে সীমাহীন অস্বস্তি এবং বিরক্তি মধ্যে নিয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল বড় বড় কথা বলা হচ্ছে, বিভিন্ন পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। 

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্ধারিত পণ্যে কোথাও জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে না। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক নতুন তথ্য আবিস্কার করেছেন। গত শুক্রবার তিনি দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির জন্য বিএনপির কারসাজিকে দায়ী করছেন। যে বিএনপি নিজেই আধমরা, যারা একটি আন্দোলন করতে পারে না, যারা তাদের নেতাকে মুক্তির জন্য কোন চেষ্টা করতে পারেন না, তারা দ্রব্যমূল্যকে অস্থির করে তুলবে এমন শক্তিশালী যদি বিএনপি হতই তাহলে তো বিএনপির এই অবস্থা হত না। 

১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির অবস্থা এতই নাজুক যে তারা নিজেদের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক পর্যন্ত করতে পারে না। সম্মেলন পর্যন্ত করতে পারে না। তারা করবে পণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা! বিএনপির যদি এত ক্ষমতা থাকত তাহলে তো তাদের এই দুরবস্থা হত না। আওয়ামী লীগের কারও কারও মধ্যে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি আছে। যে কোনো দোষ বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দায় মুক্তির চেষ্টা করা, দায় এড়ানোর চেষ্টা করা। 

এর আগে একবার রানা প্লাজার ঘটনার সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি নেতারা ধাক্কা দিয়ে বিল্ডিং ভেঙে ফেলেছে। বিভিন্ন সময় আমরা দেখি যে, আওয়ামী লীগের অতি উৎসাহী কিছু নেতা এমন সব কাণ্ড করে বসেন যে কাণ্ডের জন্য তারা বিএনপিকে দায়ী করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ ধরনের কথাকে পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না। 

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের প্রধান এজেন্ডা। নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগ অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করেছিল, সেই অগ্রাধিকার খাতের অন্যতম হল দ্রব্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হিসাবে ঘোষণা করেছিল। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার প্রধান দায়িত্ব হল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন নবিশ প্রতিমন্ত্রীকে। তিনি চেষ্টা করছেন বটে, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা সীমিত এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এমন কিছু অযোগ্য অথর্ব কর্মকর্তা রয়েছেন যাদেরকে দিয়ে আসলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব এবং অবাস্তব ব্যাপার। আর এই কারণেই দ্রব্যমূল্যের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। 

তা ছাড়া সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। বাজারে কোন পণ্যেরই সঙ্কট নেই, কোন পণ্যের ঘাটতি নেই। তবুও জিনিসপত্রের দাম কেন বাড়ছে? এটির ব্যাপারে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার এবং এই প্রশ্নের রাজনৈতিক উত্তর খোঁজা দরকার। কারা সিন্ডিকেট করছে, তাদেরকে খুঁজে বের করা দরকার এবং সিন্ডিকেটের হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার নিশ্চিত করে পণ্যের দাম সহনীয় করা দরকার। কিন্তু কোনকিছু না করে বিজ্ঞানভিত্তিক কোন পরিকল্পনা ছাড়াই হুটহাট করে কিছু পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিলে বাজারে সুফল আসবে না। বরং জনআস্থার সঙ্কট তৈরি হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপিকে দায়ী করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন কিনা সেটি ভেবে দেখার বিষয়। কারণ বিএনপি যদি বাজারে কারসাজি করে তাহলে তথ্য উপাত্ত দিয়ে নিহ্নিত করতে হবে যে, কারা কারসাজি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক চটিল বক্তব্য দিয়ে জনগণকে দ্রব্যমূল্যের এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্ত করা যাবে না।


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি   বিএনপি   আওয়ামী লীগ   ওবায়দুল কাদের   বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১০:৫৪ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।

শনিবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। আধা ঘণ্টা অবস্থান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফিরোজা ভিলা ত্যাগ করেন তিনি। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি তাকে অবহিত করেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে শনিবার (১৫ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৪৫ জন নেতাকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির বদলে ২৯ সদস্যের দুটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল দলে এই রদবদলের বিষয়টিও খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন বলে ওই সূত্রের দাবি।

খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঈদের আগে তারেকের শত কোটি টাকার পদ বাণিজ্য

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে যে কমিটি নিয়ে নাটক চলছে, সেই নাটকের পেছনে রয়েছে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার অর্থলোভ। টাকার জন্যই তিনি কমিটিগুলো ভাঙছেন, নতুন কমিটি করছেন। বিএনপির বিভিন্ন পদ এখন রীতিমতো নিলামে উঠেছে। যদিও বলা হচ্ছে যে, আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্যই যারা নিষ্ক্রিয় তাদের বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, আন্দোলনের ব্যর্থতার কথাই যদি বলা হবে, তাহলে এতদিন পরে কেন কমিটিগুলো বাতিল করা হচ্ছে। সেটি তো ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই করার কথা ছিল।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপির বিভিন্ন কমিটি ভাঙা গড়ার খেলা চলছে মূলত অর্থ আহরণের জন্য। ঈদের আগে তারেক জিয়া পদ বাণিজ্য করে শত কোটি টাকা উপার্জন করার একটি মিশনে নেমেছেন। 

নানা কারণে তারেক জিয়া এখন অর্থ সংকটে ভুগছেন। গত নির্বাচনের আগেও যেমন বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা লন্ডনে তারেক জিয়াকে অর্থ পাঠাতেন, এখন সেই অবস্থা নেই। নির্বাচনের পর এই সরকার স্থিতিশীল এবং সরকারের ওপর কোন চাপ নেই, এটা ব্যবসায়ীরা ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন। আর এ কারণেই তারেক জিয়াকে যারা এতদিন গোপনে টাকা দিয়েছিলেন তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা মনে করছেন যে, তারেক জিয়ার জন্য বিনিয়োগ কোনভাবেই লাভজনক নয় বরং একটি ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার যদি শেষ পর্যন্ত জানতে পারে যে, তারেক জিয়াকে তারা টাকা দিচ্ছেন তাহলে তারাই বিপদে পড়তে পারে। এ কারণে নির্বাচনের পর থেকে গত পাঁচ মাসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারেক জিয়ার চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

তারেক জিয়াকে যারা বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিত বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী এবং নেতারা তারাও নির্বাচনের পর নানা রকম চাপে আছে। তাদের পক্ষে এখন তারেক জিয়াকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারেক জিয়া এখন বিএনপিকেই জিম্মি করে তার নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি এই কমিটি নাটক সাজিয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপিতে যে কয়েকজনকে ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীতে আনা হয়েছে তারা সকলেই তারেক জিয়াকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছেন। ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত পদ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় তারেকের অন্তত পাঁচজন এজেন্ট এই অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং এই সমস্ত এজেন্টের মাধ্যমে লন্ডনে টাকা পাচার করা হচ্ছে। লন্ডনে এই টাকা পৌঁছানোর পরপরই তারেক জিয়া কমিটিতে কাউকে নিচ্ছেন আবার কাউকে বাদ দিচ্ছেন। 

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপিতে পদ এবং কমিটির বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। যে যত বেশি টাকা দিচ্ছে তিনি তত ভালো পদে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই বিএনপির নেতাদের মধ্যে ঈদের আগে টাকা সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। 

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা বলছেন, এমন নেক্কারজনক ভাবে বাণিজ্য লেনদেন এবং অর্থ সংগ্রহের ঘটনা আগে কখনও ঘটে। একটি রাজনৈতিক দল কতটা দেউলিয়া হলে সেই দলের প্রধান দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। বিএনপিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়, সকলে আলোচনা করছে কে কত টাকা দিয়ে কোন পদ পেলো। আর পদ পাওয়ার জন্য টাকা কাকে দিতে হবে সে সম্পর্কে তথ্যাদি বিএনপি নেতাদের এখন মুখে মুখে। এই কমিটি বাণিজ্য এবং পদ বাণিজ্য করে দলের অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না সে নিয়েও কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ঈদ   তারেক জিয়া   পদ বাণিজ্য   লন্ডন   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সেন্টমার্টিন ইস্যুতে সরকার দাসসুলভ আচরণ করছে: ফখরুল

প্রকাশ: ০৬:২১ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া সংকটে সরকারের আচরণ দাসসুলভ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

শনিবার (১৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা সরকারের ব্যর্থতা। আমাদের দ্বীপে আমরা যেতে পারছি না। সেই দ্বীপে অন্য দেশ থেকে গুলি করা হচ্ছে, গুলি করে মেরেও ফেলা হয়েছে। অথচ সরকার এই ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পর্যন্ত দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন- এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যা নিয়ে আমরা বক্তব্য দেব।’

তিনি বলেন, এই সরকার এতো নতজানু যে, মিয়ানমারের মতো একটা দেশকেও কিছু বলা যাবে না। এটা কতটা দাসসুলভ মনোভাব হতে পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন কারা সম্পদ লুট করছে, সবাই জানে। কিন্তু সাংবাদিকরা লিখতে পারেন না। আমরা একটু কথা বলার চেষ্টা করি। সাবেক পুলিশপ্রধান ডাকাতের মতো সম্পদ অর্জন করেছেন। বর্তমান সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আজিজের ভাইদের পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম আসছে গণমাধ্যমে, এসব অপরাধের জন্য সাবেক সেনাপ্রধানের বিচার হওয়া উচিত।

‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজে এবং ডিইউজে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

সেন্টমার্টিন   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক কাণ্ডে লণ্ডভণ্ড বিএনপি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের আগের তারেক জিয়া বিএনপিকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছেন। একদিকে যেমন ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়েছে তেমনি বাতিল করা হয়েছে ছাত্রদলের কমিটি। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন মুখ ঢোকানো হয়েছে। আবার নতুন করে ছাত্রদলের ২৬০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুরো বিএনপিতে চলছে এখন ভূমিকম্প। আর এই ভূমিকম্প নিজেই সৃষ্টি করেছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

হঠাৎ করেই বিএনপিতে এই ধরনের রদবদল এবং বিভিন্ন কমিটিতে লোকজনকে ঢোকানো এবং বাদ দেওয়ার বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছুই জানেন না দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এমনকি দলের মহাসচিবকেও অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে লন্ডন থেকে বার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই ধরনের নির্দেশনাগুলোকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করছেন। 


গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত বিএনপিকে রীতিমতো তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, কমিটিতে রদবদলের ন্যূনতম নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং এ সব কিছু করা হচ্ছে চরম স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে। এটি গঠনতন্ত্রের চরম লঙ্ঘন বলেও তারা মনে করছেন। 


উল্লেখ্য, বিএনপির ভেতর থেকে বলা হচ্ছে যে, কমিটি বিলুপ্ত করা হতে পারে, নতুন নেতৃত্ব আনা হতেই পারে, তবে সেটি হওয়া উচিত গঠনতন্ত্র মোতাবেক। তবে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার সমর্থকরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপি বড় ধরনের কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। আর এই আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যর্থতার কারণেই রদবদল হচ্ছে। যারা এই সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন, দলের জন্য ভূমিকা রাখতে পারেননি, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপির ছাত্রদল, যুবদল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও ছাত্রদলের কমিটি আজ নতুন করে গঠন করা হলেও যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়নি। 


বিএনপির একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, তৃণমূলের সাথে কথা বলে তারেক জিয়া এই কমিটি গুলো ভাঙছেন এবং নতুন কমিটি গঠন করছেন। এই ঘটনার ফলে স্থায়ী কমিটিও পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের মধ্যেই বা ঈদের পরপরই স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও যে সমস্ত জেলাগুলো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি, সেই সমস্ত জেলাগুলোর কমিটিও বাতিল করে দেওয়া হবে বলে বিএনপির নেতারা ধারণা করছেন। 

তবে এটি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তারা ঢাকা থেকে দল পরিচালনা করেন কিন্তু কাদেরকে নেতৃত্বে আনা হচ্ছে, কাদেরকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। তারেক জিয়া লন্ডনে বসে থাকেন। সেখান থেকে তিনি তার কিছু স্তাবকদের কাছ থেকে ভুল শুদ্ধ কিছু তথ্য পেয়ে দলের ভেতর তছনছ করছেন। এ ভাবে দল তছনছ করা কখনোই ইতিবাচক নয় বলে মনে করছেন বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতাই। 


তাদের মতে, এমনিতেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি আন্দোলনের ব্যর্থতা, নেতাদের বিরুদ্ধে জেল জুলুম, নিপীড়ন চলছে। এ রকম অবস্থায় ঢালাও ভাবে দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন কোন রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় নয় বলে তারা মনে করছেন। তবে তারেক জিয়ার এই তছনছের নীতি বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত কোন পথে নিয়ে যাবে সে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতি করতে লোকজন আগ্রহ দেখাবে না। বিএনপিকে ধ্বংস্তুপে ফেলে দিচ্ছেন তারেক জিয়া।

বিএনপি   তারেক জিয়া   রাজনীতির খবর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ০২:৪২ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার (১৫ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিত ৪১ জনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে এক জনকে। আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ১১১ জনকে। 

এর আগে গত ২ মার্চ রকিবুলকে সভাপতি আর নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর আজ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রদল   কমিটি ঘোষণা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন