ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক বনাম শামীম এস্কান্দার

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

একদিকে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা অন্যদিকে জিয়া পরিবারের গৃহদাহ। এ নিয়ে এখন উত্তেজনা চলছে বিএনপির মধ্যে। প্রকাশ্যে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করলেও এই মুক্তির পথ এবং উপায় কি হবে, এ নিয়ে বিভক্ত জিয়া পরিবার। আর এই বিভক্তিতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কার্যত শামীম এস্কান্দারই বেগম জিয়ার অভিভাবক এবং বেগম জিয়া জেলে থাকার সময় তার সমস্ত দেখভাল করা, তার পরিবারের বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা, তিনি যখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য তখন তার সব তদারকি করা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে যাবতীয় দেন-দরবার করার কাজটি করেছিলেন শামীম এস্কান্দার। এজন্য এস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন।

বিশেষ করে ২০২০ সালের মার্চে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মুক্তি অনুকম্পায় মুক্তি দেওয়া হয়, সেই মুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি করেছিলেন শামীম এস্কান্দার। তিনি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য তদবির করেছিলেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতিশীল হন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাহী আদেশে জামিন দেন। এখনো শামীম এস্কান্দার সরকারেরে সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার চেষ্টা করছেন এবং শামীম এস্কান্দার তার ঘনিষ্ঠদের বলছেন এখনো তিনি হাল ছাড়েননি। কিন্তু শামীম এস্কান্দারের এই উদ্যোগের এখন প্রধান বাধা তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারছেন না, এমন মন্তব্য শামীম ইস্কান্দার করেছেন অন্তত কয়েক জায়গায়। বিশেষ করে তারেক জিয়ার যে সমস্ত কথাবার্তা এবং পরিকল্পনা ইত্যাদি সব সম্পর্কেই সরকার অবহিত আছে বলেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিচ্ছেনা সরকার এমনটি মনে করেন শামীম এস্কান্দার।

আর এই নিয়ে মামা ভাগ্নের মধ্যে বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। শামীম এস্কান্দার মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কি বিদেশে পাঠানোর জন্য যা করা দরকার তাই করা উচিত এ জন্য তিনি তারেক জিয়াকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে আপাতত পদত্যাগ এবং রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। একই সাথে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বেগম খালেদা জিয়া যেন রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সে অনুরোধও করেছেন। শামীম এস্কান্দার মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন সেটিও মঙ্গল। কারণ তার জীবন বাঁচানোই মূল কথা, এখানে রাজনীতি দেখার কোন সুযোগ নেই।

কিন্তু শামীম এস্কান্দার এই মতের সঙ্গে একমত নন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। বরং তারেক জিয়া মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা, সরকারের উপর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা এবং এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যায় সরকার শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু শামীম এস্কান্দার মনে করেন সেটা কখনোই হবে না। কারণ, সরকার কোনো চাপের মধ্যে নেই যে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিবে। এক্ষেত্রে সরকারের আস্থা এবং বিশ্বাস এবং সহানুভূতি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন। আর এই টানাপোড়েনের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএনপিও বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং এই বিভক্তি বিএনপিকে একটি নতুন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’

প্রকাশ: ০২:৫৪ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার আইন বিল ২০২২' পাশ করা হয়েছে। যে আইনে বিগত দুটি বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়মুক্তির বিধান রেখে নির্বাচন কমিশন গঠনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতামতের কোন সুযোগ না রেখে সরকারি দলের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠনের নিমিত্তে এ আইনটি পাশ করা হয়েছে বলে মনে করে গণঅধিকার পরিষদ। 

আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের সময়কালে 'সার্চ কমিটি'র মাধ্যমে গঠিত বিগত দুটি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রমানিত হয়েছে যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঐক্যমত ব্যতীত নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তাতে জনমতের চাওয়া প্রতিফলিত হবে না। বরং বিগত বিতর্কিত দুটি কমিশনের মতোই হবে। 

নতুন আইনটিতে সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতামতের সুযোগ না রেখে শুধুমাত্র সরকারি দলের এবং তাদের নিয়োগকৃত কতিপয় ব্যক্তির মতামতের বিধান রাখা হয়েছে। যেখানে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না। 

যা নির্বাচনী সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। এ ধরনের গণবিরোধী আইনকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত মনে করে গণঅধিকার পরিষদ। তাই  নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক ঐক্যমতের উপর জোর দিতে সরকারকে গণঅধিকার পরিষদ আহ্বান জানায়। 

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ অনস্বীকার্য। 

তাই, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সংকট নিরসনে গণঅধিকার পরিষদ রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার উদ্যেগ গ্রহণ ও সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের নিকট দাবি জানায়। 

সংবাদ সম্মেলনে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, সদস্য সচিব নুরুল হক নুরসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণঅধিকার পরিষদ   দলীয় সরকার   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শামীম ওসমানকে কি বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সমাপনী দিনে শামীম ওসমানকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তার জন্য দোয়া করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অল থ্যাংকস টু ইউ। শামীম ওসমান নিজেই এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর তাৎপর্য অনুধাবনের চেষ্টা করছেন। শামীম ওসমান নিজেই এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, তিনি বলেছেন করোনার কারণে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ থেকে সাত ফুটের কাছে কেউ যেতে পারে না। বিরতির সময় আমি তার পিছনের সিটে বসা ছিলাম। ওই সময় আমার পাশে আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকান। তখন আমাকে দেখে বলেন, অল থ্যাঙ্কস টু ইউ। শুরুতে আমি ভেবেছিলাম, হয়তো এটা আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যেহেতু আজকে আইনটি পাস হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি বললেন, সমস্ত থ্যাঙ্কস শামীম ওসমানকে।

শামীম ওসমান আরো বলেন, আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পর আমি কাছে যাই। তখন আমি তাকে কিছু কষ্টের কথা বলি। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কষ্ট নিও না, আল্লাহ উনাদেরকে বেহেশত নসিব করবেন। শামীম ওসমান আরো বলেন, কথার শেষের দিকে তিনি আমায় কাছে ডেকে নেন, আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, তিনি আমাকে প্রাণভরে দোয়া করেছেন। একজন রাজনৈতিকের কাছে এরচেয়ে বড় পাওনা কি হবে। এরপর শামীম ওসমানের কোণঠাসা হয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি আবার পুনরুদ্ধার হলো কিনা তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ, যারা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ছিলেন তাঁরা মনে করছেন যে, শেখ হাসিনার প্রত্যেকটি স্বত্বা আলাদা আলাদা। তিনি যেমন শামীম ওসমানের পরিবারকে ভালোবাসেন, তাদেরকে আপন মনে করেন, নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন যে, ওসমান পরিবারের সঙ্গে তিনি থাকবেন। ঠিক তেমনিভাবে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের স্বার্থকে তিনি সবার উপরে স্থান দেন। একটির সঙ্গে আরেকটিকে যারা গুলিয়ে ফেলে তারা শেখ হাসিনার রাজনীতি অনুধাবন করতে পারে না।

শেখ হাসিনা ব্যক্তি শামীম ওসমানকে পছন্দ করেন, স্নেহ করেন। এই স্নেহ তার কাছে সবসময় থাকবে। যেমন তিনি সুলতান মনসুর আহমেদকে স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। তিনি দল ত্যাগ করার পরও সেই স্নেহ এখনো তার জন্য রয়েছে। একইভাবে শামীম ওসমান এবং তার পরিবার অতীতে আওয়ামী লীগের জন্য যা করেছে এবং তাদের যে পারিবারিক সম্পর্ক সেটি শেখ হাসিনা কখনো নষ্ট হতে দেবেন না। আবার শামীম ওসমানের কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি বিভক্ত থাকুক বা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটাও শেখ হাসিনা হতে দেবেন না। দুটি আলাদা আলাদা বিষয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমানের যে ভূমিকা সেই ভূমিকাও প্রশংসনীয় অবশ্যই। কারণ, শামীম ওসমান যদি তার রাজনৈতিক জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্যরকম একটা চিত্র দেখা যেত। এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও সেটি হতো এক বিভক্তির আওয়ামী লীগ।

নারায়ণগঞ্জের আগামী নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান হবে এবং এখন যে শামীম ওসমানের পকেট কমিটিগুলো আছে সেই পকেট কমিটিগুলোকে ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগ ভেঙে ফেলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ভাঙ্গা হয়েছে। অন্যান্য কমিটিগুলো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, শেখ হাসিনার এই আশীর্বাদ এর মাধ্যমে শামীম ওসমান হয়তো পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন, হয়তো তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসীন হতে যাচ্ছেন। আর কেন্দ্রীয় কমিটিতে শামীম ওসমান আসেন তাহলে একদিক দিয়ে যেমন শামীম ওসমান মর্যাদাশীল হবেন, ওসমান পরিবারের প্রতি যে ভালোবাসা সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটবে আর অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিও বিভক্তি মুক্ত হবে। শামীম ওসমানকে আশীর্বাদ শেখ হাসিনা সবসময় করবেন তা তিনি যাই করুন না কেন। আবার রাজনীতির প্রশ্নে দলের স্বার্থকে শেখ হাসিনা সবসময় ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন এবং সেখানে যদি কেউ দলের ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাকেও শেখ হাসিনা একচুলও ছাড় দেবে না, এটাই হলো শেখ হাসিনার রাজনীতি।

শেখ হাসিনা   আওয়ামী লীগ   শামীম ওসমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার পরিণতি কী হবে?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিস্মৃত অধ্যায় হতে চলেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে নিয়ে বিএনপি নেতাদের আবেগ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন সে আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ-খবর নেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী কিছুদিন তার সঙ্গে ছিলেন কিন্তু তিনিও এখন দেশে ফিরে গেছেন। মূলত তার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী এবং তাঁর বোন সেলিনা ইসলামই বেগম খালেদা জিয়াকে দেখভাল করছেন। তাকে নিয়ে যে রাজনীতির আবেগ উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল বিএনপি, সেই আবেগ উত্তাপে এখন ভাটা পড়েছে। মিথ্যা এবং এবং ভুল তথ্য দেয়ার কারণে সাধারণ জনগণও বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এখন আর আগ্রহী নয়। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনীতিতেও বেগম খালেদা জিয়া একেবারে কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন। বিএনপি এখন চালাচ্ছে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার সেখানে কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে। দলে যেমন তিনি অপাংক্তেয় তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তিনি বিস্মৃতপ্রায়।

বেগম খালেদা জিয়ার যে আপোষহীন ইমেজ ছিলো তা ভুলন্ঠিত হয়ে গেছে ২০২০ সালে সরকারের সাথে মুচলেকা দিয়ে জামিন নেওয়ার কারণে। এখন সকলের প্রশ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার পরিণতি কী হবে? তিনি কি এখন বাকি জীবন এভাবেই কাটাবেন, নাকি রাজনীতিতে তার পুনরুত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির অধ্যায় এখানেই শেষ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন না দেন, তিনি যে আর রাজনীতিতে আলো ছড়াবেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের এই করুণ পরিণতি তার কিছু ভুলের জন্য সংগঠিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। অন্যদিকে, তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার ইমেজের চেয়ে নিজের ইমেজ বৃদ্ধিতে মনোযোগী এবং দলে খালাদাপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত ছিলো, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনেও বদ্ধপরিকর। ফলে বিএনপিতে খালেদা যুগের অবসান হয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব শূন্যতার সীমারেখা স্পর্শ করেছে। দলে কর্তৃত্বহীন থাকার কারণে দলের নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন বেগবান করতে চান সেটিও করতে পারছেন না। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখন খালেদা জিয়ার প্রতিকূলে।

বেগম খালেদা জিয়া সরকারের কৃপায় জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাকে জেল থেকে ছাড়ানোর জন্য বিএনপি যে আন্দোলন করে সেই আন্দোলনও মুখ থুবরে পড়ে। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের পরেই মৃতপ্রায় হয়ে গেছেন। অনেকেই মনে করেছিলো, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও হবে, আগুন হবে, গণবিস্ফোরণ হবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। বরং মানুষ স্বাভাবিকভাবে এটি মেনে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে যখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা দেন-দরবার করেছেন তখন এটাকে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বিচার বিভাগের বিষয় বলে আন্তর্জাতিক মহল এড়িয়ে গেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া এখন একজন অনাহুত রাজনীতিবিদ হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন। তার বিদেশ যাওয়ার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তারপরও আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া হবেন তুরুপের তাস।

বিএনপি এখন বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াই হতে পারেন এই নির্বাচনে বিএনপিকে আনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকার্ড। সরকার হয়তো সেরকম একটি বিবেচনা থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে তার আওতার মধ্যে রেখেছে, চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেয়নি। বেগম খালেদা জিয়া হয়তো তাকে সুরক্ষার জন্য দলকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিবেন, এমনটি আশা করছেন সরকারের অনেকে। আর সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিণতির জন্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খালেদা জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কেন মায়া-কামরুল প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে পারলেন না?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠক চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে আসে খায়রুজামান লিটন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পরদিন দেশের সবগুলো গণমাধ্যমেও এই খবরটি প্রকাশিত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ দেওয়া হয়নি বা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাও এই বক্তব্যকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস অপেক্ষার পর যখন দেখা গেলো যে, খায়রুজ্জামান লিটন প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির চিঠি পেয়েছেন দলের দপ্তর সম্পাদকের পক্ষ থেকে, তখন অন্য দুই নেতা যাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, মায়া এবং কামরুল, তারা কোনো চিঠি পাননি। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দপ্তর সম্পাদক তাদেরকে জানান যে, এরকম কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তাহলে কি হয়েছিল সেদিন? এটি কি শুধুমাত্র মিডিয়ার প্রচারণা নাকি কার্যনির্বাহী কমিটিতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল?

আওয়ামী লীগের ১৯ নভেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যবিবরণীতে দেখা যায় যে, মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের প্রেসিডিয়াম সদস্যভুক্তির কোনো বিষয় সেখানে আলোচনায় নেই। বরং ওই কার্যবিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটনকেই প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছিল। তাহলে মায়া এবং কামরুলের নাম এলো কিভাবে? 

এ ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে কাকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং কারা প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বিভিন্ন রকম নাম বলেছিলেন। এই নামের মধ্যে অ্যাডভোকেট কামরুল এবং মোফাজ্জল হোসেন মায়ার নামও ছিলো বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলেছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকেই এই দুইজনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি বা কার্যনির্বাহী কমিটি এই প্রস্তাব গ্রহণ-বর্জন কিছুই করেনি। কিন্তু বিপত্তি দাঁড়ায় তখনই, যখন এই দুটি নাম গণমাধ্যমে চলে আসে।

বিশেষ করে কার্যনির্বাহী কমিটিতে যখন বিষয়টি অনুমোদিতই হয়নি, তারপরে যখন গণমাধ্যমে চলে আসে তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি এ ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি একটু অসন্তুষ্ট হন এবং ধারণা করা হচ্ছে যে, যে দুইজনের নাম আলোচনা হচ্ছিলো তাদের কেউই এটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। অথবা যারা এই নামগুলো প্রস্তাব করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে, তারা এটি গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এই দুটি প্রেসিডিয়ামের পদে তাদের চিঠি দেওয়া স্থগিত করেছেন এবং তাদেরকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেননি। এখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি দুটি বার্তা দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন।

প্রথমত, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে তা ফাঁস হয়ে যাওয়া দলের জন্য গুরুতর একটি সতর্কবার্তা। আর এ কারণেই তিনি ফাঁস হয়ে যাওয়া বিষয়টিকে হজম করেননি। বরং যেহেতু এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ফাঁস হয়ে গেছে, তাই তিনি এটি আর গ্রহণ করতে রাজি নন।

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রেসিডিয়ামের সদস্য অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে বিকল্প চিন্তা করেছেন। তিনি আসলে শুধুমাত্র খায়রুজ্জামান লিটনকেই প্রেসিডিয়াম সদস্য করার ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়েছেন। বাকি দুইজনের ব্যাপারে তিনি সম্মতি দেননি। এখানে তার ভিন্ন চিন্তা আছে।

উল্লেখ্য যে, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ নাসিম এবং আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুর কারণে প্রেসিডিয়ামের তিনটি পদ শূন্য হয়। এখন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম কামরুজ্জামানের পুত্র খায়রুজামান লিটনকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করার মধ্য দিয়ে একটি পদ পূরণ হলো। বাকি দুটি পদে আওয়ামী লীগের কে আসবে, তা নিয়ে এখন আওয়ামী লীগের মধ্যেই নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছে।

আওয়ামী লীগ   প্রেসিডিয়াম সদস্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দীপু মনি কেন টার্গেট হলেন?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এখন সারা দেশে তোলপাড় চলছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ভূমি অধিদপ্তরে এক অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি বলেছেন যে, ৬২.৫ একর জমি মৌজা দরের ২০ গুণ ধরে দলিল করা হয়েছে। প্রকৃত মৌজা দরে জমি অধিগ্রহণ করলে তার ব্যয় হবে ১৯৪ কোটি টাকা। উচ্চমূল্য দেখানোয় দর দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ থেকে আমার পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোন সুযোগ নাই। জমি অধিগ্রহণে পরিবারকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অসত্য, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ নিয়ে এখন রাজনীতি অঙ্গনে এখন নানামুখী আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে কেন দীপু মনিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই প্রশ্ন উঠেছে এই কারণে যে, এখন পর্যন্ত চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে সেই প্রতিবেদনেই অসঙ্গতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু বিষয় পাওয়া গিয়েছে। যেমন-

প্রথমত, ভূমির মূল্য নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। কাজেই ভূমির মূল্য কমবেশি ইত্যাদি নির্ধারণ করবে জেলা প্রশাসক। যেমন- ঢাকার গুলশানের কথাই ধরা যাক। সেখানে প্রকৃত ভূমির দাম আর সরকার নির্ধারিত ভূমির দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। এখন সরকার কি যে দামে জমি কেনাবেচা হয় সেই দামে জমি কিনবে নাকি সরকার নির্ধারিত যে মূল্য রয়েছে গুলশানের জন্য সেই দামে কিনবে? কাজেই, প্রথম যে অভিযোগটি করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সেটির মধ্যে এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কাউকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, বলা হয়েছে যে ৬২.৫ একর মৌজা দরের ২০ গুণ দামে দলিল করা হয়। আবার দেখানো হয়েছে যে, প্রকৃত মৌজার দরে অধিগ্রহণের ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা আর উচ্চমূল্য দেখানো হয় এটার ব্যয় হবে ৫৫৩ কোটি টাকার। প্রশ্ন উঠছে যে, ১৯৪ কোটি টাকার ২০ গুণ কি ৫৫৩ কোটি টাকা? তাহলে তো অংকের নতুন হিসেব-নিকেশ করতে হবে। পুরো ঘটনাটার মধ্যে কোথাও নেই যে, দীপু মনি কোথাও জমি কিনেছেন। তার ভাই জমি কিনেছেন বা তার আত্মীয় বা তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জমি কিনেছেন। তাহলে তার ভাই বা রাজনৈতিক সহকর্মীদের জমি কেনার দায় দীপু মনিকে বহন করতে হবে? একটি বিষয়ে অস্পষ্ট রয়েছে, দেখা গেছে যে দীপু মনির ভাই যে জমি কিনেছেন সে জমিগুলো কেনা হয়েছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি নির্ধারণের বহু আগে। কাজেই, তিনি জেনে শুনে এখানে জমি অধিগ্রহণ করেছে এমনটিও ধোপে টেকে না। তার মানে পুরো বিষয়টিতে একটি নাটক সাজানো হয়েছে, যে নাটকে দীপু মনির ইমেজ নষ্ট করা যায়।

দীপু মনি হলেন আওয়ামী লীগের সেই নেতা যিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার পক্ষে এবং মাইনাস ফর্মুলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে ডা. দীপু মনি একজন। আর সেখানেই তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন এবং ২০১৪ সালে তিনি কোন মন্ত্রিত্ব পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। দীপু মনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং মতিয়া চৌধুরীর পরে আওয়ামী লীগে যে সমস্ত নারী নেতারা স্বীকৃত বা ভবিষ্যতে নেতা হিসেবে বেড়ে উঠছেন তাদের মধ্যে দীপু মনি একজন। তাহলে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনীতিতে তার উত্থানের জন্যই কি কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন? কারণ জেলা প্রশাসকের যে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান।

চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি দীর্ঘদিনের এবং দীপু মনির নির্বাচনী এলাকায় একটি প্রবল প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। আর তারাই কি এই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটি নাটক সাজিয়ে দীপু মনির ইমেজ নষ্টের চেষ্টা করলেন? এ প্রশ্নটির উত্তর খতিয়ে দেখা দরকার। তাছাড়া দীপু মনি দুই দফায় প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব করেছেন, তার বিরুদ্ধে কখনোই বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। তার আত্মীয়স্বজন কি করেছেন না করেছেন তার দায় কেন দীপু মনিকে নিতে হবে? তাই দীপু মনিকে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য টার্গেট করা হয়েছে কিনা এটি খতিয়ে দেখা দরকার।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন