ইনসাইড পলিটিক্স

কেন নানক বরিশালে

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বরিশালের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল তখনই যখন সাদিক আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন না দিয়ে খোকন সেরনিয়াবাতকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাদিক আবদুল্লাহর এই মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তার পিতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সময় তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন না করা, এমনকি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনী বোর্ডের সভা থেকে তিনি সরে চলে যেতে চেয়েছিলেন রাগ অভিমান করে, নিজেকে অসুস্থ দাবি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ডাক্তার দেখে তার প্রেসার মাপান এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতির ইচ্ছারই জয় হয়েছে। খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে এবং এখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাহাঙ্গীর কবির নানককে। 


জাহাঙ্গীর কবির নানকের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, যে ইঙ্গিতের ভাষা অনেকে হয়তো বোঝেননি। কিন্তু সেই সময় বাংলা ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে বলেছিল যে বরিশালের রাজনীতিতে একক নেতা হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীর কবির নানক। বরিশালের রাজনীতিতে একক নেতা হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীর কবির নানক। কারণ বরিশালের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিন তারকা রাজনীতিবিদ। এদের মধ্যে ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। এরা তিনজনই বয়োবৃদ্ধ। সম্ভবত এই নির্বাচনই তাদের শেষ নির্বাচন। আর এর ফলে বরিশালের রাজনীতিতে একটি শুন্যতা তৈরি হত। 

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো যারা জনপ্রিয় জাতীয় নেতায় পরিণত হন তারা স্থানীয় পর্যায়ে কোন ছোটখাটো নেতা রাখেন না। বরং নেতৃত্বশূন্য করে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করার প্রবণতা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের মধ্যে দেখা যায়। সেই প্রবণতা ছিল এই তিন নেতার মধ্যেও। 

বৃহত্তর বরিশালে তোফায়েল আহমেদের কোন বিকল্প তৈরি হয়নি। বিকল্প তৈরি হয়নি আমির হোসেন আমু বা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জন্য একটি রাজনৈতিক শূন্যতা হতো বরিশালের বৃহত্তর অঞ্চলে, যেটি ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিল। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিচক্ষণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন। খোকন সেরনিয়াবাতকে মেয়র করার মধ্য দিয়ে এবং সেখানেই তিনি জাহাঙ্গীর কবির নানকের অভ্যুদয়ের বীজ রোপন করেন। এবার জাহাঙ্গীর কবির নানক বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। 


গতকাল তার পক্ষ থেকে বরিশাল-৫ আসন অর্থাৎ সদর আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। আর এটি করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সবুজ সঙ্কেত বা সম্মতি ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। আর সেটা যদি হয়, তাহলে বরিশালের রাজনীতিতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে আগামী নির্বাচনের পর সেই শূন্যতা পূরণের জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানকই উপযুক্ত ব্যক্তি। বরিশালে বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষাজীবনে বরিশালের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জাহাঙ্গীর কবির নানক একজন ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা। তিল তিল করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। যেভাবে তোফায়েল আহমেদ বা আমির হোসেন আমুদের রাজনৈতিক ধারা বিকশিত হয়েছিল, ছাত্রলীগের রাজনীতি, যুবলীগের রাজনীতি এবং তারপর কেন্দ্রীয় রাজনীতি ঠিক তেমনিভাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক আস্তে আস্তে বিকশিত হয়েছেন বরিশালের রাজনীতিতে। 

বরিশালের রাজনীতিতে এই তিন নেতা সরে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ত, সেটি যেন না হয় সে কারণেই জাহাঙ্গীর কবির নানককে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেই অনেকে মনে করেন। কারণ বৃহত্তর বরিশালে এখন আর সে রকম কোন নেতা নেই, যাদের জাতীয় ইমেজ রয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা রয়েছে। বৃহত্তর বরিশালে আরও যে সমস্ত এমপি রয়েছেন তারা এলাকাতেই টলটলয়মান। জাতীয় ইমেজ তাদের নেই। এক্ষেত্রে এই কারণেই জাহাঙ্গীর কবির নানককে বরিশালে টেনে আনা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত।


জাহাঙ্গীর কবির নানক   বরিশাল-৫   নির্বাচন   মনোনয়ন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সংকট এলে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী হাইব্রিডরা গা ঢাকা দেয় কেন?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে রীতিমতো তাণ্ডব হয়েছে। এই তাণ্ডবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির সারা দেশে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে। এই ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কাউকে কাউকে মাঠে দেখা গেছে, তারা রীতিমত কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কাছে মার খেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগকে রীতিমতো বের করে দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ছাত্রলীগ কার্যত কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি। 

দেখা গেছে ছাত্রলীগের কিছু ত্যাগী পরীক্ষিত নেতারাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের হঠকারিতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পেরেছিল এবং তাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন রকম পদ গ্রহণ করেছে, সুবিধা নিয়েছে তাদেরকে দেখা গেছে নীরব, নিথর। তারা গা ঢাকা দিয়েছে অথবা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। 

শুধু ছাত্রলীগ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক প্যানেলকে রহস্যময় ভূমিকায় দেখা গেছে। গতকাল যখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের কাউকে কাউকে কোটা আন্দোলনের সমর্থনকারীদেরকে উস্কানি দিতে দেখা গেছে। অনেকে নিরাপদ দূরত্বে নিজেদেরকে নিরপেক্ষ অবস্থানে অবস্থানে রেখেছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে সত্যিকারের আদর্শবাদীদেরকে নেওয়া হয়নি, গতকালের সংকটে তা প্রমাণিত হয়েছে। বরং যারা সুবিধাবাদী এবং অনুপ্রবেশকারী ছিল তারা এখন নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করেছেন। 

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তর এবং দক্ষিণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলা হচ্ছিল। এই দুটি সংগঠন যে একেবারে মৃতপ্রায় এবং তাদের যে কর্মী সমর্থক জোগাড় করার ন্যূনতম যোগ্যতাটুকু নেই, গতকালের ঘটনায় তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কমিটি বাণিজ্য, টাকার বিনিময়ে কমিটির পদ দেওয়া ইত্যাদির কারণে ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগ এখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে৷ গতকালের সংকটে আওয়ামী লীগের কাউকেই মাঠে দেখা যায়নি। বরং তারা যার যার মতো করে নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করেছে। 

একটা সময় ঢাকা মহানগর যুবলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকত। বিশেষ করে সম্রাট একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। কিন্তু সম্রাট এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। ক্যাসিনো কাণ্ডের ঘটনার পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন এই ত্যাগী নেতা। এখন তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে মোটামুটি গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে ঢাকা শহরে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান নেই বললেই চলে। গতকালের ঘটনায় তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। যুবলীগের যে সমস্ত কমিটি গঠিত হয়েছে সেই সমস্ত কমিটিগুলো সবই মতলবী সুবিধাবাদী এবং হাইব্রিড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যারা টাকার বিনিময়ে কমিটিতে ঢুকেছে এবং তাদের প্রধান লক্ষ্য ঠিকাদারি ব্যবসা এবং অন্যান্য অপকর্মের মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছানো। আর এ কারণে গতকাল তাদেরকে দেখা যায়নি। 

সরকারের মধ্যেও যে সমস্ত হাইব্রিড এবং অনুপ্রবেশকারী মন্ত্রী অবস্থান গ্রহণ করেছে, দিনের পর দিন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরকেও এই ঘটনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে৷ আওয়ামী লীগের কোনো সংকটেই সুবিধাবাদী হাইব্রিডরা থাকেন না। কিন্তু সুসময়ে এরাই চারপাশ ঘিরে সমস্ত মধু খায়, সব সুবিধা আদায় করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সেই ঘটনাটি আরেকবার প্রমাণিত হল।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে আওয়ামী লীগের যে সমস্ত হাইব্রিড নেতারা কথা বলছিলেন তারাও এখন নিষ্প্রাণ, নিথর। শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ড. হাছান মাহমুদ এবং মাঠের রাজনীতি করা নেতাদেরকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের ব্যাপারে সরব দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী যারা গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন তারা এখন নীরব এবং সবকিছু থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আর এ নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ   কোটা আন্দোলন   হাইব্রিড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৬ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত চায় জাপা

প্রকাশ: ০৬:২৫ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে সারা দেশে ৬ জন নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। 

বুধবার (১৭ জুলাই) এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জিএম কাদের বলেন, ‘ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবি যৌক্তিক। তাদের এ যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে।’

শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ শান্তিপূর্ণভাবে অহিংস প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক গুলি করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের ভিডিও বিশ্ববাসী দেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোটা পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া, সরকারি দলের আনুগত্যে অন্ধ ও অনুপযুক্ত আইনশৃখলা বাহিনীর সদস্য এবং সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নির্বিচারে হামলা করেছে আন্দোলনরত নিরীহ ছাত্রদের ওপর। গণমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ওপর গুলি করেছে। কিন্তু অবৈধ অস্ত্রধারীদের বাধা দেওয়া হয়নি বা গ্রেফতার করা হয়নি। রাতের আধারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরীহ ছাত্রীরাও রেহাই পায়নি এইসব নরপশুদের নির্যাতন থেকে।’ 

বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকায় কিছু দিন আগে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। সেই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দরকারের বেশি শক্তি প্রয়োগ করেনি বোঝা যায়। কেননা, শ্রীলংকায় এতবড় আন্দোলন হলো কিন্তু কোনো মায়ের কোল খালি হয়েছে বলে শুনিনি।’

তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। চলছে দুষ্টের পালন আর সৃষ্টের দমন। এক শ্রেণির মানুষ এখন আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে। শাসক শ্রেণি আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিয়ন্ত্রণ করছে।’ 

শোকবার্তায় জিএম কাদের বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ আহত ছাত্রদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিও জানান তিনি।

কোটা আন্দোলন   জাতীয় পার্টি   জিএম কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সব সিদ্ধান্তের জন্য কেন সবাই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু চতুর্থবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ যেন একধরনের সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। আওয়ামী লীগের টানা ক্ষমতায় থাকায় সবচেয়ে বড় সমস্য দেখ দিয়েছে সিদ্ধান্তহীনতা। কেউ কোন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়, কেউ কোন কাজও করতে রাজি নয়। সব কাজ যেন প্রধানমন্ত্রী করবে, সব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিবেন। এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে এবং এ অবস্থার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে একধরনের স্থবিরতা। কেউ কোন দায়িত্ব নিতে রাজি নন, কেউ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেও পারেন না। তারা তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী কি বলেন তার ওপর। তাহলে এতো সব মন্ত্রী-কর্মকর্তা আছেন কেন? 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে গিয়েছিলেন। সেই সময় কোটা আন্দোলন দানা বেধে ওঠে। এসময় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কি করেছেন? তারা কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেনি? প্রশ্ন উঠেছে আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ভূমিকা নিয়েও। যখন সরকার ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করে দিলো তারপর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে যে রিট পিটিশন হাইকোর্টে দাখিল করা হলো সেই রিট পিটিশনের ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ভূমিকা কি ছিলো। আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিক কি ছিলো? ঐ রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কোটা বাতিল সংক্রান্ত পরিপত্রটি বাতিল করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে বলেও হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করে। এরপর কোটা আন্দোলন আস্তে আস্তে পুঞ্জীভূত হতে থাকে। 

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, হাইকোর্টের এই শুনানিতে সরকারের ভূমিকা কী ছিলো? সরকার বিষয়টিকে কেন উপেক্ষা করলো? হাইকোর্টের রায়ের পর যখন কোটা আন্দোলন পুঞ্জীভূত হয়েছিলো তখন তা নিষ্পত্তির উদ্যোগ আইন মন্ত্রণালয় কেন গ্রহণ করেনি। সেই প্রশ্ন উঠেছে। পেনশন নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন শুরুতেই কেন বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো না। কেন সেই সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হলো সেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে গত মঙ্গলবার রাজধানীতে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চালানো হলো তখন আওয়ামী লীগ কোথায় ছিলো। তারা কার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলো? 

গত ১৬ বছরে একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে, আওয়ামী লীগের কেউ কিছু করেন না, সরকারের কেউ কিছু করেন না। সরকারের ভেতর যেসমস্ত আমলারা আছেন তারা ব্যস্ত থাকেন শুধু চাটুকারিতার জন্য। যেকোন সমস্যাকে ধামা চাপা দেবার জন্য এবং সমস্যাকে আড়াল করে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টায় তারা সব সময় ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা গা বাঁচিয়ে কীভাবে ভালো থাকা যায় সে চেষ্টায় নিবৃত। ফলে পুরো আন্দোলনে এখন টার্গেট করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। যিনি বাংলাদেশের আশা আকাঙ্খার প্রতীক। যিনি জনগণকে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। যিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়েছেন।

লক্ষণীয় বিষয়, সামগ্রিক কোটা আন্দোলনে এখন শেখ হাসিনাকে টার্গেট করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগে যারা বিভিন্ন সময়ে সুবিধাভোগী তারা নিশ্চুপ-নিথর হয়ে আছেন। অনেকে নিরপেক্ষ থাকার ভান করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? রোববার রাতের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এবং উপাচার্য কেন চুপচাপ থাকলেন, কোন সিদ্ধান্ত নিলেন না?

এ সবকিছু থেকে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে, সংকটে সুবিধাভোগী চাটুকাররা কোন সময়ই পাশে দাঁড়ান না। তারা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়তো আওয়ামী লীগ সমাধান করবে। তবে সেটি হবে প্রধানমন্ত্রীর একক যোগ্যতা এবং বিচক্ষণতার জন্য। কিন্তু এই সমস্ত চাটুকারদের এবং বসন্তের কোকিলদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এখনই।


প্রধানমন্ত্রী   সিদ্ধান্ত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কোটা আন্দোলন শিক্ষার্থীদের হলেও বিএনপির সমর্থন রয়েছে: ফখরুল

প্রকাশ: ০৪:৩১ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে বিএনপির সমর্থন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নই। ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক দাবিতে আমাদের সমর্থন আছে, থাকবে। আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোমা ও লাঠি রেখে অভিযানের নামে নাটক করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

এসময় তিনি বিভিন্ন সমমনা দলগুলোকেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। 

বুধবার বায়তুল মোকাররমের উত্তরগেটে গায়েবানা জানাজা শেষে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চাইলে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান করতে পারতো, কিন্তু তা না করে ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ছাত্রদের খুন করেছে।

ঢাকাসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তান আমলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আন্দোলন দমন করতে চেষ্টা চালানো হতো।

বায়তুল মোকাররম গেট বন্ধ করে গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বাধার নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু শুধুমাত্র জেদের বর্শবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সরকার।

এসময় মির্জা ফখরুল আজকে দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান।


কোটা সংস্কার   আন্দোলন   বিএনপি   মহাসচিব   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রশিবির-ছাত্রদল ঢাবির হলে তাণ্ডব চালিয়েছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪:২২ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

স্বাধীনতাবিরোধী আল বদর, আল শামসের বংশধর, ছাত্র শিবির এবং বিএনপির প্রেতাত্মা ছাত্রদলের ছেলে-মেয়েরা ও বহিরাগতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অবমাননার বক্তব্যের’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'আমাদের কোটাবিরোধী ছাত্ররা, আমাদের সন্তানরাই। তারা যারা আন্দোলন করেছে, আমরা কেউই কোনো বাধা দেই নাই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বক্তব্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে করেছে। কিন্তু এরপরে যখন তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার বলে হলগুলো তছনছ করলো, সবকিছু ভাঙচুর করলো, হলের গেটগুলোও ভেঙে ফেলল, আপনারা দেখেছেন।'

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও এ সময় দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।


ছাত্র   শিবির   ছাত্র   দল   ঢাবি   তাণ্ডব   মুক্তিযুদ্ধ   বিষয়ক   মন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন